ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

৫০ বছর পর আবারও চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৭
বুধবার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আর্টেমিস ২ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৫০ বছর পর আবারও মানুষের পদচিহ্ন পড়তে যাচ্ছে মহাকাশে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বুধবার (১ এপ্রিল) ঐতিহাসিক আর্টেমিস ২ মিশনের সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। ৩২ তলা উচ্চতার বিশালাকার রকেটটি যখন গর্জন করে আকাশে ডানা মেলে, তখন সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তের সাক্ষী হন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

আর্টেমিস ২ চারজন নভোচারীকে নিয়ে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণের সফল যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রা মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার মানুষকে পুনরায় চাঁদে ফিরিয়ে আনা এবং শেষ পর্যন্ত মঙ্গলে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনার একটি বড় পদক্ষেপ।

আর্টেমিস ২-এর ক্রু সদস্যরা হলেন—নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। তারা প্রায় ১০ দিনের এক অভিযানে চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটি কয়েক দশকের মধ্যে মানুষের মহাকাশে দূরতম ভ্রমণ হতে যাচ্ছে।

লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন বলেন, এই ঐতিহাসিক অভিযানে আপনারা আর্টেমিস দলের সাহস, মার্কিন জনগণের দুঃসাহসিক চেতনা, আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সহযোগিতা এবং নতুন প্রজন্মের আশা-স্বপ্ন সাথে নিয়ে যাচ্ছেন। শুভকামনা আর্টেমিস ২। এগিয়ে চলো।

যাত্রার পাঁচ মিনিট পর কমান্ডার ওয়াইজম্যান তাদের লক্ষ্যবস্তু দেখতে পান। ক্যাপসুল থেকে তিনি বলেন, আমরা একটি সুন্দর চন্দ্রোদয় দেখছি, আমরা ঠিক সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

যেমন ছিল উৎক্ষেপণের আগের কয়েক ঘণ্টা

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল যখন রকেটে হাইড্রোজেন জ্বালানি পূর্ণ করার কাজ শুরু হয়। বছরের শুরুর দিকে একটি কাউন্টডাউন পরীক্ষার সময় এই পর্যায়েই একটি বিপজ্জনক লিক ধরা পড়েছিল, যার ফলে উৎক্ষেপণে দীর্ঘ বিলম্ব হয়েছিল।

নাসার স্বস্তির বিষয় হলো, এবার কোনো বড় ধরনের হাইড্রোজেন লিক শনাক্ত হয়নি। লঞ্চ টিম সফলভাবে ৭ লাখ গ্যালনেরও (২ দশমিক ৬ মিলিয়ন লিটার) বেশি জ্বালানি রকেটে লোড করে, যা নভোচারীদের রকেটে ওঠার পথ সুগম করে দেয়।

উৎক্ষেপণের আগে নাসাকে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান করতে হয়েছে। একটি সমস্যা ছিল রকেটের ‘ফ্লাইট-টারমিনেশন সিস্টেম’-এ সিগন্যাল না পৌঁছানো। যদি রকেট পথচ্যুত হয়ে জনবসতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে এটি রকেটটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

নাসার মতে, এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। এছাড়া প্রকৌশলীরা ওরিয়ন ক্যাপসুলের ‘লঞ্চ-অ্যাবর্‌ট’ সিস্টেমের একটি ব্যাটারির তাপমাত্রা জনিত ত্রুটিও ঠিক করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি।

এরপরে কী ঘটতে যাচ্ছে?

নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থার ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন। এর মধ্যে ওরিয়ন ক্যাপসুলের লাইফ-সাপোর্ট, প্রপালশন (চালিকাশক্তি), নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মহাকাশযানটি গভীর মহাকাশে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

এই পরীক্ষাগুলো শেষ হলে, ওরিয়ন ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্ন বা দহন সম্পন্ন করবে। এটি মহাকাশযানটিকে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বের করে চাঁদের অভিমুখে একটি নির্দিষ্ট পথে চালিত করবে।

এই যাত্রায় কয়েক দিন সময় লাগবে। এই সময়ে ক্রু সদস্যরা মহাকাশযানের সিস্টেমগুলো পর্যবেক্ষণ করা চালিয়ে যাবেন এবং গত কয়েক দশকের মধ্যে যে কোনো মানুষের তুলনায় পৃথিবী থেকে অনেক বেশি দূরে ভ্রমণ করবেন।

এরপর ওরিয়ন একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টোরি’ বা মুক্ত-প্রত্যাবর্তন পথে চাঁদের পেছন দিক দিয়ে উড়ে যাবে। এই পথটি চাঁদ এবং পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করে ন্যূনতম জ্বালানি খরচে মহাকাশযানটিকে প্রাকৃতিকভাবেই পুনরায় পৃথিবীর দিকে ঘুরিয়ে আনবে। এই পর্যায়ে মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে তার সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছাবে।

চাঁদ প্রদক্ষিণের পর ক্রু সদস্যরা পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য আরও কয়েক দিন সময় ব্যয় করবেন। ফিরতি পথে তারা পাওয়ার সিস্টেম, থার্মাল কন্ট্রোল (তাপ নিয়ন্ত্রণ) এবং ক্রু অপারেশন নিয়ে আরও কিছু গভীর মহাকাশ পরীক্ষা চালাবেন।

ওরিয়ন যখন পৃথিবীর কাছাকাছি পৌঁছাবে, তখন ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার ২৩৩ কিলোমিটার গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এরপর এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে এবং সেখান থেকে উদ্ধারকারী দল ক্রু সদস্যদের ফিরিয়ে আনবে।

নাসার অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরা যখন শেষবার চাঁদে হেঁটেছিলেন, তখন বিশ্বের অর্ধেক মানুষের জন্মই হয়নি। তাই আর্টেমিসকে একটি নতুন প্রজন্মের চন্দ্রাভিযান হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্স এই সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের অ্যাপোলোর কথা মনে নেই। এমন অনেক প্রজন্ম আছে যারা অ্যাপোলোর উৎক্ষেপণের সময় জীবিত ছিল না। এটিই তাদের জন্য ‘অ্যাপোলো’।

ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে চান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।   নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। ইসরায়েলের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সহায়তা’ থেকে ‘অংশীদারিত্বের’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কমবে না বরং তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলের একটি চুক্তির অধীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।  কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সর্ববৃহৎ প্রাপক। দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাস্ফীতি-অ্যাডজাস্টমেন্ট ছাড়াই ১৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই সহায়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে গাজা যুদ্ধের সময় এই বিশাল অংকের সাহায্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।   নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেন। তার ধারণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যাপাচে হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক
বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘এমভি হুনডিউসের’ যাত্রীদের মধ্যে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজন শনাক্ত হয়েছেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সংক্রামক নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসও একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরির যাত্রীদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, তারা এক সপ্তাহের বেশি আগে ফ্লোরিডার শহর ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা করা একটি প্রিন্সেস ক্রুজ জাহাজে ছড়িয়ে পড়া নরোভাইরাস সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছে। গত ২৮ এপ্রিল পোর্ট এভারগ্লেডস থেকে যাত্রা শুরু করা ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস জাহাজে এই প্রাদুর্ভাবটি ঘটে।  ক্রুজম্যাপারের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস এখন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ১৩ দিনের সমুদ্রযাত্রায় রয়েছে। যাত্রাপথে এটি বাহামাস, নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস, পুয়ের্তো রিকো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকে থামবে। আগামী ১১ মে অরল্যান্ডোর পোর্ট ক্যানাভেরালে পৌঁছানোর মাধ্যমে জাহাজটির এই একমুখী যাত্রা শেষ হবে। সিডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির ৩ হাজার ১১৬ যাত্রীর মধ্যে ১০২ জন ও ১ হাজার ১৩১ নাবিকের মধ্যে ১৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে ছিল ডায়রিয়া ও বমি। নোরোভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রিন্সেস ক্রুজেস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম বাড়িয়েছে; পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে, অসুস্থ যাত্রী ও নাবিকদের আলাদা করে রেখেছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পদ্ধতি ও অসুস্থতার খবর জানানোর বিষয়ে সংস্থাটির ভেসেল স্যানিটেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে পরামর্শ করেছে।  পোর্টটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য ভিএসপি একটি পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রাদুর্ভাব তদন্তের উদ্দেশ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রাদুর্ভাবের রিপোর্ট গত ৭ মে করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সিডিসি। ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেসে এই প্রাদুর্ভাবটি এমন একসময়ে ঘটল যখন প্রিন্সেস কোম্পানির আরেকটি জাহাজে নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে। গত মার্চ মাসে স্টার প্রিন্সেসে একটি প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যাতে ১০৪ জনেরও বেশি যাত্রী ও ৪৯ জন নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই জাহাজটিও ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ক্যারিবিয়ানে বিশেষ করে হন্ডুরাস, বেলিজ ও মেক্সিকান রিভিয়েরায় থেমেছিল। সেই সমুদ্রযাত্রা শেষে স্টার প্রিন্সেস ফোর্ট লডারডেলের পোর্ট এভারগ্লেডসে ফিরে আসে। যখন প্রাদুর্ভাবের খবরটি পাওয়া যায় তখন সেই ভ্রমণসূচি অনুযায়ী স্টার প্রিন্সেসের বেলিজ সিটি থেকে কোজুমেলে যাওয়ার কথা ছিল। গত জানুয়ারির শুরুতে সিডিসি জানায়, ডিসেম্বরের শেষে ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করার পর হল্যান্ড আমেরিকা ক্রুজ জাহাজে একটি প্রাদুর্ভাবের কারণে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সংস্থাটি পরের মাসে জানিয়েছিল, মিয়ামি থেকে হনলুলুগামী রিজেন্ট সেভেন সিজ নামের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে অজানা এক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের প্রাদুর্ভাবে ২৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত ‘এমভি হুনডিউস’ নামের প্রমোদতরিতে রহস্যময় হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে আরও পাঁচজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আর্জেন্টিনা থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপ কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই প্রমোদতরিটিতে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রমোদতরিটির একজন ৭০ বছর বয়সি যাত্রী প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জাহাজেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির ৬৯ বছর বয়সি স্ত্রীও দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। সূত্র: সিবিএস নিউজ
এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক
বিমানের ধাক্কায় ‘পথচারী’ আহত
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। টেকঅফের সময় রানওয়েতে থাকা একজন ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয় বিমানটি। ফলে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিকে ‘পথচারী’ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, শুক্রবার (৮ মে) রাত ১১টা ১৯ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি টেকঅফের সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রানওয়েতে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এবিসি নিউজ একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি একটি ইঞ্জিনের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। তার শরীরের কিছু অংশ আংশিকভাবে দগ্ধ হয়েছে। আহত ব্যক্তির অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনে জানা যায়, পাইলট বলেন, ‘আমরা রানওয়েতে থামছি, আমরা কাউকে আঘাত করেছি। আমাদের ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে।’ পরে তিনি আরও জানান, বিমানে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে এবং জরুরি অবতরণের প্রয়োজন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ২২৪ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে টেকঅফ বাতিল করেন এবং জরুরি অবতরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। এক বিবৃতিতে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইট ৪৩৪৫ টেকঅফের সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং কেবিনে ধোঁয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর পাইলটরা তাৎক্ষণিকভাবে টেকঅফ বাতিল করেন। তবে ধোঁয়া ঠিক কী কারণে সৃষ্টি হয়েছে, রানওয়ের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের জরুরি স্লাইড ব্যবহার করে দ্রুত বিমান থেকে নামানো হয়। পরে তাদের বাসে করে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে জরুরি উদ্ধার দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। ডেনভার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিসিবি)। দুর্ঘটনাস্থলের রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিমানের ধাক্কায় ‘পথচারী’ আহত
চীন-হংকংয়ের ৯ কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে চীন ও হংকংয়ের ৯টি কোম্পানি এবং ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন অর্থ ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মার্কিন অর্থ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল। এ ছাড়া ইরানের শাহেদ-সিরিজের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র এবং কাঁচামাল সংগ্রহের প্রচেষ্টায় সহায়তা করেছে। রয়টার্সে প্রকাশিত ট্রেজারি বিভাগের এই পদক্ষেপটি এমন একসময়ে নেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা থমকে গেছে। ওয়াশিংটন ডিসি বলেছে, তেহরানকে তার উৎপাদন ক্ষমতা পুনর্গঠন থেকে বিরত রাখতে তারা ইরানের সামরিক শিল্প ভিত্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তারা অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী যে কোনো বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে বিমান সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারসের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ ও আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দমন করাই ছিল ট্রেজারির পদক্ষেপের লক্ষ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ব্রিটিশ সরকারের তহবিলভুক্ত প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের মতে, ইরান ড্রোন উৎপাদনের একটি প্রধান দেশ। প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা রয়েছে তেহরানের। এরিকসন বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনও সীমিত পরিসরেই রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ও অন্যান্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের পথ পরিবর্তন করতে আরও সময় পাচ্ছে ইরান। ইরানের অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে অবদান রাখা চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।
চীন-হংকংয়ের ৯ কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
লেবানন-ইসরায়েলের পরবর্তী বৈঠক হবে ‘আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা’
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লেবানন ও ইসরায়েলের পরবর্তী বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার শুরু হিসেবে দেখছে লেবানন। বৈরুত থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন আলজাজিরার প্রতিনিধি জেইনা খোদর। তিনি জানান, এটি হবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের তৃতীয় বৈঠক। তবে আগের বৈঠকগুলোর মতো এটি শুধুই প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হবে না। এবার মূল আলোচনায় প্রবেশ করবে দুই পক্ষ। খোদরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্ট অনুযায়ী, লেবাননের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির আইনজীবী ও সাবেক যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূত সাইমন কারাম। তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছেন। লেবাননের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন এই আলোচনা আর প্রাথমিক বৈঠক নয়, বরং আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা। একই সঙ্গে তারা অর্থবহ যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তবে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে না চললেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, আগামী ১৪ ও ১৫ মে লেবানন ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যে নিবিড় আলোচনা আয়োজন ও তদারকিতে সহায়তা করবে ওয়াশিংটন। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমন্বিত শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেবানন-ইসরায়েলের পরবর্তী বৈঠক হবে ‘আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা’
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে চান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।   নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। ইসরায়েলের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সহায়তা’ থেকে ‘অংশীদারিত্বের’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কমবে না বরং তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলের একটি চুক্তির অধীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।  কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সর্ববৃহৎ প্রাপক। দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাস্ফীতি-অ্যাডজাস্টমেন্ট ছাড়াই ১৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই সহায়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে গাজা যুদ্ধের সময় এই বিশাল অংকের সাহায্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।   নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেন। তার ধারণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যাপাচে হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক
এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক
বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘এমভি হুনডিউসের’ যাত্রীদের মধ্যে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজন শনাক্ত হয়েছেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সংক্রামক নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসও একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরির যাত্রীদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, তারা এক সপ্তাহের বেশি আগে ফ্লোরিডার শহর ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা করা একটি প্রিন্সেস ক্রুজ জাহাজে ছড়িয়ে পড়া নরোভাইরাস সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছে। গত ২৮ এপ্রিল পোর্ট এভারগ্লেডস থেকে যাত্রা শুরু করা ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস জাহাজে এই প্রাদুর্ভাবটি ঘটে।  ক্রুজম্যাপারের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস এখন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ১৩ দিনের সমুদ্রযাত্রায় রয়েছে। যাত্রাপথে এটি বাহামাস, নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস, পুয়ের্তো রিকো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকে থামবে। আগামী ১১ মে অরল্যান্ডোর পোর্ট ক্যানাভেরালে পৌঁছানোর মাধ্যমে জাহাজটির এই একমুখী যাত্রা শেষ হবে। সিডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির ৩ হাজার ১১৬ যাত্রীর মধ্যে ১০২ জন ও ১ হাজার ১৩১ নাবিকের মধ্যে ১৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে ছিল ডায়রিয়া ও বমি। নোরোভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রিন্সেস ক্রুজেস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম বাড়িয়েছে; পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে, অসুস্থ যাত্রী ও নাবিকদের আলাদা করে রেখেছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পদ্ধতি ও অসুস্থতার খবর জানানোর বিষয়ে সংস্থাটির ভেসেল স্যানিটেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে পরামর্শ করেছে।  পোর্টটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য ভিএসপি একটি পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রাদুর্ভাব তদন্তের উদ্দেশ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রাদুর্ভাবের রিপোর্ট গত ৭ মে করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সিডিসি। ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেসে এই প্রাদুর্ভাবটি এমন একসময়ে ঘটল যখন প্রিন্সেস কোম্পানির আরেকটি জাহাজে নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে। গত মার্চ মাসে স্টার প্রিন্সেসে একটি প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যাতে ১০৪ জনেরও বেশি যাত্রী ও ৪৯ জন নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই জাহাজটিও ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ক্যারিবিয়ানে বিশেষ করে হন্ডুরাস, বেলিজ ও মেক্সিকান রিভিয়েরায় থেমেছিল। সেই সমুদ্রযাত্রা শেষে স্টার প্রিন্সেস ফোর্ট লডারডেলের পোর্ট এভারগ্লেডসে ফিরে আসে। যখন প্রাদুর্ভাবের খবরটি পাওয়া যায় তখন সেই ভ্রমণসূচি অনুযায়ী স্টার প্রিন্সেসের বেলিজ সিটি থেকে কোজুমেলে যাওয়ার কথা ছিল। গত জানুয়ারির শুরুতে সিডিসি জানায়, ডিসেম্বরের শেষে ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করার পর হল্যান্ড আমেরিকা ক্রুজ জাহাজে একটি প্রাদুর্ভাবের কারণে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সংস্থাটি পরের মাসে জানিয়েছিল, মিয়ামি থেকে হনলুলুগামী রিজেন্ট সেভেন সিজ নামের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে অজানা এক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের প্রাদুর্ভাবে ২৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত ‘এমভি হুনডিউস’ নামের প্রমোদতরিতে রহস্যময় হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে আরও পাঁচজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আর্জেন্টিনা থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপ কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই প্রমোদতরিটিতে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রমোদতরিটির একজন ৭০ বছর বয়সি যাত্রী প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জাহাজেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির ৬৯ বছর বয়সি স্ত্রীও দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। সূত্র: সিবিএস নিউজ
বিমানের ধাক্কায় ‘পথচারী’ আহত
বিমানের ধাক্কায় ‘পথচারী’ আহত
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। টেকঅফের সময় রানওয়েতে থাকা একজন ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয় বিমানটি। ফলে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিকে ‘পথচারী’ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, শুক্রবার (৮ মে) রাত ১১টা ১৯ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি টেকঅফের সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রানওয়েতে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এবিসি নিউজ একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি একটি ইঞ্জিনের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। তার শরীরের কিছু অংশ আংশিকভাবে দগ্ধ হয়েছে। আহত ব্যক্তির অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনে জানা যায়, পাইলট বলেন, ‘আমরা রানওয়েতে থামছি, আমরা কাউকে আঘাত করেছি। আমাদের ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে।’ পরে তিনি আরও জানান, বিমানে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে এবং জরুরি অবতরণের প্রয়োজন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ২২৪ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে টেকঅফ বাতিল করেন এবং জরুরি অবতরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। এক বিবৃতিতে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইট ৪৩৪৫ টেকঅফের সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং কেবিনে ধোঁয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর পাইলটরা তাৎক্ষণিকভাবে টেকঅফ বাতিল করেন। তবে ধোঁয়া ঠিক কী কারণে সৃষ্টি হয়েছে, রানওয়ের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের জরুরি স্লাইড ব্যবহার করে দ্রুত বিমান থেকে নামানো হয়। পরে তাদের বাসে করে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে জরুরি উদ্ধার দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। ডেনভার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিসিবি)। দুর্ঘটনাস্থলের রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
চীন-হংকংয়ের ৯ কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
চীন-হংকংয়ের ৯ কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে চীন ও হংকংয়ের ৯টি কোম্পানি এবং ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন অর্থ ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মার্কিন অর্থ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল। এ ছাড়া ইরানের শাহেদ-সিরিজের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র এবং কাঁচামাল সংগ্রহের প্রচেষ্টায় সহায়তা করেছে। রয়টার্সে প্রকাশিত ট্রেজারি বিভাগের এই পদক্ষেপটি এমন একসময়ে নেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা থমকে গেছে। ওয়াশিংটন ডিসি বলেছে, তেহরানকে তার উৎপাদন ক্ষমতা পুনর্গঠন থেকে বিরত রাখতে তারা ইরানের সামরিক শিল্প ভিত্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তারা অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী যে কোনো বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে বিমান সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারসের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ ও আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দমন করাই ছিল ট্রেজারির পদক্ষেপের লক্ষ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ব্রিটিশ সরকারের তহবিলভুক্ত প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের মতে, ইরান ড্রোন উৎপাদনের একটি প্রধান দেশ। প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা রয়েছে তেহরানের। এরিকসন বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনও সীমিত পরিসরেই রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ও অন্যান্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের পথ পরিবর্তন করতে আরও সময় পাচ্ছে ইরান। ইরানের অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে অবদান রাখা চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।