পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে চূড়ান্ত যাত্রা শুরু করেছে নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মহাকাশযানটির শক্তিশালী থ্রাস্টার ইঞ্জিন সফলভাবে চালু করার মাধ্যমে চার নভোচারীকে নিয়ে ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখল নাসা। মানববাহী কোনো মহাকাশযান এর আগে মহাকাশের এত দূরত্বে কখনো পৌঁছাতে পারেনি।
সফল থ্রাস্টার ম্যানুভার বা কৌশলগত পরিচালনার ফলে ওরিয়ন এখন নির্ধারিত গতিতে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) সকালের মধ্যেই নভোচারীরা চাঁদের মহাকর্ষীয় সীমানায় প্রবেশ করবেন।
এর মাধ্যমেই ভেঙে যাবে ১৯৭০ সালে 'অ্যাপোলো ১৩' মিশনে নভোচারীদের গড়া পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে যাওয়ার রেকর্ডটি। বর্তমানে মহাকাশযানটি একটি বিশেষ 'ফিগার-এইট' (ইংরেজি ৮ আকৃতির) কক্ষপথে এগোচ্ছে, যা মূলত মহাজাগতিক গতিবিদ্যার ওপর ভর করে বাকি পথ পাড়ি দেবে।
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর অভূতপূর্ব দৃশ্য
থ্রাস্টার চালু করার মাত্র ১০ মিনিট পরেই কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন আবেগপ্লুত কণ্ঠে মিশন কন্ট্রোলকে জানান, ‘চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর অন্ধকার অংশের এক অপূর্ব দৃশ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। এটি সত্যিই অসাধারণ।’
অন্যদিকে, মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ হাজার মাইল দূর থেকে আইফোনের লেন্সে বন্দি করছেন মহাজাগতিক সব দৃশ্য। তার ভাষ্যমতে, ‘এখান থেকে পৃথিবীর ছবি তোলা অনেকটা নিজের বাড়ির আঙিনা থেকে চাঁদের ছবি তোলার মতো সহজ মনে হচ্ছে।’
ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর গত ২৬ ঘণ্টায় নভোচারীরা মূলত ক্যামেরা পরীক্ষা এবং যান পরিচালনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তবে যাত্রার শুরুতে কিছু ছোটখাটো কারিগরি জটিলতাও দেখা দেয়। কমান্ডার ওয়াইজম্যান শুরুতে ইমেল চেক করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হলেও মিশন কন্ট্রোলের সহায়তায় তা দ্রুত সমাধান করা হয়। এছাড়া ওরিয়নের টয়লেটে যান্ত্রিক ত্রুটির সংকেত (লাল বাতি) দেখা দিলে প্রকৌশলীরা দ্রুত পৃথিবী থেকেই প্রয়োজনীয় মেরামতের নির্দেশনা দেন।
এবারের মিশনে মহাজাগতিক দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণে বৈচিত্র্য এনেছে নাসা। পেশাদার নিকন ক্যামেরার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে গো প্রো ক্যামেরা আইফোন। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের বিশেষ নির্দেশনায় এই অত্যাধুনিক গ্যাজেটগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, মিশনের ষষ্ঠ দিনে যখন ওরিয়ন পৃথিবী থেকে প্রায় দুই লাখ ৫২ হাজার মাইল দূরে পৌঁছাবে, তখন ঐতিহাসিক আর্থরাইজের হাই ডেফিনিশন (এইচডি) ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হবে।
মিশনের ষষ্ঠ দিনে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দূরতম বিন্দুতে পৌঁছাবে, যেখান থেকে পৃথিবীটিকে একটি বাস্কেটবলের সমান দেখাবে। এই ঐতিহাসিক অভিযানের সাফল্য ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি স্থাপনের পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।




