ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে সম্প্রতি মুক্তি পেল গাই রিচির সিরিজ ‘ইয়ং শার্লক’। অপরিণত ও অমার্জিত এক তরুণের তুখোড় গোয়েন্দা হয়ে ওঠার গল্পটি রহস্যপ্রেমীদের মন কেড়েছে। সিরিজটির প্রথম সিজনে ১৯ বছর বয়সী শার্লক হোমস কীভাবে কিংবদন্তি গোয়েন্দা হয়ে উঠলেন—সেই গল্পই দেখা যায়।
গোয়েন্দা ভিত্তিক সিনেমা নির্মাণে খ্যাত ব্রিটিশ নির্মাতা গাই রিচি বরাবরই দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখে তার গল্প সাজান। আর গাই রিচি ও শার্লক হোমস—এ দুটি নাম যখন এক হয়, তখন রহস্যপ্রেমীদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে থাকাটাই স্বাভাবিক। ২০১১ সালে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রকে নিয়ে বড় পর্দায় শার্লকের একটি অভাবনীয় মানদণ্ড তৈরি করেছিলেন রিচি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও তিনি ফিরলেন ‘ইয়ং শার্লক’ নিয়ে।
অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর আট পর্বের এই সিরিজে শার্লককে দেখা গেছে একেবারেই ভিন্নরূপে। এক রকম বখাটে, পকেটমারে পারদর্শী এক তরুণ শার্লক। জেল থেকে মুক্তি পেতে তাকে সাহায্য করে বড় ভাই মাইক্রফট হোমস। তরুণ শার্লক অগোছালো, বিদ্রোহী; কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে আছে অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। আর সেই ক্ষমতা দিয়েই ঘটনাপ্রবাহে এক তরুণ হয়ে ওঠে বিশ্বখ্যাত গোয়েন্দায়। সূত্র: হলিউড রিপোর্টার
চটপটে সংলাপ ও স্লো-মোশন অ্যাকশন গাই রিচির সিগনেচার স্টাইল। সিরিজটিতে আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও মূল শার্লক হোমসকে খুঁজে পাওয়া যায় না সেভাবে। আর্থার কোনান ডয়েলের শার্লক যেখানে বুদ্ধির লড়াইয়ে জয়ী হন, সেখানে রিচি তার শার্লককে অ্যাকশন হিরো বানিয়ে দেন। মূল চরিত্রে ফিনিস টিফিনের অভিনয় চলনসই হলেও জেমস মরিয়ার্টি চরিত্রে অভিনয় করা ডোনাল ফিনের কাছে কিছুটা ম্লান দেখা যায় তাকে।
সব মিলিয়ে রহস্যপ্রেমী ও গোয়েন্দা ভক্তদের কাছে এক নতুন শার্লক উঠে এসেছেন। দর্শকরা প্রত্যক্ষ করতে পেরেছেন ভিক্টোরিয়ান যুগের আবহ। শার্লক হোমস নামের সঙ্গে যেমন একটি রহস্য লুকিয়ে থাকে, তার কিছুটা অভাবও ভক্তরা উপলব্ধি করেছেন। পুরোপুরি নিখুঁত না হলেও, শার্লক ভক্তদের কাছে ‘ইয়ং শার্লক’ এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা ।




