পরবর্তী প্রজন্মের রোবটগুলো কী কী করতে পারবে? হংকংয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে এই প্রশ্নেরই উত্তর দিচ্ছে আধুনিক সব যন্ত্রমানব। মানুষের মতো দেখতে এই ‘হিউম্যানয়েড’ রোবটগুলো শুধু গান গাইছে বা নাচছেই না, তারা শিক্ষকতা থেকে শুরু করে বক্সিং লড়াইয়েও নিজেদের পারদর্শিতা দেখাচ্ছে।
হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া ওই প্রদর্শনীতে ১০০টিরও বেশি রোবট প্রদর্শন করা হয়। এরমধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এজিআইবটের ‘এক্স২ আল্ট্রা’ রোবটটি। শিশুদের সমান উচ্চতার এই রোবটটি মান্দারিন ও ইংরেজি উভয় ভাষায়ই দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেছে। এমনকি রোবটটিকে তার শখ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে উল্লেখ করে—খেলাধুলা, নাচ, প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা ও গান শোনা তার পছন্দ।
নভোটেক অটোনোমাস ড্রাইভিংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার কেলভিন চিউ বলেন, ‘এই রোবটগুলো আপাতত কথোপকথনের মাধ্যমে মানুষকে আবেগীয় তৃপ্তি দিতে পারে। এগুলো বয়স্ক বা শিশুদের শিক্ষক হিসেবেও কাজ করতে পারবে। প্রতিটি রোবটকে আলাদা ব্যক্তিত্ব দিয়ে প্রোগ্রাম করা সম্ভব, যা তাদের একজন বন্ধুর মতো করে তুলবে।’
রোবট শিল্পে চীন
রোবোটিক্স প্রযুক্তিতে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। চীনের ২০২৬-২০৩০ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে ১৪০টিরও বেশি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং ৩৩০টিরও বেশি মডেলের রোবট রয়েছে।
প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা ওমডিয়ার মতে, চীনের এজিআইবট, ইউনিট্রিম এবং ইউবিটেক বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ভেন্ডর। গত বছর এই প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে হাজার হাজার রোবট সরবরাহ করেছে।
বিচিত্র ব্যবহার ও শারীরিক কসরত
প্রদর্শনীতে কেবল কথা বলা নয়, রোবটদের বিচিত্র সব কাজ করতে দেখা গেছে। কেউ বক্সিং করছে, কেউ বালু দিয়ে ছবি আঁকছে, আবার কেউ ডিগবাজি দিচ্ছে। নিরাপত্তা টহলের জন্য বিশেষ কিছু রোবটকে জাল ছুড়ে অপরাধী ধরার মহড়াও দিতে দেখা গেছে।
শেনজেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনএআইয়ের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি অফিসার রবার্ট চ্যান জানান, চীন বর্তমানে অত্যন্ত সাশ্রয়ী প্রকৌশল সুবিধার কারণে এই খাতে এগিয়ে আছে। তাদের প্রতিষ্ঠানের রোবটগুলো মানুষের মতোই চলাফেরা করতে সক্ষম।
রোবোটিক্সের পরবর্তী লক্ষ্য, এদের অবয়ব আরও বেশি মানুষের মতো করে তোলা। প্রদর্শনীতে শেনজেন ডিএক্স ইনটেক এমন কিছু রোবট দেখিয়েছে, যারা দেখতে হুবহু মানুষের মতো। সিনথেটিক ত্বক ও নিখুঁত ফেশিয়াল এক্সপ্রেশন আছে, এ ধরনের রোবটগুলো বর্তমানে চীনের বিভিন্ন জাদুঘর ও সরকারি দপ্তরে গাইড হিসেবে কাজ করছে।
প্রদর্শনীতে আসা মালয়েশিয়ান পর্যটক রাসেল লুপাং বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এগুলো দেখতে খুবই সুন্দর, কিন্তু এখনও ঠিক মানুষের মতো বাস্তব মনে হয় না।’
তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে, শিগগিরই এই রোবটগুলো মানুষের আবেগ বুঝতে পারবে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে দক্ষ হয়ে উঠবে।




