রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে উচ্ছেদ আর দখলের এক অদ্ভুত ‘লুকোচুরি’ খেলা চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত পরিষ্কার করা হলেও ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই তা আবার চলে যাচ্ছে হকারদের দখলে। ফলে অভিযানের সুফল ভোগ করতে পারছেন না নগরবাসী।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা পুলিশ আসার আগেই উচ্ছেদের খবর পৌঁছে যায় হকারদের কানে। মুহূর্তের মধ্যেই ব্যস্ততম ফুটপাত ফাঁকা করে সটকে পড়ে তারা। মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয় পাশের গলিতে কিংবা ভবনের ছাদে। প্রশাসন চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পার হতে না হতেই আবারও সারিবদ্ধভাবে বসে হকারদের দোকান। পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে চলে পুরোদমে কেনাবেচা।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে পুরো ফুটপাতে বসানো হয়েছে চৌকি, খাবারের ঝুড়ি আর রুটিসহ নানা পণ্যের দোকান। হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল এলাকায় এমন বিশৃঙ্খলার কারণে মুমূর্ষু রোগী ও তাদের স্বজনদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এক রোগীর স্বজন মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উচ্ছেদের কিছুক্ষণ পর দেখি আবার সব আগের মতো। আমাদের রোগী নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই হিমশিম খেতে হয়। এই উচ্ছেদ কি শুধু দেখানোর জন্য?’
কেন বারবার উচ্ছেদের পরও ফিরে আসছেন এমন প্রশ্নে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, পেটের তাগিদে এবং বিকল্প কোনো পুনর্বাসন ব্যবস্থা না থাকায় তারা আবারও রাস্তায় বসতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে পথচারীদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় উচ্ছেদ অভিযানগুলো কার্যত নামমাত্র পদক্ষেপে পরিণত হয়েছে।
অভিযান পরিচালনার বিষয়ে রমনা বিভাগের স্পোশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ বলেন, হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকার ভাবছে। আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হকারমুক্ত ফুটপাত করা—আমরা সেটাই করছি। হকাররা যদি আন্দোলনে নামে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজধানীবাসীর স্বস্তির কথা চিন্তা করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামীতেও অভিযান অব্যহত থাকবে।
সচেতন মহলের মতে, কেবল মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি এবং নির্দিষ্ট হকার জোন বা স্থায়ী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। অন্যথায় উচ্ছেদ আর দখলের এই চক্র চলতেই থাকবে, আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কেবল বাড়বে।




