ইসরায়েলে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তজনা বিশ্ববাণিজ্যের জন্য নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হুতির মতো ইরান সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীর সরাসরি এই যুদ্ধে প্রবেশ বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুয়েজ খালকে অচল করে দিতে পারে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘গত আড়াই বছরে হুতিরা তাদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিয়েছে। তারা যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যাবে।’
অধ্যাপক এলমাসরির মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্ব অর্থনীতি দুটি প্রধান চোকপয়েন্ট প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বে। একটি হলো পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি এবং অন্যটি সুয়েজ খাল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই নৌপথগুলো বন্ধ হওয়া বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের পক্ষ থেকে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে।
এলমাসরি উল্লেখ করেন, ‘ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও তা অভেদ্য নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিজবুল্লাহ এবং ইরানের ছোড়া মিসাইল ও রকেট সেই প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন যদি দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের মিসাইল মোকাবিলা করতে হয়, তবে ইসরায়েলের সামরিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠবে।’
ইসরায়েলের রাজনৈতিক কৌশল তবে এই সংঘাতের একটি ভিন্ন রাজনৈতিক দিকও তুলে ধরেছেন এই বিশ্লেষক। এলমাসরির মতে, পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে প্রতিকূল মনে হলেও ইসরায়েল হয়তো একে রাজনৈতিকভাবে স্বাগত জানাতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল সম্ভবত যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত এবং দীর্ঘায়িত করতে চায়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধ বন্ধের কোনো উদ্যোগ না নিতে পারেন। কারণ, তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো এখনো অধরা রয়ে গেছে।’


-1778455118-16678_1778455263.webp)

