মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানে নির্ধারিত এক সফর বাতিল করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে যাওয়ার কথা ছিল। এই সিদ্ধান্ত আসে ঠিক তখনই, যখন তেহরানের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ছেড়ে যায়।
শনিবারে (স্থানীয় সময়) নির্ধারিত এ সফর সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার সেখানে গেলে ‘অনেক সময় নষ্ট’ হতো। তিনি আরও বলেন, ইরান যদি আলোচনা করতে চায়, তাহলে তাদেরই যোগাযোগ করা উচিত। তথ্য বিবিসি
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তিনি জানান, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনীতিতে আগ্রহী কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যদিও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, তবুও কূটনৈতিক অগ্রগতি খুব একটা হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ উপস্থিতি বাড়িয়েছে, আর ইরান কিছু ক্ষেত্রে চলাচল সীমিত করেছে।
হোয়াইট হাউস আগে জানিয়েছিল যে ইরান আলোচনায় আগ্রহী, তবে ইরান সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প বলেন, সফর বাতিল হলেও যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা নেই।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত, তবে অবরোধ ও হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানান, এই বৈঠক ছিল ‘খুবই আন্তরিক ও ফলপ্রসূ’। পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা চলছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত এবং উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে।




