একসময় মনে করা হয়েছিল, মোবাইল থেকে হেডফোন জ্যাক চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারযুক্ত হেডফোনও হারিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো উল্টো। আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তারযুক্ত হেডফোন। ভালো সাউন্ড, সহজ ব্যবহার আর প্রযুক্তির অতিরিক্ত জটিলতা থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা এই ফিরে আসার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৬ সালে অ্যাপল (Apple) তাদের আইফোনে হেডফোন জ্যাক বাদ দেওয়ার পর অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্লুটুথ হেডফোনে চলে যান। পরে Google-সহ অন্যান্য কোম্পানিও একই পথে হাঁটে। ফলে তারযুক্ত হেডফোন যেন হারিয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে তারযুক্ত হেডফোনের বিক্রি হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করে। ২০২৬ সালের শুরুতেই এই পণ্যের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অনেকেই আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরছেন।
ভালো সাউন্ড কোয়ালিটি : বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দামে তারযুক্ত হেডফোনে সাধারণত ভালো সাউন্ড পাওয়া যায়। ব্লুটুথে সংযোগ সমস্যা বা কম্প্যাটিবিলিটির কারণে সাউন্ডের মান কমে যেতে পারে। কিন্তু তারযুক্ত হেডফোনে প্লাগ ইন করলেই সরাসরি কাজ করে।
সহজ ব্যবহার : ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহার করতে গেলে চার্জ, পেয়ারিং, কানেকশন সমস্যা ইত্যাদি ঝামেলা থাকে। অনেক সময় ডিভাইস সংযুক্ত হতে দেরি হয় বা মাঝপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারযুক্ত হেডফোনে এসব সমস্যা নেই।
প্রযুক্তি থেকে ক্লান্তি : অনেক ব্যবহারকারী মনে করছেন, প্রযুক্তি দিন দিন এত বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে যে মানুষ আবার সহজ জিনিসের দিকে ফিরছে। তারযুক্ত হেডফোন সেই সরল অভিজ্ঞতা দেয়, যেখানে বাড়তি কোনো সেটিংস বা ঝামেলা নেই।
ফ্যাশন ও ট্রেন্ড : তারযুক্ত হেডফোন এখন শুধু একটি ডিভাইস নয়, অনেকের কাছে এটি স্টাইল স্টেটমেন্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তার ঝুলিয়ে রাখাকে এক ধরনের নান্দনিকতা হিসেবে দেখছেন। এমনকি আরিয়ানা গ্রান্দে (Ariana Grande) বা চার্লি এক্সসিএক্স (Charli XCX)-এর মতো তারকাদেরও এই ট্রেন্ডে দেখা গেছে।
নির্ভরযোগ্যতা : ব্লুটুথ ডিভাইসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্যাটারি। হঠাৎ চার্জ শেষ হয়ে গেলে ব্যবহার করা যায় না। আবার ছোট ইয়ারবাড হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তারযুক্ত হেডফোনে এসব ঝামেলা নেই।
শুধু হেডফোন নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু পুরোনো প্রযুক্তি আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। যেমন ডিভিডি, ক্যাসেট, টাইপরাইটার বা পুরোনো টিভি। অনেকেই ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে বের হয়ে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন।
তারযুক্ত হেডফোনে ফিরতে চাইলে একটি বড় প্রশ্ন হলো সংযোগ। এখন অনেক ফোনেই ৩.৫ মিমি জ্যাক নেই। তাই ইউএসবি বা লাইটনিং কেবলযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করতে হয়, অথবা আলাদা অ্যাডাপ্টার লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লুটুথ হেডফোনও এখন অনেক উন্নত। ভালো মানের ডিভাইসে সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ ভালোই পাওয়া যায়। তাই এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়াই ভালো।
তারযুক্ত হেডফোনের এই ফিরে আসা শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি ব্যবহারকারীর পছন্দ ও মানসিকতার পরিবর্তনের প্রতিফলন। সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং তুলনামূলক ভালো সাউন্ডের জন্য অনেকেই আবার তারে ফিরে যাচ্ছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত কোনটি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করে আপনার প্রয়োজনের ওপর। সুবিধা আর মানের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র : বিবিসি




