পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ফক্স নিউজকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কঠোর শর্ত সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, এই কৌশলগত জলপথটি নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বের বাকি অংশের চেয়ে ভিন্ন। প্রণালি খুলে দেওয়ার মাধ্যমে তারা যা বোঝাতে চাইছে তা হলো- হ্যাঁ, প্রণালিগুলো খোলা আছে। তবে শর্ত হলো তোমাদের ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, আমাদের অনুমতি নিতে হবে, না হলে আমরা তোমাদের উড়িয়ে দেব এবং তোমাদেরকে এর মূল্য দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এটা প্রণালি খুলে দেওয়া নয়। ওটা আন্তর্জাতিক জলপথ। তারা এমন একটি ব্যবস্থার প্রচলন ঘটাতে পারে না। আমরাও তা বরদাশত করব না, যেখানে ইরানিরা সিদ্ধান্ত নেবে কে একটি আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করতে পারবে, এবং তা ব্যবহারের জন্য তাদের কত টাকা দিতে হবে।
এর আগে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে শর্ত দেয় ইরান। এ বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, ইরান এই প্রস্তাবটি সরাসরি না দিয়ে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাত বন্ধের বিষয়টি আগে চূড়ান্ত করা হোক। আর পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য পরবর্তী কোনো একটি সময় নির্ধারণ করা হোক।
ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি আমেরিকা হরমুজ নিয়ে সমঝোতা করে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, তবে তেহরানের ওপর থেকে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা কমে যাবে।




