ইরানের জবাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় নতুন আশা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছিল ইরান। কিন্তু সেই আশা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধাক্কা খেল। ইরানের জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি এটা পছন্দ করছি না, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার করে বেড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান যুদ্ধের সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতি এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের প্রশ্নকে সামনে রাখা হয়েছে। তবে ইরানের জবাবে শুধু যুদ্ধবিরতির কথা ছিল না, ছিল কয়েকটি বড় শর্তও।
ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শেষ করার দাবি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল ভিন্ন। ওয়াশিংটন আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে চেয়েছিল, তারপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলেছিল। কিন্তু ইরান পাল্টা জবাবে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালি এবং ক্ষতিপূরণকে একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে আনতে চাওয়ায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে গেল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ কম ঘনত্বে নামিয়ে আনা এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।
চলমান সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের জবাব তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো আসেনি।