ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ডাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিতে অনশন, হাসপাতালে দুই

ঢাবি প্রতিনিধি

  ২৩ মে ২০২৫, ২২:৩২
অনশনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, সাম্য হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে অনশনরত ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও ঢাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মাহতাপ ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. মোহাম্মদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শুক্রবার (২৩ মে) অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাত সাড়ে আটটায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা ও প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি হলেও অনশন ভাঙতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিন ইয়ামিন মোল্লা ও মাহতাপ ইসলাম। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টা ধরে অনশনরত স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দিন মোহাম্মদ খালিদ এখনো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, যতক্ষণ পর্যন্ত ডাকসুর রোডম্যাপ ঘোষণাসহ অন্যান্য দাবি না মানা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন চলবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ কালবেলাকে বলেন, আমরা আমাদের অনশনরত তিন শিক্ষার্থীর দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তাদের অনশন ভাঙতে অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু তারা ডাকসুর নির্বাচন কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দুজন দুদিনের বেশি সময় ধরে অনশন করায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। এজন্য তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আগামীকাল দুপুর দুইটায় এ বিষয়ে বৈঠক করবো। এরপর আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো। তবে এ বিষয়ে আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে। এদিকে তাদের অনশনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, জুলাই ঐক্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই সংহতি জানিয়েছেন।

চবি তেপান্তর সাহিত্য সভার নেতৃত্বে আবদুল মোমেন-রিয়াদ উদ্দিন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) তেপান্তর সাহিত্য সভার ২০২৫-২৬ সেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল মোমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ২০২১-২২ সেশনের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ রিয়াদ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে ঘোষাণা হয় এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংসদের সভাপতি সাহাদাত হোসাইন, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সভাপতি আলিম খান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম আলো বন্ধু সভার সাধারণ সম্পাদক আকরাম পিয়েল। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন তানভীর আহমেদ শরীফ সহ সভাপতি, মো: নাজমুল হাসান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আরিফুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক, সানজিদা আফরোজ দপ্তর সম্পাদক, মো. নাফিজ উদ্দিন অর্থ সম্পাদক, খাদিজা আফরিন মিতু সহ অর্থ সম্পাদক, জান্নাতুল আদন নুসরাত প্রশিক্ষণ সম্পাদক, এম এস সুজন সাহিত্য ও পাঠচক্র সম্পাদক, জেসমিন বিনতে জালাল প্রচার সম্পাদক, মো. মিজানুর রহমান সহ প্রচার সম্পাদক, সাইফ আলি সামি প্রকাশনা সম্পাদক, জান্নাতুল ফেরদৌস কার্যনির্বাহী সদস্য, মো. আরিফ মিয়া কার্যনির্বাহী সদস্য, আসাদুল্লাহ গালিব কার্যনির্বাহী সদস্য এবং উম্মে কুলসুম মার্সিয়া কার্যনির্বাহী সদস্য। অনুষ্ঠানটিতে শপথবাক্য পাঠ করান তেপান্তর সাহিত্য সভার সদ্য সাবেক সভাপতি শাকিল আহমেদ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নব কার্যনিবার্হী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ রিয়াদ উদ্দিন।
চবি তেপান্তর সাহিত্য সভার নেতৃত্বে আবদুল মোমেন-রিয়াদ উদ্দিন
কৃষকের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক দ্বার খুলতে পারে বায়োচার
বায়োচারে কৃষকের সম্ভবনাময় অর্থনীতির দ্বার খুলতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুর সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব আয়োজিত দেশে প্রথমবারের মতো কার্বন ফেস্ট এগ্রিডিকার্বাথনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বায়োচার (কার্বনসমৃদ্ধ জৈব সার) জমিতে ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্যও রক্ষা হচ্ছে।  একটি সম্ভাবনাময় কৃষি প্রযুক্তি, যা মাটিতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলভাবে কার্বন সঞ্চয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি চর্চা নিশ্চিত করে। কৃষিতে এর প্রয়োগ শুধু ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতেই নয়, বরং কার্বন বাজারে বায়োচারের অন্তর্ভুক্তি কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে। বক্তারা বলেন, কার্বন ফেস্টের উদ্যোগ বাংলাদেশের কার্বন-সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী একটি পদক্ষেপ। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কার্বন ক্রেডিট, কার্বন ফাইন্যান্স, কার্বন মার্কেট, কার্বন ট্রেডিং, কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও কার্বন নিউট্রালিটির ব্যাপারে আরও গভীর উপলব্ধি তৈরি হবে। ভবিষ্যতে তাদের জলবায়ু বিষয়ক উদ্ভাবনের ব্যাপারে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে। আয়োজকদের ভাষ্যমতে, আয়োজনটি বাংলাদেশের কার্বন সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই সমাধান এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এতে কার্বন ফেস্ট  জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ, জলবায়ু প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, কার্বন উদ্যোক্তা, বিভিন্ন পেশাজীবী, কৃষিবিদ, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জাতীয় এবং ক্রমান্বয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কার্বন সেক্টরকে উপলক্ষ্য করে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন তারা। ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশের (সিসিডিবি) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জুলিয়েট কেয়া মালাকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. মো: সাইফুল ইসলাম আফ্রাদ, সিসিডিবির ডেপুটি ডিরেক্টর চন্দন চার্লস গোমেজ, এনভোলিড লিমিটেডের সিইও মোরশেদুল বারী এবং যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার রায়হান ফেরদৌস প্রমুখ।  এছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, হেলভেটাস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, গ্রামীণ শক্তি, ওএইচএসই ফাউন্ডেশন, কার্বোবোন, ফিউচার কার্বন লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের প্রথম কার্বন ফেস্টে প্যানেল আলোচনা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন কম্পিটিশন, ভিডিও ডকুমেন্টারি কম্পিটিশন, কার্বন কোয়েস্ট, জলবায়ু প্রতিযোগসহ তিনটি অনলাইন ট্রেইনিং সেশন আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুরের বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে সহযোগিতা করেছে এনভোলিড লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টদ (আইসিসিসিএডি) ও এগ্রোট্রেন্ডস।
কৃষকের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক দ্বার খুলতে পারে বায়োচার
চবিতে পর্দা উঠল জাতীয় ছায়া আইনসভার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছে সংসদীয় প্রতিযোগিতা ‘নিলস-এলইবি জাতীয় ছায়া আইনসভা ২০২৫’। দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দ্য নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল’ স্টুডেন্টস (নিলস) এবং লিগ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট বাংলাদেশ (এলইবি)।  শুক্রবার (২৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের একে খান অডিটরিয়ামে এটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আইন অনুষদের অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান, সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ,  সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম। অন্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম শান্তু।  অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উপাচার্য মন্তব্য করে বলেন, এই কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ যা আমাদের ভবিষ্যৎ আইন প্রণেতাদের গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান বলেন, আইন শুধু আদালতের জন্য নয়- প্রত্যেক নাগরিকের উচিত আইন ও দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা জানা। চার বছর পড়েও অনেক আইন শিক্ষার্থী পরিবর্তন আনতে পারে না। এনএনএলএ-২০২৫ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি এই সত্যের অনুস্মারক যে, যুব সমাজই দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক এবং তারাই পারে জাতির প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী আইন গঠন করতে। এই আয়োজনের আহ্বায়ক রাব্বী তৌহিদ বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এমন একটি চমৎকার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা গর্বিত এবং আমরা আশা করি যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইতমিনান মনির বাসিলিস ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তানজিম মালিহা তাহার যৌথ সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে ৪০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারীরা এসেছেন এবং ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আয়োজক হিসেবে অবদান রেখেছেন। অনুষ্ঠানটিতে মিডিয়া পার্টনার ছিল কালবেলা।
চবিতে পর্দা উঠল জাতীয় ছায়া আইনসভার
তিন মিষ্টি আলু হটাবে ক্যানসার-ডায়াবেটিস
মিষ্টি আলুর ৫৪০টি জাত নিয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলেছে গবেষণা। অবশেষে তিনটি জাত গ্রহণ করা হয়েছে। রোগপ্রতিরোধী গুণাবলি ও পুষ্টির জন্য পরিচিত মিষ্টি আলু। এই তিনটি জাত ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ বেশ কিছু রোগ প্রতিরোধে কাজ করবে।  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের একদল গবেষককে নিয়ে গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আরিফ হাসান খান। বাকৃবির ২০-৩০ শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাশ্রমে যুক্ত ছিলেন এ গবেষণায়। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলেছে গবেষণা। নাম দেওয়া হয়েছে বাউ মিষ্টি আলু-৭, বাউ মিষ্টি আলু-৮ ও বাউ মিষ্টি আলু-৯। সংশ্লিষ্টরা জানান, গবেষণার জন্য বীজ আনা হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু থেকে। জাতগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে বাকৃবি চত্বর ছাড়াও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা ও ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে। মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় কৃষকরা সহায়তা করেছেন। অবশেষে গত মাসে নতুন জাতগুলোর অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড। এগুলো সাধারণ মিষ্টি আলুর চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি ফলনশীল। প্রতিটি গাছে এক থেকে দেড় কেজি আলু পাওয়া যায়। এই আলুর ফলন পাওয়া যাবে ৯০ থেকে ১০০ দিনে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই আলু সারাবছরই চাষ করা যাবে। এতে কৃষক যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন, আবার সারাবছরই মিলবে পুষ্টির জোগান।  নতুন উদ্ভাবিত কমলা রঙের মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা চোখের রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার প্রতিরোধ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। বেগুনি মিষ্টি আলুতে অ্যান্থোসায়ানিন ও পলিফেনল থাকায় এটি ক্যানসার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও বিভিন্ন রোগপ্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। গোলাপি জাত থেকেও মিলবে এমন পুষ্টি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-২-এর প্রধান ডা. খুরশেদ আলম বলেন, উদ্ভাবিত মিষ্টি আলুগুলোতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্থোসায়ানিন, কেরোটিন ও ফাইবার রয়েছে। ফলে মানবদেহে ক্যানসার, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রধান গবেষক অধ্যাপক আরিফ হাসান কালবেলাকে বলেন, সাড়ে চার বছরের গবেষণায় মিষ্টি আলুর রঙিন তিনটি জাত উদ্ভাবন করা হয়। এসব আলু দেখতে বেগুনি, কমলা ও গোলাপি রঙের। এসব মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ভাতের চেয়ে কম, যেজন্য ডায়াবেটিস রোগীরা এই আলু খেতে পারেন। এসব আলুতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্থোসায়ানিন, কেরাটিন ও ফাইবার রয়েছে।  তিনি আরও বলেন, এগুলো নিয়মিত খেলে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা অন্ত্রের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও এর পুষ্টিগুণ ভূমিকা রাখে। নতুন জাতের আলুগুলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিন মিষ্টি আলু হটাবে ক্যানসার-ডায়াবেটিস
ছিনতাইয়ের শিকার আন্তর্জাতিক ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার হৃদয়
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন আন্তর্জাতিক ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুন হৃদয়। শুক্রবার (২৩ মে) সকালে কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকা ফেরার পথে বুড়িগঙ্গা সেতু-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  এ সময় তার কাছে থাকা দুটি ক্যামেরা, দুটি মোবাইলসহ মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার পরপরই তিনি কেরানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়রা জানান, বুড়িগঙ্গা সেতু-৩ এলাকা সংলগ্ন পথটি দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইপ্রবণ। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ছিনতাইয়ের শিকার মুন হৃদয় বলেন, আজ সকালে আমরা কেরানীগঞ্জে একটি কাজে গিয়েছিলাম। কাজ শেষে  কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে অবস্থিত বুড়িগঙ্গা সেতু-৩ দিয়ে ফেরার সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন আমাদের সামনে এসে থামে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন আমার পেটে চাইনিজ কুড়াল ঠেকিয়ে বলে- তোর কাছে যা আছে, সব দে। মুন হৃদয় আরও বলেন, ছিনতাইকারীরা আমার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, একটি ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এছাড়াও আমার সহকর্মী ইমরানের ক্যামেরাটিও নিয়ে যায়। সবমিলিয়ে আমাদের তিন লাখ টাকার বেশি ক্ষতি  হয়েছে। তারা আমাদের একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, মুন হৃদয়  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং একজন প্রতিভাবান ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার। তার তোলা ছবি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সিনে অ্যাওয়ার্ড (Siena Awards) এবং ইউনেসকো সিল্ক রোড (UNESCO Silk Road) প্রতিযোগিতায় সম্মাননা অর্জন করেছেন।
ছিনতাইয়ের শিকার আন্তর্জাতিক ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার হৃদয়
চবি তেপান্তর সাহিত্য সভার নেতৃত্বে আবদুল মোমেন-রিয়াদ উদ্দিন
চবি তেপান্তর সাহিত্য সভার নেতৃত্বে আবদুল মোমেন-রিয়াদ উদ্দিন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) তেপান্তর সাহিত্য সভার ২০২৫-২৬ সেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল মোমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ২০২১-২২ সেশনের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ রিয়াদ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে ঘোষাণা হয় এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংসদের সভাপতি সাহাদাত হোসাইন, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সভাপতি আলিম খান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম আলো বন্ধু সভার সাধারণ সম্পাদক আকরাম পিয়েল। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন তানভীর আহমেদ শরীফ সহ সভাপতি, মো: নাজমুল হাসান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আরিফুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক, সানজিদা আফরোজ দপ্তর সম্পাদক, মো. নাফিজ উদ্দিন অর্থ সম্পাদক, খাদিজা আফরিন মিতু সহ অর্থ সম্পাদক, জান্নাতুল আদন নুসরাত প্রশিক্ষণ সম্পাদক, এম এস সুজন সাহিত্য ও পাঠচক্র সম্পাদক, জেসমিন বিনতে জালাল প্রচার সম্পাদক, মো. মিজানুর রহমান সহ প্রচার সম্পাদক, সাইফ আলি সামি প্রকাশনা সম্পাদক, জান্নাতুল ফেরদৌস কার্যনির্বাহী সদস্য, মো. আরিফ মিয়া কার্যনির্বাহী সদস্য, আসাদুল্লাহ গালিব কার্যনির্বাহী সদস্য এবং উম্মে কুলসুম মার্সিয়া কার্যনির্বাহী সদস্য। অনুষ্ঠানটিতে শপথবাক্য পাঠ করান তেপান্তর সাহিত্য সভার সদ্য সাবেক সভাপতি শাকিল আহমেদ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নব কার্যনিবার্হী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ রিয়াদ উদ্দিন।
কৃষকের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক দ্বার খুলতে পারে বায়োচার
কৃষকের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক দ্বার খুলতে পারে বায়োচার
বায়োচারে কৃষকের সম্ভবনাময় অর্থনীতির দ্বার খুলতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুর সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব আয়োজিত দেশে প্রথমবারের মতো কার্বন ফেস্ট এগ্রিডিকার্বাথনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বায়োচার (কার্বনসমৃদ্ধ জৈব সার) জমিতে ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্যও রক্ষা হচ্ছে।  একটি সম্ভাবনাময় কৃষি প্রযুক্তি, যা মাটিতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলভাবে কার্বন সঞ্চয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি চর্চা নিশ্চিত করে। কৃষিতে এর প্রয়োগ শুধু ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতেই নয়, বরং কার্বন বাজারে বায়োচারের অন্তর্ভুক্তি কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে। বক্তারা বলেন, কার্বন ফেস্টের উদ্যোগ বাংলাদেশের কার্বন-সহনশীল ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী একটি পদক্ষেপ। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কার্বন ক্রেডিট, কার্বন ফাইন্যান্স, কার্বন মার্কেট, কার্বন ট্রেডিং, কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও কার্বন নিউট্রালিটির ব্যাপারে আরও গভীর উপলব্ধি তৈরি হবে। ভবিষ্যতে তাদের জলবায়ু বিষয়ক উদ্ভাবনের ব্যাপারে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে। আয়োজকদের ভাষ্যমতে, আয়োজনটি বাংলাদেশের কার্বন সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই সমাধান এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এতে কার্বন ফেস্ট  জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ, জলবায়ু প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, কার্বন উদ্যোক্তা, বিভিন্ন পেশাজীবী, কৃষিবিদ, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জাতীয় এবং ক্রমান্বয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কার্বন সেক্টরকে উপলক্ষ্য করে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন তারা। ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশের (সিসিডিবি) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জুলিয়েট কেয়া মালাকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. মো: সাইফুল ইসলাম আফ্রাদ, সিসিডিবির ডেপুটি ডিরেক্টর চন্দন চার্লস গোমেজ, এনভোলিড লিমিটেডের সিইও মোরশেদুল বারী এবং যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার রায়হান ফেরদৌস প্রমুখ।  এছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, হেলভেটাস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, গ্রামীণ শক্তি, ওএইচএসই ফাউন্ডেশন, কার্বোবোন, ফিউচার কার্বন লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের প্রথম কার্বন ফেস্টে প্যানেল আলোচনা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন কম্পিটিশন, ভিডিও ডকুমেন্টারি কম্পিটিশন, কার্বন কোয়েস্ট, জলবায়ু প্রতিযোগসহ তিনটি অনলাইন ট্রেইনিং সেশন আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং গাজীপুরের বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে সহযোগিতা করেছে এনভোলিড লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টদ (আইসিসিসিএডি) ও এগ্রোট্রেন্ডস।
চবিতে পর্দা উঠল জাতীয় ছায়া আইনসভার
চবিতে পর্দা উঠল জাতীয় ছায়া আইনসভার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছে সংসদীয় প্রতিযোগিতা ‘নিলস-এলইবি জাতীয় ছায়া আইনসভা ২০২৫’। দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দ্য নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল’ স্টুডেন্টস (নিলস) এবং লিগ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট বাংলাদেশ (এলইবি)।  শুক্রবার (২৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের একে খান অডিটরিয়ামে এটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আইন অনুষদের অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান, সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ,  সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম। অন্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম শান্তু।  অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উপাচার্য মন্তব্য করে বলেন, এই কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ যা আমাদের ভবিষ্যৎ আইন প্রণেতাদের গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান বলেন, আইন শুধু আদালতের জন্য নয়- প্রত্যেক নাগরিকের উচিত আইন ও দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা জানা। চার বছর পড়েও অনেক আইন শিক্ষার্থী পরিবর্তন আনতে পারে না। এনএনএলএ-২০২৫ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি এই সত্যের অনুস্মারক যে, যুব সমাজই দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক এবং তারাই পারে জাতির প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী আইন গঠন করতে। এই আয়োজনের আহ্বায়ক রাব্বী তৌহিদ বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এমন একটি চমৎকার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা গর্বিত এবং আমরা আশা করি যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইতমিনান মনির বাসিলিস ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তানজিম মালিহা তাহার যৌথ সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে ৪০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারীরা এসেছেন এবং ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আয়োজক হিসেবে অবদান রেখেছেন। অনুষ্ঠানটিতে মিডিয়া পার্টনার ছিল কালবেলা।
তিন মিষ্টি আলু হটাবে ক্যানসার-ডায়াবেটিস
তিন মিষ্টি আলু হটাবে ক্যানসার-ডায়াবেটিস
মিষ্টি আলুর ৫৪০টি জাত নিয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলেছে গবেষণা। অবশেষে তিনটি জাত গ্রহণ করা হয়েছে। রোগপ্রতিরোধী গুণাবলি ও পুষ্টির জন্য পরিচিত মিষ্টি আলু। এই তিনটি জাত ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ বেশ কিছু রোগ প্রতিরোধে কাজ করবে।  বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের একদল গবেষককে নিয়ে গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আরিফ হাসান খান। বাকৃবির ২০-৩০ শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাশ্রমে যুক্ত ছিলেন এ গবেষণায়। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলেছে গবেষণা। নাম দেওয়া হয়েছে বাউ মিষ্টি আলু-৭, বাউ মিষ্টি আলু-৮ ও বাউ মিষ্টি আলু-৯। সংশ্লিষ্টরা জানান, গবেষণার জন্য বীজ আনা হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু থেকে। জাতগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে বাকৃবি চত্বর ছাড়াও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা ও ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে। মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় কৃষকরা সহায়তা করেছেন। অবশেষে গত মাসে নতুন জাতগুলোর অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড। এগুলো সাধারণ মিষ্টি আলুর চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি ফলনশীল। প্রতিটি গাছে এক থেকে দেড় কেজি আলু পাওয়া যায়। এই আলুর ফলন পাওয়া যাবে ৯০ থেকে ১০০ দিনে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই আলু সারাবছরই চাষ করা যাবে। এতে কৃষক যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন, আবার সারাবছরই মিলবে পুষ্টির জোগান।  নতুন উদ্ভাবিত কমলা রঙের মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা চোখের রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার প্রতিরোধ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। বেগুনি মিষ্টি আলুতে অ্যান্থোসায়ানিন ও পলিফেনল থাকায় এটি ক্যানসার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও বিভিন্ন রোগপ্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। গোলাপি জাত থেকেও মিলবে এমন পুষ্টি। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-২-এর প্রধান ডা. খুরশেদ আলম বলেন, উদ্ভাবিত মিষ্টি আলুগুলোতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্থোসায়ানিন, কেরোটিন ও ফাইবার রয়েছে। ফলে মানবদেহে ক্যানসার, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রধান গবেষক অধ্যাপক আরিফ হাসান কালবেলাকে বলেন, সাড়ে চার বছরের গবেষণায় মিষ্টি আলুর রঙিন তিনটি জাত উদ্ভাবন করা হয়। এসব আলু দেখতে বেগুনি, কমলা ও গোলাপি রঙের। এসব মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ভাতের চেয়ে কম, যেজন্য ডায়াবেটিস রোগীরা এই আলু খেতে পারেন। এসব আলুতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্থোসায়ানিন, কেরাটিন ও ফাইবার রয়েছে।  তিনি আরও বলেন, এগুলো নিয়মিত খেলে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা অন্ত্রের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। রক্ত পরিষ্কারে সহায়তা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও এর পুষ্টিগুণ ভূমিকা রাখে। নতুন জাতের আলুগুলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।