বর্তমান প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড, জীবনের জটিল সামাজিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দিকে ঝুঁকছে। গবেষকরা বলছেন তরুণরা এআই ব্যবহার করে বন্ধুত্ব, সম্পর্ক বা কঠিন কথোপকথনের জন্য বার্তা তৈরি করছেন।
এই প্রবণতাকে বলা হয় সোশ্যাল অফলোডিং। মানে, ব্যক্তি নিজের অনুভূতি প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগের কাজগুলো সরাসরি না করে এআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করছে।
এআই ব্যবহার কীভাবে ঘটছে
কিছু ক্ষেত্রে তারা পুরো মেসেজ চেইন চ্যাটবটের কাছে অনুলিপি করে দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন অন্য ব্যক্তি কী ভাবছে
বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে
ড. মাইকেল রব, কমন সেন্স মিডিয়ার গবেষক, বলছেন এআই ব্যবহার করে বার্তা তৈরি করলে ব্যবহারকারীরা নিজের কণ্ঠের ওপর বিশ্বাস হারাতে পারে। বারবার এভাবে করলে সামাজিক সংকেত পড়ার, অন্যের অনুভূতি বোঝার এবং অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হয়
ড. মিশেল ডিব্লাসি, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জানান এআইয়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ তরুণদের অনুভূতিগত বিকাশকে থামাতে পারে। এটি একাকিত্ব বাড়ায় এবং বাস্তব সংযোগের অভ্যাস কমিয়ে দেয়
গবেষকরা মনে করছেন মহামারি এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির সংযোগ জেনারেশন জেড-এর সামাজিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে। মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষা, সীমিত সামাজিক মেলামেশা এবং ঘরে সময় কাটানো তরুণদের সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ কমিয়েছে
এতে তারা বাস্তব জীবনের সামাজিক সংকেত বোঝা, সম্পর্ক তৈরি এবং মানসিক যোগাযোগের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক সময় তারা এআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ সংযোগের মতো অনুভব পায়। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন এআই কখনও বাস্তব মানব সংযোগের বিকল্প হতে পারে না
যদিও অনেক তরুণ এআইয়ের ওপর নির্ভর করছেন, এখনও সামাজিক দক্ষতা শেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন-
ডিব্লাসি বলেন’ এই দক্ষতা চর্চার মাধ্যমে উন্নত করা যায়। ভয় বা ভুল কথা বলার চিন্তা হলেও বাস্তব কথোপকথনই সবচেয়ে কার্যকর
রব যোগ করেন সম্পর্ক এবং কথোপকথন কিছুটা জটিল হওয়াই স্বাভাবিক। এআই সব সময় ইতিবাচক বা একমত হবে। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার বিকল্প নয়
আজকের ডিজিটাল যুগে অনেক জেনারেশন জেড যুবক এআই ব্যবহার করে সামাজিক কথোপকথন পরিচালনা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন এটি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে
সূত্র : সিএনএন




