যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহর পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বদমেজাজি ও মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিলেন হিশাম। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছিল পরিবার।
অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়াহর ছোট ভাই আহমদ আবুঘারবিয়াহ। সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বড় ভাই হিশামের অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে হিশামের সঙ্গে তার পরিবারের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
আহমদ জানান, তার বড় ভাই খুব দ্রুত রেগে যেতেন। রুমমেটদের সঙ্গে থাকার মতো মানসিক অবস্থা ছিল না তার। আহমদ বলেন, ‘আমি জানতামই না, তার কোনো রুমমেট আছে। তার হয় একা থাকা উচিত ছিল, না হয় গৃহহীন।’
আহমদ আবুঘারবিয়াহ জানান, শুক্রবার (২৪) সকালে হিশাম হঠাৎ তাদের পারিবারিক বাড়িতে হাজির হন। তার অস্বাভাবিক আচরণের কারণে আহমদ নিজেই পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে খুব অদ্ভুত আচরণ করছিল, তাই আমি তাকে বাড়ি থেকে বের করার জন্য পুলিশ ডেকেছিলাম।’
গ্রেপ্তারের খবর অনুযায়ী, হিশামের ছোট বোন তাকে বসার ঘরে তোয়ালে পরিহিত অবস্থায় ভিডিও গেম খেলতে দেখে। তখন হিশাম তার বোনের দিকে এগিয়ে যান এবং তাকে জোরপূর্বক চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। তার বোন তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।
শুক্রবার হিশামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি হাত তুলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন, তখনও তার শরীরে কেবল একটি তোয়ালে ছিল। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটিরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে আবারও আদালতে তোলার দিন ধার্য রয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে তাকে জামিন না দিয়ে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
হিশামের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত হত্যার’ অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার লিমনের দেহাবশেষ ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর বা কাছে পাওয়া গেছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বৃষ্টির খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় মানুষের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়, যদিও সেগুলো এখনও শনাক্ত করা হয়নি।
নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে আহমদ আবুঘারবিয়াহ বলেন, ‘আমি তাদের কথা ভাবা থামাতে পারছি না। আমার খুব খারাপ লাগছে। আমরা সবকিছুর জন্য অত্যন্ত দুঃখিত। আমার পুরো পরিবার খুব লজ্জা এবং অপরাধবোধে ভুগছে। আগেও আমরা পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম।’
আদালতের নথি অনুসারে, পরিবার হিশামের বিরুদ্ধে দুটি সুরক্ষা আদেশের আবেদন করেছিল। ২০২৩ সালের আবেদন মঞ্জুর হলেও ২০২৫ সালের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। বিচারক ২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ করেন, কারণ তখন মারধরের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা চালানো হয়নি। আহমদ জানান, ২০২৩ সালে আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে নিতে পারেননি।
সিবিএস নিউজের হাতে আসা ২০২৩ সালের সুরক্ষা আদেশের কপিতে আহমদ লিখেছিলেন, হিশাম বারবার আহমদের মাথায় ঘুষি মারে, জামা ছিঁড়ে ফেলত এবং খামচি দিয়ে তার মুখ রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করে ফেলত হিশাম।
অভিযোগপত্রে আহমদ আরও বলেন, হিশাম প্রায় তার মায়ের সঙ্গে তর্কের জেরে পুরো লিভিং রুম তছনছ করে দিতেন। মাঝরাতে চিৎকার করে নিজেকে ‘ঈশ্বর’ দাবি করে সবাইকে তার সামনে নতজানু হতে বলতেন।
এদিকে হিশাম আবুঘারবিয়াহর প্রতিনিধিত্বকারী পাবলিক ডিফেন্ডার অফিস জানিয়েছে, তারা আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করবে না। তবে হিলসবোরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ ফেসবুকে লিখেছেন, হিশাম সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন ছাড়াই জেলে রাখা উচিত।




