বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাজ, পড়াশোনা, ভিডিও কল, অনলাইন ক্লাস বা বিনোদন সবকিছুই এখন অনেকটা নির্ভর করে স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগের ওপর। কিন্তু ধীরগতির ইন্টারনেট, বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা বাড়ির কিছু জায়গায় ওয়াই-ফাই না পাওয়া অনেকের জন্যই বড় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনেক সময় দেখা যায়, রাউটারের কাছাকাছি গেলে ইন্টারনেট ভালো কাজ করে, কিন্তু একটু দূরে গেলেই গতি কমে যায়। তবে কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করলে ঘরের ওয়াইফাই সিগন্যাল অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।
নিচে ওয়াইফাই সিগন্যাল শক্তিশালী করার ১০টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।
অনেক সময় রাউটার ধীরগতিতে কাজ করার কারণ হতে পারে পুরোনো সফটওয়্যার। রাউটার নির্মাতারা নিয়মিত ফার্মওয়্যার আপডেট প্রকাশ করে, যাতে গতি বাড়ে, নতুন ফিচার যোগ হয় এবং নিরাপত্তা উন্নত হয়।
রাউটারের সেটিংস প্যানেলে গিয়ে সাধারণত সহজেই ফার্মওয়্যার আপডেট করা যায়। কিছু পুরোনো মডেলে নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করে আপডেট করতে হয়। নিয়মিত আপডেট করলে রাউটারের পারফরম্যান্স ভালো থাকে।
রাউটার কোথায় রাখা হয়েছে তার ওপর ওয়াইফাইয়ের গতি অনেকটাই নির্ভর করে। অনেকেই রাউটার আলমারির ভেতরে বা কোণায় রেখে দেন, যা সিগন্যাল দুর্বল করে দেয়।
রাউটার এমন জায়গায় রাখা ভালো যেখানে চারপাশ খোলা থাকে এবং সম্ভব হলে বাড়ির মাঝামাঝি স্থানে থাকে। দেয়াল, ধাতব বস্তু বা বড় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে কিছুটা দূরে রাখলে সিগন্যাল ভালো পাওয়া যায়।
রাউটারকে মেঝেতে না রেখে কিছুটা উঁচু স্থানে রাখা হলে সিগন্যাল আরও ভালো ছড়ায়।
অনেক আধুনিক রাউটারে দুই ধরনের ব্যান্ড থাকে। ২.৪ গিগাহার্টজ এবং ৫ গিগাহার্টজ।
৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড সাধারণত দ্রুত গতি দেয় এবং আশেপাশের অন্যান্য নেটওয়ার্কের কারণে কম বাধা তৈরি হয়। তবে এটি দূরে তত ভালো কাজ নাও করতে পারে। অন্যদিকে ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড তুলনামূলক ধীর হলেও দূর পর্যন্ত সিগন্যাল পৌঁছাতে পারে।
আপনার রাউটার যদি ডুয়াল ব্যান্ড হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করা ভালো।
একই এলাকায় অনেক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থাকলে সিগন্যাল একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ করতে পারে। এতে ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়।
রাউটারের সেটিংস থেকে চ্যানেল পরিবর্তন করা যায়। সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ নেটওয়ার্কে ১, ৬ এবং ১১ নম্বর চ্যানেল সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
যদি স্বয়ংক্রিয় সেটিং ভালো কাজ না করে, তাহলে নিজে একটি চ্যানেল নির্বাচন করে দেখা যেতে পারে।
অনেক রাউটারে কোয়ালিটি অব সার্ভিস (Quality of Service) নামে একটি ফিচার থাকে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়।
উদাহরণ হিসেবে ভিডিও কল বা অনলাইন মিটিংকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে, যাতে অন্য কেউ বড় ফাইল ডাউনলোড করলেও কলের গুণগত মান নষ্ট না হয়।
খুব পুরোনো রাউটার ব্যবহার করলে দ্রুত ইন্টারনেট পাওয়া কঠিন। কারণ পুরোনো রাউটারগুলো নতুন ওয়াইফাই প্রযুক্তি সমর্থন করে না।
নতুন মডেলের রাউটার সাধারণত বেশি গতি, উন্নত নিরাপত্তা এবং ভালো সিগন্যাল কভারেজ দেয়। একইভাবে খুব পুরোনো ল্যাপটপ বা ডিভাইস ব্যবহার করলেও গতি কম হতে পারে।
কিছু রাউটারে বাহ্যিক অ্যান্টেনা লাগানো যায়। শক্তিশালী অ্যান্টেনা ব্যবহার করলে সিগন্যাল অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
কিছু অ্যান্টেনা সবদিকে সিগন্যাল ছড়ায়, আবার কিছু নির্দিষ্ট দিকে বেশি শক্তিশালী সিগন্যাল পাঠায়। বাড়ির যে জায়গায় সিগন্যাল দুর্বল, সেদিকে অ্যান্টেনা নির্দেশ করে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
বাড়ি বড় হলে বা অনেক দেয়াল থাকলে রাউটারের সিগন্যাল সব জায়গায় পৌঁছায় না। এমন ক্ষেত্রে ওয়াইফাই রেঞ্জ এক্সটেন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই ডিভাইস মূল রাউটারের সিগন্যাল গ্রহণ করে আবার নতুন করে ছড়িয়ে দেয়, ফলে দূরের জায়গাগুলোতেও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।
বড় বাড়ি বা অফিসের জন্য মেশ ওয়াইফাই সিস্টেম ভালো সমাধান হতে পারে। এতে একাধিক ডিভাইস একসঙ্গে কাজ করে পুরো এলাকায় একটি শক্তিশালী ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করে।
এর ফলে বাড়ির সব জায়গায় প্রায় একই গতির ইন্টারনেট পাওয়া যায় এবং আলাদা আলাদা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হয় না।
কিছু ব্যবহারকারী ওপেন সোর্স রাউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, যা রাউটারের পারফরম্যান্স আরও বাড়াতে পারে। এতে উন্নত নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং কাস্টম সেটিংস ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
তবে এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে কিছু প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রয়োজন।
ধীরগতির ওয়াইফাই অনেক সময় বড় সমস্যার মতো মনে হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ পরিবর্তনের মাধ্যমেই তা সমাধান করা সম্ভব। রাউটারের অবস্থান ঠিক করা, সঠিক ব্যান্ড ও চ্যানেল নির্বাচন করা বা প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
ডিজিটাল যুগে দ্রুত ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট এখন প্রয়োজনীয় একটি পরিসেবা। তাই বাড়ির ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হলে অনলাইন কাজ, শিক্ষা ও বিনোদন অনেক সহজ হয়ে উঠবে।
সূত্র : মিডিয়াম




