একদিকে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি, অন্যদিকে স্বর্ণের বাজারে দরপতন—মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্তায় ডামাডোল বিশ্ব অর্থনীতি। পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ এবং সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শুরুর ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে শুরুর দিকে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৫০ মার্কিন ডলারের নিচে নেমে আসে। সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়ে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। যখন সুদের হার বেশি থাকে, তখন বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো কম উৎপাদনশীল সম্পদের চেয়ে ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন। এর ফলে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করে।
ব্লুমবার্গ বলছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের (আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের তাৎক্ষণিক মূল্য) দাম আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৭২৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
অন্যদিকে জ্বালানি তেলের বাজারে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবরোধের হুঁশিয়ারিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে টোল দিয়ে কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ডলারের দিকে। বাজারের এই অস্থির পরিস্থিতিতে ডলারের মান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের দামও কমেছে। কেবল স্বর্ণ নয়, রুপার দামও ২ শতাংশ কমেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।




