
আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শনিবার (৯ মে) রাতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত হায়দার কবির মিথুন (৫৪) দক্ষিণখান এলাকার উত্তর ফায়দাবাদের বাসিন্দা। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
রোববার (১০ মে) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির প্রলোভনে পড়ে বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক উত্তরা সেক্টর-৪ এ অবস্থিত কোম্পানির অফিসে গিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করেন। বাদী বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। এ ছাড়া তার এক বন্ধু আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর কোম্পানি মানি রিসিট ও চেক দিলেও প্রতিশ্রুত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থ্রি-স্টার হোটেল ও জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
টাকা ফেরত চাইলে গ্রাহকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে পূর্ববর্তী আর্থিক লেনদেনের দায় অস্বীকার করা হয়।
সিআইডির তদন্তে জানা যায়, হায়দার কবির মিথুন সরাসরি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মামলা দায়েরের পর তিনি আত্মগোপনে থেকে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ করে বিদেশে পালিয়ে যান।
সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা এলাকায় একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
বর্তমানে তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিট। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




