বিশ্বের অন্যতম প্রধান ও সংকীর্ণ চোকপয়েন্ট হরমুজ প্রণালি ঘিরে অর্থনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। কৌশলগত এই জলপথে ইরান অবরোধ দেওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ। কার্যত ‘অয়েল পলিটিকস’-এর কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ। এ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধে নতুন করে উসকানি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রীতিমতো তিনি প্রণালিটির নতুন নামকরণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা হয়েছে। গ্রাফিকটি মূলত ‘স্ট্যান্ডউইথট্রাম্প৪৭’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য এটাই প্রথমবার নয়। এর আগে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের ‘ট্রাম্প প্রণালি, মানে হরমুজ খুলে দেওয়া’ দরকার। মাফ করবেন। আমি খুবই দুঃখিত। কী ভয়ানক একটা ভুল হয়ে গেল। ভুয়া খবরগুলো বলবে, ‘তিনি ভুলবশত বলে ফেলেছেন’; না, আমার ক্ষেত্রে খুব বেশি হয় না। যদি হতো, তাহলে এটা একটা বড় খবর হয়ে যেত।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ কয়েক মাস ধরে চলতে পারে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরে প্রবেশকারী বা বন্দর ত্যাগকারী জাহাজগুলো। ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে, যা সম্প্রতি চার বছরের মধ্যে রেকর্ড।

এর আগে, ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পিছু হটার সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে নারাজ। যুক্তরাষ্ট্রকে কাঁবু করার বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের জন্য ওমানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের সম্মিলিত প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করবে।
তবে ইরান মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বেসেন্টের মন্তব্য খারিজ করে দিয়ে তার পরামর্শকে ‘আবর্জনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুমকি দেন যে, হরমুজ অবরোধে তেলের দাম ১২০ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। কিন্তু তেহরানের লক্ষ্য ১৪০ ডলার পর্যন্ত উন্নীত করা। মূলত এই মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখছে ইরান।


-1778455118-16678_1778455263.webp)

