যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহ ধরে তারা নিরুদ্দেশ। তারা ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী। গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তারা দুজন বন্ধু বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন জামিল লিমন (২৭) ও নাহিদা এস. বৃষ্টি (২৭)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন তাদের এক বন্ধু। পরে গত ২১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছেন লিমন। তাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে অ্যাভালন হাইটস বুলেভার্ডে অবস্থিত তার বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি করছেন বৃষ্টি। সর্বশেষ ওই দিন তাকে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের ১২১ ইউএসএফ সুইটগাম লেনে অবস্থিত এনইএস বিল্ডিংয়ে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুজনেই বাংলাদেশের বাসিন্দা ও তারা বন্ধু। ধারণা করা হচ্ছে, তারা একসঙ্গেই আছেন। দুজনের ফোনই বন্ধ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই। তাদেরকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করে রাখেনি, যা পরিবারের সদস্যদের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল। তদন্তকারীদের মতে, দুজনের হারিয়ে যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক বিষয় নয়, বা তাদের স্বাভাবিক আচরণের মধ্যেও পড়ে না। কারণ তারা মেধাবী শিক্ষার্থী।
ইউএসএফপিডি ও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে তাদের ক্লাসে অনুপস্থিত থাকাটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশে থাকা লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ ফক্স ১৩-কে বলেন, ‘তিনি খুবই দায়িত্বশীল ও সময়নিষ্ঠ মানুষ। আর সে কারণেই পরিস্থিতিটা আমাদের কাছে এত অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক… মানে খুবই সন্দেহজনক।’
আহমেদ জানায়, তার বড় ভাইয়ের খবরটা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় গত সপ্তাহ থেকে তার প্রায় ঘুমই হয়নি। তার পরিবার গভীর বেদনা ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আছি।
গত সোমবার আহমেদ তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিল। লিমন তাকে জানায়, তিনি থিসিস নিয়ে কাজ করছেন এবং খুব ব্যস্ত থাকবেন। লিমনের গবেষণার মূল বিষয় হলো ফ্লোরিডার ক্রমহ্রাসমান জলাভূমি অধ্যয়নে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার।
আহমেদ বলেন, লিমন ও বৃষ্টি ভবিষ্যতে বিয়ে করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু প্রথমে তারা তাদের ডিগ্রিগুলো শেষ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছিল। তিনি বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা একসঙ্গে ভবিষ্যত গড়ার ব্যাপারে কথা বলেছে, কিন্তু এ বিষয়ে তারা ততটা সিরিয়াস নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক সেফটি পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার ল্যারি ম্যাকিনন বলেন, অভ্যন্তরীণভাবে সবাই স্বাভাবিকভাবেই খুব উদ্বিগ্ন, যেমনটা আমরাও উদ্বিগ্ন। এটা তাদের স্বাভাবিক আচরণ নয়, তারা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। এই মুহূর্তে আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই যা থেকে বোঝা যায় যে এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক কিছু রয়েছে।




