আট হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট। কর্মীদেরকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সুযোগ দিয়ে কর্মী হ্রাসের এই পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যানের এক চিঠির সূত্রে প্রতিবেদনটি করে ব্লুমবার্গ। একই দিন কর্মীদের উদ্দেশে চিঠি দিয়েছিলেন কোলম্যান।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে থেকে ৭ শতাংশ কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটে এক লাখ ২৫ হাজার কর্মী ছিল। সেই হিসেবে অন্তত আট হাজার ৭৫০ জন কর্মী মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রভাবিত হবেন। তবে মাইক্রোসফট কর্মীদেরকে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দেবে।
এত বড় পরিসরে আগে কখনও স্বেচ্ছা অবসরের প্রস্তাব দেয়নি মাইক্রোসফট। কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিতে কোলম্যান লেখেন, আমাদের আশা, এই কর্মসূচি যোগ্য কর্মীদের নিজেদের শর্তে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে, যেখানে কোম্পানির পক্ষ থেকে উদার সহায়তা থাকবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের চাপ সামাল দিতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ব্যয় সংকোচনের পথ খুঁজছে। এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করায় খরচ কমাতে কর্মী সংখ্যা কমানো এখন সাধারণ কৌশলে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের শুরু থেকে একাধিক ধাপে বড় আকারে ছাঁটাইও করেছে মাইক্রোসফট।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এআই অবকাঠামো নির্মাণে জোর দিচ্ছে মাইক্রোসফট। বিশ্বজুড়ে ডাটা সেন্টার নির্মাণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রেলিয়ায় এআই ক্লাউড ও অবকাঠামো খাতে ১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে—যা দেশটিতে তাদের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ।
এর আগে জাপানে চার বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কোম্পানিটি। ইতোমধ্যে নরওয়ে এবং সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বব্যাপী এআই ডাটা সেন্টার এবং ক্লাউড তৈরিতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট।




