ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

কালবেলা প্রতিবেদক

  ২৪ মে ২০২৫, ০০:০০

ফ্যাসিবাদ উৎখাতে ভূমিকা রাখা সব পক্ষকে বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়ার বিষয় আছে; কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপে ফেলে দাবি-দাওয়া আদায়ের রাজনীতি এবং পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শুক্রবার দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, বিগত ১৫ বছরে একটি নির্মম স্বৈরতন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে জাতি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের ফলে জাতির সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশকে নতুন করে গঠন করার। রাষ্ট্রের নীতিগত, আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার করে দেশকে রাহুমুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনোভাবেই এই সুযোগ নষ্ট করা যাবে না। তাই ফ্যাসিবাদ উৎখাতে ভূমিকা রাখা সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক আচরণ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের মানুষ অভূতপূর্ব অকুণ্ঠ সমর্থনে আপনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আপনার দায় শহীদদের রক্ত ও আহতদের বেদনার প্রতি। তাদের রক্ত ও জীবন উৎসর্গকে সার্থক করতে সংস্কারের গুরু দায়িত্ব আপনাকে পালন করতেই হবে। কোনো দল বা ব্যক্তি বিশেষের চাপ, অসহযোগিতা, বাধাকে উপেক্ষা করুন। ১৮ কোটি জনতার দেওয়া দায়িত্ব আপনি অবিচলতার সঙ্গে পালন করুন। দেশবাসী আপনার পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, সশস্ত্রবাহিনীসহ রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব-কর্তব্য ও কর্মপরিধি সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে। কোনোভাবেই এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। তাতে করে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। তাই রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে নিজ কর্মপরিধির মধ্যে সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে আহ্বান করব।

কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আইডিয়াল শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন
রাজধানীর বাংলামটরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আরশাদ আহমেদ সরকার (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরশাদ আহমেদ লালবাগের ওয়াটার ওয়ার্কস রোড এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। হাতিরঝিল থানার এসআই শহিদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথেই তার মৃত্যু হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরশাদ মোটরসাইকেল চালিয়ে বাংলামটর পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়েছে। ভাটারায় কলেজ শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু: রাজধানীর ভাটারায় কুড়িল এলাকার একটি বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে জোবায়ের হক আরহাম (১৯) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তিনি উইলসলিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। গতকাল দুপুরের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। মৃত জুবায়ের কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শোলা ধলন্দি গ্রামের মনিরুল হকের ছেলে। কুড়িল এলাকায় মামার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন তিনি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ভাটারা থানার এসআই আব্দুল কাদের জানান, খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল মর্গের ট্রলির ওপর থেকে জুবায়েরের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুবায়েরকে বাসায় রেখে তার নানি এবং মামি ওষুধ আনার জন্য বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর তারা বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। এরপর জোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে দেখেন জুবায়ের ড্রইং রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে; কিন্তু কেন বা কী কারণে তিনি এমনটি করেছেন, তা পরিবারের কেউ জানাতে পারেননি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আইডিয়াল শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন
নুরুল হক নুর / নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে
নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। নুর বলেন, নাবালক উপদেষ্টারা বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদকে বিতর্কিত করছে। তারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে। তাদের এখনই সরান না; হলে ভয়াবহ সংকটে পড়বে দেশ। এখনই সময় অভিজ্ঞদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে ঢেলে সাজান। না হয় যা হওয়ার তাই হবে। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেবের প্রতি এখনও আস্থা ও বিশ্বাস রাখি। তবে কিছু উপদেষ্টার কার্যক্রমে প্রশ্ন উঠেছে। তারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলেছে ড. ইউনূস পদত্যাগ করবেন। এদের অনেকেই অল্প বয়সে নেতা হয়ে আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেছে। সরকারি বাসভবন ঘেরাও করেছে। সচিব, ডিসি, এসপি হটানোর মতো নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টা তাদের সংযত হতে বলেছেন। নুর অভিযোগ করেন, কিছু উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। যার ফলে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইশরাককে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হয়নি। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকারের উপদেষ্টা যদি বাধা দেন, তাহলে বিএনপি তা মেনে নেবে না। ফলে রাজধানীতে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। এসব পরিস্থিতির জন্য দায়ী হচ্ছেন কিছু অদক্ষ, নাবালক উপদেষ্টা। রূপগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে গতকাল বিকেল ৩টায় ভুলতা গোলচত্বর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সড়ক বন্ধ করে সড়কের মাঝখানে তৈরি করা হয় মঞ্চ। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিম উদ্দিন, রূপগঞ্জ উপজেলা সভাপতি কাউসার আহমেদ প্রমুখ।
নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে
মজিবুর রহমান মঞ্জু / অনৈক্য সৃষ্টিকারী উপদেষ্টাদের উচিত পদত্যাগ করা
সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট ও জটিল পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নয়, বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষকে সমঝোতামূলক সমাধানে পৌঁছার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই আহ্বান জানান। ‘রাষ্ট্রের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট ও জটিল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে’ এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি, আমিনুল ইসলাম, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল প্রমুখ। এ সময় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব উপদেষ্টার কারণে জাতীয় অনৈক্য তৈরি হয়েছে, তাদের পদত্যাগ করার উচিত। যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে, তাদের আরও আগে পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেখানে সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সেটি হতে পারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক মেধাসম্পন্ন লোককে উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত করা। তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেছেন, তারা চিরদিনের জন্য ক্ষমতায় বসে গেছেন। অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে যে ব্যর্থতার জায়গা রচিত হয়েছে, সেটি তাদের জন্য রচিত হয়েছে। তাদের জন্যই এই প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো উপদেষ্টার কথা ও আচরণে জাতীয় ঐক্য বিভক্ত হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান—এমন বক্তব্য সব জায়গায় এসেছে। তিনি সরে গেলেই কোনো সমাধান হবে না। সরে যাওয়ার বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়াও কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। তিনি সরে গেলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্য কেউ এই দায়িত্ব নিতে সাহস করবেন না। এই পরিস্থিতিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তাই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়, বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষ সমঝোতামূলক সমাধানে আসতে হবে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ড. ইউনূসকে চেয়ারে রাখতে হবে মন্তব্য করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনের পরিস্থিতির জন্য সবাই আফসোস করবেন। এ জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অন্যের বিরুদ্ধে তির্যক বক্তব্য না দিয়ে জাতীয় ঐক্যের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনৈক্য সৃষ্টিকারী উপদেষ্টাদের উচিত পদত্যাগ করা
মামুনুল হক / প্রধান উপদেষ্টা দেশের অভিভাবক সেনাপ্রধান স্তম্ভ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের সেনাপ্রধান দেশের স্তম্ভ। আপনারা ব্যক্তিগত মান-অভিমানের কারণে মানুষের স্বপ্ন ফিকে হতে দেবেন না।’ গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে চার দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ক্ষমতা নিয়ে মারামারি-হানাহানি করা সমীচীন হবে না মন্তব্য করে মামুনুল হক সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে বলেন, এভাবে টাইম ফ্রেম বেঁধে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। একের পর এক দাবি আদায়ের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে এই দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব দল ও সংগঠনের প্রতি ঐক্যের ডাক দেন। সেইসঙ্গে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল, সংবিধান থেকে বিতর্কিত বহুত্ববাদ প্রত্যাহার, সংস্কার ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, নারী কমিশন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো করিডোর মেনে নেবে না। শেখ হাসিনার বিচার ছাড়া কোনো কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না। আরও বক্তব্য দেন মাওলানা আবু তাহের নদভী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা জালাল আহমদ, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা কামাল উদ্দিন, মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি শরিফ উল্লাহ, মুফতি সালাহউদ্দিন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, ড. শোয়াইব আহমদ, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মুফতি মোস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল মালেক। সমাবেশ শেষে হেফাজত নেতারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পল্টন হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
প্রধান উপদেষ্টা দেশের অভিভাবক সেনাপ্রধান স্তম্ভ
হার্ভার্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশে আদালতের স্থগিতাদেশ
কলমের এক খোঁচায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির পথ বন্ধ করে দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন বাতিল করে। ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী হার্ভার্ডে ভর্তি হতে পারবেন না। ফলে হার্ভার্ডে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, তাদের দেওয়া ছয়টি শর্ত পূরণ করলেই আবার বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। জবাবে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ ট্রাম্প প্রশাসনের এ নির্দেশনাকে অবৈধ বলে দাবি করে বোস্টনে মামলা করে। মামলাটি মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ অ্যালিসন বারোজের কাছে ন্যস্ত করা হয়। এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বোস্টনের আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এ আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ আরোপ করেন। একই নির্দেশনায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরও বন্ধ করা হয়েছে। মামলায় হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনি সহায়তায় তারা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে শিথিল করার চেষ্টা চালাবে। বোস্টনে দায়ের করা এ মামলায় প্রশাসনের পদক্ষেপকে আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়েছে। মামলার নথিপত্রে হার্ভার্ড উল্লেখ করেছে, ‘সরকার কলমের খোঁচায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আগেই জানিয়েছিল, প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এর আগেও পাঠ্যক্রম, ভর্তি নীতিমালা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে হার্ভার্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। শুক্রবার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্বার জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতা এবং ইহুদিবিদ্বেষের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি প্রশাসনিক তদন্তেও হার্ভার্ডের অসহযোগিতার অভিযোগ সত্য নয়। বরং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেছে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিদেশি শিক্ষার্থীরা এ প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাদের থেকে সংগ্রহ করা টিউশন ফি দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার যাবতীয় অর্থ সংগ্রহ করা হয়। হার্ভার্ডকে প্রশাসনের ৬ শর্ত: এর আগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হলে হার্ভার্ডকে ছয়টি শর্ত দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। এজন্য তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। শর্তগুলো হচ্ছে—বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সব শিক্ষার্থীর বিগত পাঁচ বছরের রেকর্ড দেওয়া; বিগত পাঁচ বছরের শিক্ষার্থীদের হিংসাত্মক কার্যক্রমের রেকর্ড; শিক্ষার্থীদের আচরণ ও শৃঙ্খলাজনিত কার্যক্রমের রেকর্ড দেওয়া; শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদমূলক কার্যক্রমের তথ্য দেওয়া; বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী বা কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘনবিষয়ক কর্মকাণ্ডের তথ্য দেওয়া। কিন্তু হার্ভার্ড প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার স্বার্থে তারা এসব তথ্য সরবরাহ করবে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম গতকাল মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী তার জাতি কিংবা বর্ণের কারণে যেন বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত আর কার্যকর থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় চীন: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার ঘোষণা আসার পর থেকেই চীনা সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় অংশ আসেন চীন থেকে। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় সব শাখায় যতজন শিক্ষার্থী ভর্তি করে তার মধ্যে চীনা শিক্ষার্থী ছিল ১২০৩ জন। বেইজিংয়ে শুক্রবার ব্রিফিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিক্ষাগত সহযোগিতা পারস্পরিকভাবে উপকারী। চীন এর রাজনীতিকরণের বিরোধিতা করে। মার্কিন পক্ষের প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপগুলো কেবল তাদের নিজস্ব ভাবমূর্তি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করবে। তিনি আরও বলেন, বেইজিং বিদেশে চীনা শিক্ষার্থী এবং পণ্ডিতদের অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।
হার্ভার্ডে ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশে আদালতের স্থগিতাদেশ
কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আইডিয়াল শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন
কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আইডিয়াল শিক্ষার্থী প্রাণ হারালেন
রাজধানীর বাংলামটরে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আরশাদ আহমেদ সরকার (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরশাদ আহমেদ লালবাগের ওয়াটার ওয়ার্কস রোড এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। হাতিরঝিল থানার এসআই শহিদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথেই তার মৃত্যু হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরশাদ মোটরসাইকেল চালিয়ে বাংলামটর পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়েছে। ভাটারায় কলেজ শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু: রাজধানীর ভাটারায় কুড়িল এলাকার একটি বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে জোবায়ের হক আরহাম (১৯) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তিনি উইলসলিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। গতকাল দুপুরের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। মৃত জুবায়ের কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শোলা ধলন্দি গ্রামের মনিরুল হকের ছেলে। কুড়িল এলাকায় মামার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন তিনি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ভাটারা থানার এসআই আব্দুল কাদের জানান, খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল মর্গের ট্রলির ওপর থেকে জুবায়েরের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুবায়েরকে বাসায় রেখে তার নানি এবং মামি ওষুধ আনার জন্য বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর তারা বাসায় ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। এরপর জোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে দেখেন জুবায়ের ড্রইং রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে; কিন্তু কেন বা কী কারণে তিনি এমনটি করেছেন, তা পরিবারের কেউ জানাতে পারেননি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে
নুরুল হক নুর / নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে
নাবালক উপদেষ্টারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। নুর বলেন, নাবালক উপদেষ্টারা বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদকে বিতর্কিত করছে। তারা জুলাই ঐক্য নষ্ট করেছে। তাদের এখনই সরান না; হলে ভয়াবহ সংকটে পড়বে দেশ। এখনই সময় অভিজ্ঞদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে ঢেলে সাজান। না হয় যা হওয়ার তাই হবে। ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সাহেবের প্রতি এখনও আস্থা ও বিশ্বাস রাখি। তবে কিছু উপদেষ্টার কার্যক্রমে প্রশ্ন উঠেছে। তারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বলেছে ড. ইউনূস পদত্যাগ করবেন। এদের অনেকেই অল্প বয়সে নেতা হয়ে আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেছে। সরকারি বাসভবন ঘেরাও করেছে। সচিব, ডিসি, এসপি হটানোর মতো নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এ কারণে প্রধান উপদেষ্টা তাদের সংযত হতে বলেছেন। নুর অভিযোগ করেন, কিছু উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছেন। যার ফলে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইশরাককে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে দেওয়া হয়নি। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আদালতের রায় কার্যকর করতে সরকারের উপদেষ্টা যদি বাধা দেন, তাহলে বিএনপি তা মেনে নেবে না। ফলে রাজধানীতে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। এসব পরিস্থিতির জন্য দায়ী হচ্ছেন কিছু অদক্ষ, নাবালক উপদেষ্টা। রূপগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে গতকাল বিকেল ৩টায় ভুলতা গোলচত্বর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সড়ক বন্ধ করে সড়কের মাঝখানে তৈরি করা হয় মঞ্চ। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিম উদ্দিন, রূপগঞ্জ উপজেলা সভাপতি কাউসার আহমেদ প্রমুখ।
অনৈক্য সৃষ্টিকারী উপদেষ্টাদের উচিত পদত্যাগ করা
মজিবুর রহমান মঞ্জু / অনৈক্য সৃষ্টিকারী উপদেষ্টাদের উচিত পদত্যাগ করা
সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট ও জটিল পরিস্থিতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নয়, বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষকে সমঝোতামূলক সমাধানে পৌঁছার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই আহ্বান জানান। ‘রাষ্ট্রের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংকট ও জটিল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে’ এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি, আমিনুল ইসলাম, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল প্রমুখ। এ সময় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব উপদেষ্টার কারণে জাতীয় অনৈক্য তৈরি হয়েছে, তাদের পদত্যাগ করার উচিত। যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে, তাদের আরও আগে পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেখানে সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সেটি হতে পারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক মেধাসম্পন্ন লোককে উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত করা। তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেছেন, তারা চিরদিনের জন্য ক্ষমতায় বসে গেছেন। অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে যে ব্যর্থতার জায়গা রচিত হয়েছে, সেটি তাদের জন্য রচিত হয়েছে। তাদের জন্যই এই প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো উপদেষ্টার কথা ও আচরণে জাতীয় ঐক্য বিভক্ত হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান—এমন বক্তব্য সব জায়গায় এসেছে। তিনি সরে গেলেই কোনো সমাধান হবে না। সরে যাওয়ার বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়াও কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। তিনি সরে গেলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্য কেউ এই দায়িত্ব নিতে সাহস করবেন না। এই পরিস্থিতিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তাই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়, বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষ সমঝোতামূলক সমাধানে আসতে হবে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ড. ইউনূসকে চেয়ারে রাখতে হবে মন্তব্য করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনের পরিস্থিতির জন্য সবাই আফসোস করবেন। এ জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অন্যের বিরুদ্ধে তির্যক বক্তব্য না দিয়ে জাতীয় ঐক্যের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা দেশের অভিভাবক সেনাপ্রধান স্তম্ভ
মামুনুল হক / প্রধান উপদেষ্টা দেশের অভিভাবক সেনাপ্রধান স্তম্ভ
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের সেনাপ্রধান দেশের স্তম্ভ। আপনারা ব্যক্তিগত মান-অভিমানের কারণে মানুষের স্বপ্ন ফিকে হতে দেবেন না।’ গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে চার দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ক্ষমতা নিয়ে মারামারি-হানাহানি করা সমীচীন হবে না মন্তব্য করে মামুনুল হক সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে বলেন, এভাবে টাইম ফ্রেম বেঁধে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। একের পর এক দাবি আদায়ের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে এই দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব দল ও সংগঠনের প্রতি ঐক্যের ডাক দেন। সেইসঙ্গে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল, সংবিধান থেকে বিতর্কিত বহুত্ববাদ প্রত্যাহার, সংস্কার ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান বলেন, নারী কমিশন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো করিডোর মেনে নেবে না। শেখ হাসিনার বিচার ছাড়া কোনো কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না। আরও বক্তব্য দেন মাওলানা আবু তাহের নদভী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা জালাল আহমদ, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা কামাল উদ্দিন, মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি শরিফ উল্লাহ, মুফতি সালাহউদ্দিন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, ড. শোয়াইব আহমদ, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মুফতি মোস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল মালেক। সমাবেশ শেষে হেফাজত নেতারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পল্টন হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়।