যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ থাকা এই যুবক-যুবতীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে। তার আগে পিএইচডি সম্পন্ন করার ইচ্ছেও ছিল।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাম্পা বে ২৮ নিউজের এক প্রতিবেদনে লিমনের দেহাবশেষ পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অন্যদিকে আজ শনিবার সকালে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ফেসবুক পোস্টে তার বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর আমাদের মাঝে নেই।’ বিভিন্ন গণমাধ্যম জাহিদ হাসানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বৃষ্টির বাসায় রক্তের মধ্যে পড়ে থাকা দেহের একটি অংশের সঙ্গে তার ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা তারা দিতে পারেনি।
প্রতিবেদন অনুসারে, লিমনের দেহাবশেষ স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হিশাম লিমনের রুমমেট। ব্রিজের নিচে লিমনের দেহাবশেষ হিশামই রেখে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন তারা। নিখোঁজের দিন সকালে দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন তাদের এক বন্ধু। পরে গত ২১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছেন লিমন। তাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে অ্যাভালন হাইটস বুলেভার্ডে অবস্থিত তার বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি করছেন বৃষ্টি। সর্বশেষ ওই দিন তাকে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের ১২১ ইউএসএফ সুইটগাম লেনে অবস্থিত এনইএস বিল্ডিংয়ে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই। তাদেরকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করে রাখেনি। কারণ পরিবারের সদস্যরা এই কারণে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, দুজনের হারিয়ে যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয়, বা তাদের স্বাভাবিক আচরণের মধ্যেও পড়ে না। কারণ তারা মেধাবী শিক্ষার্থী।
বাংলাদেশে থাকা লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ ফক্স ১৩-কে বলেন, ‘তিনি খুবই দায়িত্বশীল ও সময়নিষ্ঠ মানুষ। আর সে কারণেই পরিস্থিতিটা আমাদের কাছে এত অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক… মানে খুবই সন্দেহজনক।’
গত ১৩ এপ্রিল জুবায়ের তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিল। লিমন তাকে জানায়, তিনি থিসিস নিয়ে কাজ করছেন এবং খুব ব্যস্ত থাকবেন। জামিল ও বৃষ্টি ভবিষ্যতে বিয়ে করার বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু প্রথমে তারা তাদের পিএইচডি শেষ করতে চান।




