ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার : কিছু সাধারণ ভুল জানুন

অনলাইন ডেস্ক
  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৬
স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারে কিছু অভ্যাস বদলে ফেলা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

আজকের সময়ে স্মার্ট ডিভাইস আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, স্মার্ট ওয়াচ - এগুলো আমাদের কাজ সহজ করে, যোগাযোগকে দ্রুত করে এবং বিনোদন দেয়।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

কিন্তু আমরা প্রায়ই এগুলো ব্যবহার করার সময় কিছু সাধারণ ভুল করি। এই ভুলগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য, সময় ব্যবস্থার জন্য এবং নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বেশি সময় ফোন বা স্ক্রিনের সামনে থাকা : অনেকেই মনে করেন ফোন বা ট্যাবলেট হাতে থাকলে সময় ভালো কাটে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া চেক করা, ভিডিও দেখা বা গেম খেলার কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকার ফলে চোখের ক্লান্তি, মাথা ব্যথা এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছোট ছোট বিরতি না নেওয়া মানে চোখ এবং মস্তিষ্কের জন্য বিরাট চাপ।

চার্জার ও ব্যাটারি ব্যবহারে অবহেলা : অনেকেই সস্তা বা অপ্রামাণিক চার্জার ব্যবহার করে। আবার ফোন চার্জিংয়ে রেখে ঘুমিয়ে যায়। এর ফলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়। কিছু ক্ষেত্রে ফোনের ক্ষতি পর্যন্ত হতে পারে। তাই সব সময় অফিসিয়াল চার্জার ব্যবহার করা এবং রাতভর চার্জিং এড়িয়ে চলা ভালো।

নিরাপত্তা বিষয়ক অবহেলা : অনেক সময় আমরা সহজ পাসওয়ার্ড বা পিন ব্যবহার করি। কেউ কেউ পাবলিক ওয়াই-ফাইতে সংযোগ করতে ভয় পায় না। এই ধরনের অবহেলা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শক্ত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, দুই ধাপের ভেরিফিকেশন চালু রাখা এবং অজানা ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

ডিভাইসের যত্ন না নেওয়া : অনেক সময় ফোন বা ল্যাপটপ রুক্ষভাবে ব্যবহার করা হয়। স্ক্রিন খোলা, ডিভাইস ফেলে দেওয়া, বা কভার ছাড়া ব্যবহার করা ডিভাইসকে দ্রুত নষ্ট করে। স্ক্রিন প্রোটেক্টর এবং কভার ব্যবহার করলে ডিভাইস দীর্ঘস্থায়ী হয়। নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি।

সফটওয়্যার আপডেট এড়িয়ে চলা : অনেকেই আপডেট ইনস্টল করতে চান না। কিন্তু সফটওয়্যার আপডেট নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন আপডেট ভাইরাস, হ্যাকার বা বাগ থেকে রক্ষা করে। তাই সময়মতো সব ডিভাইস আপডেট করা উচিত।

চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ : ডিভাইস দীর্ঘ সময় চোখের কাছে রাখা, অন্ধকারে ব্যবহার করা বা ছোট ফন্টে লেখা পড়া চোখের জন্য খারাপ। এটি চোখের ক্লান্তি, ধোঁয়া দেখা এবং মাথা ব্যথার কারণ হয়। প্রতি ২০-৩০ মিনিট পর পর চোখকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত।

ব্যক্তিগত সময় না রাখা : স্মার্ট ডিভাইস আমাদের কাজে সহায়ক হলেও, অনেক সময় আমরা ব্যক্তিগত জীবনেও অতিরিক্ত ফোনে সময় দেই। পরিবার, বন্ধু বা নিজের জন্য সময় কমে যায়। সময়মতো ফোন রাখা এবং ডিভাইস ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

স্মার্ট ডিভাইস আমাদের জীবনকে সহজ ও মজাদার করে তোলে। তবে সঠিক ব্যবহার না করলে সমস্যা বাড়ে। তাই ছোট ছোট অভ্যাস বদলাতে হবে।

চোখের যত্ন নেওয়া, সময়মতো বিরতি দেওয়া, নিরাপত্তা মানা এবং ডিভাইসের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে আমরা স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করেও সুস্থ, নিরাপদ এবং সময়োপযোগী থাকতে পারি।

এআই কি আমাদের চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে
চ্যাটজিপিটি, ক্লদ বা জেমিনির (ChatGPT, Claude বা Gemini) মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কেউ লেখালেখির জন্য ব্যবহার করছেন, তো কেউ তথ্য খোঁজার জন্য; আবার কেউ কাজ দ্রুত শেষ করতে এর সাহায্য নিচ্ছেন। তবে নতুন কিছু গবেষণা বলছে, অতিরিক্তভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভর করলে মানুষের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি সবসময়ই মানুষের অভ্যাস বদলেছে। যেমন আগে মানুষ পথ চিনতে নিজের স্মৃতির ওপর নির্ভর করত; কিন্তু এখন অনেকেই গুগল ম্যাপস (Google Maps) ছাড়া কোথাও যেতেও স্বস্তি পান না। একইভাবে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে মানুষ আগের মতো তথ্য মনে রাখে না। গবেষকরা বলছেন, এআই আরও বড় মাত্রায় সেই নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। অ্যাডাম গ্রিন নামের এক স্নায়ুবিজ্ঞানী বলেন, ‘যখন আমরা নিজেরা চিন্তা করার বদলে এআইকে কাজটা করতে দিই, তখন ধীরে ধীরে সেই মানসিক দক্ষতা কমে যেতে পারে।’  তার মতে, কঠিন চিন্তা, ভুল করা, আবার নতুনভাবে চেষ্টা করা— এসবই মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে। যদি সব কাজ এআই করে দেয়, তাহলে মস্তিষ্কের সেই ‘ব্যায়াম’ আর হয় না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা বেশি এআই ব্যবহার করেন তারা অনেক সময় এআইয়ের উত্তরকে নিজের বিচারবুদ্ধির চেয়েও বেশি বিশ্বাস করেন, এমনকি সেটি ভুল হলেও। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বলে উল্লেখ করছেন। তবে সব গবেষকই বলছেন না যে এআই পুরোপুরি খারাপ। জ্যারেড বেঞ্জ-এর মতে, বিষয়টি নির্ভর করে মানুষ কীভাবে এআই ব্যবহার করছে তার ওপর। যদি এটি সাধারণ বা সময়সাপেক্ষ কাজ সহজ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার জন্য সময় তৈরি করে, তাহলে সেটি উপকারীও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ উপায়ও জানিয়েছেন, যাতে এআই ব্যবহার করেও নিজের চিন্তাশক্তি সক্রিয় রাখা যায়। কোনো বিষয়ে এআইয়ের উত্তর দেখার আগে নিজের মতো করে ভাবার চেষ্টা করতে হবে। এতে এআই আপনার চিন্তাকে যাচাই করতে সাহায্য করবে, পুরোপুরি বদলে দেবে না। কিছু কাজ ইচ্ছা করেই ধীরে করা ভালো। যেমন দীর্ঘ লেখা নিজে পড়ে বোঝা, নোট নেওয়া বা কোনো সমস্যার সমাধান নিজে ভাবার চেষ্টা করা। কারণ এই মানসিক পরিশ্রমই স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহার করে তৈরি ধারণাগুলো অনেক সময় কম মৌলিক হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে নিজের আইডিয়া লিখে রাখা ভালো, তারপর সেটি উন্নত করতে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে। মনোযোগ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এখন মানুষ দ্রুত উত্তর পেতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে, ফলে ধৈর্য কমছে। তাই মাঝেমধ্যে কঠিন কিছু নিজে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করা প্রয়োজন। সবশেষে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রযুক্তি বদলাবে, কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতা, অনুভূতি ও নতুনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা ভালো, তবে নিজের মস্তিষ্ককে পুরোপুরি তার হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। সূত্র: বিবিসি
এআই কি আমাদের চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে
ডিআরইউতে এআই প্রশিক্ষণ / প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যস্ত সংবাদকর্মীরা
সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার ও দক্ষতা বাড়াতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) চলছে সাত দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা।  সোমবার (৪ মে) সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘AI-Powered Journalism: Opportunities, Risks and Digital Security’ শীর্ষক এ আয়োজন শুরু হয়। এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাইয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালা চলবে আগামী ৮ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাত দিনে মোট সাতটি ব্যাচে ডিআরইউর সদস্যরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের জন্য গুগল ট্রেন্ডস একটি শক্তিশালী টুল। তৃতীয় দিনের প্রশিক্ষণে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিনিয়ত ট্রেন্ডিং সার্চ থেকে দারুণ সব কনটেন্ট আইডিয়া পাওয়া যায় এবং দর্শক কী খুঁজছে—সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মেলে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে। গুগল সার্চ ব্যবহারকারী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে এই টুল। প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিনের সেশনে এ বিষয়ে প্রাণবন্ত ও কার্যকর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়—যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। আয়োজক গেমপ্লিফাই জানায়, দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে সাংবাদিকতায় এআইয়ের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে বাস্তব প্রয়োগ হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।  অংশগ্রহণকারীরা এআই টুল ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ, রিপোর্ট লিখন, সম্পাদনা ও আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরির কৌশল শিখছেন। এ ছাড়া ভুয়া তথ্য, অপতথ্য ও ডিপফেইক শনাক্ত করার পদ্ধতি এবং ফ্যাক্ট-চেকিং টুল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও প্রশিক্ষণের মূল আলোচ্য বিষয়। ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ‘বর্তমান সাংবাদিকতায় এআই শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং এটি কাজের গতি, নির্ভুলতা ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে যাচাই ও উপস্থাপনায় এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই সাংবাদিকদের জন্য এআই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এখন অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন।’ এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এআই এখন সাংবাদিকতার কর্মপ্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করে তুলছে। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনায় এআই ব্যবহারের দক্ষতা না থাকলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।’ সোমবারের প্রথম সেশনে ঢাকা পোস্টের হেড অব নিউ মিডিয়া আরিফুল ইসলাম আরমান জেমিনি, চ্যাটজিপিটি ও গুগল এআই স্টুডিওসহ বিভিন্ন টুলের ব্যবহার তুলে ধরেন। দ্বিতীয় সেশনে ডেটা সাংবাদিকতা ও তথ্য বিশ্লেষণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সহকারী অধ্যাপক মালিহা তাবাসসুম। দিনের শেষ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এমডি সাইফুল আলম চৌধুরী। তিনি ডিজিটাল রিপোর্টিং, সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরিটেলিং এবং গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহারের মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলার কৌশলগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। ডিআরইউর তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে এআই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন এবং হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়াচ্ছেন। গত তিন দিনে প্রায় দুইশ সদস্য এই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সবাই মনোযোগসহকারে নতুন বিষয়গুলো আয়ত্ত করার চেষ্টা করছেন।   তিনি বলেন, কনটেন্ট কীভাবে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়েও এখানে বিস্তারিত শেখানো হচ্ছে। এআই সম্পর্কে ধারণা না থাকলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। তাই এই প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি। ভবিষ্যতেও সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে এমন প্রশিক্ষণ আয়োজন অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম জসিম, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া প্রমুখ। 
প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যস্ত সংবাদকর্মীরা
বাংলাদেশে স্মার্ট লিভিংকে তুলে ধরবে শাওমির হোম অ্যাপ্লায়েন্স 
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য নিয়ে এসেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি।  সোমবার (৪ মে) রাজধানীর বনানীতে এক তারকা হোটেলে ‘শাওমি স্মার্ট লিভিং ফর এভরিওয়ান’ স্লোগানে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্যগুলোর উন্মোচন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডটি স্মার্টফোনের নেতৃস্থানীয় জায়গা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট লাইফস্টাইল ইকোসিস্টেম নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরল।  স্মার্টফোন ও এআইওটি (এআই অব থিংস) উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত শাওমি বাংলাদেশের হোম ও লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। স্মার্ট ও কানেক্টেড লাইফস্টাইলের বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণ করাই লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটির। চীনা গ্লোবাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমি বর্তমানে ১ নম্বরে রয়েছে এবং ১০০ কোটিরও (১ বিলিয়ন) বেশি কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে বিশ্বজুড়ে কনজ্যুমার এআইওটি মার্কেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।  এছাড়াও স্মার্টফোন খাতে শাওমি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ব্র্যান্ড এবং ২০২৫ সালে শাওমি টিভি বৈশ্বিক শিপমেন্টে শীর্ষ ৫-এ অবস্থান করেছে। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ড ও স্মার্ট ইকোসিস্টেমের প্রতি ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বোঝা যায়। বৈশ্বিক এই লক্ষ্যকে স্থানীয়ভাবে কাজে লাগানোর অংশ হিসেবে, শাওমি এখন স্মার্ট হোম কেয়ার সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে। ব্র্যান্ডটি মিজিয়া ফ্রন্ট লোড ওয়াশার ড্রায়ার ১০.৫ কেজি নিয়ে এসেছে, যার দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৭৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই অ্যাপ্লায়েন্সের মাধ্যমে মাত্র ৫৯ মিনিটেই কাপড় ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা পাওয়া যাবে।  ক্রেতাদের জন্য শাওমি টিভি এস মিনি এলইডি সিরিজে কিউডি-মিনি এলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ব্যবহারকারীদের জন্য সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করতে রয়েছে ১২০০ নিটস ব্রাইটনেস, ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট, ডলবি ভিশন ও ডলবি অ্যাটমোস। এর ৯৮ ইঞ্চি ভ্যারিয়েন্ট ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৮৫ ইঞ্চি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৭৫ ইঞ্চি ১ ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৬৫”ও ইঞ্চি ১ লাখ ৩৯ ৯৯৯ টাকা এবং ৫৫ ইঞ্চি ১ লাখ ৩ ইঞ্চি ৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিনোদন খাতে আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬ নিয়ে এসেছে ব্র‍্যান্ডটি। শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬-এ ৪কে ইউএইচডি ডিসপ্লে, প্রাণবন্ত ভিজ্যুয়াল ও স্মার্ট বিনোদনের জন্য গুগল টিভি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ৭৫ ইঞ্চি ভ্যারিয়েন্টের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৬৫ ইঞ্চি ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৫৫ ইঞ্চি ৮৪,ও হাজত ৯৯৯ টাকা এবং ৪৩ ইঞ্চি ৫২ হাজার ৯৯৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।  এছাড়াও ব্র্যান্ডটি বেশ কিছু লাইফস্টাইল-ভিত্তিক পণ্য নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫ ও ৬ লিটার, স্মার্ট এয়ার পিউরিফায়ার ৪ কম্প্যাক্ট ও লাইট, শাওমি স্মার্ট ক্যামেরা সি২০১ ও সি৩০১, আউটডোর স্মার্ট ক্যামেরা এবং শাওমি স্মার্ট ট্যাগ। পণ্যগুলো নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিদিনের সুবিধাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতে শাওমির শক্তিশালী বৈশ্বিক অবস্থান রয়েছে। আমরা সেই একই মানের উদ্ভাবন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে আসছি। আজকের ক্রেতারা কেবল আলাদা আলাদা গ্যাজেট নয়, বরং এমন প্রযুক্তি চান যা তাদের প্রতিদিনের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। আমাদের ‘হিউম্যান × হোম × কার’ ভিশনের মাধ্যমে আমরা একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেন আমরা ‘গ্লোবাল হার্ডকোর টেক পার্টনার’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। মিনি এলইডি টিভি থেকে শুরু করে স্মার্ট লন্ড্রি ও ট্র্যাকিং সল্যুশন, সবকিছুতেই আমরা ক্রেতাদের জন্য স্মার্ট লিভিংকে আরও সহজ ও সাবলীল করতে চাই।’
বাংলাদেশে স্মার্ট লিভিংকে তুলে ধরবে শাওমির হোম অ্যাপ্লায়েন্স 
ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা আল সামির বিমানবন্দর থেকে আটক
অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রেয়ার আল সামিরকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, রেয়ার আল সামির তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেননি, প্রতিশ্রুত মুনাফাও দেননি। বরং তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তিনি বিনিয়োগকারীদের ফোনও রিসিভ করছেন না। একাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোট পাওনার পরিমাণ ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিনিয়োগকারীদের একজন সাদমান হোসেন বলেন, তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখন তাকে কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। টাকার পরিমাণও বেশি। অথচ কোনো রিটার্ন নেই, লভ্যাংশও নেই। আমার সন্দেহ, এখানে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ও থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেয়ার আল সামির। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সত্য নয়। কোনো মানি লন্ডারিং হয়নি। দু-এক মাসের মধ্যেই সবাই তাদের টাকা ফেরত পাবেন। ঢাকাভিত্তিক অ্যাডটেক স্টার্টআপ ইন্টারঅ্যাকটিভ কেয়ার্স ২০২০ সালে রেয়ার আল সামির ও জামিলা বুপাশা খুশবু প্রতিষ্ঠা করেন। করোনা মহামারির সময় অনলাইনভিত্তিক শিক্ষার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ক্যারিয়ারভিত্তিক কোর্স, রেকর্ডেড লেকচার, লাইভ ক্লাস ও মেন্টরশিপ—এ সবের সমন্বয়ে প্ল্যাটফর্মটি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়। ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স চালু করে তারা। পরবর্তীতে স্টার্টআপটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়। ২০২৩ সালে অ্যাকসেলারেটিং এশিয়া প্রোগ্রামের মাধ্যমে এক লাখ ডলার বিনিয়োগ পায়। ওই সময় এটিই ছিল একমাত্র বাংলাদেশি স্টার্টআপ, যা ওই প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয়।
ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা আল সামির বিমানবন্দর থেকে আটক
সাইবার নিরাপত্তার বাজার বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করলেও একইসঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমে এআই একীভূত করার ফলে এসব ঝুঁকি ক্রমেই জটিল ও শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে করপোরেট অগ্রাধিকারের শীর্ষে উঠে এসেছে সাইবার নিরাপত্তা, আর এই খাতে ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ফলে বড় ধরনের বাজার উন্মোচিত হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারীদের জন্য। বর্তমানে এই বাজারের আকার অন্তত ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ২৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এজেন্টিক এআই বিষয়ে জার্মানিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্ট্যাটিস্টার এক শ্বেতপত্র বলছে, ২০২০ সালের সাইবার নিরাপত্তার বৈশ্বিক বাজার থেকে নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় হয়েছিল ১২০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে সেই বেড়ে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে এটি প্রায় ২৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ওই শ্বেতপত্রে।  বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত শ্বেতপত্রটিতে দেশভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ৮৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এর পরেই রয়েছে চীন, যার বাজার আকার প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ইউরোপের প্রধান অর্থনীতিগুলো যেমন—যুক্তরাজ্য ও জার্মানি তুলনামূলক ছোট হলেও ধারাবাহিকভাবে এই প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশকিছু বড় ধরনের সাইবার হামলা এবং ডিজিটালাইজেশন ও এআই ব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকি। ২০২৫ সালে এক বিশাল ডাটা ফাঁসে ১৬ বিলিয়ন লগইন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ডাটা লিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ডিজিটাল ব্যবস্থার দুর্বলতার ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। এদিকে জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান নতুন ধরনের হুমকিও তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ফিশিং, ডিপফেইকভিত্তিক প্রতারণা এবং এআই-সহায়ীত হ্যাকিং। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। সাইবার নিরাপত্তা মোকাবিলায় যেসব খাত বিনিয়োগ করছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আর্থিক খাত। এরপরেই রয়েছে প্রযুক্তি, মিডিয়া ও টেলিযোগাযোগ খাত। এ ছাড়াও আরও রয়েছে অ্যারোস্পেস ও ডিফেন্স, কনজিউমার প্রোডাক্টস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও শক্তি এবং সরকারি খাত।
সাইবার নিরাপত্তার বাজার বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলার
এআই কি আমাদের চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে
এআই কি আমাদের চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে
চ্যাটজিপিটি, ক্লদ বা জেমিনির (ChatGPT, Claude বা Gemini) মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কেউ লেখালেখির জন্য ব্যবহার করছেন, তো কেউ তথ্য খোঁজার জন্য; আবার কেউ কাজ দ্রুত শেষ করতে এর সাহায্য নিচ্ছেন। তবে নতুন কিছু গবেষণা বলছে, অতিরিক্তভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভর করলে মানুষের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি সবসময়ই মানুষের অভ্যাস বদলেছে। যেমন আগে মানুষ পথ চিনতে নিজের স্মৃতির ওপর নির্ভর করত; কিন্তু এখন অনেকেই গুগল ম্যাপস (Google Maps) ছাড়া কোথাও যেতেও স্বস্তি পান না। একইভাবে সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে মানুষ আগের মতো তথ্য মনে রাখে না। গবেষকরা বলছেন, এআই আরও বড় মাত্রায় সেই নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। অ্যাডাম গ্রিন নামের এক স্নায়ুবিজ্ঞানী বলেন, ‘যখন আমরা নিজেরা চিন্তা করার বদলে এআইকে কাজটা করতে দিই, তখন ধীরে ধীরে সেই মানসিক দক্ষতা কমে যেতে পারে।’  তার মতে, কঠিন চিন্তা, ভুল করা, আবার নতুনভাবে চেষ্টা করা— এসবই মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে। যদি সব কাজ এআই করে দেয়, তাহলে মস্তিষ্কের সেই ‘ব্যায়াম’ আর হয় না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা বেশি এআই ব্যবহার করেন তারা অনেক সময় এআইয়ের উত্তরকে নিজের বিচারবুদ্ধির চেয়েও বেশি বিশ্বাস করেন, এমনকি সেটি ভুল হলেও। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বলে উল্লেখ করছেন। তবে সব গবেষকই বলছেন না যে এআই পুরোপুরি খারাপ। জ্যারেড বেঞ্জ-এর মতে, বিষয়টি নির্ভর করে মানুষ কীভাবে এআই ব্যবহার করছে তার ওপর। যদি এটি সাধারণ বা সময়সাপেক্ষ কাজ সহজ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার জন্য সময় তৈরি করে, তাহলে সেটি উপকারীও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ উপায়ও জানিয়েছেন, যাতে এআই ব্যবহার করেও নিজের চিন্তাশক্তি সক্রিয় রাখা যায়। কোনো বিষয়ে এআইয়ের উত্তর দেখার আগে নিজের মতো করে ভাবার চেষ্টা করতে হবে। এতে এআই আপনার চিন্তাকে যাচাই করতে সাহায্য করবে, পুরোপুরি বদলে দেবে না। কিছু কাজ ইচ্ছা করেই ধীরে করা ভালো। যেমন দীর্ঘ লেখা নিজে পড়ে বোঝা, নোট নেওয়া বা কোনো সমস্যার সমাধান নিজে ভাবার চেষ্টা করা। কারণ এই মানসিক পরিশ্রমই স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। সৃজনশীলতার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহার করে তৈরি ধারণাগুলো অনেক সময় কম মৌলিক হয়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে নিজের আইডিয়া লিখে রাখা ভালো, তারপর সেটি উন্নত করতে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে। মনোযোগ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এখন মানুষ দ্রুত উত্তর পেতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে, ফলে ধৈর্য কমছে। তাই মাঝেমধ্যে কঠিন কিছু নিজে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করা প্রয়োজন। সবশেষে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রযুক্তি বদলাবে, কিন্তু মানুষের সৃজনশীলতা, অনুভূতি ও নতুনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা ভালো, তবে নিজের মস্তিষ্ককে পুরোপুরি তার হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। সূত্র: বিবিসি
প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যস্ত সংবাদকর্মীরা
ডিআরইউতে এআই প্রশিক্ষণ / প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যস্ত সংবাদকর্মীরা
সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার ও দক্ষতা বাড়াতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) চলছে সাত দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা।  সোমবার (৪ মে) সকালে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘AI-Powered Journalism: Opportunities, Risks and Digital Security’ শীর্ষক এ আয়োজন শুরু হয়। এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাইয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালা চলবে আগামী ৮ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাত দিনে মোট সাতটি ব্যাচে ডিআরইউর সদস্যরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের জন্য গুগল ট্রেন্ডস একটি শক্তিশালী টুল। তৃতীয় দিনের প্রশিক্ষণে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিনিয়ত ট্রেন্ডিং সার্চ থেকে দারুণ সব কনটেন্ট আইডিয়া পাওয়া যায় এবং দর্শক কী খুঁজছে—সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মেলে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে। গুগল সার্চ ব্যবহারকারী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে এই টুল। প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিনের সেশনে এ বিষয়ে প্রাণবন্ত ও কার্যকর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়—যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। আয়োজক গেমপ্লিফাই জানায়, দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে সাংবাদিকতায় এআইয়ের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে বাস্তব প্রয়োগ হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।  অংশগ্রহণকারীরা এআই টুল ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ, রিপোর্ট লিখন, সম্পাদনা ও আকর্ষণীয় শিরোনাম তৈরির কৌশল শিখছেন। এ ছাড়া ভুয়া তথ্য, অপতথ্য ও ডিপফেইক শনাক্ত করার পদ্ধতি এবং ফ্যাক্ট-চেকিং টুল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও প্রশিক্ষণের মূল আলোচ্য বিষয়। ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ‘বর্তমান সাংবাদিকতায় এআই শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং এটি কাজের গতি, নির্ভুলতা ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে যাচাই ও উপস্থাপনায় এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই সাংবাদিকদের জন্য এআই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এখন অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন।’ এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এআই এখন সাংবাদিকতার কর্মপ্রক্রিয়াকে দ্রুত ও কার্যকর করে তুলছে। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনায় এআই ব্যবহারের দক্ষতা না থাকলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।’ সোমবারের প্রথম সেশনে ঢাকা পোস্টের হেড অব নিউ মিডিয়া আরিফুল ইসলাম আরমান জেমিনি, চ্যাটজিপিটি ও গুগল এআই স্টুডিওসহ বিভিন্ন টুলের ব্যবহার তুলে ধরেন। দ্বিতীয় সেশনে ডেটা সাংবাদিকতা ও তথ্য বিশ্লেষণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সহকারী অধ্যাপক মালিহা তাবাসসুম। দিনের শেষ সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এমডি সাইফুল আলম চৌধুরী। তিনি ডিজিটাল রিপোর্টিং, সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরিটেলিং এবং গুগল ট্রেন্ডস ব্যবহারের মাধ্যমে অপতথ্য মোকাবিলার কৌশলগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। ডিআরইউর তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে এআই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন এবং হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়াচ্ছেন। গত তিন দিনে প্রায় দুইশ সদস্য এই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সবাই মনোযোগসহকারে নতুন বিষয়গুলো আয়ত্ত করার চেষ্টা করছেন।   তিনি বলেন, কনটেন্ট কীভাবে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়েও এখানে বিস্তারিত শেখানো হচ্ছে। এআই সম্পর্কে ধারণা না থাকলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। তাই এই প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণকারীদের পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি। ভবিষ্যতেও সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে এমন প্রশিক্ষণ আয়োজন অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম জসিম, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া প্রমুখ। 
বাংলাদেশে স্মার্ট লিভিংকে তুলে ধরবে শাওমির হোম অ্যাপ্লায়েন্স 
বাংলাদেশে স্মার্ট লিভিংকে তুলে ধরবে শাওমির হোম অ্যাপ্লায়েন্স 
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য নিয়ে এসেছে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি।  সোমবার (৪ মে) রাজধানীর বনানীতে এক তারকা হোটেলে ‘শাওমি স্মার্ট লিভিং ফর এভরিওয়ান’ স্লোগানে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্যগুলোর উন্মোচন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডটি স্মার্টফোনের নেতৃস্থানীয় জায়গা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট লাইফস্টাইল ইকোসিস্টেম নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরল।  স্মার্টফোন ও এআইওটি (এআই অব থিংস) উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত শাওমি বাংলাদেশের হোম ও লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। স্মার্ট ও কানেক্টেড লাইফস্টাইলের বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণ করাই লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানটির। চীনা গ্লোবাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমি বর্তমানে ১ নম্বরে রয়েছে এবং ১০০ কোটিরও (১ বিলিয়ন) বেশি কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে বিশ্বজুড়ে কনজ্যুমার এআইওটি মার্কেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।  এছাড়াও স্মার্টফোন খাতে শাওমি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ব্র্যান্ড এবং ২০২৫ সালে শাওমি টিভি বৈশ্বিক শিপমেন্টে শীর্ষ ৫-এ অবস্থান করেছে। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ড ও স্মার্ট ইকোসিস্টেমের প্রতি ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বোঝা যায়। বৈশ্বিক এই লক্ষ্যকে স্থানীয়ভাবে কাজে লাগানোর অংশ হিসেবে, শাওমি এখন স্মার্ট হোম কেয়ার সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে। ব্র্যান্ডটি মিজিয়া ফ্রন্ট লোড ওয়াশার ড্রায়ার ১০.৫ কেজি নিয়ে এসেছে, যার দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৭৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই অ্যাপ্লায়েন্সের মাধ্যমে মাত্র ৫৯ মিনিটেই কাপড় ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা পাওয়া যাবে।  ক্রেতাদের জন্য শাওমি টিভি এস মিনি এলইডি সিরিজে কিউডি-মিনি এলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ব্যবহারকারীদের জন্য সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করতে রয়েছে ১২০০ নিটস ব্রাইটনেস, ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট, ডলবি ভিশন ও ডলবি অ্যাটমোস। এর ৯৮ ইঞ্চি ভ্যারিয়েন্ট ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৮৫ ইঞ্চি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৭৫ ইঞ্চি ১ ৭৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৬৫”ও ইঞ্চি ১ লাখ ৩৯ ৯৯৯ টাকা এবং ৫৫ ইঞ্চি ১ লাখ ৩ ইঞ্চি ৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিনোদন খাতে আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬ নিয়ে এসেছে ব্র‍্যান্ডটি। শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬-এ ৪কে ইউএইচডি ডিসপ্লে, প্রাণবন্ত ভিজ্যুয়াল ও স্মার্ট বিনোদনের জন্য গুগল টিভি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ৭৫ ইঞ্চি ভ্যারিয়েন্টের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৬৫ ইঞ্চি ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ৫৫ ইঞ্চি ৮৪,ও হাজত ৯৯৯ টাকা এবং ৪৩ ইঞ্চি ৫২ হাজার ৯৯৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।  এছাড়াও ব্র্যান্ডটি বেশ কিছু লাইফস্টাইল-ভিত্তিক পণ্য নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫ ও ৬ লিটার, স্মার্ট এয়ার পিউরিফায়ার ৪ কম্প্যাক্ট ও লাইট, শাওমি স্মার্ট ক্যামেরা সি২০১ ও সি৩০১, আউটডোর স্মার্ট ক্যামেরা এবং শাওমি স্মার্ট ট্যাগ। পণ্যগুলো নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিদিনের সুবিধাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতে শাওমির শক্তিশালী বৈশ্বিক অবস্থান রয়েছে। আমরা সেই একই মানের উদ্ভাবন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে আসছি। আজকের ক্রেতারা কেবল আলাদা আলাদা গ্যাজেট নয়, বরং এমন প্রযুক্তি চান যা তাদের প্রতিদিনের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। আমাদের ‘হিউম্যান × হোম × কার’ ভিশনের মাধ্যমে আমরা একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেন আমরা ‘গ্লোবাল হার্ডকোর টেক পার্টনার’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। মিনি এলইডি টিভি থেকে শুরু করে স্মার্ট লন্ড্রি ও ট্র্যাকিং সল্যুশন, সবকিছুতেই আমরা ক্রেতাদের জন্য স্মার্ট লিভিংকে আরও সহজ ও সাবলীল করতে চাই।’
ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা আল সামির বিমানবন্দর থেকে আটক
ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা আল সামির বিমানবন্দর থেকে আটক
অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রেয়ার আল সামিরকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, রেয়ার আল সামির তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেননি, প্রতিশ্রুত মুনাফাও দেননি। বরং তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তিনি বিনিয়োগকারীদের ফোনও রিসিভ করছেন না। একাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোট পাওনার পরিমাণ ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিনিয়োগকারীদের একজন সাদমান হোসেন বলেন, তিনি অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখন তাকে কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। টাকার পরিমাণও বেশি। অথচ কোনো রিটার্ন নেই, লভ্যাংশও নেই। আমার সন্দেহ, এখানে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ও থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেয়ার আল সামির। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সত্য নয়। কোনো মানি লন্ডারিং হয়নি। দু-এক মাসের মধ্যেই সবাই তাদের টাকা ফেরত পাবেন। ঢাকাভিত্তিক অ্যাডটেক স্টার্টআপ ইন্টারঅ্যাকটিভ কেয়ার্স ২০২০ সালে রেয়ার আল সামির ও জামিলা বুপাশা খুশবু প্রতিষ্ঠা করেন। করোনা মহামারির সময় অনলাইনভিত্তিক শিক্ষার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ক্যারিয়ারভিত্তিক কোর্স, রেকর্ডেড লেকচার, লাইভ ক্লাস ও মেন্টরশিপ—এ সবের সমন্বয়ে প্ল্যাটফর্মটি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়। ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স চালু করে তারা। পরবর্তীতে স্টার্টআপটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়। ২০২৩ সালে অ্যাকসেলারেটিং এশিয়া প্রোগ্রামের মাধ্যমে এক লাখ ডলার বিনিয়োগ পায়। ওই সময় এটিই ছিল একমাত্র বাংলাদেশি স্টার্টআপ, যা ওই প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয়।