ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

কালবেলা ডেস্ক

  ২৪ মে ২০২৫, ০০:০০

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক পক্ষের হামলায় অপর পক্ষের একজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের আব্বাছনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান। হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়। অন্যদিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া মেহেরপুর সদর উপজেলায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েকজন। কালবেলার প্রতিনিধির পাঠানো খবর:

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুর রহমান রাশেদ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুর্গাপুরে কিছু শুভেচ্ছামূলক পোস্টার পাঠান। তার লোকজন দুর্গাপুর বাজারসহ স্থানীয় বিএনপি অফিসে সেই পোস্টার লাগাতে গেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল মাস্টার বাধা দেন। পরে হামিদুর রহমান রাশেদ বিষয়টি দুর্গাপুর থানা পুলিশকে জানান। এতে জামাল মাস্টার আরও ক্ষিপ্ত হন। পরে তার নেতৃত্বে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২৫-৩০টি মোটরসাইকেলে কিছু ব্যক্তি আব্বাছনগর গ্রামে গিয়ে হামিদুর রহমান রাশেদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আব্বাছনগর বাজারেও হামলা ও ভাঙচুর করে। হামলায় রাশেদের

দূর-সম্পর্কের ভাতিজা শফিকুল ইসলাম সফু (৪০) নিহত এবং ৬ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

নিহতের স্বজনদের দাবি, হামলার সময় জামাল মাস্টারের লোকজন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং শফিকুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, জামাল মাস্টার দাবি করেছেন, দুর্গাপুরে কারোর পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের বাড়ি ১৫ কিলোমিটার দূরে, সেখানে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এ ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে।

টঙ্গীতে বিএনপির দুই পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫: গাজীপুরের টঙ্গীতে ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত গাজীপুরা এলাকার স্যাটার্ন কারখানার সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক কালবেলার টঙ্গী প্রতিনিধি মহিউদ্দিন রিপন, এশিয়ান টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি আরিফ চৌধুরী, আনন্দ টিভির রায়হান মৃধা, সংবাদকর্মী মারুফ, পুলিশ সদস্য আজিজ ও ফরহাদ। সংঘর্ষে স্থানীয় আরও কয়েকজন আহত হন।

জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বিএনপির ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক কাজী হুমায়ুনের ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ঝুট ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত অর্থ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপির অপর অংশের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আল মামুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা দিলশান আরা বেগম নিয়মিত ওই কারখানা থেকে ঝুট নামিয়ে আওয়ামী লীগকে অর্থ দিচ্ছেন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আমরা মানববন্ধন করেছিলাম। আজ আবার কাজী হুমায়ুনকে ঝুট নামাতে দেখা গেছে। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ককটেল হামলা চালিয়েছেন।’

কাজী হুমায়ুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান নূর এন্টারপ্রাইজের বৈধ চুক্তিপত্র রয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে ওয়েস্টেজ মালপত্র নিচ্ছি। আল মামুন ও তার লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইসকান্দার হাবিবুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার তদন্ত চলছে, আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

মেহেরপুরে বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষ: মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপিতে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুল হাসানের লোকজনের অভিযোগ, আমঝুপি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও তার ভাই সফিকুল ইসলামসহ তাদের কর্মী সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে। তারা সম্মেলন স্থলে নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেয়। এ সময় প্রতিরোধ করতে গেলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হামলার শিকার হয়।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। সম্মেলন স্থলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আইডিয়াল শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন
রাজধানীর বাংলামটরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আরশাদ আহমেদ সরকার (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরশাদ আহমেদ লালবাগের ওয়াটার ওয়ার্কস রোড এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। হাতিরঝিল থানার এসআই শহিদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথেই তার মৃত্যু হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরশাদ মোটরসাইকেল চালিয়ে বাংলামটর পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়েছে। ভাটারায় কলেজ শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু: রাজধানীর ভাটারায় কুড়িল এলাকার একটি বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে জোবায়ের হক আরহাম (১৯) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তিনি উইলসলিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। গতকাল দুপুরের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। মৃত জুবায়ের কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শোলা ধলন্দি গ্রামের মনিরুল হকের ছেলে। কুড়িল এলাকায় মামার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন তিনি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ভাটারা থানার এসআই আব্দুল কাদের জানান, খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল মর্গের ট্রলির ওপর থেকে জুবায়েরের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুবায়েরকে বাসায় রেখে তার নানি এবং মামি ওষুধ আনার জন্য বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর তারা বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। এরপর জোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে দেখেন জুবায়ের ড্রইং রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে; কিন্তু কেন বা কী কারণে তিনি এমনটি করেছেন, তা পরিবারের কেউ জানাতে পারেননি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আইডিয়াল শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন
নুরুল হক নুর / নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে
নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। নুর বলেন, নাবালক উপদেষ্টারা বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদকে বিতর্কিত করছে। তারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে। তাদের এখনই সরান না; হলে ভয়াবহ সংকটে পড়বে দেশ। এখনই সময় অভিজ্ঞদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে ঢেলে সাজান। না হয় যা হওয়ার তাই হবে। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেবের প্রতি এখনও আস্থা ও বিশ্বাস রাখি। তবে কিছু উপদেষ্টার কার্যক্রমে প্রশ্ন উঠেছে। তারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলেছে ড. ইউনূস পদত্যাগ করবেন। এদের অনেকেই অল্প বয়সে নেতা হয়ে আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেছে। সরকারি বাসভবন ঘেরাও করেছে। সচিব, ডিসি, এসপি হটানোর মতো নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টা তাদের সংযত হতে বলেছেন। নুর অভিযোগ করেন, কিছু উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। যার ফলে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইশরাককে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হয়নি। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকারের উপদেষ্টা যদি বাধা দেন, তাহলে বিএনপি তা মেনে নেবে না। ফলে রাজধানীতে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। এসব পরিস্থিতির জন্য দায়ী হচ্ছেন কিছু অদক্ষ, নাবালক উপদেষ্টা। রূপগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে গতকাল বিকেল ৩টায় ভুলতা গোলচত্বর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সড়ক বন্ধ করে সড়কের মাঝখানে তৈরি করা হয় মঞ্চ। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিম উদ্দিন, রূপগঞ্জ উপজেলা সভাপতি কাউসার আহমেদ প্রমুখ।
নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে
চরমোনাই পীর / বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে
ফ্যাসিবাদ উৎখাতে ভূমিকা রাখা সব পক্ষকে বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়ার বিষয় আছে; কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপে ফেলে দাবি-দাওয়া আদায়ের রাজনীতি এবং পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শুক্রবার দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীর বলেন, বিগত ১৫ বছরে একটি নির্মম স্বৈরতন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে জাতি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের ফলে জাতির সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশকে নতুন করে গঠন করার। রাষ্ট্রের নীতিগত, আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার করে দেশকে রাহুমুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনোভাবেই এই সুযোগ নষ্ট করা যাবে না। তাই ফ্যাসিবাদ উৎখাতে ভূমিকা রাখা সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক আচরণ করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের মানুষ অভূতপূর্ব অকুণ্ঠ সমর্থনে আপনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আপনার দায় শহীদদের রক্ত ও আহতদের বেদনার প্রতি। তাদের রক্ত ও জীবন উৎসর্গকে সার্থক করতে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব আপনাকে পালন করতেই হবে। কোনো দল বা ব্যক্তি বিশেষের চাপ, অসহযোগিতা, বাধাকে উপেক্ষা করুন। ১৮ কোটি জনতার দেওয়া দায়িত্ব আপনি অবিচলতার সঙ্গে পালন করুন। দেশবাসী আপনার পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। চরমোনাই পীর আরও বলেন, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, সশস্ত্রবাহিনীসহ রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব-কর্তব্য ও কর্মপরিধি সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে। কোনোভাবেই এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। তাতে করে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। তাই রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে নিজ কর্মপরিধির মধ্যে সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে আহ্বান করব।
বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে
মজিবুর রহমান মঞ্জু / অনৈক্য সৃষ্টিকারী উপদেষ্টাদের উচিত পদত্যাগ করা
সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট ও জটিল পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নয়, বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষকে সমঝোতামূলক সমাধানে পৌঁছার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই আহ্বান জানান। ‘রাষ্ট্রের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট ও জটিল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে’ এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি, আমিনুল ইসলাম, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল প্রমুখ। এ সময় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব উপদেষ্টার কারণে জাতীয় অনৈক্য তৈরি হয়েছে, তাদের পদত্যাগ করার উচিত। যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে, তাদের আরও আগে পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেখানে সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সেটি হতে পারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক মেধাসম্পন্ন লোককে উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত করা। তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেছেন, তারা চিরদিনের জন্য ক্ষমতায় বসে গেছেন। অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে যে ব্যর্থতার জায়গা রচিত হয়েছে, সেটি তাদের জন্য রচিত হয়েছে। তাদের জন্যই এই প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো উপদেষ্টার কথা ও আচরণে জাতীয় ঐক্য বিভক্ত হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান—এমন বক্তব্য সব জায়গায় এসেছে। তিনি সরে গেলেই কোনো সমাধান হবে না। সরে যাওয়ার বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়াও কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। তিনি সরে গেলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্য কেউ এই দায়িত্ব নিতে সাহস করবেন না। এই পরিস্থিতিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তাই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়, বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষ সমঝোতামূলক সমাধানে আসতে হবে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ড. ইউনূসকে চেয়ারে রাখতে হবে মন্তব্য করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনের পরিস্থিতির জন্য সবাই আফসোস করবেন। এ জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অন্যের বিরুদ্ধে তির্যক বক্তব্য না দিয়ে জাতীয় ঐক্যের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনৈক্য সৃষ্টিকারী উপদেষ্টাদের উচিত পদত্যাগ করা
মামুনুল হক / প্রধান উপদেষ্টা দেশের অভিভাবক সেনাপ্রধান স্তম্ভ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের সেনাপ্রধান দেশের স্তম্ভ। আপনারা ব্যক্তিগত মান-অভিমানের কারণে মানুষের স্বপ্ন ফিকে হতে দেবেন না।’ গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে চার দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ক্ষমতা নিয়ে মারামারি-হানাহানি করা সমীচীন হবে না মন্তব্য করে মামুনুল হক সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে বলেন, এভাবে টাইম ফ্রেম বেঁধে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। একের পর এক দাবি আদায়ের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে এই দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব দল ও সংগঠনের প্রতি ঐক্যের ডাক দেন। সেইসঙ্গে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল, সংবিধান থেকে বিতর্কিত বহুত্ববাদ প্রত্যাহার, সংস্কার ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, নারী কমিশন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো করিডোর মেনে নেবে না। শেখ হাসিনার বিচার ছাড়া কোনো কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না। আরও বক্তব্য দেন মাওলানা আবু তাহের নদভী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা জালাল আহমদ, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা কামাল উদ্দিন, মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি শরিফ উল্লাহ, মুফতি সালাহউদ্দিন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, ড. শোয়াইব আহমদ, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মুফতি মোস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল মালেক। সমাবেশ শেষে হেফাজত নেতারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পল্টন হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
প্রধান উপদেষ্টা দেশের অভিভাবক সেনাপ্রধান স্তম্ভ
কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আইডিয়াল শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন
কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আইডিয়াল শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন
রাজধানীর বাংলামটরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আরশাদ আহমেদ সরকার (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরশাদ আহমেদ লালবাগের ওয়াটার ওয়ার্কস রোড এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। হাতিরঝিল থানার এসআই শহিদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথেই তার মৃত্যু হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরশাদ মোটরসাইকেল চালিয়ে বাংলামটর পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়েছে। ভাটারায় কলেজ শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু: রাজধানীর ভাটারায় কুড়িল এলাকার একটি বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে জোবায়ের হক আরহাম (১৯) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তিনি উইলসলিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। গতকাল দুপুরের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। মৃত জুবায়ের কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শোলা ধলন্দি গ্রামের মনিরুল হকের ছেলে। কুড়িল এলাকায় মামার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন তিনি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ভাটারা থানার এসআই আব্দুল কাদের জানান, খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল মর্গের ট্রলির ওপর থেকে জুবায়েরের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুবায়েরকে বাসায় রেখে তার নানি এবং মামি ওষুধ আনার জন্য বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর তারা বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। এরপর জোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে দেখেন জুবায়ের ড্রইং রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে; কিন্তু কেন বা কী কারণে তিনি এমনটি করেছেন, তা পরিবারের কেউ জানাতে পারেননি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে
নুরুল হক নুর / নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে
নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। নুর বলেন, নাবালক উপদেষ্টারা বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদকে বিতর্কিত করছে। তারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে। তাদের এখনই সরান না; হলে ভয়াবহ সংকটে পড়বে দেশ। এখনই সময় অভিজ্ঞদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে ঢেলে সাজান। না হয় যা হওয়ার তাই হবে। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেবের প্রতি এখনও আস্থা ও বিশ্বাস রাখি। তবে কিছু উপদেষ্টার কার্যক্রমে প্রশ্ন উঠেছে। তারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলেছে ড. ইউনূস পদত্যাগ করবেন। এদের অনেকেই অল্প বয়সে নেতা হয়ে আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেছে। সরকারি বাসভবন ঘেরাও করেছে। সচিব, ডিসি, এসপি হটানোর মতো নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টা তাদের সংযত হতে বলেছেন। নুর অভিযোগ করেন, কিছু উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। যার ফলে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইশরাককে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হয়নি। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকারের উপদেষ্টা যদি বাধা দেন, তাহলে বিএনপি তা মেনে নেবে না। ফলে রাজধানীতে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। এসব পরিস্থিতির জন্য দায়ী হচ্ছেন কিছু অদক্ষ, নাবালক উপদেষ্টা। রূপগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে গতকাল বিকেল ৩টায় ভুলতা গোলচত্বর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সড়ক বন্ধ করে সড়কের মাঝখানে তৈরি করা হয় মঞ্চ। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিম উদ্দিন, রূপগঞ্জ উপজেলা সভাপতি কাউসার আহমেদ প্রমুখ।
বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে
চরমোনাই পীর / বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে
ফ্যাসিবাদ উৎখাতে ভূমিকা রাখা সব পক্ষকে বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়ার বিষয় আছে; কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপে ফেলে দাবি-দাওয়া আদায়ের রাজনীতি এবং পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শুক্রবার দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীর বলেন, বিগত ১৫ বছরে একটি নির্মম স্বৈরতন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে জাতি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের ফলে জাতির সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশকে নতুন করে গঠন করার। রাষ্ট্রের নীতিগত, আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার করে দেশকে রাহুমুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনোভাবেই এই সুযোগ নষ্ট করা যাবে না। তাই ফ্যাসিবাদ উৎখাতে ভূমিকা রাখা সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক আচরণ করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের মানুষ অভূতপূর্ব অকুণ্ঠ সমর্থনে আপনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আপনার দায় শহীদদের রক্ত ও আহতদের বেদনার প্রতি। তাদের রক্ত ও জীবন উৎসর্গকে সার্থক করতে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব আপনাকে পালন করতেই হবে। কোনো দল বা ব্যক্তি বিশেষের চাপ, অসহযোগিতা, বাধাকে উপেক্ষা করুন। ১৮ কোটি জনতার দেওয়া দায়িত্ব আপনি অবিচলতার সঙ্গে পালন করুন। দেশবাসী আপনার পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। চরমোনাই পীর আরও বলেন, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, সশস্ত্রবাহিনীসহ রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব-কর্তব্য ও কর্মপরিধি সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে। কোনোভাবেই এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। তাতে করে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। তাই রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে নিজ কর্মপরিধির মধ্যে সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে আহ্বান করব।
অনৈক্য সৃষ্টিকারী উপদেষ্টাদের উচিত পদত্যাগ করা
মজিবুর রহমান মঞ্জু / অনৈক্য সৃষ্টিকারী উপদেষ্টাদের উচিত পদত্যাগ করা
সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট ও জটিল পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নয়, বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষকে সমঝোতামূলক সমাধানে পৌঁছার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই আহ্বান জানান। ‘রাষ্ট্রের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট ও জটিল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে’ এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি, আমিনুল ইসলাম, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল প্রমুখ। এ সময় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব উপদেষ্টার কারণে জাতীয় অনৈক্য তৈরি হয়েছে, তাদের পদত্যাগ করার উচিত। যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে, তাদের আরও আগে পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেখানে সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সেটি হতে পারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক মেধাসম্পন্ন লোককে উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত করা। তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেছেন, তারা চিরদিনের জন্য ক্ষমতায় বসে গেছেন। অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে যে ব্যর্থতার জায়গা রচিত হয়েছে, সেটি তাদের জন্য রচিত হয়েছে। তাদের জন্যই এই প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো উপদেষ্টার কথা ও আচরণে জাতীয় ঐক্য বিভক্ত হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান—এমন বক্তব্য সব জায়গায় এসেছে। তিনি সরে গেলেই কোনো সমাধান হবে না। সরে যাওয়ার বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়াও কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। তিনি সরে গেলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্য কেউ এই দায়িত্ব নিতে সাহস করবেন না। এই পরিস্থিতিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তাই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়, বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষ সমঝোতামূলক সমাধানে আসতে হবে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ড. ইউনূসকে চেয়ারে রাখতে হবে মন্তব্য করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনের পরিস্থিতির জন্য সবাই আফসোস করবেন। এ জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অন্যের বিরুদ্ধে তির্যক বক্তব্য না দিয়ে জাতীয় ঐক্যের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।