ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে ইসরায়েল বা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দ্বারা প্ররোচিত হওয়ার খবরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেন এবং ঠিক কী কারণে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বিধ্বংসী সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি, অবশেষে সে বিষয়টি খোলাসা করলেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে বিষয়টি খোলাসা করে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েল আমাকে কখনো প্ররোচিত করেনি। বরং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার ফলাফলই আমাকে প্ররোচিত করেছে।
ট্রাম্প জানান, এই ঘটনা তার পুরোনো বিশ্বাসকে আরও শক্ত করেছে যে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে পারবে না। গণমাধ্যম ও জনমত জরিপের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস নিয়ে ভুয়া খবরের পণ্ডিত এবং জনমত জরিপগুলো দেখি ও পড়ি। তারা যা বলে তার ৯০ শতাংশই মিথ্যা এবং মনগড়া গল্প। জনমত জরিপগুলোতে কারচুপি করা হয়, ঠিক যেমন ২০২০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছিল।
সবশেষে তিনি ইরানের ভবিষ্যত নিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানেও পরিবর্তন আসবে। নতুন নেতারা যদি বুদ্ধিমান হন এবং সঠিক পথে চলেন, তাহলে ইরানের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। মূলত তিনি ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
দুদিন আগে ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস দাবি করেন, দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছেন।
একটি ফান্ড রাইজিং ইভেন্টে অংশ নিয়ে কমালা বলেন, ট্রাম্প এমন যুদ্ধে জড়িয়েছেন, তাকে জড়িয়েছেন নেতানিয়াহু, আমাদের স্পষ্ট করছি— ট্রাম্প এমন যুদ্ধে জড়িয়েছেন, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চায় না। এ যুদ্ধ আমেরিকার সেনাদের ঝুঁকিতে ফেলেছে।
তার আগে ট্রুথ সোশ্যালে ইসরায়েলকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। এতে দখলদারদের প্রশংসা করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক আর না করুক, তারা জানে কীভাবে বিজয়ী হতে হয়।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক বা না করুক, তারা যে আমেরিকার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এক মিত্র, তা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। তারা সাহসী, নির্ভীক, বিশ্বস্ত এবং বিচক্ষণ। যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে অন্য অনেকে যখন পিছু হটে নিজেদের আসল রূপ দেখিয়েছে, ইসরায়েল সেখানে ঠিক উল্টো; তারা সর্বশ্ব দিয়ে লড়াই করতে জানে এবং তারা জানে কীভাবে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই টানা আড়াই দুই বছর ধরে গাজায় যুদ্ধ চলছে।
হামাসের ওই হামলায় এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরদিন থেকে গাজায় আক্রমণ চালিয়ে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।




