বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে নিজেদের সক্ষমতা ও দৃঢ় মনোবলের প্রমাণ দিয়েছে ইরান। কূটনীতি ও কৌশলগতভাবে রীতিমতো ওয়াশিংটনের ঘাম ছুটিয়েছে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী। শেষ পর্যন্ত খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘স্বপ্রণোদিত হয়ে’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, আবার তার মেয়াদ বৃদ্ধি করা এবং সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তান সফরের আগ্রহ প্রকাশ করতে বাধ্য করেছে।
কিন্তু নিজেদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিতে অনড় রয়েছে ইরান। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রধানতম কারণ।
ইরানের এই দৃঢ় মনোবল, সামরিক কৌশল ও পদ্ধতিগত রণনীতি তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। আর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্জ সেটা স্বীকার করেছেন যে, ইউরোপ ও আমেরিকার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ইরান। তিনি বলেন, ইরানিরা খুব দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা করছে। কারণ আমেরিকানদের ইসলামাবাদে টেনে এনে শূন্য হাতে ফেরত পাঠাচ্ছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার মার্সবার্গে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মের্জ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিণতির কথা বিবেচনা করে সংঘাতে জড়িতদের যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান।
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, তেহরান ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই। খুব স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন কোনো কৌশল ছাড়াই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা এই সংঘাতের অবসান ঘটানোকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাতের সমস্যাটা সবসময়ই হলো শুধু ঢুকলেই হবে না, আবার বেরিয়েও আসতে হবে। আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে আমরা খুব যন্ত্রণাদায়কভাবে তা দেখেছি। ইরাকেও আমরা তা দেখেছি। ইরানি নেতৃত্বের দ্বারা বিশেষ করে এই বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) একটা গোটা জাতিকে (যুক্তরাষ্ট্র) অপমানিত করছে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির একাংশে মাইন পাতা রয়েছে। জার্মানি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহায়তার জন্য মাইনসুইপার পাঠানোর প্রস্তাব বহাল রেখেছে, তবে তা কেবল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই।




