বিশ্বজুড়ে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য, আসক্তি এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে একের পর এক দেশ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনার কথা ভাবছে।
এই ধারাবাহিকতায় এবার ১৪ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে অস্ট্রিয়া। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা কবে এবং কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অস্ট্রিয়ার উপ-চ্যান্সেলর আন্দ্রেয়াস বাবলার বলেছেন, সরকার আর চুপচাপ বসে থাকতে পারে না, যখন সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের আসক্ত করে তুলছে এবং তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
তিনি মনে করেন, শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের। তার মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়টি মদ বা তামাকের মতোই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত এবং এ ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নিয়ম থাকা প্রয়োজন।
তার ভাষায়, ভবিষ্যতে ১৪ বছরের নিচের শিশুদের এমন অ্যালগরিদম থেকে দূরে রাখা হবে, যা তাদের আসক্ত করে তোলে।
অস্ট্রিয়া একা নয়। ইতোমধ্যে আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা ক্ষতিকর কনটেন্ট শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা এসব উদ্যোগের মূল কারণ।
সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো দাবি করে, তাদের প্ল্যাটফর্মে ১৩ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের অনুমতি নেই। তবে বাস্তবে এই নিয়ম কতটা কার্যকরভাবে মানা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অনেক প্ল্যাটফর্মে অভিভাবক নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাতেও সমস্যার পুরো সমাধান হচ্ছে না।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করা। অস্ট্রিয়া সরকার এ জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সিস্টেম প্রস্তুত থাকলে তা ব্যবহার করা হতে পারে, না হলে দেশীয় পদ্ধতি তৈরি করা হবে।
এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে কিছু রাজনৈতিক নেতা বলছেন, এটি তরুণদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এই পরিকল্পনার পাশাপাশি অস্ট্রিয়া সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তনের কথাও বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে নতুন পাঠ যোগ করা এবং কিছু বিষয় কমিয়ে আনা।
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বিষয়টি এখন একটি বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে যেমন প্রযুক্তির সুবিধা রয়েছে, অন্যদিকে এর ঝুঁকিও কম নয়।
অস্ট্রিয়ার এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে, সরকারগুলো এখন শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন এবং সচেতনতার ওপর।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পরিবার, সমাজ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
সূত্র : বিবিসি




