ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

রাজনৈতিক সন্ন্যাস না কি আবার ঘুরে দাঁড়াবেন মমতা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৬ মে ২০২৬, ০৯:০০
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের যে শক্তিশালী ধারা একসময় দৃশ্যমান ছিল, তার শেষ বড় প্রতীক হিসেবেই দেখা হতো মমতা ব্যানার্জীকে। জে জয়ললিতা ও কুমারী মায়াবতীর পর তিনিই ছিলেন সেই ত্রয়ীর সক্রিয় মুখ, যিনি একক নেতৃত্বে একটি রাজ্যের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের ছন্দপতনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে মাত্র ৮০ আসনে। এই ফলাফলের সবচেয়ে বড় প্রতীকী ধাক্কা এসেছে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে— যেখানে মমতা ব্যানার্জী নিজেই পরাজিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একসময়কার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বর্তমানে বিজেপির প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই পরাজয় কেবল একটি আসন হারানো নয়, বরং তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

‘অপরাজেয়’ ইমেজে ফাটল

‘লড়াকু’ নেত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জি রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা, তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তোলা এবং জনমুখী কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি এক ধরনের ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সাধারণ মানুষের কাছে ‘দিদি’ ইমেজ তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই ইমেজ কার্যত কাজ করেনি। বরং তার সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ভোটারদের এক বড় অংশকে প্রভাবিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভরাডুবির পেছনের কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই পরাজয়ের পেছনে একাধিক ফ্যাক্টর একসঙ্গে কাজ করেছে। শিক্ষা ও পৌর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, রেশন কেলেঙ্কারি, দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ও নারী নির্যাতনের ঘটনাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী ‘তোষণের রাজনীতি’ মতো নানা অভিযোগ ছিল।

এসব ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।

শুধু শাসকদলের দুর্বলতা নয়, বিরোধী বিজেপির কৌশলগত পরিবর্তনও বড় ভূমিকা রেখেছে। দলটি এবার স্থানীয় ইস্যুভিত্তিক প্রচারণা, শক্তিশালী বুথ ম্যানেজমেন্ট এবং সংগঠনের বিস্তারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের উপস্থিতি রাজ্যের রাজনীতিকে নতুনভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি অনেকটাই স্থানীয় নেটওয়ার্কনির্ভর ছিল। কিন্তু এখন সেই কাঠামো ভেঙে গিয়ে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নারী নেতৃত্বের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ভারতীয় রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব নতুন কিছু নয়। ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে সুচেতা কৃপালনী— অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে জে জয়ললিতা, মায়াবতী ও মমতা ব্যানার্জীর উত্থান ছিল একেবারেই আলাদা।

তিনজনের মধ্যেই কিছু মিল রয়েছে— ব্যক্তিনির্ভর দল গঠন, তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠন, জনমুখী কল্যাণমূলক রাজনীতি ও পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি।

তবে তাদের রাজনৈতিক পথ ছিল ভিন্ন। জয়ললিতা উঠে এসেছেন চলচ্চিত্র জগত থেকে, মায়াবতী কাস্ট-ভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে শক্তি অর্জন করেছেন, আর মমতা ব্যানার্জী আন্দোলন ও জনসংযোগের রাজনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন— কোনো ‘গডফাদার’ ছাড়াই।

জয়ললিতার মৃত্যু এবং মায়াবতীর রাজনৈতিক প্রভাব কমে আসার পর অনেকেই মনে করতেন, এই ধারার একমাত্র শক্তিশালী প্রতিনিধি মমতাই। কিন্তু এবারের পরাজয় সেই ধারণায় প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। কেন্দ্রীয় শক্তির উত্থান, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বৃদ্ধি এবং ভোটারদের প্রত্যাশার পরিবর্তন সব মিলিয়ে আগের মতো একক আধিপত্য ধরে রাখা এখন অনেক কঠিন।

শেষ না কি নতুন শুরু?

তবে মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, তাকে সহজে ‘শেষ’ বলা যায় না। ২০০৪-২০০৬ সালের ধাক্কার পরও তিনি সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছিলেন। এবারও তিনি পরাজয় মানতে নারাজ। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিরোধীরা জয় পেয়েছে, কিন্তু নৈতিকভাবে জয় তাদেরই। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন।

মমতা ব্যানার্জীর এই পরাজয়, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবে কি না সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলেছেন, নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতার এই পরাজয় অবশ্যই রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক অতীতে আমরা ন্যাশানাল পার্টিগুলোর মধ্যে শীলা দিক্ষিত, বসুন্ধরা রাজের মতো মুখ্যমন্ত্রীদের দেখেছি। কিন্তু আঞ্চলিকস্তরে ক্ষমতাশালী নেত্রী হিসাবে জয়ললিতা, মায়াবতী ও মমতাকেই ধরা হয়েছে। এদের মধ্যে জয়ললিতার মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচনে হারের সম্মুখীন হওয়ার পর মায়াবতীর পুনরুত্থান হয়নি। মমতার ক্ষেত্রে কী হয় সেটাই দেখার।

এই প্রসঙ্গে একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় উল্লেখ করেছেন দিল্লির পলিটিক্যাল ইকোনমিস্ট ড. রোহিত জ্যোতিষ। তার কথায়, আমরা যদি মমতাকে জয়ললিতা ও মায়াবতীর সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে বলা দরকার এরা অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত আঞ্চলিক নেতৃত্বের অংশ ছিলেন যেখানে তাদের কর্তৃত্ব গড়ে উঠেছিল দলের সংগঠন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।

ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ড. জ্যোতিষ বলেছেন, এখন আমরা সেই ভারসাম্যের এক ধরনের বিচ্যুতি দেখছি। এখন আঞ্চলিক রাজনীতিতে জাতীয় স্তরে সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বীর উত্থান ঘটেছে, যা এই প্রতিযোগিতাকে অনেক বেশি উন্মুক্ত ও তীব্র করে তুলেছে। এটা তামিলনাড়ুতে জয়ললিতা যে বিরোধী দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন তার থেকে অনেকটাই আলাদা। মায়াবতীর ক্ষেত্রে আবার বিরোধিতা সর্বদাই স্থিতিশীল স্থানীয় জোটকে কেন্দ্র করে দেখা গিয়েছে। আমার মনে হয় মমতার এই পরাজয় তার ব্যক্তিগত পতন নয়। সেন্ট্রালাইজড লোকাল লিডারশিপকে এখন আরও অনেক বেশি পরিমাণে প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ড. কুমার বলছেন, বর্তমান ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে কাঠামোগত এবং রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতাকেই দর্শায়। গভীর সরকার-বিরোধী মনোভাব, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নির্বাচনী পরিবেশকে রূপ দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে মমতা ব্যানার্জীর ক্যারিয়ারে ইতি হবে কি না এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলেছেন, এর আগে ২০০৪-২০০৬ সালে সেটব্যাকের পর অনেকেই মনে করেছিলেন তার পলিটিক্যাল অবিচ্যুয়ারি লেখার সময় হয়েছে। উনি আর ফিরবেন না। কিন্তু ২০০৬ সালের পর থেকে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে আন্দলনের হাত ধরে আবার তার রাজনৈতিক পুনরুত্থান হয়। সেই মমতাই আবার ২০২৬ সালে হারলেন। তার কাছে এখন অবকাশ রয়েছে, সরকার চালাতে হচ্ছে না। এই সময়কে তিনি কীভাবে ব্যবহার করবেন, সাংগঠনিক ভিতকে আবার পোক্ত করবেন, না কি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন না কি আবার ঘুরে দাঁড়াবেন সেটা দেখার। তবে উনি লড়াই করে বারবার ফেরত এসেছেন কাজেই কী হয় সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

একই মত পোষণ করেন ড. রোহিত জ্যোতিষ, জয়ললিতা, মায়াবতীর সঙ্গে তুলনা করলে আমার মনে হয় না মমতার এই পতন পার্মানেন্ট। এখনই তার ক্যারিয়ারে ইতি হবে ভাবারও কারণ নেই।

মমতা ব্যানার্জীও অবশ্য হার মানছেন না বলে জানিয়েছেন। এই ফল কে না মেনে তিনি বলেছেন, উই উইল ফাইট ইট আউট।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই পরাজয়ের পর মমতা কি আবার সংগঠনকে পুনর্গঠন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন? নাকি ভারতীয় আঞ্চলিক রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের এক যুগের কার্যত অবসান ঘটতে যাচ্ছে?

সূত্র: বিবিসি বাংলা

পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে হেনস্তা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের সমর্থক থেকে শুরু করে ভিন্ন মতের লোকজনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে টেনেহিঁচড়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। জোর করে দেওয়ানো হয় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনে পরোটা বিক্রেতা রাজুকে একদল টানাহেঁচড়া করছে। ওই সময় তার পরনে ছিল কালো টি-শার্ট। একটা পর্যায়ে তার টি-শার্টটিও খুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। ওই সময় রাজুকে ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যায়।  শুভ কর্মকার নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। আরও কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের পর রাজুকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। হামলাকারীদের অভিযোগ, রাজু মন্দিরের পাশে বসে আমিষ জাতীয় খাবার খেয়েছেন। জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছেন। তাদের মতে, রাজুর জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া উচিত ছিল।    বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজু স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি উল্টো জয় বাংলা স্লোগান দেন। এতে তিনি তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন বলে ধারণা হামলাকারীদের। স্থানীয়দের বরাতে জানা য়ায়, ব্যক্তিগতভাবে রাজু রাজনীতিতে সক্রিয় না। তবে তিনি সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলেন। এই রেশ ধরে নির্বাচনের পর তাকে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে যাত্রীবাহী ট্রেনের ভেতর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হলো। 
পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে হেনস্তা
এবারও নিজের পদ ধরে রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের আসাম রাজ্যে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পথে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। রোববার (১০ মে) বৃহত্তম শহর গুয়াহাটিতে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ফলে দ্বিতীয় বারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে যাচ্ছেন তিনি। রাজ্যের গভর্নর বা রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হিমন্ত শর্মা নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাজ্যপালের সম্মতি মিললে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। নতুন এনডিএ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরেও জোর প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন। আসাম বিজেপির সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া জানান, রোববারই রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবে বিজেপি। তিনি বলেন, আজ বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর এনডিএ বিধায়কদের বৈঠক হবে। পরে আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাব। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি এবং এনডিএর শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। বিজেপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কমলাক্ষ্যা দে পুরকায়স্থ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, আসামের মানুষ চান হিমন্ত বিশ্ব শর্মাই আবার মুখ্যমন্ত্রী হোন। শুধু আসাম নয়, গোটা দেশই তাকে আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির ১২৬ আসনে ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৪ মে প্রকাশিত ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৮২টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ১০২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এ ছাড়া বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) ও আসাম গণপরিষদ (এজিপি) ১০টি করে আসনে জয়ী হয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আসামে এনডিএ জোটের তৃতীয় বারের মতো জয়। রাজ্যটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করেছে বিজেপি। এই বড় জয়ে শুধু বিজেপিই নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে এনডিএ জিতেছে, যেখানে মূল ভোটার ছিলেন অসমীয়া, আদিবাসী ও বাঙালি-হিন্দু জনগোষ্ঠী। শুধু দুটি আসনে তারা হেরেছে। এর মধ্যে একটি পেয়েছে কংগ্রেস এবং অন্যটি তাদের মিত্র রায়জোর দল। ২০১৬ ও ২০২১ সালে দলটি এককভাবে ৬০টি আসন পেয়ে তার মিত্র এজিপি’র সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করেছিল। ২০১৬ সালে বিপিএফ ও ২০২১ সালে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেলের (ইউপিপিএল) সঙ্গে জোট বেঁধে দলটি যথাক্রমে ৮৬ এবং ৭৫ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার
এবারও নিজের পদ ধরে রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ঘোষণায় চমক দিলেন বিজয়
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মুখ তিনি। সিনেমার অ্যাকশন সিনে যেমন তার চমক থাকে, এবার তেমনই চমক দেখালেন বাস্তব জীবনে। সিনেমার রঙিন পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছেন। দুই বছর আগে দল গঠন করে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন। অবশেষে রোববার (১০ মে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর যোসেফ (থালাপতি) বিজয়। তামিলগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম আদেশেই বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদক সমস্যা মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি হেল্পলাইনসহ বিশেষ বাহিনী গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে পূর্ণ মনোযোগ রাখব। কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সবকিছু ভালো হবে। বিজয় বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে এখন মুখ্যমন্ত্রী। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা চিনি, আমি রাজপরিবার থেকে আসিনি। আমি অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, অনেকেই আমাকে অপমান করেছে। আমি আপনাদের ছেলের মতো, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে আপনাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন। কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিজয় বলেন, ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার খালি করেছে। আমরা ১০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা জনগণের তহবিল থেকে এক পয়সাও নেব না এবং কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না। ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সামাজিক ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীণ চক্রবর্তী, বামদের ‘মা বেবি’ এবং সকল মিত্রকে ধন্যবাদ জানান। তামিলনাড়ুতে তার দলের সরকার গঠন নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী অনিশ্চয়তার পর বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলটি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১১৮ আসনের কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর টিভিকে পাঁচটি আসন থাকা কংগ্রেস ও দুটি করে আসন থাকা সিপিআই ও সিপিআই(এম)-এর সমর্থন লাভ করে। শনিবার পর্যন্ত চলা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অবসান ঘটে সন্ধ্যায়। কারণ দুজন করে বিধায়ক থাকা ভিসিকে ও আইইউএমএল তাকে সমর্থন জানায়। ফলে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা ১২০-এ পৌঁছায়। এখন বিজয়ের সামনে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় আস্থা ভোটে পাস করা। ১৩ মে’র আগেই তাকে নিজের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। সূত্র: এনডিটিভি
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ঘোষণায় চমক দিলেন বিজয়
পশ্চিমবঙ্গে কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী দেয়নি বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নেয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তাকে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে বিজেপি। দেশভাগের পর রাজ্যটিতে সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকা দলটি। তবে মমতার মতো তুখোড় নারী নেতৃত্বকে পরজিত করা বিজেপি রাজ্যে কেন কোনো নারীকে সরকারপ্রধান হিসেবে বেছে নিল না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অবশ্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তার নামও আলোচনায় ছিল। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবারের মুখ্যমন্ত্রী তার কাজে সহায়তার জন্য দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী পেতে পারেন। তাদের মধ্যে একজন নারী থাকবেন এবং আরেকজন পুরুষ। নারী হিসেবেও অগ্নিমিত্রা পালের নাম আলোচনায় ছিল। তালিকায় আরেক নাম ছিল শিলিগুড়ি থেকে বিজয়ী প্রার্থী শংকর ঘোষ। রাজ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখা মমতার বিপরীতে বিজেপি কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিল না—এর জবাবে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা একান্তই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমাদের রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা (শপথ পূববর্তী সংসদের) শুভেন্দু অধিকারী অবশ্যই, এখন তিনিই মুখ্যমন্ত্রী... মানুষের নানা মতামত থাকবে। যদি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে তারা বলবেন যে, পরিবর্তনের জন্য হলেও একজন পুরুষ মন্ত্রীকে বেছে নেওয়া উচিত ছিল। তাই আমার মনে হয়, এমন একজনকে প্রয়োজন যার গত ৩০ বছরের রাজনীতির অভিজ্ঞতা আছে, যিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন... আমার মনে হয় না শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ভালো আর কেউ হতে পারতেন। বিজেপির এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে জবাব পেয়ে গেছেন। তিনি অনেক কথা বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের রায় দিয়েছেন, এবং তার এটা বোঝা উচিত যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি ভারতের সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন, এমনকি তিনি ঈশ্বরও নন। তার সহকর্মীরা, সংসদ সদস্যরা সম্ভবত তাকে ‘মা সারদা’ বলে খুশি করার চেষ্টা করেছেন। মা সারদা আমাদের ঈশ্বর। এবং সম্ভবত তিনি খুব খুশিও হয়েছিলেন। মমতা তাদের থামাতে কখনও চেষ্টা করেননি। তাই তাকে আমার কিছু বলার নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সবকিছু বলে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী কী হওয়া উচিত, সে বিষয়েও কথা বলেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, প্রথমত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে রাজনীতিকরণ করা পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করতে হবে...। দ্বিতীয়ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এখানে পানি নেই, বাসস্থান নেই, শৌচাগার নেই, রাস্তা নেই, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই, তাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তৃতীয়ত কর্মসংস্থান। আমাদের যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেছে, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুই দফার বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধীদল বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহচর শুভেন্দু অধিকারী তার হিন্দুত্ববাদী ও অনুপ্রবেশ-বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে বিজেপির প্রচারাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু। অগ্নিমিত্র পাল ছাড়াও দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়াও তার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জমকালো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গে কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী দেয়নি বিজেপি
মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন যোসেফ (থালাপতি) বিজয়। তার সঙ্গে শপথ নেন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলের আরও ৯ জন মন্ত্রী। শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। রোববার (১০ মে) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সরকার গঠন নিয়ে কয়েক দিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন থালাপতি বিজয়। এর মাধ্যমে রাজ্যে একটি নতুন সরকার গঠিত হলো। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে টিভিকে প্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন টিভিকের আরও ৯ সংসদ সদস্য। তারা হলেন এন. আনন্দ, আধব অর্জুন, ডা. কে. জি. অরুণরাজ, কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ান, পি ভেঙ্কটারমানন, আর. নির্মলকুমার, রাজমোহন, ডা. টি.কে. প্রভু ও সেলভি এস. কীর্তনা। মাত্র দুই বছর আগে গঠিত টিভিকে এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই বড় চমক দেখায়। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় দলটি ১০৮টি আসন জিতে রাজ্যের সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক ধরে চলা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দেয় টিভিকে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন পিছিয়ে থাকায় সরকার গঠনের পথ সহজ ছিল না। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে গত বুধবার তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে দেখা করেন বিজয় এবং সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে তখন তাকে আরও সমর্থন জোগাড়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই (এম), ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থন পাওয়ার পর টিভিকের পক্ষে সমর্থনকারী বিধায়কের সংখ্যা ১২১ জনে পৌঁছায়, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের চেয়ে বেশি। টানা পাঁচ দিনের আলোচনা, গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠক এবং জোট গঠনের জটিল সমীকরণের পর অবশেষে সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার হয়েছে। কংগ্রেসের পাঁচজন, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) দুইজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) (সিপিএম) দুইজন করে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) দুই বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ৫১ বছর বয়সী বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়
পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে হেনস্তা
পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে হেনস্তা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের সমর্থক থেকে শুরু করে ভিন্ন মতের লোকজনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে টেনেহিঁচড়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। জোর করে দেওয়ানো হয় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনে পরোটা বিক্রেতা রাজুকে একদল টানাহেঁচড়া করছে। ওই সময় তার পরনে ছিল কালো টি-শার্ট। একটা পর্যায়ে তার টি-শার্টটিও খুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। ওই সময় রাজুকে ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যায়।  শুভ কর্মকার নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। আরও কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের পর রাজুকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। হামলাকারীদের অভিযোগ, রাজু মন্দিরের পাশে বসে আমিষ জাতীয় খাবার খেয়েছেন। জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছেন। তাদের মতে, রাজুর জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া উচিত ছিল।    বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজু স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি উল্টো জয় বাংলা স্লোগান দেন। এতে তিনি তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন বলে ধারণা হামলাকারীদের। স্থানীয়দের বরাতে জানা য়ায়, ব্যক্তিগতভাবে রাজু রাজনীতিতে সক্রিয় না। তবে তিনি সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলেন। এই রেশ ধরে নির্বাচনের পর তাকে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে যাত্রীবাহী ট্রেনের ভেতর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হলো। 
এবারও নিজের পদ ধরে রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
এবারও নিজের পদ ধরে রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের আসাম রাজ্যে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পথে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। রোববার (১০ মে) বৃহত্তম শহর গুয়াহাটিতে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ফলে দ্বিতীয় বারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে যাচ্ছেন তিনি। রাজ্যের গভর্নর বা রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হিমন্ত শর্মা নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাজ্যপালের সম্মতি মিললে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। নতুন এনডিএ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরেও জোর প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন। আসাম বিজেপির সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া জানান, রোববারই রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবে বিজেপি। তিনি বলেন, আজ বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর এনডিএ বিধায়কদের বৈঠক হবে। পরে আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাব। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি এবং এনডিএর শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। বিজেপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কমলাক্ষ্যা দে পুরকায়স্থ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, আসামের মানুষ চান হিমন্ত বিশ্ব শর্মাই আবার মুখ্যমন্ত্রী হোন। শুধু আসাম নয়, গোটা দেশই তাকে আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির ১২৬ আসনে ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৪ মে প্রকাশিত ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৮২টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ১০২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এ ছাড়া বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) ও আসাম গণপরিষদ (এজিপি) ১০টি করে আসনে জয়ী হয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আসামে এনডিএ জোটের তৃতীয় বারের মতো জয়। রাজ্যটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করেছে বিজেপি। এই বড় জয়ে শুধু বিজেপিই নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে এনডিএ জিতেছে, যেখানে মূল ভোটার ছিলেন অসমীয়া, আদিবাসী ও বাঙালি-হিন্দু জনগোষ্ঠী। শুধু দুটি আসনে তারা হেরেছে। এর মধ্যে একটি পেয়েছে কংগ্রেস এবং অন্যটি তাদের মিত্র রায়জোর দল। ২০১৬ ও ২০২১ সালে দলটি এককভাবে ৬০টি আসন পেয়ে তার মিত্র এজিপি’র সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করেছিল। ২০১৬ সালে বিপিএফ ও ২০২১ সালে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেলের (ইউপিপিএল) সঙ্গে জোট বেঁধে দলটি যথাক্রমে ৮৬ এবং ৭৫ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ঘোষণায় চমক দিলেন বিজয়
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ঘোষণায় চমক দিলেন বিজয়
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মুখ তিনি। সিনেমার অ্যাকশন সিনে যেমন তার চমক থাকে, এবার তেমনই চমক দেখালেন বাস্তব জীবনে। সিনেমার রঙিন পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছেন। দুই বছর আগে দল গঠন করে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন। অবশেষে রোববার (১০ মে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর যোসেফ (থালাপতি) বিজয়। তামিলগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম আদেশেই বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদক সমস্যা মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি হেল্পলাইনসহ বিশেষ বাহিনী গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে পূর্ণ মনোযোগ রাখব। কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সবকিছু ভালো হবে। বিজয় বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে এখন মুখ্যমন্ত্রী। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা চিনি, আমি রাজপরিবার থেকে আসিনি। আমি অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, অনেকেই আমাকে অপমান করেছে। আমি আপনাদের ছেলের মতো, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে আপনাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন। কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিজয় বলেন, ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার খালি করেছে। আমরা ১০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা জনগণের তহবিল থেকে এক পয়সাও নেব না এবং কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না। ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সামাজিক ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীণ চক্রবর্তী, বামদের ‘মা বেবি’ এবং সকল মিত্রকে ধন্যবাদ জানান। তামিলনাড়ুতে তার দলের সরকার গঠন নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী অনিশ্চয়তার পর বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলটি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১১৮ আসনের কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর টিভিকে পাঁচটি আসন থাকা কংগ্রেস ও দুটি করে আসন থাকা সিপিআই ও সিপিআই(এম)-এর সমর্থন লাভ করে। শনিবার পর্যন্ত চলা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অবসান ঘটে সন্ধ্যায়। কারণ দুজন করে বিধায়ক থাকা ভিসিকে ও আইইউএমএল তাকে সমর্থন জানায়। ফলে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা ১২০-এ পৌঁছায়। এখন বিজয়ের সামনে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় আস্থা ভোটে পাস করা। ১৩ মে’র আগেই তাকে নিজের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। সূত্র: এনডিটিভি
পশ্চিমবঙ্গে কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী দেয়নি বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গে কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী দেয়নি বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নেয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তাকে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে বিজেপি। দেশভাগের পর রাজ্যটিতে সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকা দলটি। তবে মমতার মতো তুখোড় নারী নেতৃত্বকে পরজিত করা বিজেপি রাজ্যে কেন কোনো নারীকে সরকারপ্রধান হিসেবে বেছে নিল না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অবশ্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তার নামও আলোচনায় ছিল। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবারের মুখ্যমন্ত্রী তার কাজে সহায়তার জন্য দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী পেতে পারেন। তাদের মধ্যে একজন নারী থাকবেন এবং আরেকজন পুরুষ। নারী হিসেবেও অগ্নিমিত্রা পালের নাম আলোচনায় ছিল। তালিকায় আরেক নাম ছিল শিলিগুড়ি থেকে বিজয়ী প্রার্থী শংকর ঘোষ। রাজ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখা মমতার বিপরীতে বিজেপি কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিল না—এর জবাবে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা একান্তই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমাদের রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা (শপথ পূববর্তী সংসদের) শুভেন্দু অধিকারী অবশ্যই, এখন তিনিই মুখ্যমন্ত্রী... মানুষের নানা মতামত থাকবে। যদি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে তারা বলবেন যে, পরিবর্তনের জন্য হলেও একজন পুরুষ মন্ত্রীকে বেছে নেওয়া উচিত ছিল। তাই আমার মনে হয়, এমন একজনকে প্রয়োজন যার গত ৩০ বছরের রাজনীতির অভিজ্ঞতা আছে, যিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন... আমার মনে হয় না শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ভালো আর কেউ হতে পারতেন। বিজেপির এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে জবাব পেয়ে গেছেন। তিনি অনেক কথা বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের রায় দিয়েছেন, এবং তার এটা বোঝা উচিত যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি ভারতের সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন, এমনকি তিনি ঈশ্বরও নন। তার সহকর্মীরা, সংসদ সদস্যরা সম্ভবত তাকে ‘মা সারদা’ বলে খুশি করার চেষ্টা করেছেন। মা সারদা আমাদের ঈশ্বর। এবং সম্ভবত তিনি খুব খুশিও হয়েছিলেন। মমতা তাদের থামাতে কখনও চেষ্টা করেননি। তাই তাকে আমার কিছু বলার নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সবকিছু বলে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী কী হওয়া উচিত, সে বিষয়েও কথা বলেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, প্রথমত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে রাজনীতিকরণ করা পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করতে হবে...। দ্বিতীয়ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এখানে পানি নেই, বাসস্থান নেই, শৌচাগার নেই, রাস্তা নেই, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই, তাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তৃতীয়ত কর্মসংস্থান। আমাদের যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেছে, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুই দফার বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধীদল বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহচর শুভেন্দু অধিকারী তার হিন্দুত্ববাদী ও অনুপ্রবেশ-বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে বিজেপির প্রচারাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু। অগ্নিমিত্র পাল ছাড়াও দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়াও তার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জমকালো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়।