আজকাল ওয়াইফাই আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজ, কেনাকাটা, তথ্য খোঁজা বা বার্তা চেক করতে আমরা এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। স্মার্টওয়াচ, স্বাস্থ্য ট্র্যাকার বা ফোনের মতো যন্ত্রও আমাদের দৈনন্দিন কাজ, ঘুমের ধরন পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে সাহায্য করে।
তবে অনেকেই জানেন না যে এসব যন্ত্র থেকে নির্গত বৈদ্যুৎচুম্বক ক্ষেত্র (ইএমএফ) শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় ওয়াইফাই চালু রাখা শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
মস্তিষ্ক ও কোষের কার্যকারিতা : ওয়াইফাই বিকিরণ মস্তিষ্কের রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা এবং মাইক্রো আরএনএ প্রকাশ পরিবর্তন করতে পারে। কোষের শক্তি উৎপাদন ও কোষের কার্যকারিতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়া, যা আমাদের কোষের শক্তির কেন্দ্র, তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্লান্তি, শক্তি কমে যাওয়া এবং ঘুমের সময় শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্য : কিছু গবেষণা দেখিয়েছে যে দীর্ঘমেয়াদি ওয়াইফাই বিকিরণ পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কমাতে পারে। প্রাণীর ওপর পরীক্ষা অনুযায়ী, ডিএনএ ক্ষতি এবং বীর্য আন্দোলন কমে যায়। মানুষের ওপর সীমিত গবেষণা দেখিয়েছে যারা বেশি বেতার ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের বীর্য সক্রিয়তা কম হতে পারে।
স্মৃতি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা : কিছু প্রাণী পরীক্ষায় দেখা গেছে ওয়াইফাই বিকিরণ মানসিক ও শনাক্তকরণ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি ভবিষ্যতে আলঝেইমার বা অন্যান্য স্নায়ুবিক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, তবে মানুষের ওপর এটি এখনো প্রমাণিত নয়।
হৃদয়ের স্বাস্থ্য : প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে ওয়াইফাই বিকিরণ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ পরিবর্তন করতে পারে। যদিও মানুষের ওপর প্রমাণ নেই, এটি দেখায় যে হৃদরোগে ঝুঁকি থাকতে পারে।
রাতে ওয়াই-ফাই বন্ধ করুন : এটি ইএমএফ বিকিরণ কমাতে সাহায্য করবে এবং ঘুমের সময় শরীরকে বাধামুক্ত অবস্থায় রাখবে।
প্রযুক্তিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন : ঘুমের সময় ফোন বা অন্যান্য ওয়াইফাই ডিভাইসের ব্যবহার কমানো ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
শরীরকে বিশ্রাম দিন : ইএমএফ মুক্ত পরিবেশে কোষের পুনরুদ্ধার ও শক্তি উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার বলেন যে ওয়াইফাই রাউটার ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন কমায় এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আসলে সমস্যা হয় ফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে বের হওয়া নীল আলো থেকে। এটি হরমোন কমিয়ে ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।
ডা. রেড্ডি বলেন, অনেকেই রাউটার বন্ধ করলে ফোন বা ল্যাপটপও কম ব্যবহার করেন। এতে মন শান্ত থাকে এবং ঘুম ভালো হয়। ভালো ঘুম মানে ভালো মানসিক স্বাস্থ্য, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়া এবং মস্তিষ্ক ভালোভাবে কাজ করা।
অর্থাৎ রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখলে শরীরে কোনো বড় পরিবর্তন হবে এমন প্রমাণ নেই। তবে ঘুমের সময় স্ক্রিন এড়িয়ে চলা এবং মন শান্ত রাখা ভালো ঘুমে সাহায্য করে। তাই রাতে ওয়াইফাই বন্ধ রাখা স্বাস্থ্যকর ঘুম এবং মানসিক শান্তির জন্য উপকারী হতে পারে।
যদিও মানুষের ওপর ওয়াইফাই বিকিরণের প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে, প্রাণী ভিত্তিক গবেষণায় কিছু সতর্ক সংকেত পাওয়া গেছে। তাই রাতে ওয়াইফাই বন্ধ করা, ফোন বা যন্ত্র ঘুমের সময় দূরে রাখা এবং প্রযুক্তিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা ভালো ঘুম ও সুস্থ দেহের জন্য সহায়ক হতে পারে। ছোট এই অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া




