ইরানে সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (২৯ মার্চ) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
এর আগে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এ সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাগুলো ‘যুদ্ধের একটি নতুন পর্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। আমেরিকান সেনারা প্রথম চার সপ্তাহের ইরান যুদ্ধের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক পরিস্থিতির শিকার হবে। এর ফলে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের স্থল অভিযানের ব্যাপকতা একটি পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের চেয়ে কম হবে। এ সামরিক অভিযানে বিশেষ বাহিনী ও প্রচলিত পদাতিক বাহিনীর অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এ অভিযানে মার্কিন সেনারা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যাপক গোলাবর্ষণের শিকার হতে পারে। এ ছাড়া হাতে তৈরি বিস্ফোরকও ব্যবহার হতে পারে তাদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটকে উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ককে সর্বোচ্চ বিকল্প সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই পেন্টাগনের কাজ। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ গণমাধ্যমটির আলোচনায় ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য অভিযান এবং নৌ চলাচলের হুমকি নিষ্ক্রিয় করতে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উপকূলীয় অভিযানের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানগুলো কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা আরও বলেছেন, এ সামরিক অভিযান কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।
তবে ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, ‘আমি কোথাও সৈন্য পাঠাচ্ছি না।’ অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানে চালানো সামরিক অভিযান কোনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত/যুদ্ধে পরিণত হবে না।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

