ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ইরান ধারণার চেয়েও বেশি শক্তিশালী: জার্মান চ্যান্সেলর

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:০১
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্জ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে নিজেদের সক্ষমতা ও দৃঢ় মনোবলের প্রমাণ দিয়েছে ইরান। কূটনীতি ও কৌশলগতভাবে রীতিমতো ওয়াশিংটনের ঘাম ছুটিয়েছে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী। শেষ পর্যন্ত খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘স্বপ্রণোদিত হয়ে’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, আবার তার মেয়াদ বৃদ্ধি করা এবং সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তান সফরের আগ্রহ প্রকাশ করতে বাধ্য করেছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

কিন্তু নিজেদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিতে অনড় রয়েছে ইরান। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’ শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রধানতম কারণ।

ইরানের এই দৃঢ় মনোবল, সামরিক কৌশল ও পদ্ধতিগত রণনীতি তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। আর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্জ সেটা স্বীকার করেছেন যে, ইউরোপ ও আমেরিকার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ইরান। তিনি বলেন, ইরানিরা খুব দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা করছে। কারণ আমেরিকানদের ইসলামাবাদে টেনে এনে শূন্য হাতে ফেরত পাঠাচ্ছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার মার্সবার্গে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মের্জ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিণতির কথা বিবেচনা করে সংঘাতে জড়িতদের যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান।

জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, তেহরান ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই। খুব স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন কোনো কৌশল ছাড়াই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা এই সংঘাতের অবসান ঘটানোকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাতের সমস্যাটা সবসময়ই হলো শুধু ঢুকলেই হবে না, আবার বেরিয়েও আসতে হবে। আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে আমরা খুব যন্ত্রণাদায়কভাবে তা দেখেছি। ইরাকেও আমরা তা দেখেছি। ইরানি নেতৃত্বের দ্বারা বিশেষ করে এই বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) একটা গোটা জাতিকে (যুক্তরাষ্ট্র) অপমানিত করছে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির একাংশে মাইন পাতা রয়েছে। জার্মানি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহায়তার জন্য মাইনসুইপার পাঠানোর প্রস্তাব বহাল রেখেছে, তবে তা কেবল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই।

বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বললেন পুতিন
রাশিয়ার বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ন্যায়সঙ্গত বলে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে তিনি ইউক্রেনকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে অভিযোগ করেন, দেশটি ন্যাটো জোটের সব ধরনের সহায়তা ও অস্ত্র পাচ্ছে। মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সামরিক কুচকাওয়াজে শত শত সেনাসদস্য ও কয়েকজন বিদেশি নেতার উপস্থিতিতে তিনি এ বক্তব্য দেন। পুতিন বলেন, বিজয়ী প্রজন্মের মহান আত্মত্যাগ চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়োজিত সেনাদের অনুপ্রাণিত করছে। তারা এমন এক আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, যাকে পুরো ন্যাটো জোট অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে। তবুও আমাদের বীররা এগিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে প্রতিবছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করা হয়। এটি দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলোর একটি। এবারের আয়োজনে আগের বছরের তুলনায় সামরিক শক্তির প্রদর্শন ছিল অনেক কম। কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মস্কোর কুচকাওয়াজে কোনো সাঁজোয়া যান বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যায়নি। তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য রেড স্কয়ারে মার্চ করেন। রুশ কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, বর্তমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে এবারের কুচকাওয়াজ ছোট পরিসরে আয়োজন করা হবে। রুশ এমপি ইভজেনি পোপভ বিবিসিকে বলেছেন, আমাদের ট্যাংক এখন ব্যস্ত। তারা যুদ্ধ করছে। রেড স্কয়ারের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজন বেশি। ভাষণের শুরুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন পুতিন। পরে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধকে সেই ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, সামরিক সংবাদদাতা, চিকিৎসক ও শিক্ষকরাও রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। যুদ্ধের কৌশল যেভাবেই বদলাক না কেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে জনগণই। পুতিনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর কামান থেকে একের পর এক গোলা নিক্ষেপ করা হয় এবং সামরিক ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে। পুতিনের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজেন্ডার লুকাশেঙ্কো। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাওসের প্রেসিডেন্ট থংলুন সিসৌলিথ, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ এবং উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোকে কুচকাওয়াজের আগে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে দেখা গেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ৮০তম বার্ষিকীর কুচকাওয়াজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভাসহ ২৭ জন বিশ্বনেতা অংশ নিয়েছিলেন। মস্কোয় কুচকাওয়াজের আগে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাশিয়া ও ইউক্রেন বিজয় দিবস উপলক্ষে তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এর আগে পুতিন ৮-৯ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে ইউক্রেন ৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়। ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেন অভিযান শুরু করে। যা এখনো চলমান। আগ্রাসন চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে।
বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বললেন পুতিন
এবার স্পেন ও ট্রিস্টান দা কুনহায় হান্টাভাইরাস শনাক্ত
বিলাসবহুল প্রমোদতরি থেকে শুরু হওয়া হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এর সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে তৎপর হয়েছেন। এরই মধ্যে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও দুই সন্দেহজনক রোগীর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ থেকে নামার পর এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছেন। আরেক নারী অসুস্থ হন বিমানে এক সংক্রমিত ক্রুজ যাত্রীর পাশে বসার পর। স্পেন ও দক্ষিণ আটলান্টিকের দূরবর্তী দ্বীপ ট্রিস্টান দা কুনহায় ঘটা এই দুটি ঘটনাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘এমভি হন্ডিয়াস’ জাহাজে আক্রান্ত আটজনের তালিকার বাইরে আলাদাভাবে দেখছে। স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের আলিকান্তে প্রদেশের ৩২ বছর বয়সি এক নারীর দেহে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাভিয়ের পাডিলা সাংবাদিকদের জানান, ওই নারী বিমানে অল্প সময়ের জন্য একজন ডাচ নারীর দুই সারি পেছনে বসেছিলেন। ওই ডাচ হন্ডিয়াস বিমানে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২৫ এপ্রিল বিমানটি উড্ডয়নের আগে জোহানেসবার্গে অসুস্থ বোধ করায় ওই নারী ফ্লাইট থেকে নেমে যান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। ব্রিটেনের ট্রিস্টান দা কুনহা দ্বীপে এক ব্রিটিশ ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ করা হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি হন্ডিয়াস জাহাজের একজন যাত্রী ছিলেন। জাহাজটির আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি ও একজন জার্মান নাগরিক ছিলেন। সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া আরও চারজনের মধ্যে দুইজন ব্রিটিশ, একজন ডাচ ও আরেকজন সুইচ নাগরিক। তারা যথাক্রমে নেদার‌ল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইজারল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ রয়েছেন। কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন আটটি ঘটনার মধ্যে ছয়টিতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এই ভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। জাহাজটি থেকে দূরে নতুন সংক্রমণের খবর ভাইরাসটির ব্যাপক বিস্তারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি বেশি নয় এবং ভাইরাসটি সহজে ছড়ায় না। ডব্লিউএইচও’র ভাইরাসজনিত হুমকি বিষয়ক কারিগরি কর্মকর্তা আনাইস লেগান্ড অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এই প্রাদুর্ভাবের গতিপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে অর্থাৎ জাহাজের আরোহী এবং অবতরণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এটি যেভাবে ছড়াচ্ছে বা ছড়াচ্ছে না, তার ওপর নির্ভর করে আমরা সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকিকে কমই বিবেচনা করছি।’ সংস্থাটির মতে, পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে হন্ডিয়াসের প্রাদুর্ভাবটি অ্যান্ডিস ভাইরাসের কারণে ঘটেছে। এই ভাইরাসটিই একমাত্র হান্টাভাইরাস প্রজাতি যা ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে সীমিত আকারে ছড়াতে সক্ষম বলে জানা যায়। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গত সপ্তাহের শুরুতে জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কয়েকটি ঘটনা প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানানো হয়। তখন জাহাজটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ও নাবিক ছিলেন। ততক্ষণে আরও ৩৪ জন যাত্রী জাহাজটি থেকে নেমে গিয়েছিলেন। জাহাজটি মার্চ মাসে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং অ্যান্টার্কটিকা ও অন্যান্য স্থানে থেমে আফ্রিকার পশ্চিমে কেপ ভার্দের উপকূলীয় জলসীমার দিকে উত্তর দিকে রওনা হয়েছিল। প্রাদুর্ভাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাহাজটিকে সেখানে অল্প সময়ের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল।
এবার স্পেন ও ট্রিস্টান দা কুনহায় হান্টাভাইরাস শনাক্ত
যুদ্ধবিরতির আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ২৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই হতাহতের ঘটনা ঘটলো কিয়েভে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এবং মস্কোর পরিকল্পিত যুদ্ধবিরতির তিনদিন আগে। এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে রাশিয়ার ভারী গ্লাইড বোমা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ক্রামাতোরস্ক, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভে আঘাত হেনেছে। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান মতে, শুধু জাপোরিঝিয়াতেই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি আহত হয়েছেন।  ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেরহি কোরেৎস্কি বলেছেন, রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিনজন কর্মচারী ও দুইজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এটি ছিল ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত একটি হামলা। এই হামলার ফলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, সংঘাতপূর্ণ দোনেৎস্ক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ কেন্দ্র ক্রামাতোরস্কে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরে তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের শহর দনিপ্রোতেও রাশিয়ার এক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। জেলেনস্কি এক্সে বলেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে তার দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ ‘চরম ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছে। রাশিয়া যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি করতে পারে, এবং এর ফলে যুদ্ধ ও আমাদের পাল্টা জবাব থেমে যাবে। শান্তি প্রয়োজন এবং তা অর্জনের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ইউক্রেনও এর প্রতিদান দেবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন মঙ্গলবার শেষভাগ থেকে একটি যুদ্ধবিরতি পালন করবে এবং সেই মুহূর্ত থেকে রাশিয়ার পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেবে। তবে তিনি এর কোনো শেষ তারিখ উল্লেখ করেননি। এর একদিন আগে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে শুক্রবার ও শনিবারের জন্য ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়া দেশটিতে ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬৪টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা আরও জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তবে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪টি ড্রোন ১৪টি স্থানে আঘাত হেনেছে।
যুদ্ধবিরতির আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ২৬
নাৎসি স্লোগান লেখা কুড়ালের আঘাতে ডাচ রাজকন্যাদের হত্যাচেষ্টা
নাৎসি স্লোগান ও রাজপরিবারের সদস্যদের নাম খোদাই করা কুড়ালের আঘাতে দুই ডাচ রাজকন্যাকে হত্যাচেষ্টায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে নেদারল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডাচ সিংহাসনের উত্তরসূরি রাজকন্যা ক্যাথরিনা-আামালিয়া এবং তার বোন রাজকন্যা আলেক্সিয়ার ওপর হামলার প্রস্তুতিকালে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ৩৩ বছর বয়সি ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি রাজকন্যাদের লক্ষ্য করে একটি ‘রক্তগঙ্গা’ বইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এই পরিকল্পনা কার্যকর করার আগে পুলিশ তাকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।  সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু আশ্চর্যজনক আলামত উদ্ধার করেছে গোয়েন্দারা। দ্য হেগের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। কুড়াল দুটিতে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে খোদাই করে লেখা ছিল রাজকন্যা ‘আলেক্সিয়া’ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর নাম। এ ছাড়া সেখানে নাৎসি আমলের কুখ্যাত স্লোগান ‘সিগ হেইল’ খোদাই করা ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছে একটি হাতে লেখা চিরকুটও পাওয়া যায়। সেখানে বড় রাজকন্যা আমালিয়া ও ছোট রাজকন্যা আলেক্সিয়ার নামের পাশাপাশি ইংরেজিতে ‘ব্লাডবাথ’ বা রক্তগঙ্গা কথাটি লেখা ছিল। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ রাজপরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তবে এবারের এই নাৎসি স্লোগানসংবলিত অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি পুরো ইউরোপে উগ্র ডানপন্থিদের উত্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।  সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা বের করা যায়। এ ঘটনার পর রাজকন্যাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
নাৎসি স্লোগান লেখা কুড়ালের আঘাতে ডাচ রাজকন্যাদের হত্যাচেষ্টা
জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার, দুশ্চিন্তায় ন্যাটো
ইউরোপের নিরাপত্তা বলয় থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার পথে আরও এগিয়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা সরানোর পরিকল্পনা করলেও, ট্রাম্প এখন তা ‘বিশাল আকারে’ কমিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন জার্মানির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের তোপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ সৈন্য প্রত্যাহার তো কেবল শুরু, সামনে এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।  মূলত ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের, বিশেষ করে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জের অসহযোগিতায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বন্দ্বের আরও একটি কারণ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি না মানার অভিযোগ এনছেন ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহ থেকে ইইউতে তৈরি গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই পদক্ষেপ জার্মানির মতো বড় গাড়ি নির্মাতা দেশের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর হবে। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই ঘোষণাকে কিছুটা স্বাভাবিকভাবে নিলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য থাকা উভয়ের জন্যই লাভজনক। এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।  ন্যাটোর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে মিত্র দেশগুলোকে এখন তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতারাও অসন্তুষ্ট। তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে জার্মানি থেকে সেনা সরানো মানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভুল বার্তা দেওয়া। ইরান যুদ্ধে জার্মানি তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন তারা। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রথম ধাপের প্রত্যাহার শুরু হবে। পেন্টাগনের মতে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কার্যকর হবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। ট্রাম্প এর আগে তার প্রথম মেয়াদে সাড়ে নয় হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলেছিলেন, কিন্তু তিনি তা শুরু করেননি। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর তা স্থগিত করেছিলেন। বর্তমানে পুরো ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র এই সংখ্যা বাড়িয়েছিল। তবে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর ঠিক কত হাজার সৈন্য শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি পেন্টাগনের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে। সূত্র: আরব নিউজ
জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার, দুশ্চিন্তায় ন্যাটো
বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বললেন পুতিন
বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বললেন পুতিন
রাশিয়ার বিজয় দিবসের ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধকে ন্যায়সঙ্গত বলে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে তিনি ইউক্রেনকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে অভিযোগ করেন, দেশটি ন্যাটো জোটের সব ধরনের সহায়তা ও অস্ত্র পাচ্ছে। মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সামরিক কুচকাওয়াজে শত শত সেনাসদস্য ও কয়েকজন বিদেশি নেতার উপস্থিতিতে তিনি এ বক্তব্য দেন। পুতিন বলেন, বিজয়ী প্রজন্মের মহান আত্মত্যাগ চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়োজিত সেনাদের অনুপ্রাণিত করছে। তারা এমন এক আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, যাকে পুরো ন্যাটো জোট অস্ত্র ও সমর্থন দিচ্ছে। তবুও আমাদের বীররা এগিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে প্রতিবছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করা হয়। এটি দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলোর একটি। এবারের আয়োজনে আগের বছরের তুলনায় সামরিক শক্তির প্রদর্শন ছিল অনেক কম। কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মস্কোর কুচকাওয়াজে কোনো সাঁজোয়া যান বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যায়নি। তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য রেড স্কয়ারে মার্চ করেন। রুশ কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, বর্তমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে এবারের কুচকাওয়াজ ছোট পরিসরে আয়োজন করা হবে। রুশ এমপি ইভজেনি পোপভ বিবিসিকে বলেছেন, আমাদের ট্যাংক এখন ব্যস্ত। তারা যুদ্ধ করছে। রেড স্কয়ারের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজন বেশি। ভাষণের শুরুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করেন পুতিন। পরে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধকে সেই ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, সামরিক সংবাদদাতা, চিকিৎসক ও শিক্ষকরাও রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। যুদ্ধের কৌশল যেভাবেই বদলাক না কেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করছে জনগণই। পুতিনের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর কামান থেকে একের পর এক গোলা নিক্ষেপ করা হয় এবং সামরিক ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে। পুতিনের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজেন্ডার লুকাশেঙ্কো। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লাওসের প্রেসিডেন্ট থংলুন সিসৌলিথ, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ এবং উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোকে কুচকাওয়াজের আগে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে দেখা গেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ৮০তম বার্ষিকীর কুচকাওয়াজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভাসহ ২৭ জন বিশ্বনেতা অংশ নিয়েছিলেন। মস্কোয় কুচকাওয়াজের আগে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাশিয়া ও ইউক্রেন বিজয় দিবস উপলক্ষে তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এর আগে পুতিন ৮-৯ মে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে ইউক্রেন ৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়। ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেন অভিযান শুরু করে। যা এখনো চলমান। আগ্রাসন চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে।
এবার স্পেন ও ট্রিস্টান দা কুনহায় হান্টাভাইরাস শনাক্ত
এবার স্পেন ও ট্রিস্টান দা কুনহায় হান্টাভাইরাস শনাক্ত
বিলাসবহুল প্রমোদতরি থেকে শুরু হওয়া হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ দেখা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এর সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে তৎপর হয়েছেন। এরই মধ্যে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও দুই সন্দেহজনক রোগীর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ থেকে নামার পর এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছেন। আরেক নারী অসুস্থ হন বিমানে এক সংক্রমিত ক্রুজ যাত্রীর পাশে বসার পর। স্পেন ও দক্ষিণ আটলান্টিকের দূরবর্তী দ্বীপ ট্রিস্টান দা কুনহায় ঘটা এই দুটি ঘটনাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘এমভি হন্ডিয়াস’ জাহাজে আক্রান্ত আটজনের তালিকার বাইরে আলাদাভাবে দেখছে। স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের আলিকান্তে প্রদেশের ৩২ বছর বয়সি এক নারীর দেহে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাভিয়ের পাডিলা সাংবাদিকদের জানান, ওই নারী বিমানে অল্প সময়ের জন্য একজন ডাচ নারীর দুই সারি পেছনে বসেছিলেন। ওই ডাচ হন্ডিয়াস বিমানে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২৫ এপ্রিল বিমানটি উড্ডয়নের আগে জোহানেসবার্গে অসুস্থ বোধ করায় ওই নারী ফ্লাইট থেকে নেমে যান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান। ব্রিটেনের ট্রিস্টান দা কুনহা দ্বীপে এক ব্রিটিশ ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ করা হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি হন্ডিয়াস জাহাজের একজন যাত্রী ছিলেন। জাহাজটির আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি ও একজন জার্মান নাগরিক ছিলেন। সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া আরও চারজনের মধ্যে দুইজন ব্রিটিশ, একজন ডাচ ও আরেকজন সুইচ নাগরিক। তারা যথাক্রমে নেদার‌ল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইজারল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীণ রয়েছেন। কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন আটটি ঘটনার মধ্যে ছয়টিতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এই ভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। জাহাজটি থেকে দূরে নতুন সংক্রমণের খবর ভাইরাসটির ব্যাপক বিস্তারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি বেশি নয় এবং ভাইরাসটি সহজে ছড়ায় না। ডব্লিউএইচও’র ভাইরাসজনিত হুমকি বিষয়ক কারিগরি কর্মকর্তা আনাইস লেগান্ড অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এই প্রাদুর্ভাবের গতিপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে অর্থাৎ জাহাজের আরোহী এবং অবতরণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এটি যেভাবে ছড়াচ্ছে বা ছড়াচ্ছে না, তার ওপর নির্ভর করে আমরা সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকিকে কমই বিবেচনা করছি।’ সংস্থাটির মতে, পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে হন্ডিয়াসের প্রাদুর্ভাবটি অ্যান্ডিস ভাইরাসের কারণে ঘটেছে। এই ভাইরাসটিই একমাত্র হান্টাভাইরাস প্রজাতি যা ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে সীমিত আকারে ছড়াতে সক্ষম বলে জানা যায়। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গত সপ্তাহের শুরুতে জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতার কয়েকটি ঘটনা প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানানো হয়। তখন জাহাজটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ও নাবিক ছিলেন। ততক্ষণে আরও ৩৪ জন যাত্রী জাহাজটি থেকে নেমে গিয়েছিলেন। জাহাজটি মার্চ মাসে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং অ্যান্টার্কটিকা ও অন্যান্য স্থানে থেমে আফ্রিকার পশ্চিমে কেপ ভার্দের উপকূলীয় জলসীমার দিকে উত্তর দিকে রওনা হয়েছিল। প্রাদুর্ভাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জাহাজটিকে সেখানে অল্প সময়ের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতির আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ২৬
যুদ্ধবিরতির আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ২৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই হতাহতের ঘটনা ঘটলো কিয়েভে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এবং মস্কোর পরিকল্পিত যুদ্ধবিরতির তিনদিন আগে। এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে রাশিয়ার ভারী গ্লাইড বোমা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ক্রামাতোরস্ক, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভে আঘাত হেনেছে। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান মতে, শুধু জাপোরিঝিয়াতেই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি আহত হয়েছেন।  ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেরহি কোরেৎস্কি বলেছেন, রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিনজন কর্মচারী ও দুইজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এটি ছিল ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত একটি হামলা। এই হামলার ফলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, সংঘাতপূর্ণ দোনেৎস্ক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ কেন্দ্র ক্রামাতোরস্কে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরে তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের শহর দনিপ্রোতেও রাশিয়ার এক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। জেলেনস্কি এক্সে বলেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে তার দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ ‘চরম ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছে। রাশিয়া যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি করতে পারে, এবং এর ফলে যুদ্ধ ও আমাদের পাল্টা জবাব থেমে যাবে। শান্তি প্রয়োজন এবং তা অর্জনের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ইউক্রেনও এর প্রতিদান দেবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন মঙ্গলবার শেষভাগ থেকে একটি যুদ্ধবিরতি পালন করবে এবং সেই মুহূর্ত থেকে রাশিয়ার পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেবে। তবে তিনি এর কোনো শেষ তারিখ উল্লেখ করেননি। এর একদিন আগে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে শুক্রবার ও শনিবারের জন্য ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়া দেশটিতে ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬৪টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা আরও জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তবে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪টি ড্রোন ১৪টি স্থানে আঘাত হেনেছে।
নাৎসি স্লোগান লেখা কুড়ালের আঘাতে ডাচ রাজকন্যাদের হত্যাচেষ্টা
নাৎসি স্লোগান লেখা কুড়ালের আঘাতে ডাচ রাজকন্যাদের হত্যাচেষ্টা
নাৎসি স্লোগান ও রাজপরিবারের সদস্যদের নাম খোদাই করা কুড়ালের আঘাতে দুই ডাচ রাজকন্যাকে হত্যাচেষ্টায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে নেদারল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডাচ সিংহাসনের উত্তরসূরি রাজকন্যা ক্যাথরিনা-আামালিয়া এবং তার বোন রাজকন্যা আলেক্সিয়ার ওপর হামলার প্রস্তুতিকালে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ৩৩ বছর বয়সি ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি রাজকন্যাদের লক্ষ্য করে একটি ‘রক্তগঙ্গা’ বইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এই পরিকল্পনা কার্যকর করার আগে পুলিশ তাকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।  সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু আশ্চর্যজনক আলামত উদ্ধার করেছে গোয়েন্দারা। দ্য হেগের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে দুটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। কুড়াল দুটিতে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে খোদাই করে লেখা ছিল রাজকন্যা ‘আলেক্সিয়া’ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর নাম। এ ছাড়া সেখানে নাৎসি আমলের কুখ্যাত স্লোগান ‘সিগ হেইল’ খোদাই করা ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছে একটি হাতে লেখা চিরকুটও পাওয়া যায়। সেখানে বড় রাজকন্যা আমালিয়া ও ছোট রাজকন্যা আলেক্সিয়ার নামের পাশাপাশি ইংরেজিতে ‘ব্লাডবাথ’ বা রক্তগঙ্গা কথাটি লেখা ছিল। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাচ রাজপরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তবে এবারের এই নাৎসি স্লোগানসংবলিত অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি পুরো ইউরোপে উগ্র ডানপন্থিদের উত্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।  সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা বের করা যায়। এ ঘটনার পর রাজকন্যাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।