কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করলেও একইসঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমে এআই একীভূত করার ফলে এসব ঝুঁকি ক্রমেই জটিল ও শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে করপোরেট অগ্রাধিকারের শীর্ষে উঠে এসেছে সাইবার নিরাপত্তা, আর এই খাতে ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ফলে বড় ধরনের বাজার উন্মোচিত হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারীদের জন্য। বর্তমানে এই বাজারের আকার অন্তত ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ২৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
এজেন্টিক এআই বিষয়ে জার্মানিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্ট্যাটিস্টার এক শ্বেতপত্র বলছে, ২০২০ সালের সাইবার নিরাপত্তার বৈশ্বিক বাজার থেকে নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় হয়েছিল ১২০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে সেই বেড়ে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এটি প্রায় ২৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ওই শ্বেতপত্রে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত শ্বেতপত্রটিতে দেশভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ৮৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এর পরেই রয়েছে চীন, যার বাজার আকার প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ইউরোপের প্রধান অর্থনীতিগুলো যেমন—যুক্তরাজ্য ও জার্মানি তুলনামূলক ছোট হলেও ধারাবাহিকভাবে এই প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশকিছু বড় ধরনের সাইবার হামলা এবং ডিজিটালাইজেশন ও এআই ব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকি। ২০২৫ সালে এক বিশাল ডাটা ফাঁসে ১৬ বিলিয়ন লগইন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ডাটা লিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ডিজিটাল ব্যবস্থার দুর্বলতার ব্যাপকতা তুলে ধরেছে।
এদিকে জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান নতুন ধরনের হুমকিও তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ফিশিং, ডিপফেইকভিত্তিক প্রতারণা এবং এআই-সহায়ীত হ্যাকিং। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।
সাইবার নিরাপত্তা মোকাবিলায় যেসব খাত বিনিয়োগ করছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আর্থিক খাত। এরপরেই রয়েছে প্রযুক্তি, মিডিয়া ও টেলিযোগাযোগ খাত। এ ছাড়াও আরও রয়েছে অ্যারোস্পেস ও ডিফেন্স, কনজিউমার প্রোডাক্টস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও শক্তি এবং সরকারি খাত।




