ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

প্রতিষ্ঠার দেড় যুগেও আবাসন সংকটে জর্জরিত বেরোবি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বেরোবি

  ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪০
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার পর নতুন করে কোনো আবাসিক হল নির্মাণ না করায় প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পরেও আবাসন সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। ফলে তীব্র আবাসন সংকটে ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৭ হাজার ৪৩০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে তিনটি আবাসিক হলে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন ৮৩০ শিক্ষার্থী, যার মধ্যে 'বিজয় ২৪ হলে থাকেন ২৪০ শিক্ষার্থী, শহীদ মুখতার ইলাহী হলে ২৪০ শিক্ষার্থী এবং শহীদ ফেলানী হলে ৩৫০ শিক্ষার্থী। অবশিষ্ট ৬ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আবাসিক হলের সিট সংখ্যা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর মাত্র ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকেন, যা প্রতি ৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১টি সিট।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেক শিক্ষার্থীর কাছে আবাসিক হলে ওঠার স্বপ্ন যেন স্বপ্নই থেকে যায়। ছাত্রজীবন শেষ হয়ে গেলেও আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান না তারা। আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা সিট না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয় তাদের। খরচ বাঁচাতে মেসে গাদাগাদি করে থাকেন অনেক শিক্ষার্থীই। এতে বাড়ছে শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যঝুঁকি।

আবার অনেকেই বাড়ি থেকে নিয়মিত ক্লাস করতে আসেন ক্যাম্পাসে। এতে তারা নিয়মিত যাতায়াতের ভোগান্তির শিকার হন। আবাসিক হলে সিট না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যে নারী শিক্ষার্থীরা বাসা বা মেসে থাকছে তারা নিয়মিতই নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সুবিধা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। সেই টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর পরিবার।

ভোগান্তির কথা জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হুমাইরা আনিসা বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন ধরে চলমান আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে আবাসিক সুবিধা সম্প্রসারিত হয়নি। ফলে আমরা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী হলে আসন না পেয়ে বাইরে উচ্চ ভাড়ায় অনিরাপদ পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছি। তাই শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন আবাসিক হল নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান হলসমূহের আসনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।’

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইউনুস রাতুল বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সংকটের শেষ নেই! অনেকে হয়তো বলবেন একটা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে উঠতে সময়ে প্রশ্নটা হচ্ছে সেই সময়টা কত? প্রতিষ্ঠার ১৮তম বছর পূর্ণ হতে চলছে আমাদের প্রাণের বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ দুঃখের বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর নতুন করে আর গড়ে ওঠেনি আবাসিক হল, নতুন একাডেমিক ভবন, মিলনায়তন। স্বাধীনতা স্মারকের কাজটাও অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনার শেষ নেই।’

তিনি আরও জানান, মেস খরচও হুহু করে বাড়ছে; যা একজন মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীর জন্য বেশ কষ্ট সাধ্যও বটে। একমাত্র আবাসিক সংকট নিরসন করে এই কষ্ট লাঘব করা যেতে পারে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আবাসন সংকট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্প কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। আমরা চাই আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হোক। আবাসিক সুবিধা না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। মেসে থাকলে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকেন।আমাদের দাবি হচ্ছে আগামী ছয় মাসে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে।’

এ ছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি সুমন সরকার বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটে ভুগছে। যদি এই সংকট না থাকত, তবে বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য তা অনেক সহায়ক হতো। আমাদের জন্য দুঃখজনক যে নির্মাণাধীন হলটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা হোক। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই আবাসন সংকটের দিকে গুরুত্বসহকারে নজর দিক এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।

বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আবাসন সংকট এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা। তবে আমরা এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৯০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের প্রজেক্ট জমা দেওয়া হবে। আমরা আশা করছি, আগামী একনেক সভায় আমাদের মেগা প্রকল্পের বাজেট পাস হলে আগামী জুলাইয়ে কাজ শুরু হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা আমাদের ১০ তলাবিশিষ্ট ছাত্রী হলের ৫ তলার নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে। সেই হলের নির্মাণকাজ শেষ হলে ছাত্রীদের একটি বড় অংশ আবাসিক সুবিধা পাবেন।

ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল প্রক্টর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল উল্লেখ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে লিখিতভাবে অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন ড. তানভীর কায়ছার। মেয়াদ শেষ হলেও ওই ক্যাটাগরিতে নতুন সদস্য মনোনয়ন না হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলমান শিক্ষক পদোন্নতি ইস্যুর মধ্যেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই দিনে প্রক্টরের পদত্যাগ এবং সিন্ডিকেট সদস্যের অব্যাহতির আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ওয়েবসাইটের অবস্থা বেশ নাজুক। নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না নিয়মিত হালনাগাদ। ডিজিটাল যুগে যেখানে ওয়েবসাইটকে বলা হয় তথ্যভান্ডার, সেখানে গোবিপ্রবির ওয়েবসাইট যেন অনেকটাই অকার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য জানতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত পরিচিতি নেই। শুধু নাম, ছবি, ইমেইল ও ফোন নম্বরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তথ্য। একজন শিক্ষক কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন বা করেছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে কোন শিক্ষকের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন, তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পাতার তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। পদোন্নতি পেলেও অনেকের পদবি আগের মতোই আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য তালিকায় নেই গবেষণাপত্রের তালিকা, বিস্তারিত যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা গবেষণার বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য সুপারভাইজার সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা নানা জটিলতায় পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও পিছিয়ে পড়ছে গোবিপ্রবি।  একাডেমিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, নিরাপত্তা শাখা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, মেডিকেল স্বাস্থ্য শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখা। তবে এসব বিভাগের ওয়েবপেজেও একই চিত্র দেখা যায়। গোবিপ্রবির ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের ওয়েবপেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। অথচ দপ্তরটি থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন ওয়েবসাইটে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের এমন করুণ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু কালাম  বলেন, ‘প্রায় তথ্যহীন গোবিপ্রবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। কোনো আপডেট তথ্য, ছবি কিংবা পেজ লিংক না থাকায় এটি অনেকটাই অকার্যকর। চলমান বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পাওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য সংকটের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বিশ্বে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি বহন করে তার ওয়েবসাইট। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। দ্রুত এর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ এপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টর অনেক পিছিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই অবগত নয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ হতে হয়, যেন ঘরে বসেই একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারে। কিন্তু এ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। তাই আমরা সকল তথ্যসম্বলিত একটি আধুনিক ও পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট চাই।’   এ বিষয়ে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তার ভেতর দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসন যে কোনো তথ্য দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আপলোড করার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের কাছেও আমরা তথ্য চেয়েছি। আমাদের ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে কাজ সম্পন্ন করেননি। আমরা আবার নতুন করে করার জন্য চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা দাবি করেন, ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে  
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস+ স্টুডেন্ট মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় এ সুযোগ দিচ্ছে তুরস্কের আলানিয়া আলাদিন কেকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহিঃসম্পর্ক দপ্তর (আইসিইএ) থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরাসমাস+ কেএ ১৭১ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের সেমিস্টারে একজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। কর্মসূচিটি শুরু হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নোবিপ্রবির এসিসিই, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, বিজিই, ইইই, ইকোনমিকস, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিএসটিই/আইসিই, এফটিএনএস ও টিএইচএম বিভাগের ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সেশনের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের বর্তমান সেমিস্টারে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে। তবে আইইএলটিএস-এ ৬ বা টিওইএফএল-এ নির্ধারিত স্কোর থাকলে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৩৫ পর্যন্ত শিথিল করা হতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের ইংরেজিতে দক্ষ ও ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ মে-এর মধ্যে নির্ধারিত আবেদনপত্র, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেইলে পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দপ্তরের ইমেইল ঠিকানায় সিসি দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একাডেমিক কাগজপত্র ও পাসপোর্ট কপি একত্রে একটি পিডিএফ ফাইলে এবং গবেষণাপত্র ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ আলাদা ফাইলে পাঠাতে হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে   
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে: রাবিপ্রবি উপাচার্য
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমান। রোববার (১০ মে) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান তিনি। ড. আতিয়ার রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছর ১০ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, উন্নত একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাস নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এসব অগ্রগতিতে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন দাবি তুলে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেয়। অথচ অভিযোগের বিষয়গুলো তারা প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে। এসবের জন্য কেউ রক্ত দেয়নি। কাউকে জামায়াত, বিএনপি বা অন্য কোনো পরিচয়ে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। এ সময় রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছসহ রাঙামাটিতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে: রাবিপ্রবি উপাচার্য
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল প্রক্টর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল উল্লেখ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে লিখিতভাবে অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন ড. তানভীর কায়ছার। মেয়াদ শেষ হলেও ওই ক্যাটাগরিতে নতুন সদস্য মনোনয়ন না হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলমান শিক্ষক পদোন্নতি ইস্যুর মধ্যেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই দিনে প্রক্টরের পদত্যাগ এবং সিন্ডিকেট সদস্যের অব্যাহতির আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ওয়েবসাইটের অবস্থা বেশ নাজুক। নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না নিয়মিত হালনাগাদ। ডিজিটাল যুগে যেখানে ওয়েবসাইটকে বলা হয় তথ্যভান্ডার, সেখানে গোবিপ্রবির ওয়েবসাইট যেন অনেকটাই অকার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য জানতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত পরিচিতি নেই। শুধু নাম, ছবি, ইমেইল ও ফোন নম্বরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তথ্য। একজন শিক্ষক কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন বা করেছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে কোন শিক্ষকের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন, তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পাতার তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। পদোন্নতি পেলেও অনেকের পদবি আগের মতোই আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য তালিকায় নেই গবেষণাপত্রের তালিকা, বিস্তারিত যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা গবেষণার বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য সুপারভাইজার সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা নানা জটিলতায় পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও পিছিয়ে পড়ছে গোবিপ্রবি।  একাডেমিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, নিরাপত্তা শাখা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, মেডিকেল স্বাস্থ্য শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখা। তবে এসব বিভাগের ওয়েবপেজেও একই চিত্র দেখা যায়। গোবিপ্রবির ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের ওয়েবপেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। অথচ দপ্তরটি থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন ওয়েবসাইটে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের এমন করুণ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু কালাম  বলেন, ‘প্রায় তথ্যহীন গোবিপ্রবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। কোনো আপডেট তথ্য, ছবি কিংবা পেজ লিংক না থাকায় এটি অনেকটাই অকার্যকর। চলমান বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পাওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য সংকটের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বিশ্বে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি বহন করে তার ওয়েবসাইট। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। দ্রুত এর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ এপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টর অনেক পিছিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই অবগত নয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ হতে হয়, যেন ঘরে বসেই একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারে। কিন্তু এ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। তাই আমরা সকল তথ্যসম্বলিত একটি আধুনিক ও পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট চাই।’   এ বিষয়ে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তার ভেতর দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসন যে কোনো তথ্য দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আপলোড করার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের কাছেও আমরা তথ্য চেয়েছি। আমাদের ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে কাজ সম্পন্ন করেননি। আমরা আবার নতুন করে করার জন্য চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা দাবি করেন, ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে   
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে  
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস+ স্টুডেন্ট মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় এ সুযোগ দিচ্ছে তুরস্কের আলানিয়া আলাদিন কেকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহিঃসম্পর্ক দপ্তর (আইসিইএ) থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরাসমাস+ কেএ ১৭১ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের সেমিস্টারে একজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। কর্মসূচিটি শুরু হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নোবিপ্রবির এসিসিই, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, বিজিই, ইইই, ইকোনমিকস, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিএসটিই/আইসিই, এফটিএনএস ও টিএইচএম বিভাগের ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সেশনের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের বর্তমান সেমিস্টারে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে। তবে আইইএলটিএস-এ ৬ বা টিওইএফএল-এ নির্ধারিত স্কোর থাকলে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৩৫ পর্যন্ত শিথিল করা হতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের ইংরেজিতে দক্ষ ও ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ মে-এর মধ্যে নির্ধারিত আবেদনপত্র, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেইলে পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দপ্তরের ইমেইল ঠিকানায় সিসি দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একাডেমিক কাগজপত্র ও পাসপোর্ট কপি একত্রে একটি পিডিএফ ফাইলে এবং গবেষণাপত্র ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ আলাদা ফাইলে পাঠাতে হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।