ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দখল হয়ে যাচ্ছে ফুটপাত 

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক

  ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৪
উচ্ছেদ অভিযান চালায় পুলিশ (বাঁয়ে), ফুটপাত থেকে মালামাল সরাচ্ছেন হকাররা (ডানে)। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে উচ্ছেদ আর দখলের এক অদ্ভুত ‘লুকোচুরি’ খেলা চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত পরিষ্কার করা হলেও ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই তা আবার চলে যাচ্ছে হকারদের দখলে। ফলে অভিযানের সুফল ভোগ করতে পারছেন না নগরবাসী।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শনিবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা পুলিশ আসার আগেই উচ্ছেদের খবর পৌঁছে যায় হকারদের কানে। মুহূর্তের মধ্যেই ব্যস্ততম ফুটপাত ফাঁকা করে সটকে পড়ে তারা। মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয় পাশের গলিতে কিংবা ভবনের ছাদে। প্রশাসন চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পার হতে না হতেই আবারও সারিবদ্ধভাবে বসে হকারদের দোকান। পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে চলে পুরোদমে কেনাবেচা।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে পুরো ফুটপাতে বসানো হয়েছে চৌকি, খাবারের ঝুড়ি আর রুটিসহ নানা পণ্যের দোকান। হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল এলাকায় এমন বিশৃঙ্খলার কারণে মুমূর্ষু রোগী ও তাদের স্বজনদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এক রোগীর স্বজন মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উচ্ছেদের কিছুক্ষণ পর দেখি আবার সব আগের মতো। আমাদের রোগী নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই হিমশিম খেতে হয়। এই উচ্ছেদ কি শুধু দেখানোর জন্য?’

কেন বারবার উচ্ছেদের পরও ফিরে আসছেন এমন প্রশ্নে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, পেটের তাগিদে এবং বিকল্প কোনো পুনর্বাসন ব্যবস্থা না থাকায় তারা আবারও রাস্তায় বসতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে পথচারীদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় উচ্ছেদ অভিযানগুলো কার্যত নামমাত্র পদক্ষেপে পরিণত হয়েছে।

অভিযান পরিচালনার বিষয়ে রমনা বিভাগের স্পোশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ বলেন, হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকার ভাবছে। আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হকারমুক্ত ফুটপাত করা—আমরা সেটাই করছি। হকাররা যদি আন্দোলনে নামে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজধানীবাসীর স্বস্তির কথা চিন্তা করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীতেও অভিযান অব্যহত থাকবে।

সচেতন মহলের মতে, কেবল মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি এবং নির্দিষ্ট হকার জোন বা স্থায়ী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। অন্যথায় উচ্ছেদ আর দখলের এই চক্র চলতেই থাকবে, আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কেবল বাড়বে।

বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
বিশ্বে বায়ুদূষিত শহরের তালিকায় সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টায় শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকার নাম। একইসঙ্গে এ সময়ে বাতাসের মান ছিল ১৮৪। বায়ুর মান বিচারে এ মাত্রাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া একিউআই স্কোর ১৫৬ নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি, ১৫৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয়। পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি। তথ্যমতে, একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়। ঢাকায় এমন ভয়াবহ বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলোকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভয়াবহ এই দূষণের ফলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।
বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
ঢাকা মেডিকেলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢাবি) ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের (ওসেক) পেছন থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।  নিহতের বয়স আনুমানিক ৮০ বছর এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আইয়ুব আলী বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বৃদ্ধকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহের পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মেডিকেলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ডিএমডি গ্রেপ্তার
আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।  শনিবার (৯ মে) রাতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হায়দার কবির মিথুন (৫৪) দক্ষিণখান এলাকার উত্তর ফায়দাবাদের বাসিন্দা। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। রোববার (১০ মে) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির প্রলোভনে পড়ে বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক উত্তরা সেক্টর-৪ এ অবস্থিত কোম্পানির অফিসে গিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করেন। বাদী বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। এ ছাড়া তার এক বন্ধু আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর কোম্পানি মানি রিসিট ও চেক দিলেও প্রতিশ্রুত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থ্রি-স্টার হোটেল ও জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে গ্রাহকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে পূর্ববর্তী আর্থিক লেনদেনের দায় অস্বীকার করা হয়। সিআইডির তদন্তে জানা যায়, হায়দার কবির মিথুন সরাসরি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে থেকে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ করে বিদেশে পালিয়ে যান। সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা এলাকায় একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বর্তমানে তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিট। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ডিএমডি গ্রেপ্তার
কড়াইল বস্তি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির বিটিসিএম কলোনির একটি টিনশেড বাসা থেকে মোছা. মারজিয়া খাতুন নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) রাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনা সম্পর্কে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ শেখ জানান, শনিবার বিকেলে কড়াইল বস্তির বিটিসিএম কলোনিতে আবুল খায়েরের টিনশেড দোতলা বাসা থেকে মারজিয়ার (৩১) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহতের স্বামী নয়ন সৌদি প্রবাসী। দুপুরে মোবাইল ফোনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারজিয়া নিজ কক্ষে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতের ভাতিজা মো. রনি জানান, তার চাচি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। স্বামী বিদেশে থাকায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই কথা হতো। ঘটনার দিন মোবাইলে কথা-কাটাকাটির পর তিনি ঘরে গিয়ে ফাঁস দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মারজিয়ার গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার বেড়া থানার ঢালারচর এলাকায়। তিনি বাহাদুর মোল্লার মেয়ে। বর্তমানে বনানীর কড়াইল বস্তির বিটিসিএম কলোনিতে আবুল খায়েরের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
কড়াইল বস্তি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
উত্তরায় রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির ধাক্কায় পোশাক শ্রমিক নিহত
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এয়ারপোর্ট এপিবিএন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ির ধাক্কায় মো. নুর আলম (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর ৪টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাই মো. কাসিম মিয়া জানান, নুর আলম একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এপিবিএন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, নুর আলমের গ্রামের বাড়ি শিবচর উপজেলার মোল্লাকান্দি এলাকায়। তিনি ইরফান আলীর ছেলে। বর্তমানে উত্তরার এয়ারপোর্ট এলাকায় বসবাস করতেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
উত্তরায় রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির ধাক্কায় পোশাক শ্রমিক নিহত
বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’
বিশ্বে বায়ুদূষিত শহরের তালিকায় সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টায় শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকার নাম। একইসঙ্গে এ সময়ে বাতাসের মান ছিল ১৮৪। বায়ুর মান বিচারে এ মাত্রাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া একিউআই স্কোর ১৫৬ নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি, ১৫৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয়। পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর ও করাচি। তথ্যমতে, একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়। ঢাকায় এমন ভয়াবহ বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলোকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভয়াবহ এই দূষণের ফলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।
ঢাকা মেডিকেলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
ঢাকা মেডিকেলে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢাবি) ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের (ওসেক) পেছন থেকে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।  নিহতের বয়স আনুমানিক ৮০ বছর এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আইয়ুব আলী বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বৃদ্ধকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহের পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ডিএমডি গ্রেপ্তার
হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ডিএমডি গ্রেপ্তার
আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।  শনিবার (৯ মে) রাতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হায়দার কবির মিথুন (৫৪) দক্ষিণখান এলাকার উত্তর ফায়দাবাদের বাসিন্দা। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। রোববার (১০ মে) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির প্রলোভনে পড়ে বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক উত্তরা সেক্টর-৪ এ অবস্থিত কোম্পানির অফিসে গিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করেন। বাদী বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। এ ছাড়া তার এক বন্ধু আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর কোম্পানি মানি রিসিট ও চেক দিলেও প্রতিশ্রুত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থ্রি-স্টার হোটেল ও জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে গ্রাহকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে পূর্ববর্তী আর্থিক লেনদেনের দায় অস্বীকার করা হয়। সিআইডির তদন্তে জানা যায়, হায়দার কবির মিথুন সরাসরি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে থেকে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ করে বিদেশে পালিয়ে যান। সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা এলাকায় একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বর্তমানে তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিট। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
কড়াইল বস্তি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
কড়াইল বস্তি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির বিটিসিএম কলোনির একটি টিনশেড বাসা থেকে মোছা. মারজিয়া খাতুন নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) রাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনা সম্পর্কে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ শেখ জানান, শনিবার বিকেলে কড়াইল বস্তির বিটিসিএম কলোনিতে আবুল খায়েরের টিনশেড দোতলা বাসা থেকে মারজিয়ার (৩১) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহতের স্বামী নয়ন সৌদি প্রবাসী। দুপুরে মোবাইল ফোনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারজিয়া নিজ কক্ষে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহতের ভাতিজা মো. রনি জানান, তার চাচি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। স্বামী বিদেশে থাকায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই কথা হতো। ঘটনার দিন মোবাইলে কথা-কাটাকাটির পর তিনি ঘরে গিয়ে ফাঁস দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মারজিয়ার গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার বেড়া থানার ঢালারচর এলাকায়। তিনি বাহাদুর মোল্লার মেয়ে। বর্তমানে বনানীর কড়াইল বস্তির বিটিসিএম কলোনিতে আবুল খায়েরের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।