ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল বাংলাদেশের

কালবেলা ডেস্ক

  ২৩ মে ২০২৫, ১৬:৩৭
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ১৮০ কোটি রুপি) চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শুক্রবার (২৩ মে) ভারতের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম এই খবর প্রকাশ করে ভারতের অনলাইন পোর্টাল ফার্স্টপোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির আওতায় কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (জিআরএসই) নামের প্রতিরক্ষা কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি ৮০০ টন ওজনের টাগ বোট সংগ্রহ করার কথা ছিল।

এই চুক্তিটি হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে, যেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ভারতীয় কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তিটি ছিল ভারত সরকারের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার অংশ, যা ২০২৩ সালে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এই টাগ বোট কেনার উদ্যোগটিকে সেই ঋণচুক্তির প্রথম বড় প্রকল্প হিসেবে ধরা হচ্ছিল।

তবে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ সরকার এই ক্রয়াদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক কূটনৈতিক উত্তেজনা।

এর আগে শনিবার ভারত তাদের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপরই বাংলাদেশ পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতের ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, এই চুক্তি বাতিলের ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জিআরএসই কোম্পানিটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এনডিটিভি জানিয়েছে, কোম্পানিটি ভারতীয় পুঁজিবাজারকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে।

এদিকে, বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক কারণ দেখছেন অনেকে। ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলকে ‘স্থলবেষ্টিত’ বলে অভিহিত করেন এবং এই অঞ্চলে বাংলাদেশকে ‘সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে তিনি চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে, ভারত এর জবাবে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দু বিজনেস লাইন বলেছে, বাংলাদেশ সরকার ও জিআরএসইর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই চুক্তি বাতিল হয়েছে। যদিও এই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ পায়নি।

উল্লেখ্য, ভারত ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশকে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) সুবিধার আওতায় ৮ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এই সহায়তার বেশিরভাগ প্রকল্পই বাস্তবায়ন হয়েছে শেখ হাসিনার আমলে।

চুক্তি বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে এর প্রভাব দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক লেনদেনে কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক কাশ্মীর সংঘাতের জেরে আকাশসীমা ব্যবহারে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।  শুক্রবার (২৩ মে) একযোগে দেওয়া ঘোষণায় দুই দেশই নিশ্চিত করে যে, নিবন্ধিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো বিমান আপাতত এক অপরের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে সামরিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় উভয় দেশ। এরপর শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের নিবন্ধিত, পরিচালিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া কোনো বিমানই পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি ভারতীয় সামরিক বিমানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ জুন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পাকিস্তানের ঘোষণা আসার পরপরই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাল্টা পদক্ষেপের কথা জানায়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের নিবন্ধিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া সামরিক ও বেসামরিক বিমান ২৩ জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ভারত ‘অপরেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালায়। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, বন্ধ করে দেয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ভিসা কার্যক্রম। সীমান্তও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে পরমাণু শক্তিধর এই দুই দেশের সংঘাত প্রশমনে হস্তক্ষেপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যস্থতায় গত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি থেকে যায় অমীমাংসিত। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা ব্যবহারে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক সংকেতই নয়, এটি আঞ্চলিক যাত্রী ও মালবাহী বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার পুরো আকাশপথে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকা মানে শুধু কৌশলগত বার্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এক ধরনের শাস্তি। এখন প্রশ্ন হলো- সংঘাত কি আরও বাড়বে, নাকি আকাশপথ খোলার মাধ্যমে শুরু হবে শান্তির সম্ভাবনা?  
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
২ হাজার ৩৬৯ বাংলাদেশির তালিকা করল ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, তার দেশ দুই হাজার ৩৬৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার (২২ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়াল জানান, আমাদের কাছে ২ হাজার ৩৬৯ জনের একটি তালিকা রয়েছে, যাদের ফেরত পাঠানো প্রয়োজন। ভারত বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে, যেন ভারতে থাকা অবৈধ এসব বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করে দ্রুত ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করে। মুখপাত্র বলেন, যারা ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তারা বাংলাদেশি হোক বা অন্য কোনো দেশের, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে তাদের জাতীয়তা যাচাইয়ের অনুরোধ করেছি জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, ভারতে অবৈধভাবে অনেক বিদেশি বসবাস করেন, তারা বাংলাদেশি নাগরিক হোক বা অন্য যেকোনো নাগরিক, তাদের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের এখানে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক আছেন, যাদের দ্রুত নির্বাসন প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে ২ হাজার ৩৬৯ জনের বেশি একটি তালিকা রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই কারাভোগ শেষ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাই ২০২০ সাল থেকে ঝুলে আছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে আসামের দক্ষিণ সালমারা জেলায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী পরে তাদের দেশে ফেরত পাঠায়।
২ হাজার ৩৬৯ বাংলাদেশির তালিকা করল ভারত
ড্রামা শুধু ক্যামেরার সামনে? মোদিকে খোঁচা রাহুলের
পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাত ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার, বিশেষ করে রাফালসহ একাধিক যুদ্ধবিমান হারানো এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে।  এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি রাজস্থানের বিকানেরে এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, আমার শিরায় রক্ত নয়, সিঁদুর টগবগ করে ফুটছে। এমন বর্ণনামূলক ও আবেগপ্রবণ বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাহুল।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মোদিজি, শুধুই ক্যামেরার সামনে আপনার রক্ত গরম হয় কেন? রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যতটা আগ্রাসী ভঙ্গিতে বক্তৃতা দেন, বাস্তবে ততটাই নতজানু অবস্থান নেন পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্রের ব্যাপারে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। তিনি বলেন, মোদিজি, ফাঁকা বক্তৃতা বন্ধ করুন। শুধু বলুন, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্যে আপনি কেন বিশ্বাস করলেন? কেন ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করে ভারতের স্বার্থ বিসর্জন দিলেন? তিনি আরও বলেন, কেন শুধু ক্যামেরার সামনেই আপনি এত সাহসী? ভারতের সম্মান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপনি আপস করেছেন। শুধু রাহুল নন, কংগ্রেসের অন্য শীর্ষ নেতারাও একইসুরে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন। দলটির মুখপাত্র ও প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তৃতা যেন বলিউডের ডায়লগ। বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তিনি ফিল্মি স্টাইলে ফাঁকা বুলি দেন, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপে দুর্বলতা প্রকাশ পায়। প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে ভারতীয় বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে ‘মাত্র ২২ মিনিটেই’ পাকিস্তানে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন মোদি। যদিও এ বিষয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত উত্তেজনা এবং জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ চরমে পৌঁছেছে। মোদির ‘সিঁদুর’ মন্তব্য হিন্দু ভোটারদের আবেগে ছোঁয়া দেওয়ার কৌশল হলেও, বিরোধীদের কাছে তা রণনৈতিক দুর্বলতার আড়ালে লুকানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। সামনের দিনগুলোতে এ নিয়ে আরও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে আসবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।
ড্রামা শুধু ক্যামেরার সামনে? মোদিকে খোঁচা রাহুলের
হিন্দু যুগলের বিয়ের অনুষ্ঠানে পাশে দাঁড়াল মুসলিম পরিবার
ধর্মীয় বিভাজনের সময়ে ভারতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার ছবি ও ভিডিও। এতে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন বহু মানুষ।  মহারাষ্ট্রের পুণেতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এ ঘটনা নেটিজেনদের অনেককেই আশার আলো দেখিয়েছে। অনেকে বলছেন, ‘এটাই নতুন ভারতের মুখ’- যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও মানবিকতার জয়গান হয়। ঘটনাটি ঘটে পুণে শহরের ওয়ানাওয়াড়ি এলাকায়, স্টেট রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (এসআরপিএফ) মাঠসংলগ্ন অলংকরণ লনে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে সংস্ক্রুতি কাওয়াড়ে ও নরেন্দ্র গালান্ডে নামে এক হিন্দু যুগলের বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।  মঞ্চ তৈরি, পুরোহিত উপস্থিত, অতিথিরা ভিড় জমাচ্ছেন- সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিন্তু হঠাৎ শুরু হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি। খোলা লনের মাটি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অতিথিরা ছুটোছুটি শুরু করেন আশ্রয়ের জন্য। বৃষ্টিতে ভেসে যেতে বসে দুই মাসের পরিকল্পনার বহু প্রতীক্ষিত সেই বিয়ে। ঘটনাটি যখন একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন সংস্ক্রুতি কাওয়াড়ের পরিবারের চোখ পড়ে পাশের একটি ব্যাংকোয়েট হলের দিকে। সেখানে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক কাজীর ছেলে মহসিন ও পাত্রী মাহিনের ওয়ালিমা (মুসলিম বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান) চলছিল। হিন্দু পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা ফারুক কাজীর কাছে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। অবাক করে দিয়ে এক মুহূর্তও দেরি করেননি কাজী সাহেব। নিজের অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার মাঝেই ব্যাংকোয়েট হলের একটি অংশ হিন্দু পরিবারের জন্য ছেড়ে দেন। শুধু তাই নয়, তার পরিবার ও অতিথিরাও হিন্দু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেন। এরপর ঘটে এক অনন্য ঘটনা- একই মঞ্চে প্রথম হিন্দু বিবাহ, এরপর মুসলিম ওয়ালিমা সম্পন্ন হয়। অতিথিরা উভয় পক্ষের অনুষ্ঠানে অংশ নেন, একসঙ্গে নৈশভোজ করেন। দুই সংস্কৃতির মানুষদের এই মিলনমেলায় যেন নতুন এক ভারতকে খুঁজে পান অনেকে। পেশায় আইনজীবী, কাওয়াড়ে পরিবারের বন্ধু অ্যাডভোকেট নীলেশ শিন্ডে বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম বৃষ্টি হয়তো ১৫ মিনিটের মধ্যে থেমে যাবে, কিন্তু তা না হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তখন পাশের হলের মুসলিম পরিবারের কাছে গিয়ে সাহায্য চাই। তারা নিজের পরিবারের বিয়ের আয়োজন ভুলে গিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ান। সংস্ক্রুতির ঠাকুরদাদা সান্তারাম কাওয়াড়ে বলেন, আমরা দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। যখন মনে হলো অনুষ্ঠানটি আর হবে না, তখন মনটা ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু কাজী পরিবার আমাদের প্রতি যে সহানুভূতি দেখিয়েছে, তা চিরকাল মনে রাখব। সংস্ক্রুতির বাবা চেতন কাওয়াড়ে বলেন, আমাদের মেয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে এক মুসলিম পরিবার যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, তা শুধু উদারতা নয়, এটা মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, ফারুক কাজী বলেন, আমি যখন দেখলাম তাদের অনুষ্ঠান ভেস্তে যাচ্ছে, তখন মনে হলো ওরাও তো আমার মেয়ের মতোই। এক বাবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সাহায্য করেছি। ভাগ্যবান মনে করছি নিজেকে, এমন একটি মুহূর্তে পাশে থাকতে পেরে। শেষ পর্যন্ত দুই নবদম্পতি এবং দুই পরিবার রাতভর আনন্দে মেতে ওঠেন। একসঙ্গে তোলা গ্রুপ ছবি, হাসিমুখে খাবার খাওয়ার দৃশ্য- সবই এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুণের এই একটি রাতের ঘটনা হয়ে উঠেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক স্থায়ী প্রতীক। সূত্র : ফ্রি প্রেস জার্নাল
হিন্দু যুগলের বিয়ের অনুষ্ঠানে পাশে দাঁড়াল মুসলিম পরিবার
ডিজে বাজিয়ে, গাড়ি-বাইক নিয়ে ‘গণধর্ষকদের’ শোভাযাত্রা
ডিজে বাজিয়ে, গাড়ি-বাইক নিয়ে শোভাযাত্রা করেছেন গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একদল যুবক। জেল থেকে জামিন পেয়েই গাড়ি-বাইক নিয়ে ডিজে বাজিয়ে রাস্তায় শোভাযাত্রা করেন তারা।  শুক্রবার (২৩ মে) ভারতীয় সংবামাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ১৬ মাস জেল খাটার পর বৃহস্পতিবার জামিনে বের হন। তাদের জামিনের খবরে জেলের সামনে সঙ্গী-সাথীরা গাড়ি ও বাইকের কনভয় নিয়ে হাজির হন। জেলের বাইরে পা রাখতেই তারা অভিযুক্ত সাতজনকে স্বাগত জানান। এরপর  গাড়ি, বাইক আর গানের সঙ্গে শোভাযাত্রা করে তারা রওনা হন। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের হাভেরিতে এমন ঘটনা ঘটেছে।  তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হাভেরির একটি হোটেলে এক যুগলের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হোটেল থেকে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তারা আদালতে জামিন পান। পরে এমন কাণ্ড ঘটনার তাদের সঙ্গীরা।   পুলিশ জানিয়েছে,  গণধর্ষণ এবং হামলার অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে সাতজন মূল অভিযুক্ত ছিলেন। ১০ মাস আগে তাদের ১২ জন জামিন পান। বাকিরা বৃহস্পতিবার জামিন পান। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।  আনন্দবাজার জানিয়েছে, ধর্ষণে অভিযুক্তদের স্বাগত জানানোর বিষয়টি এই প্রথম নয়। এর আগে গুজরাটে বিলকিস বানু ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের মালা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছিল। পাঞ্জাবে লোক ইনসাফ পার্টির প্রধান সিমরজিৎ সিংহ বাইনসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল।  এ ঘটনায় ২০২১ সালে মামলা হয়। ২০২২ সালে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। ছয় মাসের বেশি সময় জেল খাটার পর ২০২৩ সালে জামিন পান। বারনালা জেল থেকে মুক্তি পেলে তাকেও ‘নায়কের’ মতো করে স্বাগত জানানো হয়। 
ডিজে বাজিয়ে, গাড়ি-বাইক নিয়ে ‘গণধর্ষকদের’ শোভাযাত্রা
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
পাল্টাপাল্টি আকাশপথ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ভারত-পাকিস্তান
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সাম্প্রতিক কাশ্মীর সংঘাতের জেরে আকাশসীমা ব্যবহারে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।  শুক্রবার (২৩ মে) একযোগে দেওয়া ঘোষণায় দুই দেশই নিশ্চিত করে যে, নিবন্ধিত বা নিয়ন্ত্রিত কোনো বিমান আপাতত এক অপরের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে সামরিক সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয় উভয় দেশ। এরপর শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারতের নিবন্ধিত, পরিচালিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া কোনো বিমানই পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এমনকি ভারতীয় সামরিক বিমানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৪ জুন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পাকিস্তানের ঘোষণা আসার পরপরই ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পাল্টা পদক্ষেপের কথা জানায়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের নিবন্ধিত, মালিকানাধীন বা ভাড়া নেওয়া সামরিক ও বেসামরিক বিমান ২৩ জুন পর্যন্ত ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে, যদিও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ভারত ‘অপরেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালায়। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, বন্ধ করে দেয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ভিসা কার্যক্রম। সীমান্তও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে পরমাণু শক্তিধর এই দুই দেশের সংঘাত প্রশমনে হস্তক্ষেপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যস্থতায় গত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি থেকে যায় অমীমাংসিত। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা ব্যবহারে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক সংকেতই নয়, এটি আঞ্চলিক যাত্রী ও মালবাহী বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার পুরো আকাশপথে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকা মানে শুধু কৌশলগত বার্তা নয়, বরং সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও এক ধরনের শাস্তি। এখন প্রশ্ন হলো- সংঘাত কি আরও বাড়বে, নাকি আকাশপথ খোলার মাধ্যমে শুরু হবে শান্তির সম্ভাবনা?  
২ হাজার ৩৬৯ বাংলাদেশির তালিকা করল ভারত
২ হাজার ৩৬৯ বাংলাদেশির তালিকা করল ভারত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, তার দেশ দুই হাজার ৩৬৯ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার (২২ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। সংবাদ সম্মেলনে জয়সওয়াল জানান, আমাদের কাছে ২ হাজার ৩৬৯ জনের একটি তালিকা রয়েছে, যাদের ফেরত পাঠানো প্রয়োজন। ভারত বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে, যেন ভারতে থাকা অবৈধ এসব বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করে দ্রুত ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করে। মুখপাত্র বলেন, যারা ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তারা বাংলাদেশি হোক বা অন্য কোনো দেশের, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে তাদের জাতীয়তা যাচাইয়ের অনুরোধ করেছি জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, ভারতে অবৈধভাবে অনেক বিদেশি বসবাস করেন, তারা বাংলাদেশি নাগরিক হোক বা অন্য যেকোনো নাগরিক, তাদের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের এখানে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক আছেন, যাদের দ্রুত নির্বাসন প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে ২ হাজার ৩৬৯ জনের বেশি একটি তালিকা রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই কারাভোগ শেষ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাই ২০২০ সাল থেকে ঝুলে আছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে আসামের দক্ষিণ সালমারা জেলায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী পরে তাদের দেশে ফেরত পাঠায়।
ড্রামা শুধু ক্যামেরার সামনে? মোদিকে খোঁচা রাহুলের
ড্রামা শুধু ক্যামেরার সামনে? মোদিকে খোঁচা রাহুলের
পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘাত ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার, বিশেষ করে রাফালসহ একাধিক যুদ্ধবিমান হারানো এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে।  এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি রাজস্থানের বিকানেরে এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, আমার শিরায় রক্ত নয়, সিঁদুর টগবগ করে ফুটছে। এমন বর্ণনামূলক ও আবেগপ্রবণ বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাহুল।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মোদিজি, শুধুই ক্যামেরার সামনে আপনার রক্ত গরম হয় কেন? রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যতটা আগ্রাসী ভঙ্গিতে বক্তৃতা দেন, বাস্তবে ততটাই নতজানু অবস্থান নেন পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্রের ব্যাপারে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। তিনি বলেন, মোদিজি, ফাঁকা বক্তৃতা বন্ধ করুন। শুধু বলুন, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্যে আপনি কেন বিশ্বাস করলেন? কেন ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করে ভারতের স্বার্থ বিসর্জন দিলেন? তিনি আরও বলেন, কেন শুধু ক্যামেরার সামনেই আপনি এত সাহসী? ভারতের সম্মান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপনি আপস করেছেন। শুধু রাহুল নন, কংগ্রেসের অন্য শীর্ষ নেতারাও একইসুরে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন। দলটির মুখপাত্র ও প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তৃতা যেন বলিউডের ডায়লগ। বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তিনি ফিল্মি স্টাইলে ফাঁকা বুলি দেন, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপে দুর্বলতা প্রকাশ পায়। প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে ভারতীয় বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে ‘মাত্র ২২ মিনিটেই’ পাকিস্তানে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন মোদি। যদিও এ বিষয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত উত্তেজনা এবং জাতীয়তাবাদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ চরমে পৌঁছেছে। মোদির ‘সিঁদুর’ মন্তব্য হিন্দু ভোটারদের আবেগে ছোঁয়া দেওয়ার কৌশল হলেও, বিরোধীদের কাছে তা রণনৈতিক দুর্বলতার আড়ালে লুকানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। সামনের দিনগুলোতে এ নিয়ে আরও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে আসবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।
হিন্দু যুগলের বিয়ের অনুষ্ঠানে পাশে দাঁড়াল মুসলিম পরিবার
হিন্দু যুগলের বিয়ের অনুষ্ঠানে পাশে দাঁড়াল মুসলিম পরিবার
ধর্মীয় বিভাজনের সময়ে ভারতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার ছবি ও ভিডিও। এতে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন বহু মানুষ।  মহারাষ্ট্রের পুণেতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এ ঘটনা নেটিজেনদের অনেককেই আশার আলো দেখিয়েছে। অনেকে বলছেন, ‘এটাই নতুন ভারতের মুখ’- যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও মানবিকতার জয়গান হয়। ঘটনাটি ঘটে পুণে শহরের ওয়ানাওয়াড়ি এলাকায়, স্টেট রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (এসআরপিএফ) মাঠসংলগ্ন অলংকরণ লনে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে সংস্ক্রুতি কাওয়াড়ে ও নরেন্দ্র গালান্ডে নামে এক হিন্দু যুগলের বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।  মঞ্চ তৈরি, পুরোহিত উপস্থিত, অতিথিরা ভিড় জমাচ্ছেন- সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিন্তু হঠাৎ শুরু হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি। খোলা লনের মাটি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অতিথিরা ছুটোছুটি শুরু করেন আশ্রয়ের জন্য। বৃষ্টিতে ভেসে যেতে বসে দুই মাসের পরিকল্পনার বহু প্রতীক্ষিত সেই বিয়ে। ঘটনাটি যখন একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন সংস্ক্রুতি কাওয়াড়ের পরিবারের চোখ পড়ে পাশের একটি ব্যাংকোয়েট হলের দিকে। সেখানে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক কাজীর ছেলে মহসিন ও পাত্রী মাহিনের ওয়ালিমা (মুসলিম বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান) চলছিল। হিন্দু পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা ফারুক কাজীর কাছে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। অবাক করে দিয়ে এক মুহূর্তও দেরি করেননি কাজী সাহেব। নিজের অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার মাঝেই ব্যাংকোয়েট হলের একটি অংশ হিন্দু পরিবারের জন্য ছেড়ে দেন। শুধু তাই নয়, তার পরিবার ও অতিথিরাও হিন্দু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেন। এরপর ঘটে এক অনন্য ঘটনা- একই মঞ্চে প্রথম হিন্দু বিবাহ, এরপর মুসলিম ওয়ালিমা সম্পন্ন হয়। অতিথিরা উভয় পক্ষের অনুষ্ঠানে অংশ নেন, একসঙ্গে নৈশভোজ করেন। দুই সংস্কৃতির মানুষদের এই মিলনমেলায় যেন নতুন এক ভারতকে খুঁজে পান অনেকে। পেশায় আইনজীবী, কাওয়াড়ে পরিবারের বন্ধু অ্যাডভোকেট নীলেশ শিন্ডে বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম বৃষ্টি হয়তো ১৫ মিনিটের মধ্যে থেমে যাবে, কিন্তু তা না হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তখন পাশের হলের মুসলিম পরিবারের কাছে গিয়ে সাহায্য চাই। তারা নিজের পরিবারের বিয়ের আয়োজন ভুলে গিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়ান। সংস্ক্রুতির ঠাকুরদাদা সান্তারাম কাওয়াড়ে বলেন, আমরা দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। যখন মনে হলো অনুষ্ঠানটি আর হবে না, তখন মনটা ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু কাজী পরিবার আমাদের প্রতি যে সহানুভূতি দেখিয়েছে, তা চিরকাল মনে রাখব। সংস্ক্রুতির বাবা চেতন কাওয়াড়ে বলেন, আমাদের মেয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনে এক মুসলিম পরিবার যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, তা শুধু উদারতা নয়, এটা মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, ফারুক কাজী বলেন, আমি যখন দেখলাম তাদের অনুষ্ঠান ভেস্তে যাচ্ছে, তখন মনে হলো ওরাও তো আমার মেয়ের মতোই। এক বাবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সাহায্য করেছি। ভাগ্যবান মনে করছি নিজেকে, এমন একটি মুহূর্তে পাশে থাকতে পেরে। শেষ পর্যন্ত দুই নবদম্পতি এবং দুই পরিবার রাতভর আনন্দে মেতে ওঠেন। একসঙ্গে তোলা গ্রুপ ছবি, হাসিমুখে খাবার খাওয়ার দৃশ্য- সবই এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুণের এই একটি রাতের ঘটনা হয়ে উঠেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক স্থায়ী প্রতীক। সূত্র : ফ্রি প্রেস জার্নাল