পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আলোচনার সময় ঘনিয়ে এলেও তেহরান এখন পর্যন্ত তাদের উপস্থিতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি।
তেহরান থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ না করলেও অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার (২০ এপ্রিল) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আরও কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইরান আলোচনার বিরোধী নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শর্ত চাপিয়ে দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এমনকি প্রয়োজনে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেও ইরান প্রস্তুত বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে বুধবার (২২ এপ্রিল) চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। উভয় পক্ষের অস্পষ্টতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে এখন টালমাটাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠেছে, শেষ মুহূর্তে কি ইরান আলোচনার টেবিলে আসবে, নাকি যুদ্ধের পথ বেছে নেবে, নাকি ট্রাম্প যুদ্ধ বিরতির মেয়াদ বাড়াতে নমনীয়তা দেখাবেন?
সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে তেহরানকে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে হয় আলোচনার টেবিলে বসতে হবে, নতুবা এমন ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হবে যা দেশটি আগে ‘কখনও দেখেনি’।
সম্প্রতি রেডিও অনুষ্ঠান দ্য জন ফ্রেডরিকস শোতে এক ফোনকলে ট্রাম্প পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনায় ইরান অংশ নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ন্যায্য চুক্তির আশাবাদী ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি ন্যায্য চুক্তি করবে বলে আশা করছি। ইরান নিজেদের দেশকে নতুন করে গড়ে তুলবে। তবে তখন তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার কোনো সুযোগ বা এক্সেস তাদের থাকবে না। আমরা এটা হতে দিতে পারি না। বিশ্বের জন্য হুমকি হতে পারে হতে পারে এমন কিছু আমার হতে দেব না।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনা শুরু হলেও তা সফল হওয়া বেশ কঠিন হবে। কারণ দুই দেশের মধ্যে বিরোধের তালিকা বেশ দীর্ঘ। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব—প্রতিটি বিষয়ই অত্যন্ত জটিল।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত চাপ এবং অন্যদিকে ইরানের অনমনীয় অবস্থান—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই সম্ভাব্য বৈঠকটি এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।




