ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

৬০ দিনের নিয়ম এড়াতে যুদ্ধ ‘শেষ’ দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০১ মে ২০২৬, ১১:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করেছে, ইতোমধ্যে ইরানে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়েছে। গত মাসের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতি এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউসকে সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও শেষ হয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ ‘শেষ হয়ে গেছে’। উভয় পক্ষ গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ও ইরানের মধ্যে কোনো গোলাগুলি, হামলার ঘটনা ঘটেনি।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এই ধরনের যুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের বাধ্যতামূলক শর্তটি পূরণ করেনি। এই আইন অনুযায়ী, ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে।

এই দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গতকাল সিনেটে দেওয়া যুক্তিকে আরও জোরালো করে। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত যুদ্ধকে স্থগিত করেছে। এ যুক্তির ভিত্তিতে প্রশাসন মনে করছে, ১৯৭৩ সালের আইনে নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা এখনও তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি।

ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলুশন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শুক্রবারের (১ মে) মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বা যুদ্ধ বন্ধ করার কথা ছিল। এ আইন প্রশাসনকে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগও দেয়।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কেবল কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে, প্রেসিডেন্ট নন; কিন্তু প্রশাসন কর্তৃক স্বল্পমেয়াদি বা তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলা হিসেবে বিবেচিত অভিযানের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

এপি জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে তার ইরান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চাইতে চাপ দিয়েছে এবং ৬০ দিনের সময়সীমাটিকে বহুসংখ্যক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যারা তেহরানের বিরুদ্ধে অস্থায়ী পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও দীর্ঘমেয়াদি কিছুর জন্য কংগ্রেসের মতামতের ওপর জোর দিয়েছিলেন।

যুদ্ধের বিরোধিতায় ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। আগে যারা এই ধরনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন তাদের মধ্যেও এবার কয়েকজন সমর্থন দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে শুধু একজন (মেইনের জ্যারেড গোল্ডেন) এর বিরোধিতা করেন। আর রিপাবলিকানদের মধ্যে মাত্র একজন (কেন্টাকির টমাস ম্যাসি) প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।

অন্যদিকে, আরেক রিপাবলিকান সদস্য আগের মতো এবারও সরাসরি পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ ভোট দিয়েছেন।

এর আগে বিশ্লেষক ও কংগ্রেসের সহকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে, কংগ্রেসকে ৩০ দিনের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানাবেন ট্রাম্প। সংঘাত ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন জনমনে হতাশা বাড়তে থাকায় রিপাবলিকানদের জন্যও এটি রাজনৈতিকভাবে সংকটপূর্ণ সময়।

রিপাবলিকান সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন বলেছেন, ইরানে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়ার জন্য ভোট দেওয়ার বা এ বিষয়ে অন্য কোনোভাবে মন্তব্য করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তিনি বলেন, আমাদের দলের সদস্যরা যা বলছেন তা আমি মনোযোগ দিয়ে শুনছি, এবং এই মুহূর্তে আমি তেমন কিছু দেখছি না।

রিপাবলিকান সিনেটর কেভিন ক্রেমার বলেছেন, ট্রাম্প চাইলে তিনি যুদ্ধের অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেবেন। কিন্তু তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি, যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একটি উপায় হিসেবে পাস হয়েছিল, আসলেই সাংবিধানিক কি না।

ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে চান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।   নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। ইসরায়েলের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সহায়তা’ থেকে ‘অংশীদারিত্বের’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কমবে না বরং তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলের একটি চুক্তির অধীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।  কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সর্ববৃহৎ প্রাপক। দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাস্ফীতি-অ্যাডজাস্টমেন্ট ছাড়াই ১৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই সহায়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে গাজা যুদ্ধের সময় এই বিশাল অংকের সাহায্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।   নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেন। তার ধারণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যাপাচে হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক
বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘এমভি হুনডিউসের’ যাত্রীদের মধ্যে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজন শনাক্ত হয়েছেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সংক্রামক নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসও একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরির যাত্রীদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, তারা এক সপ্তাহের বেশি আগে ফ্লোরিডার শহর ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা করা একটি প্রিন্সেস ক্রুজ জাহাজে ছড়িয়ে পড়া নরোভাইরাস সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছে। গত ২৮ এপ্রিল পোর্ট এভারগ্লেডস থেকে যাত্রা শুরু করা ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস জাহাজে এই প্রাদুর্ভাবটি ঘটে।  ক্রুজম্যাপারের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস এখন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ১৩ দিনের সমুদ্রযাত্রায় রয়েছে। যাত্রাপথে এটি বাহামাস, নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস, পুয়ের্তো রিকো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকে থামবে। আগামী ১১ মে অরল্যান্ডোর পোর্ট ক্যানাভেরালে পৌঁছানোর মাধ্যমে জাহাজটির এই একমুখী যাত্রা শেষ হবে। সিডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির ৩ হাজার ১১৬ যাত্রীর মধ্যে ১০২ জন ও ১ হাজার ১৩১ নাবিকের মধ্যে ১৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে ছিল ডায়রিয়া ও বমি। নোরোভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রিন্সেস ক্রুজেস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম বাড়িয়েছে; পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে, অসুস্থ যাত্রী ও নাবিকদের আলাদা করে রেখেছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পদ্ধতি ও অসুস্থতার খবর জানানোর বিষয়ে সংস্থাটির ভেসেল স্যানিটেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে পরামর্শ করেছে।  পোর্টটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য ভিএসপি একটি পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রাদুর্ভাব তদন্তের উদ্দেশ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রাদুর্ভাবের রিপোর্ট গত ৭ মে করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সিডিসি। ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেসে এই প্রাদুর্ভাবটি এমন একসময়ে ঘটল যখন প্রিন্সেস কোম্পানির আরেকটি জাহাজে নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে। গত মার্চ মাসে স্টার প্রিন্সেসে একটি প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যাতে ১০৪ জনেরও বেশি যাত্রী ও ৪৯ জন নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই জাহাজটিও ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ক্যারিবিয়ানে বিশেষ করে হন্ডুরাস, বেলিজ ও মেক্সিকান রিভিয়েরায় থেমেছিল। সেই সমুদ্রযাত্রা শেষে স্টার প্রিন্সেস ফোর্ট লডারডেলের পোর্ট এভারগ্লেডসে ফিরে আসে। যখন প্রাদুর্ভাবের খবরটি পাওয়া যায় তখন সেই ভ্রমণসূচি অনুযায়ী স্টার প্রিন্সেসের বেলিজ সিটি থেকে কোজুমেলে যাওয়ার কথা ছিল। গত জানুয়ারির শুরুতে সিডিসি জানায়, ডিসেম্বরের শেষে ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করার পর হল্যান্ড আমেরিকা ক্রুজ জাহাজে একটি প্রাদুর্ভাবের কারণে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সংস্থাটি পরের মাসে জানিয়েছিল, মিয়ামি থেকে হনলুলুগামী রিজেন্ট সেভেন সিজ নামের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে অজানা এক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের প্রাদুর্ভাবে ২৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত ‘এমভি হুনডিউস’ নামের প্রমোদতরিতে রহস্যময় হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে আরও পাঁচজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আর্জেন্টিনা থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপ কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই প্রমোদতরিটিতে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রমোদতরিটির একজন ৭০ বছর বয়সি যাত্রী প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জাহাজেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির ৬৯ বছর বয়সি স্ত্রীও দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। সূত্র: সিবিএস নিউজ
এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক
বিমানের ধাক্কায় ‘পথচারী’ আহত
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। টেকঅফের সময় রানওয়েতে থাকা একজন ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয় বিমানটি। ফলে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিকে ‘পথচারী’ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, শুক্রবার (৮ মে) রাত ১১টা ১৯ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি টেকঅফের সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রানওয়েতে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এবিসি নিউজ একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি একটি ইঞ্জিনের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। তার শরীরের কিছু অংশ আংশিকভাবে দগ্ধ হয়েছে। আহত ব্যক্তির অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনে জানা যায়, পাইলট বলেন, ‘আমরা রানওয়েতে থামছি, আমরা কাউকে আঘাত করেছি। আমাদের ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে।’ পরে তিনি আরও জানান, বিমানে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে এবং জরুরি অবতরণের প্রয়োজন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ২২৪ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে টেকঅফ বাতিল করেন এবং জরুরি অবতরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। এক বিবৃতিতে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইট ৪৩৪৫ টেকঅফের সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং কেবিনে ধোঁয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর পাইলটরা তাৎক্ষণিকভাবে টেকঅফ বাতিল করেন। তবে ধোঁয়া ঠিক কী কারণে সৃষ্টি হয়েছে, রানওয়ের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের জরুরি স্লাইড ব্যবহার করে দ্রুত বিমান থেকে নামানো হয়। পরে তাদের বাসে করে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে জরুরি উদ্ধার দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। ডেনভার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিসিবি)। দুর্ঘটনাস্থলের রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিমানের ধাক্কায় ‘পথচারী’ আহত
চীন-হংকংয়ের ৯ কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে চীন ও হংকংয়ের ৯টি কোম্পানি এবং ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন অর্থ ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মার্কিন অর্থ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল। এ ছাড়া ইরানের শাহেদ-সিরিজের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র এবং কাঁচামাল সংগ্রহের প্রচেষ্টায় সহায়তা করেছে। রয়টার্সে প্রকাশিত ট্রেজারি বিভাগের এই পদক্ষেপটি এমন একসময়ে নেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা থমকে গেছে। ওয়াশিংটন ডিসি বলেছে, তেহরানকে তার উৎপাদন ক্ষমতা পুনর্গঠন থেকে বিরত রাখতে তারা ইরানের সামরিক শিল্প ভিত্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তারা অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী যে কোনো বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে বিমান সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারসের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ ও আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দমন করাই ছিল ট্রেজারির পদক্ষেপের লক্ষ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ব্রিটিশ সরকারের তহবিলভুক্ত প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের মতে, ইরান ড্রোন উৎপাদনের একটি প্রধান দেশ। প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা রয়েছে তেহরানের। এরিকসন বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনও সীমিত পরিসরেই রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ও অন্যান্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের পথ পরিবর্তন করতে আরও সময় পাচ্ছে ইরান। ইরানের অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে অবদান রাখা চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।
চীন-হংকংয়ের ৯ কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
লেবানন-ইসরায়েলের পরবর্তী বৈঠক হবে ‘আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা’
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লেবানন ও ইসরায়েলের পরবর্তী বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার শুরু হিসেবে দেখছে লেবানন। বৈরুত থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন আলজাজিরার প্রতিনিধি জেইনা খোদর। তিনি জানান, এটি হবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের তৃতীয় বৈঠক। তবে আগের বৈঠকগুলোর মতো এটি শুধুই প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হবে না। এবার মূল আলোচনায় প্রবেশ করবে দুই পক্ষ। খোদরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্ট অনুযায়ী, লেবাননের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির আইনজীবী ও সাবেক যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূত সাইমন কারাম। তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছেন। লেবাননের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন এই আলোচনা আর প্রাথমিক বৈঠক নয়, বরং আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা। একই সঙ্গে তারা অর্থবহ যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তবে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে না চললেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, আগামী ১৪ ও ১৫ মে লেবানন ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যে নিবিড় আলোচনা আয়োজন ও তদারকিতে সহায়তা করবে ওয়াশিংটন। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমন্বিত শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেবানন-ইসরায়েলের পরবর্তী বৈঠক হবে ‘আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা’
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
ইসলায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে চান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর জনপ্রিয় টকশো ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু তার এই পরিকল্পনার কথা জানান।   নেতানিয়াহু বলেন, আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছি। ইসরায়েলের জন্য আমেরিকার আর্থিক সহায়তা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সহায়তা’ থেকে ‘অংশীদারিত্বের’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। তবে আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কমবে না বরং তা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।   সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আমলের একটি চুক্তির অধীনে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।  কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের সর্ববৃহৎ প্রাপক। দেশটির অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাস্ফীতি-অ্যাডজাস্টমেন্ট ছাড়াই ১৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছে। এই সহায়তা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। তবে গাজা যুদ্ধের সময় এই বিশাল অংকের সাহায্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।   নেতানিয়াহু ভবিষ্যতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকল্প চালুর ওপর জোর দেন। তার ধারণা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যাপাচে হেলিকপ্টারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক
এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক
বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘এমভি হুনডিউসের’ যাত্রীদের মধ্যে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজন শনাক্ত হয়েছেন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সংক্রামক নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসও একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরির যাত্রীদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, তারা এক সপ্তাহের বেশি আগে ফ্লোরিডার শহর ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা করা একটি প্রিন্সেস ক্রুজ জাহাজে ছড়িয়ে পড়া নরোভাইরাস সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ করছে। গত ২৮ এপ্রিল পোর্ট এভারগ্লেডস থেকে যাত্রা শুরু করা ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস জাহাজে এই প্রাদুর্ভাবটি ঘটে।  ক্রুজম্যাপারের তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেস এখন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ১৩ দিনের সমুদ্রযাত্রায় রয়েছে। যাত্রাপথে এটি বাহামাস, নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস, পুয়ের্তো রিকো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকে থামবে। আগামী ১১ মে অরল্যান্ডোর পোর্ট ক্যানাভেরালে পৌঁছানোর মাধ্যমে জাহাজটির এই একমুখী যাত্রা শেষ হবে। সিডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির ৩ হাজার ১১৬ যাত্রীর মধ্যে ১০২ জন ও ১ হাজার ১৩১ নাবিকের মধ্যে ১৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রধান উপসর্গগুলোর মধ্যে ছিল ডায়রিয়া ও বমি। নোরোভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রিন্সেস ক্রুজেস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম বাড়িয়েছে; পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে, অসুস্থ যাত্রী ও নাবিকদের আলাদা করে রেখেছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পদ্ধতি ও অসুস্থতার খবর জানানোর বিষয়ে সংস্থাটির ভেসেল স্যানিটেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে পরামর্শ করেছে।  পোর্টটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য ভিএসপি একটি পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং প্রাদুর্ভাব তদন্তের উদ্দেশ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রাদুর্ভাবের রিপোর্ট গত ৭ মে করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সিডিসি। ক্যারিবিয়ান প্রিন্সেসে এই প্রাদুর্ভাবটি এমন একসময়ে ঘটল যখন প্রিন্সেস কোম্পানির আরেকটি জাহাজে নোরোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে। গত মার্চ মাসে স্টার প্রিন্সেসে একটি প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যাতে ১০৪ জনেরও বেশি যাত্রী ও ৪৯ জন নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই জাহাজটিও ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ক্যারিবিয়ানে বিশেষ করে হন্ডুরাস, বেলিজ ও মেক্সিকান রিভিয়েরায় থেমেছিল। সেই সমুদ্রযাত্রা শেষে স্টার প্রিন্সেস ফোর্ট লডারডেলের পোর্ট এভারগ্লেডসে ফিরে আসে। যখন প্রাদুর্ভাবের খবরটি পাওয়া যায় তখন সেই ভ্রমণসূচি অনুযায়ী স্টার প্রিন্সেসের বেলিজ সিটি থেকে কোজুমেলে যাওয়ার কথা ছিল। গত জানুয়ারির শুরুতে সিডিসি জানায়, ডিসেম্বরের শেষে ফোর্ট লডারডেল থেকে যাত্রা শুরু করার পর হল্যান্ড আমেরিকা ক্রুজ জাহাজে একটি প্রাদুর্ভাবের কারণে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সংস্থাটি পরের মাসে জানিয়েছিল, মিয়ামি থেকে হনলুলুগামী রিজেন্ট সেভেন সিজ নামের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরিতে অজানা এক গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগের প্রাদুর্ভাবে ২৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত ‘এমভি হুনডিউস’ নামের প্রমোদতরিতে রহস্যময় হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে আরও পাঁচজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আর্জেন্টিনা থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপ কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই প্রমোদতরিটিতে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রমোদতরিটির একজন ৭০ বছর বয়সি যাত্রী প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জাহাজেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির ৬৯ বছর বয়সি স্ত্রীও দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। সূত্র: সিবিএস নিউজ
বিমানের ধাক্কায় ‘পথচারী’ আহত
বিমানের ধাক্কায় ‘পথচারী’ আহত
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। টেকঅফের সময় রানওয়েতে থাকা একজন ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয় বিমানটি। ফলে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আঘাতপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তিকে ‘পথচারী’ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, শুক্রবার (৮ মে) রাত ১১টা ১৯ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি টেকঅফের সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রানওয়েতে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এবিসি নিউজ একজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি একটি ইঞ্জিনের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। তার শরীরের কিছু অংশ আংশিকভাবে দগ্ধ হয়েছে। আহত ব্যক্তির অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনে জানা যায়, পাইলট বলেন, ‘আমরা রানওয়েতে থামছি, আমরা কাউকে আঘাত করেছি। আমাদের ইঞ্জিনে আগুন লেগেছে।’ পরে তিনি আরও জানান, বিমানে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে এবং জরুরি অবতরণের প্রয়োজন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ২২৪ জন যাত্রী ও ৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে টেকঅফ বাতিল করেন এবং জরুরি অবতরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। এক বিবৃতিতে বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইট ৪৩৪৫ টেকঅফের সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং কেবিনে ধোঁয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপর পাইলটরা তাৎক্ষণিকভাবে টেকঅফ বাতিল করেন। তবে ধোঁয়া ঠিক কী কারণে সৃষ্টি হয়েছে, রানওয়ের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের জরুরি স্লাইড ব্যবহার করে দ্রুত বিমান থেকে নামানো হয়। পরে তাদের বাসে করে টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে জরুরি উদ্ধার দল দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। ডেনভার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিসিবি)। দুর্ঘটনাস্থলের রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
চীন-হংকংয়ের ৯ কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
চীন-হংকংয়ের ৯ কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে চীন ও হংকংয়ের ৯টি কোম্পানি এবং ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন অর্থ ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মার্কিন অর্থ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল। এ ছাড়া ইরানের শাহেদ-সিরিজের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র এবং কাঁচামাল সংগ্রহের প্রচেষ্টায় সহায়তা করেছে। রয়টার্সে প্রকাশিত ট্রেজারি বিভাগের এই পদক্ষেপটি এমন একসময়ে নেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা থমকে গেছে। ওয়াশিংটন ডিসি বলেছে, তেহরানকে তার উৎপাদন ক্ষমতা পুনর্গঠন থেকে বিরত রাখতে তারা ইরানের সামরিক শিল্প ভিত্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তারা অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী যে কোনো বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। এর মধ্যে বিমান সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারসের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ ও আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দমন করাই ছিল ট্রেজারির পদক্ষেপের লক্ষ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ব্রিটিশ সরকারের তহবিলভুক্ত প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের মতে, ইরান ড্রোন উৎপাদনের একটি প্রধান দেশ। প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা রয়েছে তেহরানের। এরিকসন বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনও সীমিত পরিসরেই রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ও অন্যান্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের পথ পরিবর্তন করতে আরও সময় পাচ্ছে ইরান। ইরানের অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে অবদান রাখা চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।