
ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র জার্মানির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের গুঞ্জন শুনা যাচ্ছিল কয়েকদিন ধরে। এরইমধ্যে জার্মানি থেকে এবার পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার (১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন এই ঘোষণা দিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক দূরত্ব যে চরমে পৌঁছেছে, এই পদক্ষেপকে তারই প্রতিফলন বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি ঘাঁটির অবস্থান জার্মানিতে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩৩ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের এক মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। চ্যান্সেলর মার্জ অভিযোগ করেছিলেন, গত দুই মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যে শান্তি আলোচনা চলছে, সেখানে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমানিত’ করার সুযোগ পাচ্ছে। এই মন্তব্যের কয়েকদিন পর জার্মানি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার কাজ একবারে হবে না। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ইরান যুদ্ধে ইউরোপীয়দের অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প বারবার জার্মানি ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল পরিচালিত ইরান যুদ্ধকে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না।
বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সহায়তার জন্য নিজেদের নৌবাহিনী মোতায়েন না করায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি ঘাঁটির অবস্থান জার্মানিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে জার্মানি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থান। এটি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব বা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।




