ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

রাউটার চালালে মাসে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২১
ছবি : সংগৃহীত

এখন প্রায় সব ঘরেই ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। আর ইন্টারনেট মানেই ওয়াইফাই রাউটার। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি সব ডিভাইসই রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত থাকে। তাই অনেকেই রাউটার সারাক্ষণ চালু রাখেন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

তবে অনেকের মনে একটা প্রশ্ন আসে—রাউটার যদি ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে, তাহলে কি বিদ্যুৎ বিল অনেক বাড়ে? আসলে বিষয়টা এতটা চিন্তার নয়। একটু সহজ হিসাব করলে বোঝা যায়, রাউটার খুব কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

বাড়িতে ব্যবহৃত বেশির ভাগ রাউটার সাধারণত ৯ থেকে ১২ ভোল্টে চলে এবং প্রায় ০.৬০ থেকে ১ অ্যাম্পিয়ার পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

ধরা যাক, আপনার রাউটারটি ৯ ভোল্ট এবং ০.৬০ অ্যাম্পিয়ার ব্যবহার করে। তাহলে এর মোট বিদ্যুৎ খরচ হয়: ৯ × ০.৬০ = ৫.৪ ওয়াট।

এখন এটিকে কিলোওয়াট-ঘণ্টায় (KWh) হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ০.০০৫৪ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রতি ঘণ্টায়।

বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম ইউনিট অনুযায়ী ভিন্ন হয়। যদি ধরা হয় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬.৬৩ টাকা, তাহলে এক ঘণ্টায় রাউটার চালাতে খরচ হয় প্রায় ৪ পয়সা। অর্থাৎ, যদি ২৪ ঘণ্টা রাউটার চালু থাকে, তাহলে দিনে খরচ হবে প্রায় ৮৪ পয়সা। আর এভাবে পুরো মাস (৩০ দিন) রাউটার চালু রাখলেও বিদ্যুৎ খরচ হবে প্রায় ২৫ টাকার একটু বেশি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রাউটার সারাক্ষণ চালু রাখলেও বিদ্যুৎ বিল খুব বেশি বাড়ে না। তাই ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা করার মতো তেমন কিছু নেই।

আইফোন ব্যবহারকারীদের ৩,০৭৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে অ্যাপল
আইফোনে এআই ফিচার নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগে করা মামলা মেটাতে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইফোন ১৫ প্রো সিরিজ ও আইফোন ১৬ সিরিজ কেনা কিছু গ্রাহককে মোট ২৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া সমঝোতা প্রস্তাবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার করেনি। তবে ২০২৪ সালে করা একটি বড় ক্লাস অ্যাকশন মামলা নিষ্পত্তির জন্য এই অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, অ্যাপল তাদের এআই সুবিধা, বিশেষ করে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ও উন্নত সিরি নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করেছে। সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স অথবা আইফোন ১৬ সিরিজের যেকোনো মডেল কেনা গ্রাহকেরা ক্ষতিপূরণের আওতায় আসতে পারেন। যোগ্য গ্রাহকেরা প্রতি ডিভাইসের জন্য ২৫ ডলার পাবেন, তবে দাবি জমা দেওয়ার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে অঙ্কটি ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৫ ডলার প্রায় ১১ হাজার ৬৮৫ টাকা। মামলাকারী আইনজীবীদের অভিযোগ, অ্যাপল এমন কিছু এআই সুবিধার প্রচার করেছিল, যেগুলো তখন আইফোনে ছিল না। বিশেষ করে সিরিকে আরও ব্যক্তিগত, প্রাসঙ্গিক ও শক্তিশালী এআই সহকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আইফোন ১৬ বাজারে আসার সময় প্রতিশ্রুত উন্নত সিরি সুবিধাগুলো গ্রাহকেরা পাননি। আইনজীবীদের দাবি, অ্যাপল এমনভাবে প্রচার চালিয়েছিল যেন নতুন আইফোন কেনার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীরা উন্নত এআই-চালিত সিরির অভিজ্ঞতা পাবেন। তাদের ভাষায়, অ্যাপল এমন এআই সক্ষমতার কথা বলেছিল, যা সে সময় বাস্তবে ছিল না এবং এখনো পুরোপুরি আসেনি। অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলাটি অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের অনেক সুবিধার মধ্যে দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ছিল। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন পণ্য ও সেবা তৈরির কাজেই মনোযোগ রাখতে তারা বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। তবে অ্যাপল কোনো দায় স্বীকার করেনি। এ মামলার পেছনে আছে প্রযুক্তি দুনিয়ার চলমান এআই প্রতিযোগিতা। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিকসহ নতুন প্রজন্মের এআই প্রতিষ্ঠানের উত্থানের পর বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের পণ্যেও দ্রুত এআই সুবিধা যুক্ত করার চাপ অনুভব করছে। অ্যাপল ২০২৪ সালে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ঘোষণা করে সেই প্রতিযোগিতায় বড়ভাবে ঢোকার বার্তা দিয়েছিল। তবে ঘোষিত কিছু সুবিধা সময়মতো না আসায় গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে সিরির উন্নত সংস্করণ ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশি। অ্যাপলের প্রচারে সিরিকে সীমিত ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে ব্যক্তিগত এআই সহকারীতে রূপান্তরের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। সমঝোতাটি এখনো আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায়। আদালত অনুমোদন দিলে যোগ্য গ্রাহকেরা দাবি জমা দিয়ে ক্ষতিপূরণ নিতে পারবেন। কতজন দাবি করেন, তার ওপরই নির্ভর করবে প্রত্যেকে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ পাবেন। সূত্র: রয়টার্স
আইফোন ব্যবহারকারীদের ৩,০৭৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে অ্যাপল
স্মার্ট প্রেসক্রিপশন চশমা আনল মেটা
চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চশমা ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ‘প্রেসক্রিপশন-অপটিমাইজড এআই স্মার্ট চশমা’ এনেছে মেটা। চশমা জগতের বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘রে-বান’ এর সঙ্গে মিলে দুটি নতুন স্টাইলে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) এই চশমাগুলো এনেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। নতুন মডেল দুইটি হলো ‘রে-ব্যান মেটা ব্লেজার অপটিক্স (জেন ২)’ এবং ‘রে-ব্যান মেটা স্ক্রাইবার অপটিক্স (জেন ২)’ রে-ব্যান মেটা (জেন ২) এবং ওকলি মেটা সিরিজে সীমিত সময়ের জন্য নতুন ফ্রেম ও লেন্সের রংও যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিগগিরই আসছে হ্যান্ডস-ফ্রি নিউট্রিশন ট্র্যাকিং, মেটা এআই-নির্ভর হোয়াটসঅ্যাপ সামারি ও রিকল এবং নিউরাল হ্যান্ডরাইটিংয়ের মতো নতুন সফটওয়্যার ফিচার। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেটা জানিয়েছে, এর মাধ্যমে স্মার্ট চশমার বাজারে নতুন গতি আসবে। মেটা নিজেও রে-বানের সঙ্গে যৌথভাবে স্মার্ট চশমা বাজারজাত করছে। তবে এত দিন সেসব চশমার লেন্স চিকিৎসকের প্রেসক্রাইবড চশমা ছিল না। চশমা কেনার পর সেগুলোতে প্রেসক্রাইবড লেন্স লাগিয়ে নিতে হতো ব্যবহারকারীদের। তবে এখন গ্রাহকরা প্রেসক্রাইবড লেন্স সম্বলিত চশমা সরাসরি কিনতে পারবেন। নতুন অপটিক্স সিরিজের চশমাগুলোতে ওভারএক্সটেনশন হিঞ্জ, অদলবদলযোগ্য নোজ প্যাড এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সমন্বয়যোগ্য টেম্পল টিপস রাখা হয়েছে। যাতে ব্যবহারকারীর মুখের গঠন অনুযায়ী আরও আরামদায়ক ও মানানসই ফিট নিশ্চিত করা যায়। মেটার দাবি, এটি তাদের তৈরি সবচেয়ে আরামদায়ক এআই চশমা। যা সারাদিন পরার উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে।  নতুন রে-ব্যান মেটা ব্লেজার অপটিক্স (জেন ২) এবং রে-ব্যান মেটা স্ক্রাইবার অপটিক্স (জেন ২) যুক্তরাষ্ট্রে মেটা ডটকম ও রে-ব্যান ডটকমে প্রি-অর্ডারের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। দাম শুরু হচ্ছে ৪৯৯ ডলার থেকে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল থেকে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অপটিক্যাল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে এবং নির্বাচিত কিছু আন্তর্জাতিক বাজারেও পাওয়া যাবে।  নতুন রঙে আসছে রে-ব্যান মেটা ও ওকলি মেটা বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমকে সামনে রেখে রে-ব্যান মেটা (জেন ২) সিরিজেও নতুন রঙের সংমিশ্রণ আনছে মেটা। এর মধ্যে রয়েছে স্কাইলারের জন্য শাইনি ট্রান্সপারেন্ট পিচ ফ্রেমের সঙ্গে ট্রানজিশনস ব্রাউন লেন্স, হেডলাইনারের জন্য ম্যাট ট্রান্সপারেন্ট পিচ ফ্রেমের সঙ্গে ট্রানজিশনস গ্রে লেন্স এবং ওয়েফেয়ারারের জন্য শাইনি ট্রান্সপারেন্ট গ্রে ফ্রেমের সঙ্গে ট্রানজিশনস স্যাফায়ার লেন্স। অন্যদিকে ওকলি মেটা ভ্যানগার্ড ও এইচএসটিএন মডেলের জন্যও নতুন ফ্রেম ও লেন্স বিকল্প যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রিজম ব্ল্যাক লেন্সসহ ভ্যানগার্ড ব্ল্যাক, প্রিজম রোজ গোল্ড লেন্সসহ ভ্যানগার্ড হোয়াইট, প্রিজম ট্রানজিশনস এম্বার লেন্সসহ ভ্যানগার্ড ব্ল্যাক— যা বসন্তের শেষ দিকে আসবে। প্রিজম ডার্ক গলফ লেন্সসহ এইচএসটিএন ব্ল্যাক ও ক্লিয়ার টু ব্রাউন ট্রানজিশনস লেন্সসহ এইচএসটিএন লাইট কারি। কোম্পানির দাবি, এসব লেন্স বাইরের পরিবেশে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেবে।  সফটওয়্যার আপডেটে জোর দিচ্ছে মেটা এআই হার্ডওয়্যার আপডেটের পাশাপাশি মেটা এআই-সমর্থিত সফটওয়্যার ফিচারেও বড় জোর দিচ্ছে কোম্পানিটি। নতুন আপডেটের অংশ হিসেবে ব্যবহারকারীরা কেবল ভয়েস কমান্ড বা দ্রুত তোলা ছবির মাধ্যমে হ্যান্ডস-ফ্রি নিউট্রিশন ট্র্যাকিং ব্যবহার করতে পারবেন। মেটা এআই খাবারের পুষ্টিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে মেটা এআই অ্যাপের ফুড লগে তা যুক্ত করবে। সময়ের সঙ্গে এই লগ ব্যবহারকারীর অভ্যাস ও লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগতকৃত পরামর্শও দিতে পারবে।  এই পুষ্টি-ট্র্যাকিং সুবিধা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি রে-ব্যান মেটা ও ওকলি মেটা ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হবে। একই ফিচার গ্রীষ্মের শেষের দিকে মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে চশমার জন্যও আসবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আর্লি অ্যাক্সেস প্রোগ্রামে (ইএপি) যোগ হচ্ছে হ্যান্ডস-ফ্রি হোয়াটসঅ্যাপ সামারি ও রিকল ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী গ্রুপ চ্যাটের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ চাইতে পারবেন, কিংবা নির্দিষ্টভাবে জানতে পারবেন কোনো ব্যক্তি কী প্রস্তাব দিয়েছেন। মেটার তথ্য অনুযায়ী, এই ইন্টারঅ্যাকশনগুলো ডিভাইসের ভেতরেই প্রক্রিয়াজাত হবে এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন-এর কারণে ব্যক্তিগত থাকবে। মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে পাচ্ছে নিউরাল হ্যান্ডরাইটিং ও ডিসপ্লে রেকর্ডিং মেটা জানিয়েছে, নিউরাল হ্যান্ডরাইটিং ফিচার আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। এটি আইমেসেজ-এও সমর্থন পাবে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যেকোনো পৃষ্ঠে আঙুল চালিয়ে নিঃশব্দে বার্তার উত্তর দিতে পারবেন। ফিচারটি ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের নিজস্ব বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপেও কাজ করবে। এ ছাড়া শিগগিরই আসছে ডিসপ্লে রেকর্ডিং সুবিধা। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইন-লেন্স ডিসপ্লে ইন্টারঅ্যাকশন, বাইরের দৃশ্য ও অডিও একত্রে নিয়ে একটি শেয়ারযোগ্য ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। একই সঙ্গে মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব শহরে সম্প্রসারিত হচ্ছে পথচারী নেভিগেশন ফিচার, যাতে ব্যবহারকারীরা ফোন পকেটে রেখেই লেন্সের ভেতরে ধাপে ধাপে নির্দেশনা পেতে পারেন। এর আগে, ইনস্টাগ্রাম রিলস, স্পটিফাই শর্টকাটস ও রিমাইন্ডার, আবহাওয়া, স্টকস এবং ক্যালেন্ডারের মতো একনজরে দেখা যায় এমন উইজেটও যুক্ত করেছিল।
স্মার্ট প্রেসক্রিপশন চশমা আনল মেটা
পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের স্ক্রিন টাইম দিনে কতটুকু হওয়া উচিত
বর্তমান এ ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকার নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো। দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে একেবারেই স্ক্রিন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে পরিবার বা অভিভাবকের সঙ্গে একসঙ্গে কিছু ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম এ পরামর্শের ব্যতিক্রম হতে পারে। এই নির্দেশনা প্রণয়ন করেছে শিশুবিষয়ক কমিশনার র‍্যাচেল ডি সুজার নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল, যেখানে ছিলেন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রাসেল ভিনার।  যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেছেন, এই নির্দেশনা অভিভাবকদের জন্য সহায়ক হবে এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে। তার মতে, বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন করা কঠিন হয়ে উঠেছে, কারণ চারপাশে স্ক্রিনের প্রভাব অনেক বেশি এবং সঠিক পরামর্শও সবসময় স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সরকার অভিভাবকদের এই চ্যালেঞ্জে একা ফেলে দেবে না এবং শিশুদের সুস্থ অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। কী বলা হয়েছে নতুন নির্দেশনায় দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সম্ভব হলে এর চেয়েও কম রাখাই ভালো। এ ছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে: দ্রুতগতির ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া ধরনের কনটেন্ট এড়িয়ে চলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর খেলনা বা অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকা খাবারের সময় ও ঘুমের আগে স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা এর পরিবর্তে গল্প শোনা, ছবি আঁকা, টেবিল গেম বা হালকা সংগীতের মতো কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সঙ্গে বসে স্ক্রিন দেখা এবং সেই বিষয় নিয়ে কথা বলা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একা স্ক্রিন ব্যবহারের চেয়ে এটি বেশি উপকারী। স্ক্রিনের প্রভাব কতটা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশু দুই বছর বয়সেই নিয়মিত স্ক্রিন ব্যবহার শুরু করে। যেসব শিশু বেশি সময় স্ক্রিনে থাকে, তাদের ভাষা শেখার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় একা স্ক্রিনে থাকলে শিশুদের ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম, সৃজনশীল খেলা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। এগুলো শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম একভাবে প্রযোজ্য নয়। যারা স্ক্রিনভিত্তিক সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাদের জন্য আলাদা বিবেচনা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, অভিভাবকদের নিজেদের স্ক্রিন ব্যবহারের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। কারণ শিশুরা বড়দের দেখেই অভ্যাস গড়ে তোলে। তাই পরিবারে নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিনমুক্ত রাখা ভালো। মাইক ম্যাককিন, যিনি রয়্যাল কলেজ অফ পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের নীতিনির্ধারণ বিভাগের সহ-সভাপতি, বলেন ছোট বয়সের সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ছোট বয়সে স্ক্রিনের প্রভাব বেশি হওয়ায় সচেতনতা জরুরি। অভিভাবকদের জন্য মূল বিষয় হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা, কথা বলা, গল্প শোনা এবং পারিবারিক সময়কে গুরুত্ব দিলে তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের স্ক্রিন টাইম দিনে কতটুকু হওয়া উচিত
ব্লুটুথের যুগে আবার তারযুক্ত হেডফোনের ঝোঁক, কেন বাড়ছে এই আগ্রহ
একসময় মনে করা হয়েছিল, মোবাইল থেকে হেডফোন জ্যাক চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারযুক্ত হেডফোনও হারিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো উল্টো। আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তারযুক্ত হেডফোন। ভালো সাউন্ড, সহজ ব্যবহার আর প্রযুক্তির অতিরিক্ত জটিলতা থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা এই ফিরে আসার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সালে অ্যাপল (Apple) তাদের আইফোনে হেডফোন জ্যাক বাদ দেওয়ার পর অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্লুটুথ হেডফোনে চলে যান। পরে Google-সহ অন্যান্য কোম্পানিও একই পথে হাঁটে। ফলে তারযুক্ত হেডফোন যেন হারিয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বিক্রি বাড়ছে দ্রুত বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে তারযুক্ত হেডফোনের বিক্রি হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করে। ২০২৬ সালের শুরুতেই এই পণ্যের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অনেকেই আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরছেন। কেন আবার তারযুক্ত হেডফোন ভালো সাউন্ড কোয়ালিটি : বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দামে তারযুক্ত হেডফোনে সাধারণত ভালো সাউন্ড পাওয়া যায়। ব্লুটুথে সংযোগ সমস্যা বা কম্প্যাটিবিলিটির কারণে সাউন্ডের মান কমে যেতে পারে। কিন্তু তারযুক্ত হেডফোনে প্লাগ ইন করলেই সরাসরি কাজ করে। সহজ ব্যবহার : ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহার করতে গেলে চার্জ, পেয়ারিং, কানেকশন সমস্যা ইত্যাদি ঝামেলা থাকে। অনেক সময় ডিভাইস সংযুক্ত হতে দেরি হয় বা মাঝপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারযুক্ত হেডফোনে এসব সমস্যা নেই। প্রযুক্তি থেকে ক্লান্তি : অনেক ব্যবহারকারী মনে করছেন, প্রযুক্তি দিন দিন এত বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে যে মানুষ আবার সহজ জিনিসের দিকে ফিরছে। তারযুক্ত হেডফোন সেই সরল অভিজ্ঞতা দেয়, যেখানে বাড়তি কোনো সেটিংস বা ঝামেলা নেই। ফ্যাশন ও ট্রেন্ড : তারযুক্ত হেডফোন এখন শুধু একটি ডিভাইস নয়, অনেকের কাছে এটি স্টাইল স্টেটমেন্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তার ঝুলিয়ে রাখাকে এক ধরনের নান্দনিকতা হিসেবে দেখছেন। এমনকি আরিয়ানা গ্রান্দে (Ariana Grande) বা চার্লি এক্সসিএক্স (Charli XCX)-এর মতো তারকাদেরও এই ট্রেন্ডে দেখা গেছে। নির্ভরযোগ্যতা : ব্লুটুথ ডিভাইসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্যাটারি। হঠাৎ চার্জ শেষ হয়ে গেলে ব্যবহার করা যায় না। আবার ছোট ইয়ারবাড হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তারযুক্ত হেডফোনে এসব ঝামেলা নেই। পুরোনো প্রযুক্তির ফিরে আসা শুধু হেডফোন নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু পুরোনো প্রযুক্তি আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। যেমন ডিভিডি, ক্যাসেট, টাইপরাইটার বা পুরোনো টিভি। অনেকেই ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে বের হয়ে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন। ব্যবহার করতে গেলে কী সমস্যা তারযুক্ত হেডফোনে ফিরতে চাইলে একটি বড় প্রশ্ন হলো সংযোগ। এখন অনেক ফোনেই ৩.৫ মিমি জ্যাক নেই। তাই ইউএসবি বা লাইটনিং কেবলযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করতে হয়, অথবা আলাদা অ্যাডাপ্টার লাগতে পারে। ব্লুটুথ কি পুরোপুরি বাদ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লুটুথ হেডফোনও এখন অনেক উন্নত। ভালো মানের ডিভাইসে সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ ভালোই পাওয়া যায়। তাই এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়াই ভালো। তারযুক্ত হেডফোনের এই ফিরে আসা শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি ব্যবহারকারীর পছন্দ ও মানসিকতার পরিবর্তনের প্রতিফলন। সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং তুলনামূলক ভালো সাউন্ডের জন্য অনেকেই আবার তারে ফিরে যাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনটি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করে আপনার প্রয়োজনের ওপর। সুবিধা আর মানের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সূত্র : বিবিসি
ব্লুটুথের যুগে আবার তারযুক্ত হেডফোনের ঝোঁক, কেন বাড়ছে এই আগ্রহ
‘আলোচিত’ ফোল্ডেবল আইফোনের দাম কত হবে
স্মার্টফোনের জগতে আইফোনের অবস্থান সব সময়েই আলাদা। যথেষ্ট ব্যয়বহুল ডিভাইস হওয়ার পরও, প্রতি বছরই নতুন আইফোন বাজারে আসার সাথে সাথেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন আগ্রহী ক্রেতারা। চলতি বছরে অবশ্য এর এমন এক সংস্করণ আসার খবর রয়েছে, যেটি আইফোনের এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চলেছে। প্রযুক্তি বাজারে গরম খবর—ফোল্ড, বা ভাঁজ করা স্মার্টফোন নিয়ে আসছে অ্যাপল। এর নাম নিয়ে বিভিন্ন ধারণা থাকলেও আপাতত ‘আইফোন আলট্রা’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। রয়েছে। দামও হবে অন্যান্য ‘আইফোন’ এর চেয়ে অনেকটাই বেশি। প্রতি বছর জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর নতুন মডেল বাজারে আসার আগ দিয়ে বিভিন্ন গুজব, ফাঁস হওয়া ছবি বা টেকনোলজি বা স্পেসিফিকেশন নিয়ে খবর আসতেই থাকে। আর এ তালিকায় আইফোন বলতে গেলে সবার উপরে থাকে। এবারে কিন্তু এ খবর শুধুমাত্র আইফোনে নয়, অ্যাপল তার অন্যান্য কিছু প্রোডাক্টেও এই ‘আলট্রা’ ফিচার যুক্ত করবে। এর মধ্য ম্যাকবুক এবং এয়ারপডসও রয়েছে। এগুলো মূলত প্রযুক্তিপ্রেমী ও পেশাদার ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে উন্নত ফিচার ও পারফরম্যান্স দেওয়ার কথা চিন্তায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে। বলাই বাহুল্য, ‘আলট্রা’ মডেলগুলো বর্তমান ‘প্রো’ এর চেয়েও উচ্চমানের হবে এবং দামে আরও বেশি হতে পারে। ফোল্ডেবল স্মার্টফোন প্রযুক্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বহু আগেই কাজ করেছে। উন্নতির পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যাও অন্যান্য ফোনগুলোয় হয়েছে। অ্যাপল সেসব বিষয় বিবেচনায় রেখে নতুন মডেলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব, ডিভাইসের টেকসই হওয়া, নিখুঁত স্ক্রিন ইত্যাদি যদি নিশ্চিত করতে পারে; তাহলে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বাজারে বড় অবস্থান পাবে এটি। আরও কী কী প্রযুক্তির চমক এতে থাকবে, সে বিষয়ে এখনো টেক ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন ‘ধারণা’ থাকলেও, চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে মূল্য নির্ধারণ কৌশল ব্যবহার করে আসছে। অর্থাৎ বিভিন্ন স্তরের পণ্য দিয়ে ব্যবহারকারীদের একটু বেশি খরচ করে উন্নত মডেলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বাজারের গুঞ্জন অনুযায়ী, আইফোন আলট্রাতে থাকতে পারে ফোল্ডেবল ডিজাইন, বড় স্ক্রিন রেশিও এবং উন্নত মাল্টিটাস্কিং সুবিধা। প্রাথমিকভাবে এর সম্ভাব্য দাম প্রায় ২,৪০০ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। তারপর হয়তো স্টোরেজ বা অন্যান্য ফিচার সাপেক্ষে দাম আরও বাড়বে। সে হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমদিকে এটি কিনতে অন্তত ৩ লক্ষ টাকারও বেশি খরচা করতে হবে ক্রেতাদের। ‘আলট্রা’ মডেলটি চলে এলে বর্তমানের প্রিমিয়াম সংস্করণ ‘প্রো ম্যাক্স’ মধ্যম স্তরের বিবেচিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, আলট্রা সিরিজ চালুর মাধ্যমে অ্যাপল প্রিমিয়াম বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা করার সুযোগও পাবে কোম্পানিটি। একসময় স্টিভ জবস অ্যাপলের পণ্যের তালিকাকে খুব সহজ কাঠামোয় সাজিয়েছিলেন—সাধারণ ভোক্তা ও পেশাদার ব্যবহারকারী; ডেস্কটপ ও পোর্টেবল ডিভাইস। কিন্তু এখন অ্যাপলের পণ্যের তালিকা অনেক বড় ও বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন স্তরের পণ্য এনে অ্যাপল বাজারের বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করছে।  সূত্র: গিকি-গ্যাজেটস
‘আলোচিত’ ফোল্ডেবল আইফোনের দাম কত হবে
আইফোন ব্যবহারকারীদের ৩,০৭৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে অ্যাপল
আইফোন ব্যবহারকারীদের ৩,০৭৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে অ্যাপল
আইফোনে এআই ফিচার নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগে করা মামলা মেটাতে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইফোন ১৫ প্রো সিরিজ ও আইফোন ১৬ সিরিজ কেনা কিছু গ্রাহককে মোট ২৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া সমঝোতা প্রস্তাবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার করেনি। তবে ২০২৪ সালে করা একটি বড় ক্লাস অ্যাকশন মামলা নিষ্পত্তির জন্য এই অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, অ্যাপল তাদের এআই সুবিধা, বিশেষ করে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ও উন্নত সিরি নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করেছে। সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স অথবা আইফোন ১৬ সিরিজের যেকোনো মডেল কেনা গ্রাহকেরা ক্ষতিপূরণের আওতায় আসতে পারেন। যোগ্য গ্রাহকেরা প্রতি ডিভাইসের জন্য ২৫ ডলার পাবেন, তবে দাবি জমা দেওয়ার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে অঙ্কটি ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৫ ডলার প্রায় ১১ হাজার ৬৮৫ টাকা। মামলাকারী আইনজীবীদের অভিযোগ, অ্যাপল এমন কিছু এআই সুবিধার প্রচার করেছিল, যেগুলো তখন আইফোনে ছিল না। বিশেষ করে সিরিকে আরও ব্যক্তিগত, প্রাসঙ্গিক ও শক্তিশালী এআই সহকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আইফোন ১৬ বাজারে আসার সময় প্রতিশ্রুত উন্নত সিরি সুবিধাগুলো গ্রাহকেরা পাননি। আইনজীবীদের দাবি, অ্যাপল এমনভাবে প্রচার চালিয়েছিল যেন নতুন আইফোন কেনার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীরা উন্নত এআই-চালিত সিরির অভিজ্ঞতা পাবেন। তাদের ভাষায়, অ্যাপল এমন এআই সক্ষমতার কথা বলেছিল, যা সে সময় বাস্তবে ছিল না এবং এখনো পুরোপুরি আসেনি। অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলাটি অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের অনেক সুবিধার মধ্যে দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ছিল। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন পণ্য ও সেবা তৈরির কাজেই মনোযোগ রাখতে তারা বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। তবে অ্যাপল কোনো দায় স্বীকার করেনি। এ মামলার পেছনে আছে প্রযুক্তি দুনিয়ার চলমান এআই প্রতিযোগিতা। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিকসহ নতুন প্রজন্মের এআই প্রতিষ্ঠানের উত্থানের পর বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের পণ্যেও দ্রুত এআই সুবিধা যুক্ত করার চাপ অনুভব করছে। অ্যাপল ২০২৪ সালে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ঘোষণা করে সেই প্রতিযোগিতায় বড়ভাবে ঢোকার বার্তা দিয়েছিল। তবে ঘোষিত কিছু সুবিধা সময়মতো না আসায় গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে সিরির উন্নত সংস্করণ ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশি। অ্যাপলের প্রচারে সিরিকে সীমিত ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে ব্যক্তিগত এআই সহকারীতে রূপান্তরের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। সমঝোতাটি এখনো আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায়। আদালত অনুমোদন দিলে যোগ্য গ্রাহকেরা দাবি জমা দিয়ে ক্ষতিপূরণ নিতে পারবেন। কতজন দাবি করেন, তার ওপরই নির্ভর করবে প্রত্যেকে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ পাবেন। সূত্র: রয়টার্স
স্মার্ট প্রেসক্রিপশন চশমা আনল মেটা
স্মার্ট প্রেসক্রিপশন চশমা আনল মেটা
চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চশমা ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ‘প্রেসক্রিপশন-অপটিমাইজড এআই স্মার্ট চশমা’ এনেছে মেটা। চশমা জগতের বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘রে-বান’ এর সঙ্গে মিলে দুটি নতুন স্টাইলে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) এই চশমাগুলো এনেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। নতুন মডেল দুইটি হলো ‘রে-ব্যান মেটা ব্লেজার অপটিক্স (জেন ২)’ এবং ‘রে-ব্যান মেটা স্ক্রাইবার অপটিক্স (জেন ২)’ রে-ব্যান মেটা (জেন ২) এবং ওকলি মেটা সিরিজে সীমিত সময়ের জন্য নতুন ফ্রেম ও লেন্সের রংও যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিগগিরই আসছে হ্যান্ডস-ফ্রি নিউট্রিশন ট্র্যাকিং, মেটা এআই-নির্ভর হোয়াটসঅ্যাপ সামারি ও রিকল এবং নিউরাল হ্যান্ডরাইটিংয়ের মতো নতুন সফটওয়্যার ফিচার। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেটা জানিয়েছে, এর মাধ্যমে স্মার্ট চশমার বাজারে নতুন গতি আসবে। মেটা নিজেও রে-বানের সঙ্গে যৌথভাবে স্মার্ট চশমা বাজারজাত করছে। তবে এত দিন সেসব চশমার লেন্স চিকিৎসকের প্রেসক্রাইবড চশমা ছিল না। চশমা কেনার পর সেগুলোতে প্রেসক্রাইবড লেন্স লাগিয়ে নিতে হতো ব্যবহারকারীদের। তবে এখন গ্রাহকরা প্রেসক্রাইবড লেন্স সম্বলিত চশমা সরাসরি কিনতে পারবেন। নতুন অপটিক্স সিরিজের চশমাগুলোতে ওভারএক্সটেনশন হিঞ্জ, অদলবদলযোগ্য নোজ প্যাড এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সমন্বয়যোগ্য টেম্পল টিপস রাখা হয়েছে। যাতে ব্যবহারকারীর মুখের গঠন অনুযায়ী আরও আরামদায়ক ও মানানসই ফিট নিশ্চিত করা যায়। মেটার দাবি, এটি তাদের তৈরি সবচেয়ে আরামদায়ক এআই চশমা। যা সারাদিন পরার উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে।  নতুন রে-ব্যান মেটা ব্লেজার অপটিক্স (জেন ২) এবং রে-ব্যান মেটা স্ক্রাইবার অপটিক্স (জেন ২) যুক্তরাষ্ট্রে মেটা ডটকম ও রে-ব্যান ডটকমে প্রি-অর্ডারের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। দাম শুরু হচ্ছে ৪৯৯ ডলার থেকে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল থেকে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অপটিক্যাল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে এবং নির্বাচিত কিছু আন্তর্জাতিক বাজারেও পাওয়া যাবে।  নতুন রঙে আসছে রে-ব্যান মেটা ও ওকলি মেটা বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমকে সামনে রেখে রে-ব্যান মেটা (জেন ২) সিরিজেও নতুন রঙের সংমিশ্রণ আনছে মেটা। এর মধ্যে রয়েছে স্কাইলারের জন্য শাইনি ট্রান্সপারেন্ট পিচ ফ্রেমের সঙ্গে ট্রানজিশনস ব্রাউন লেন্স, হেডলাইনারের জন্য ম্যাট ট্রান্সপারেন্ট পিচ ফ্রেমের সঙ্গে ট্রানজিশনস গ্রে লেন্স এবং ওয়েফেয়ারারের জন্য শাইনি ট্রান্সপারেন্ট গ্রে ফ্রেমের সঙ্গে ট্রানজিশনস স্যাফায়ার লেন্স। অন্যদিকে ওকলি মেটা ভ্যানগার্ড ও এইচএসটিএন মডেলের জন্যও নতুন ফ্রেম ও লেন্স বিকল্প যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রিজম ব্ল্যাক লেন্সসহ ভ্যানগার্ড ব্ল্যাক, প্রিজম রোজ গোল্ড লেন্সসহ ভ্যানগার্ড হোয়াইট, প্রিজম ট্রানজিশনস এম্বার লেন্সসহ ভ্যানগার্ড ব্ল্যাক— যা বসন্তের শেষ দিকে আসবে। প্রিজম ডার্ক গলফ লেন্সসহ এইচএসটিএন ব্ল্যাক ও ক্লিয়ার টু ব্রাউন ট্রানজিশনস লেন্সসহ এইচএসটিএন লাইট কারি। কোম্পানির দাবি, এসব লেন্স বাইরের পরিবেশে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা দেবে।  সফটওয়্যার আপডেটে জোর দিচ্ছে মেটা এআই হার্ডওয়্যার আপডেটের পাশাপাশি মেটা এআই-সমর্থিত সফটওয়্যার ফিচারেও বড় জোর দিচ্ছে কোম্পানিটি। নতুন আপডেটের অংশ হিসেবে ব্যবহারকারীরা কেবল ভয়েস কমান্ড বা দ্রুত তোলা ছবির মাধ্যমে হ্যান্ডস-ফ্রি নিউট্রিশন ট্র্যাকিং ব্যবহার করতে পারবেন। মেটা এআই খাবারের পুষ্টিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে মেটা এআই অ্যাপের ফুড লগে তা যুক্ত করবে। সময়ের সঙ্গে এই লগ ব্যবহারকারীর অভ্যাস ও লক্ষ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগতকৃত পরামর্শও দিতে পারবে।  এই পুষ্টি-ট্র্যাকিং সুবিধা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি রে-ব্যান মেটা ও ওকলি মেটা ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হবে। একই ফিচার গ্রীষ্মের শেষের দিকে মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে চশমার জন্যও আসবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আর্লি অ্যাক্সেস প্রোগ্রামে (ইএপি) যোগ হচ্ছে হ্যান্ডস-ফ্রি হোয়াটসঅ্যাপ সামারি ও রিকল ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী গ্রুপ চ্যাটের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ চাইতে পারবেন, কিংবা নির্দিষ্টভাবে জানতে পারবেন কোনো ব্যক্তি কী প্রস্তাব দিয়েছেন। মেটার তথ্য অনুযায়ী, এই ইন্টারঅ্যাকশনগুলো ডিভাইসের ভেতরেই প্রক্রিয়াজাত হবে এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন-এর কারণে ব্যক্তিগত থাকবে। মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে পাচ্ছে নিউরাল হ্যান্ডরাইটিং ও ডিসপ্লে রেকর্ডিং মেটা জানিয়েছে, নিউরাল হ্যান্ডরাইটিং ফিচার আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মেটা রে-ব্যান ডিসপ্লে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। এটি আইমেসেজ-এও সমর্থন পাবে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যেকোনো পৃষ্ঠে আঙুল চালিয়ে নিঃশব্দে বার্তার উত্তর দিতে পারবেন। ফিচারটি ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের নিজস্ব বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপেও কাজ করবে। এ ছাড়া শিগগিরই আসছে ডিসপ্লে রেকর্ডিং সুবিধা। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইন-লেন্স ডিসপ্লে ইন্টারঅ্যাকশন, বাইরের দৃশ্য ও অডিও একত্রে নিয়ে একটি শেয়ারযোগ্য ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। একই সঙ্গে মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব শহরে সম্প্রসারিত হচ্ছে পথচারী নেভিগেশন ফিচার, যাতে ব্যবহারকারীরা ফোন পকেটে রেখেই লেন্সের ভেতরে ধাপে ধাপে নির্দেশনা পেতে পারেন। এর আগে, ইনস্টাগ্রাম রিলস, স্পটিফাই শর্টকাটস ও রিমাইন্ডার, আবহাওয়া, স্টকস এবং ক্যালেন্ডারের মতো একনজরে দেখা যায় এমন উইজেটও যুক্ত করেছিল।
পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের স্ক্রিন টাইম দিনে কতটুকু হওয়া উচিত
পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের স্ক্রিন টাইম দিনে কতটুকু হওয়া উচিত
বর্তমান এ ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকার নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো। দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে একেবারেই স্ক্রিন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে পরিবার বা অভিভাবকের সঙ্গে একসঙ্গে কিছু ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম এ পরামর্শের ব্যতিক্রম হতে পারে। এই নির্দেশনা প্রণয়ন করেছে শিশুবিষয়ক কমিশনার র‍্যাচেল ডি সুজার নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল, যেখানে ছিলেন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রাসেল ভিনার।  যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেছেন, এই নির্দেশনা অভিভাবকদের জন্য সহায়ক হবে এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে। তার মতে, বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন করা কঠিন হয়ে উঠেছে, কারণ চারপাশে স্ক্রিনের প্রভাব অনেক বেশি এবং সঠিক পরামর্শও সবসময় স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, সরকার অভিভাবকদের এই চ্যালেঞ্জে একা ফেলে দেবে না এবং শিশুদের সুস্থ অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। কী বলা হয়েছে নতুন নির্দেশনায় দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সম্ভব হলে এর চেয়েও কম রাখাই ভালো। এ ছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে: দ্রুতগতির ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া ধরনের কনটেন্ট এড়িয়ে চলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর খেলনা বা অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকা খাবারের সময় ও ঘুমের আগে স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা এর পরিবর্তে গল্প শোনা, ছবি আঁকা, টেবিল গেম বা হালকা সংগীতের মতো কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সঙ্গে বসে স্ক্রিন দেখা এবং সেই বিষয় নিয়ে কথা বলা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একা স্ক্রিন ব্যবহারের চেয়ে এটি বেশি উপকারী। স্ক্রিনের প্রভাব কতটা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশু দুই বছর বয়সেই নিয়মিত স্ক্রিন ব্যবহার শুরু করে। যেসব শিশু বেশি সময় স্ক্রিনে থাকে, তাদের ভাষা শেখার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় একা স্ক্রিনে থাকলে শিশুদের ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম, সৃজনশীল খেলা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। এগুলো শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম একভাবে প্রযোজ্য নয়। যারা স্ক্রিনভিত্তিক সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাদের জন্য আলাদা বিবেচনা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, অভিভাবকদের নিজেদের স্ক্রিন ব্যবহারের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। কারণ শিশুরা বড়দের দেখেই অভ্যাস গড়ে তোলে। তাই পরিবারে নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিনমুক্ত রাখা ভালো। মাইক ম্যাককিন, যিনি রয়্যাল কলেজ অফ পেডিয়াট্রিক্স অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের নীতিনির্ধারণ বিভাগের সহ-সভাপতি, বলেন ছোট বয়সের সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ছোট বয়সে স্ক্রিনের প্রভাব বেশি হওয়ায় সচেতনতা জরুরি। অভিভাবকদের জন্য মূল বিষয় হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা, কথা বলা, গল্প শোনা এবং পারিবারিক সময়কে গুরুত্ব দিলে তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
ব্লুটুথের যুগে আবার তারযুক্ত হেডফোনের ঝোঁক, কেন বাড়ছে এই আগ্রহ
ব্লুটুথের যুগে আবার তারযুক্ত হেডফোনের ঝোঁক, কেন বাড়ছে এই আগ্রহ
একসময় মনে করা হয়েছিল, মোবাইল থেকে হেডফোন জ্যাক চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারযুক্ত হেডফোনও হারিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো উল্টো। আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তারযুক্ত হেডফোন। ভালো সাউন্ড, সহজ ব্যবহার আর প্রযুক্তির অতিরিক্ত জটিলতা থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা এই ফিরে আসার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সালে অ্যাপল (Apple) তাদের আইফোনে হেডফোন জ্যাক বাদ দেওয়ার পর অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্লুটুথ হেডফোনে চলে যান। পরে Google-সহ অন্যান্য কোম্পানিও একই পথে হাঁটে। ফলে তারযুক্ত হেডফোন যেন হারিয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু কয়েক বছর পর চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বিক্রি বাড়ছে দ্রুত বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে তারযুক্ত হেডফোনের বিক্রি হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করে। ২০২৬ সালের শুরুতেই এই পণ্যের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অনেকেই আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরছেন। কেন আবার তারযুক্ত হেডফোন ভালো সাউন্ড কোয়ালিটি : বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দামে তারযুক্ত হেডফোনে সাধারণত ভালো সাউন্ড পাওয়া যায়। ব্লুটুথে সংযোগ সমস্যা বা কম্প্যাটিবিলিটির কারণে সাউন্ডের মান কমে যেতে পারে। কিন্তু তারযুক্ত হেডফোনে প্লাগ ইন করলেই সরাসরি কাজ করে। সহজ ব্যবহার : ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহার করতে গেলে চার্জ, পেয়ারিং, কানেকশন সমস্যা ইত্যাদি ঝামেলা থাকে। অনেক সময় ডিভাইস সংযুক্ত হতে দেরি হয় বা মাঝপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারযুক্ত হেডফোনে এসব সমস্যা নেই। প্রযুক্তি থেকে ক্লান্তি : অনেক ব্যবহারকারী মনে করছেন, প্রযুক্তি দিন দিন এত বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে যে মানুষ আবার সহজ জিনিসের দিকে ফিরছে। তারযুক্ত হেডফোন সেই সরল অভিজ্ঞতা দেয়, যেখানে বাড়তি কোনো সেটিংস বা ঝামেলা নেই। ফ্যাশন ও ট্রেন্ড : তারযুক্ত হেডফোন এখন শুধু একটি ডিভাইস নয়, অনেকের কাছে এটি স্টাইল স্টেটমেন্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তার ঝুলিয়ে রাখাকে এক ধরনের নান্দনিকতা হিসেবে দেখছেন। এমনকি আরিয়ানা গ্রান্দে (Ariana Grande) বা চার্লি এক্সসিএক্স (Charli XCX)-এর মতো তারকাদেরও এই ট্রেন্ডে দেখা গেছে। নির্ভরযোগ্যতা : ব্লুটুথ ডিভাইসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্যাটারি। হঠাৎ চার্জ শেষ হয়ে গেলে ব্যবহার করা যায় না। আবার ছোট ইয়ারবাড হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তারযুক্ত হেডফোনে এসব ঝামেলা নেই। পুরোনো প্রযুক্তির ফিরে আসা শুধু হেডফোন নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু পুরোনো প্রযুক্তি আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। যেমন ডিভিডি, ক্যাসেট, টাইপরাইটার বা পুরোনো টিভি। অনেকেই ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে বের হয়ে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজছেন। ব্যবহার করতে গেলে কী সমস্যা তারযুক্ত হেডফোনে ফিরতে চাইলে একটি বড় প্রশ্ন হলো সংযোগ। এখন অনেক ফোনেই ৩.৫ মিমি জ্যাক নেই। তাই ইউএসবি বা লাইটনিং কেবলযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করতে হয়, অথবা আলাদা অ্যাডাপ্টার লাগতে পারে। ব্লুটুথ কি পুরোপুরি বাদ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লুটুথ হেডফোনও এখন অনেক উন্নত। ভালো মানের ডিভাইসে সাউন্ড কোয়ালিটি বেশ ভালোই পাওয়া যায়। তাই এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়াই ভালো। তারযুক্ত হেডফোনের এই ফিরে আসা শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি ব্যবহারকারীর পছন্দ ও মানসিকতার পরিবর্তনের প্রতিফলন। সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং তুলনামূলক ভালো সাউন্ডের জন্য অনেকেই আবার তারে ফিরে যাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনটি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করে আপনার প্রয়োজনের ওপর। সুবিধা আর মানের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সূত্র : বিবিসি