ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

রাজুতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে সাদিক কায়েম

এশিয়া পোস্ট নিউজ

  ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪০
অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে রাজু ভাস্কর্যে যান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনে বসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম অনশনে বসেন। পারে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও শিক্ষার্থীরা। অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাতে রাজু ভাস্কর্যে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এ সময় সাদিক কায়েম বলেন, গত ১৬ বছরে যারা বক্তব্য দিয়েছে, আজকে যারা মন্ত্রী হয়েছে, তারা বারবার বলেছিল এই সংবিধান, মুজিববাদী সংবিধান তারা ছুঁড়ে ফেলবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেছিলেন, যে দিন এই দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন এই সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলা হবে। কিন্তু আজকে আমরা আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের মত যারা এখন সরকারে এসেছে, বিএনপি সরকার, তারেক জিয়া সরকার, তাদেরকে আমরা সংবিধানের প্রতি দরদ দেখতে পাচ্ছি। তারা আবার এককভাবে সকল ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের যে শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ, সেই বিচার বিভাগের মধ্যে যে ভারসাম্য, চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্সের জন্য যে জুলাই সনদ হয়েছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য যে সুপারিশগুলো এসেছে, তারা সেগুলো মানতে চায় না। সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে অধ্যাদেশগুলো হয়েছে, সে অধ্যাদেশগুলোকে তারা আজকে অস্বীকার করছে।’

ডাকসু ভিপি বলেন, এটা খুবই অবাক লাগে, আজকে তারা গুম প্রতিকার এবং প্রতিরোধ অধ্যাদেশকে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। তারা মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশ, সেটা বাতিলের সুপারিশ করেছে। তারা দুদকের সংস্কারের যে অধ্যাদেশ, সেটা বাতিলের সুপারিশ করেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের যে অধ্যাদেশ, সেগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে। বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যে অধ্যাদেশ, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা, শক্তিশালী করার জন্য যে অধ্যাদেশ, সেটা তারা বাতিলের সুপারিশ করেছে। যে আর্থিক খাত লুণ্ঠনের মাধ্যমে দেশের অর্থব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ হয়েছে, সেটা বাতিলের সুপারিশ করেছে।

তিনি বলেন, সরকারি কর্ম কমিশনের যে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, আবার একপাক্ষিক নিয়োগ করার জন্য পিএসসি সংস্কারের যে প্রস্তাবনা- সেগুলোতে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। তো আমরা তো দেখতে পাচ্ছি, সেই হাসিনার কাঠামোতে এই রাষ্ট্রকে তারা ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করেন ডাকসু ভিপি। পোস্টে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিক মুনেম, সাকিবুর রহমান, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন শাহীন আজ রাজু ভাস্কর্যে আমরণ অনশনে। গণভোটের রায় রক্ষা আর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের যে দাবি তারা তুলেছে, তা কেবল তাদের একার নয়; বরং প্রতিটি ক্ষুব্ধ নাগরিকের অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ।

ভোটের আমানত রক্ষায় আবারও রাজপথে নামতে হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আক্ষেপ আর ক্ষোভ এখানে যে, জনগণের ভোটের আমানত রক্ষায় আবারও রাজপথে নামতে হচ্ছে! জুলাইয়ের রাজপথ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই আমাদের শিখিয়েছে আপস না করা। হাজারো শাহাদাতের বিনিময়ে যে ‘নতুন বাংলাদেশ’ আমরা পেয়েছি, তার স্পিরিটকে কোনোভাবেই ধূলিস্যাৎ হতে দেওয়া যায় না।

শেষে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, সাদিক, মুনেমসহ অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ডাকসুর পক্ষ থেকে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। ইনশাআল্লাহ, এই ত্যাগ আর লড়াই বৃথা যাবে না।

ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল প্রক্টর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল উল্লেখ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে লিখিতভাবে অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন ড. তানভীর কায়ছার। মেয়াদ শেষ হলেও ওই ক্যাটাগরিতে নতুন সদস্য মনোনয়ন না হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলমান শিক্ষক পদোন্নতি ইস্যুর মধ্যেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই দিনে প্রক্টরের পদত্যাগ এবং সিন্ডিকেট সদস্যের অব্যাহতির আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ওয়েবসাইটের অবস্থা বেশ নাজুক। নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না নিয়মিত হালনাগাদ। ডিজিটাল যুগে যেখানে ওয়েবসাইটকে বলা হয় তথ্যভান্ডার, সেখানে গোবিপ্রবির ওয়েবসাইট যেন অনেকটাই অকার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য জানতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত পরিচিতি নেই। শুধু নাম, ছবি, ইমেইল ও ফোন নম্বরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তথ্য। একজন শিক্ষক কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন বা করেছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে কোন শিক্ষকের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন, তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পাতার তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। পদোন্নতি পেলেও অনেকের পদবি আগের মতোই আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য তালিকায় নেই গবেষণাপত্রের তালিকা, বিস্তারিত যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা গবেষণার বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য সুপারভাইজার সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা নানা জটিলতায় পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও পিছিয়ে পড়ছে গোবিপ্রবি।  একাডেমিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, নিরাপত্তা শাখা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, মেডিকেল স্বাস্থ্য শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখা। তবে এসব বিভাগের ওয়েবপেজেও একই চিত্র দেখা যায়। গোবিপ্রবির ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের ওয়েবপেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। অথচ দপ্তরটি থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন ওয়েবসাইটে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের এমন করুণ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু কালাম  বলেন, ‘প্রায় তথ্যহীন গোবিপ্রবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। কোনো আপডেট তথ্য, ছবি কিংবা পেজ লিংক না থাকায় এটি অনেকটাই অকার্যকর। চলমান বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পাওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য সংকটের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বিশ্বে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি বহন করে তার ওয়েবসাইট। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। দ্রুত এর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ এপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টর অনেক পিছিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই অবগত নয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ হতে হয়, যেন ঘরে বসেই একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারে। কিন্তু এ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। তাই আমরা সকল তথ্যসম্বলিত একটি আধুনিক ও পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট চাই।’   এ বিষয়ে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তার ভেতর দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসন যে কোনো তথ্য দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আপলোড করার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের কাছেও আমরা তথ্য চেয়েছি। আমাদের ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে কাজ সম্পন্ন করেননি। আমরা আবার নতুন করে করার জন্য চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা দাবি করেন, ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে  
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস+ স্টুডেন্ট মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় এ সুযোগ দিচ্ছে তুরস্কের আলানিয়া আলাদিন কেকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহিঃসম্পর্ক দপ্তর (আইসিইএ) থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরাসমাস+ কেএ ১৭১ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের সেমিস্টারে একজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। কর্মসূচিটি শুরু হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নোবিপ্রবির এসিসিই, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, বিজিই, ইইই, ইকোনমিকস, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিএসটিই/আইসিই, এফটিএনএস ও টিএইচএম বিভাগের ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সেশনের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের বর্তমান সেমিস্টারে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে। তবে আইইএলটিএস-এ ৬ বা টিওইএফএল-এ নির্ধারিত স্কোর থাকলে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৩৫ পর্যন্ত শিথিল করা হতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের ইংরেজিতে দক্ষ ও ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ মে-এর মধ্যে নির্ধারিত আবেদনপত্র, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেইলে পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দপ্তরের ইমেইল ঠিকানায় সিসি দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একাডেমিক কাগজপত্র ও পাসপোর্ট কপি একত্রে একটি পিডিএফ ফাইলে এবং গবেষণাপত্র ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ আলাদা ফাইলে পাঠাতে হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে   
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে: রাবিপ্রবি উপাচার্য
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমান। রোববার (১০ মে) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান তিনি। ড. আতিয়ার রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছর ১০ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, উন্নত একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাস নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এসব অগ্রগতিতে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন দাবি তুলে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেয়। অথচ অভিযোগের বিষয়গুলো তারা প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে। এসবের জন্য কেউ রক্ত দেয়নি। কাউকে জামায়াত, বিএনপি বা অন্য কোনো পরিচয়ে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। এ সময় রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছসহ রাঙামাটিতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে: রাবিপ্রবি উপাচার্য
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল প্রক্টর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল উল্লেখ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে লিখিতভাবে অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন ড. তানভীর কায়ছার। মেয়াদ শেষ হলেও ওই ক্যাটাগরিতে নতুন সদস্য মনোনয়ন না হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলমান শিক্ষক পদোন্নতি ইস্যুর মধ্যেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই দিনে প্রক্টরের পদত্যাগ এবং সিন্ডিকেট সদস্যের অব্যাহতির আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ওয়েবসাইটের অবস্থা বেশ নাজুক। নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না নিয়মিত হালনাগাদ। ডিজিটাল যুগে যেখানে ওয়েবসাইটকে বলা হয় তথ্যভান্ডার, সেখানে গোবিপ্রবির ওয়েবসাইট যেন অনেকটাই অকার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য জানতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত পরিচিতি নেই। শুধু নাম, ছবি, ইমেইল ও ফোন নম্বরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তথ্য। একজন শিক্ষক কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন বা করেছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে কোন শিক্ষকের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন, তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পাতার তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। পদোন্নতি পেলেও অনেকের পদবি আগের মতোই আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য তালিকায় নেই গবেষণাপত্রের তালিকা, বিস্তারিত যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা গবেষণার বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য সুপারভাইজার সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা নানা জটিলতায় পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও পিছিয়ে পড়ছে গোবিপ্রবি।  একাডেমিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, নিরাপত্তা শাখা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, মেডিকেল স্বাস্থ্য শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখা। তবে এসব বিভাগের ওয়েবপেজেও একই চিত্র দেখা যায়। গোবিপ্রবির ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের ওয়েবপেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। অথচ দপ্তরটি থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন ওয়েবসাইটে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের এমন করুণ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু কালাম  বলেন, ‘প্রায় তথ্যহীন গোবিপ্রবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। কোনো আপডেট তথ্য, ছবি কিংবা পেজ লিংক না থাকায় এটি অনেকটাই অকার্যকর। চলমান বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পাওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য সংকটের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বিশ্বে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি বহন করে তার ওয়েবসাইট। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। দ্রুত এর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ এপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টর অনেক পিছিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই অবগত নয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ হতে হয়, যেন ঘরে বসেই একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারে। কিন্তু এ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। তাই আমরা সকল তথ্যসম্বলিত একটি আধুনিক ও পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট চাই।’   এ বিষয়ে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তার ভেতর দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসন যে কোনো তথ্য দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আপলোড করার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের কাছেও আমরা তথ্য চেয়েছি। আমাদের ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে কাজ সম্পন্ন করেননি। আমরা আবার নতুন করে করার জন্য চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা দাবি করেন, ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে   
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে  
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস+ স্টুডেন্ট মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় এ সুযোগ দিচ্ছে তুরস্কের আলানিয়া আলাদিন কেকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহিঃসম্পর্ক দপ্তর (আইসিইএ) থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরাসমাস+ কেএ ১৭১ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের সেমিস্টারে একজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। কর্মসূচিটি শুরু হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নোবিপ্রবির এসিসিই, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, বিজিই, ইইই, ইকোনমিকস, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিএসটিই/আইসিই, এফটিএনএস ও টিএইচএম বিভাগের ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সেশনের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের বর্তমান সেমিস্টারে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে। তবে আইইএলটিএস-এ ৬ বা টিওইএফএল-এ নির্ধারিত স্কোর থাকলে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৩৫ পর্যন্ত শিথিল করা হতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের ইংরেজিতে দক্ষ ও ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ মে-এর মধ্যে নির্ধারিত আবেদনপত্র, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেইলে পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দপ্তরের ইমেইল ঠিকানায় সিসি দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একাডেমিক কাগজপত্র ও পাসপোর্ট কপি একত্রে একটি পিডিএফ ফাইলে এবং গবেষণাপত্র ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ আলাদা ফাইলে পাঠাতে হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।