ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

পাকিস্তান সফর থেকে ছিটকে গেলেন সৌম্য, ডাক পেয়েছেন মিরাজ

স্পোর্টস ডেস্ক

  ২২ মে ২০২৫, ১৬:৫৭
সৌম্য সরকার ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ছবি : সংগৃহীত

পিঠের চোটে পাকিস্তান সফর থেকে ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনিং ব্যাটার সৌম্য সরকার। আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। সৌম্যের জায়গায় স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

গত এক সপ্তাহ ধরে পিঠের ডান পাশে ব্যথা অনুভব করছিলেন সৌম্য। জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানান, ‘চিকিৎসা পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, চোটের কারণে সৌম্যকে অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। সে অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তার খেলা সম্ভব নয়।’

এই চোট নতুন করে বাংলাদেশের স্কোয়াডের ভারসাম্য নিয়ে কিছুটা চিন্তা তৈরি করলেও বিসিবি দ্রুতই বিকল্প খুঁজে নিয়েছে।

সৌম্যের জায়গায় দলে ঢুকেছেন ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বর্তমানে লাহোর কালান্দার্স দলে পিএসএল খেলতে পাকিস্তানেই আছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দায়িত্ব শেষ হলেই তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

মিরাজ এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ২৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলেছেন। অফস্পিনের পাশাপাশি তার কার্যকর ব্যাটিং স্কিল থাকায় দলে ভারসাম্য আনবেন বলেই মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের কন্ডিশনের সঙ্গে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থাকা মিরাজ হতে পারেন এক্স-ফ্যাক্টর।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে ২৭ মে, লাহোরে। সৌম্যর অনুপস্থিতিতে ওপেনিং কম্বিনেশন কেমন হবে, আর মিরাজ কীভাবে একাদশে জায়গা করে নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই টেস্টকে বিদায় বলবেন ম্যাথুস
শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রিকেটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১৭ জুন গলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টেই শেষবারের মতো সাদা জার্সি গায়ে চাপাবেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। ২০০৯ সালে একই ভেন্যুতে অভিষেক হয়েছিল ম্যাথুসের। ১৬ বছর পর, ঠিক সেই গলে মাঠেই নামবেন নিজের ১১৯তম ও শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলতে। তবে টেস্টকে বিদায় বললেও ম্যাথুস জানিয়েছেন, সাদা বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলের জন্য উপলব্ধ থাকবেন তিনি। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ম্যাথুস লিখেছেন, ‘সময় হয়েছে বিদায় জানানোর, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটকে! আমি সবকিছু দিয়েছি এই ফরম্যাটকে, আর ক্রিকেটও আমাকে দিয়েছে অনেক কিছু—একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।’ ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান: টেস্ট ম্যাচ: ১১৮ মোট রান: ৮১৬৭ গড়: ৪৪.৬২ সেঞ্চুরি: ১৬ সর্বোচ্চ ইনিংস: ২০০* উইকেট: ৩৩ অধিনায়কত্ব: ৩৪ টেস্টে এই মুহূর্তে তিনি শ্রীলঙ্কার তৃতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক, কেবল সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে তার উপরে রয়েছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়টায় ম্যাথুস ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। এই সময়টায় তার ব্যাটিং গড় ছিল: ২০১৩: ৭৪.৬০ ২০১৪: ৭৭.৩৩ ২০১৫: ৪২.২৫ এই সময়ে ৬টি শতক ও ১২টি অর্ধশতক করেছিলেন তিনি। বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলিতে করা ১৬০ রানের ইনিংস, যা শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। সর্বশেষ সেঞ্চুরি এসেছে ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও (২০২২ ও ২০২৩) তার ব্যাটিং গড় ছিল ৫০-এর ওপরে। ‘শ্রীলঙ্কার অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীকে ধন্যবাদ জানাই, যারা সব সময় আমার পাশে ছিলেন—চূড়ান্ত সাফল্যের দিনে যেমন, তেমনই কঠিন সময়েও। আমার বিশ্বাস, এই টেস্ট দলটি প্রতিভায় ভরপুর। এখন সময় হয়েছে নতুন কাউকে জায়গা করে দেওয়ার, যেন সে দেশের জন্য আলো ছড়াতে পারে।’ ম্যাথুসের এই বিদায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের জন্য এক যুগের সমাপ্তি। কিন্তু একইসঙ্গে নতুনদের জন্য সুযোগ এনে দিচ্ছে। একদিকে যেমন তিনি রেখে যাচ্ছেন অতুলনীয় পরিসংখ্যান, তেমনি রেখে যাচ্ছেন দৃঢ়তা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই টেস্টকে বিদায় বলবেন ম্যাথুস
টেস্ট ইতিহাসে জো রুটের নতুন মাইলফলক
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক জো রুট আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে আধুনিক যুগের সেরা টেস্ট ব্যাটারদের একজন বলা হয়। বৃহস্পতিবার নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলমান চার দিনের টেস্টে তিনি গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড—টেস্ট ক্রিকেটে ১৩,০০০ রানে পৌঁছেছেন সবচেয়ে কম ম্যাচে। মাত্র ১৫৩তম টেস্টেই মাইলফলকে পৌঁছে তিনি টপকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি জ্যাক ক্যালিসকে, যিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন ১৫৯ ম্যাচে। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে রুট হলেন টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চম ক্রিকেটার যিনি ১৩ হাজার রান করেছেন এবং প্রথম ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে এই ক্লাবে প্রবেশ করলেন। রুট যখন দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন, তখন তার প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৮ রান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৮০তম ওভারে, ভিক্টর ন্যাওচির একটি বল ডিপ মিড-উইকেটে ঠেলে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন ঐতিহাসিক সেই সংখ্যা। সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন্ট ব্রিজের গ্যালারিতে উঠে দাঁড়িয়ে রুটকে অভিবাদন জানায় দর্শকরা। সতীর্থরাও অভিনন্দন জানান এই ব্যাটিং মাইলস্টোনের জন্য। কিংবদন্তিদের তালিকায় রুট জো রুটের আগে কেবল চারজন ব্যাটার পেরিয়েছেন ১৩ হাজার রানের গণ্ডি: নাম রান ম্যাচ ইনিংস শচীন টেন্ডুলকার (ভারত) ১৫,৯২১ ২০০ ৩২৯ রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া) ১৩,৩৭৮ ১৬৮ ২৮৭ জ্যাক ক্যালিস (দ.আফ্রিকা) ১৩,২৮৯ ১৬৬ ২৮০ রাহুল দ্রাবিড় (ভারত) ১৩,২৮৮ ১৬৪ ২৮৬ জো রুট (ইংল্যান্ড) ১৩,০০০* ১৫৩ ২৭৯ অবশ্য ইনিংসের হিসেবে রুট এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন। ২০১২ সালে নাগপুরে ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকেই টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে এক নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রুট। এখন পর্যন্ত: অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ২,০০০+ রান নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ – সবার বিপক্ষেই ১,০০০+ রান সবচেয়ে বেশি রান – ২৬২ (পাকিস্তানের বিপক্ষে) বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রুটের গড় সবচেয়ে বেশি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (৬২.৫৪), এরপর ভারতের বিপক্ষে (৫৮.০৮) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে (৫৬.০৩)। ২০ জুন থেকে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের হোম সিরিজে নামবে ইংল্যান্ড। এই সিরিজে রুটের সামনে দুটি বড় সুযোগ: রাহুল দ্রাবিড়কে টপকে টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৭,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা জো রুটের এই রেকর্ড শুধু সংখ্যার খেলা নয়, বরং এক দশকের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকতা, টেম্পারামেন্ট ও ক্লাসিক্যাল ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতি। ক্রিকেটবিশ্বে এমন ব্যাটার বিরল, যিনি প্রতিপক্ষ, কন্ডিশন আর সময়ের পরীক্ষায় এভাবে নিজেকে ছাপিয়ে যান।
টেস্ট ইতিহাসে জো রুটের নতুন মাইলফলক
যে পাঁচ কারণে আরব আমিরাতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ
শারজাহে শুরুতেই হোঁচট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-১ সিরিজ হারে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল। নামমাত্র প্রতিপক্ষ ভেবে যাত্রা শুরু করলেও সিরিজের শেষে এসে আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স—সব কিছুতেই দেখা গেল বড় রকমের ভাটা। কেন ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ? ইএসপিএন ক্রিকইনফো বের করেছে এরকম পাঁচটি কারণ। দেখে নেওয়া যাক সেগুলো— ভুল দৈর্ঘ্যে বল, উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ বোলাররা তিন ম্যাচে বাংলাদেশ ছক্কা হাঁকিয়েছে বেশি, কিন্তু বাউন্ডারি খেয়েছে বেশি। আর সেই ‘বাউন্ডারি ক্লাস্টার’-ই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে ইউএই-র পক্ষে। মোহাম্মদ ওয়াসিম ও আসিফ খান স্পষ্টতই বলার আগেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন কোন দিকে খেলতে চান। কিন্তু তারপরও মেহেদী হাসান, তানভীর ইসলাম কিংবা নাহিদ রানারা বারবার শর্ট বা ওয়াইড ডেলিভারিতে সুযোগ করে দিয়েছেন ব্যাটারদের জন্য। শরীফুল ইসলাম ভালো শুরু করলেও ইনিংসের মাঝপথে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। তানজিম হাসান আবার বল ধরতেই পারছিলেন না, অতিরিক্ত স্লিপ নিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শিশির সামলেছে ইউএই, অভিযোগেই ব্যস্ত বাংলাদেশ আরব আমিরাত স্পিনার হায়দার আলী জানিয়েছেন যে ইউএই বোলাররা শিশিরে বল করার অনুশীলন করেন নিয়মিত। বাংলাদেশ এই বাস্তব প্রস্তুতিটুকুও নেয়নি। বরং প্রতি ম্যাচের পর লিটন দাসের শিশির-অভিযোগই শিরোনামে এসেছে। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ হারানোর সময় শিশির ছিল না, কন্ডিশন ছিল বাংলাদেশের অনুকূলে। সেই সুবিধা শারজাহতে না থাকায় দলের দুর্বলতা প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। ব্যাটিং-এ চমক, তবে ধারাবাহিকতা ছিল না বাংলাদেশ দুই ম্যাচে ১৯১ ও ২০৫ রান তুললেও ব্যাটিংয়ে ছিল মারাত্মক অস্থিরতা। পারভেজ ইমন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করলেও ধারাবাহিক ছিলেন না। তানজিদ হাসান তিন ম্যাচেই শুরুটা ভালো করেছিলেন, কিন্তু ফিনিশিংয়ে ঘাটতি ছিল। লিটন দাস ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন, কিন্তু তৌহিদ হৃদয় তৃতীয় ম্যাচে দলের বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি। নাজমুল হোসেন শান্ত পেলেন শুধু এক ম্যাচে সুযোগ। অন্যদিকে মাহেদী ও শামীম হোসেন নামের পাশে শুধুই ‘হিট অ্যান্ড মিস’। মোস্তাফিজের অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা প্রথম ম্যাচে ২/১৭—এই মোস্তাফিজকেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে পাওয়া যায়নি, কারণ তিনি রওনা দেন আইপিএল-এ দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলতে। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার চলে যাওয়ার পর দেখা গেছে অভাবনীয় ধস। বাকি পেসাররা চাপে ভেঙে পড়েছেন। পাকিস্তান সফরের আগে আত্মবিশ্বাসে বড় দাগ বাংলাদেশের চিন্তা ছিল পাকিস্তান সফর নিয়ে। কিন্তু তার আগেই টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫ নম্বরে থাকা ইউএই-এর বিপক্ষে হার দলকে মানসিকভাবে চূর্ণ করে দিয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও সিরিজ হার—এমন খারাপ স্মৃতি নিয়ে এবার খেলতে হচ্ছে লাহোরে, আরও কঠিন কন্ডিশনে। পাকিস্তান, ইউএই নয়—তাদের বিপক্ষে এমন ভুলের কোনো জায়গা নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন প্রশ্ন একটাই: এই ধাক্কা সামলে উঠবে কীভাবে? শারজাহতে হারের দায় কার, পরিকল্পনার অভাব কোথায়, আর বাস্তবতা মেনে নিজেদের গুছিয়ে নিতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ—এই উত্তরগুলোর খোঁজ এবার লাহোরে দিতে হবে।
যে পাঁচ কারণে আরব আমিরাতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ
কোহলি-রোহিতকে নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন গম্ভীর
ভারতীয় ক্রিকেটের এক যুগের অবসান। টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। এই নিয়ে জল্পনা-আলোচনা তুঙ্গে থাকলেও এতদিন নীরব ছিলেন গৌতম গম্ভীর। এবার ভারতের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি জানিয়ে দিলেন—‘এই সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কারোরই অধিকার নেই তা নির্ধারণ করার।’ ভারতের ইংল্যান্ড সফরের আগে CNN-News18-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেন, ‘যখন আপনি খেলাটি শুরু করেন এবং কখন শেষ করবেন, সেটি একান্তই আপনার নিজের সিদ্ধান্ত। কোচ হোক বা নির্বাচক—এমনকি দেশের কেউই—এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে না। এটি একান্তই হৃদয় থেকে আসা একটি অনুভব।’ এই মাসের শুরুতেই দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারকে বিদায় জানান রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। একজন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং স্তম্ভ, অন্যজন ক্যাপ্টেন হিসেবে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। গম্ভীর স্বীকার করেন, ‘ওদের অভিজ্ঞতা মিস করব আমরা। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তটাই অন্যদের জন্য সুযোগ হয়ে উঠতে পারে নিজেকে প্রমাণ করার।’ গম্ভীর আরও মনে করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল ভারত, যেখানে দলে ছিলেন না তারকা পেসার জাসপ্রীত বুমরাহ। অর্থাৎ, সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতেও দল সফল হতে পারে, এমনটা প্রমাণ করেছে ভারত। ‘কারও না থাকা মানেই শেষ নয়। হয়তো সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কেউ অসাধারণ কিছু করে ফেলবে দেশের জন্য,’—যোগ করেন গম্ভীর। ২০ জুন লিডসে শুরু হচ্ছে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এই সিরিজে টিম ইন্ডিয়ার নতুন টেস্ট অধিনায়ক কে হবেন, তা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। শনিবার বিসিসিআই নতুন অধিনায়ক ও পূর্ণ টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করবে বলে খবর। এ সময় গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন বলেও জানানো হয়েছে। রোহিত-কোহলি যুগের অবসান, তবে ভারতের ক্রিকেট এগিয়ে চলার গল্প থেমে নেই। গম্ভীরের কথায় যেমন স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস, তেমনই উঁকি দেয় ভবিষ্যতের সম্ভাবনার আলো।
কোহলি-রোহিতকে নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন গম্ভীর
জাতীয় দল নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেই ভবিষ্যৎ দেখছেন সাকিব
প্রায় ছয় মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। আর সেই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হলো পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। যদিও প্রথম ম্যাচে ছিলেন নিস্প্রভ, তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই পুরনো চেহারায় ধরা দিয়েছেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। রাজনৈতিক টানাপোড়েন, নিষেধাজ্ঞা, ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ—পেছনের কয়েক মাসে মাঠের বাইরের এক কঠিন অধ্যায় পার করেছেন সাকিব। তবে এখন তার চোখ মাঠেই, আর নতুন করে শুরু করছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দিয়ে। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলছেন সাকিব। দলে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, শাহীন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ, ফখর জামানদের মতো তারকারাও। দলটির ড্রেসিংরুমের পরিবেশে বেশ স্বস্তিতেই আছেন সাকিব। ‘লাহোরের আবহটা চমৎকার। এখন অনেক দারুণ ফাস্ট বোলারের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করছি। এটা খুবই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা,’ জিও টিভিকে বলেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর মাঠে ফেরায় সাকিব বলছেন, এই ফেরাটা তার জন্য বিশেষ। তিনি বলেন, ‘অনেকদিন পর খেলায় ফিরলে শরীর ও মানসিকভাবে নিজেকে বুঝতে হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো আমার জন্য ভালো সুযোগ।’ এখানেই থেমে থাকেননি। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন চারদিকে প্রশ্ন, তখন নিজের অবস্থানও পরিস্কার করেছেন সাকিব: ‘এই মুহূর্তে আমি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই মনোযোগ দিতে চাই। সামনের কয়েক মাসে কী হবে জানি না, তবে চুক্তি অনুযায়ী লিগগুলোতে খেলব।’ পিএসএলে আগেও খেলেছেন সাকিব, তবে এবারের অভিজ্ঞতা তাকে আরও বেশি মুগ্ধ করেছে। ‘লিগটির মান অনেক বেড়েছে। আগেও এসেছি, অভিজ্ঞতা সবসময় ভালো ছিল। কিন্তু গত দশ বছরে এটি আরও পরিণত হয়েছে।’ সামনেই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। যদিও স্কোয়াডে নেই সাকিব, তবু খেলার দিকে থাকছে তার নজর। ‘সিরিজটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে। দুই দলেই তরুণরা ভালো কিছু করতে মুখিয়ে আছে। আমিও এই সিরিজটা দেখার অপেক্ষায় আছি।’ ব্যক্তিগত ঝড় সামলে আবারও মাঠে ফিরেছেন সাকিব। জাতীয় দলে ফেরা হোক বা না হোক, তাঁর লক্ষ্য এখন স্পষ্ট—দুনিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিজের অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স দিয়ে আলো ছড়ানো। পিএসএল দিয়ে শুরুটা ইতিবাচক হলে, সামনে আরও অনেক কিছুই দেখার বাকি।
জাতীয় দল নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেই ভবিষ্যৎ দেখছেন সাকিব
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই টেস্টকে বিদায় বলবেন ম্যাথুস
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই টেস্টকে বিদায় বলবেন ম্যাথুস
শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রিকেটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১৭ জুন গলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টেই শেষবারের মতো সাদা জার্সি গায়ে চাপাবেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। ২০০৯ সালে একই ভেন্যুতে অভিষেক হয়েছিল ম্যাথুসের। ১৬ বছর পর, ঠিক সেই গলে মাঠেই নামবেন নিজের ১১৯তম ও শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলতে। তবে টেস্টকে বিদায় বললেও ম্যাথুস জানিয়েছেন, সাদা বলের ক্রিকেটে জাতীয় দলের জন্য উপলব্ধ থাকবেন তিনি। এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ম্যাথুস লিখেছেন, ‘সময় হয়েছে বিদায় জানানোর, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটকে! আমি সবকিছু দিয়েছি এই ফরম্যাটকে, আর ক্রিকেটও আমাকে দিয়েছে অনেক কিছু—একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।’ ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান: টেস্ট ম্যাচ: ১১৮ মোট রান: ৮১৬৭ গড়: ৪৪.৬২ সেঞ্চুরি: ১৬ সর্বোচ্চ ইনিংস: ২০০* উইকেট: ৩৩ অধিনায়কত্ব: ৩৪ টেস্টে এই মুহূর্তে তিনি শ্রীলঙ্কার তৃতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক, কেবল সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে তার উপরে রয়েছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়টায় ম্যাথুস ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। এই সময়টায় তার ব্যাটিং গড় ছিল: ২০১৩: ৭৪.৬০ ২০১৪: ৭৭.৩৩ ২০১৫: ৪২.২৫ এই সময়ে ৬টি শতক ও ১২টি অর্ধশতক করেছিলেন তিনি। বিশেষভাবে স্মরণীয় ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলিতে করা ১৬০ রানের ইনিংস, যা শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। সর্বশেষ সেঞ্চুরি এসেছে ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও (২০২২ ও ২০২৩) তার ব্যাটিং গড় ছিল ৫০-এর ওপরে। ‘শ্রীলঙ্কার অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীকে ধন্যবাদ জানাই, যারা সব সময় আমার পাশে ছিলেন—চূড়ান্ত সাফল্যের দিনে যেমন, তেমনই কঠিন সময়েও। আমার বিশ্বাস, এই টেস্ট দলটি প্রতিভায় ভরপুর। এখন সময় হয়েছে নতুন কাউকে জায়গা করে দেওয়ার, যেন সে দেশের জন্য আলো ছড়াতে পারে।’ ম্যাথুসের এই বিদায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের জন্য এক যুগের সমাপ্তি। কিন্তু একইসঙ্গে নতুনদের জন্য সুযোগ এনে দিচ্ছে। একদিকে যেমন তিনি রেখে যাচ্ছেন অতুলনীয় পরিসংখ্যান, তেমনি রেখে যাচ্ছেন দৃঢ়তা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার দৃষ্টান্ত।
টেস্ট ইতিহাসে জো রুটের নতুন মাইলফলক
টেস্ট ইতিহাসে জো রুটের নতুন মাইলফলক
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক জো রুট আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে আধুনিক যুগের সেরা টেস্ট ব্যাটারদের একজন বলা হয়। বৃহস্পতিবার নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলমান চার দিনের টেস্টে তিনি গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড—টেস্ট ক্রিকেটে ১৩,০০০ রানে পৌঁছেছেন সবচেয়ে কম ম্যাচে। মাত্র ১৫৩তম টেস্টেই মাইলফলকে পৌঁছে তিনি টপকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি জ্যাক ক্যালিসকে, যিনি এই রেকর্ড গড়েছিলেন ১৫৯ ম্যাচে। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে রুট হলেন টেস্ট ইতিহাসে পঞ্চম ক্রিকেটার যিনি ১৩ হাজার রান করেছেন এবং প্রথম ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে এই ক্লাবে প্রবেশ করলেন। রুট যখন দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন, তখন তার প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৮ রান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৮০তম ওভারে, ভিক্টর ন্যাওচির একটি বল ডিপ মিড-উইকেটে ঠেলে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন ঐতিহাসিক সেই সংখ্যা। সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন্ট ব্রিজের গ্যালারিতে উঠে দাঁড়িয়ে রুটকে অভিবাদন জানায় দর্শকরা। সতীর্থরাও অভিনন্দন জানান এই ব্যাটিং মাইলস্টোনের জন্য। কিংবদন্তিদের তালিকায় রুট জো রুটের আগে কেবল চারজন ব্যাটার পেরিয়েছেন ১৩ হাজার রানের গণ্ডি: নাম রান ম্যাচ ইনিংস শচীন টেন্ডুলকার (ভারত) ১৫,৯২১ ২০০ ৩২৯ রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া) ১৩,৩৭৮ ১৬৮ ২৮৭ জ্যাক ক্যালিস (দ.আফ্রিকা) ১৩,২৮৯ ১৬৬ ২৮০ রাহুল দ্রাবিড় (ভারত) ১৩,২৮৮ ১৬৪ ২৮৬ জো রুট (ইংল্যান্ড) ১৩,০০০* ১৫৩ ২৭৯ অবশ্য ইনিংসের হিসেবে রুট এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন। ২০১২ সালে নাগপুরে ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকেই টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে এক নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রুট। এখন পর্যন্ত: অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ২,০০০+ রান নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ – সবার বিপক্ষেই ১,০০০+ রান সবচেয়ে বেশি রান – ২৬২ (পাকিস্তানের বিপক্ষে) বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রুটের গড় সবচেয়ে বেশি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (৬২.৫৪), এরপর ভারতের বিপক্ষে (৫৮.০৮) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে (৫৬.০৩)। ২০ জুন থেকে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের হোম সিরিজে নামবে ইংল্যান্ড। এই সিরিজে রুটের সামনে দুটি বড় সুযোগ: রাহুল দ্রাবিড়কে টপকে টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৭,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা জো রুটের এই রেকর্ড শুধু সংখ্যার খেলা নয়, বরং এক দশকের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকতা, টেম্পারামেন্ট ও ক্লাসিক্যাল ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতি। ক্রিকেটবিশ্বে এমন ব্যাটার বিরল, যিনি প্রতিপক্ষ, কন্ডিশন আর সময়ের পরীক্ষায় এভাবে নিজেকে ছাপিয়ে যান।
যে পাঁচ কারণে আরব আমিরাতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ
যে পাঁচ কারণে আরব আমিরাতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ
শারজাহে শুরুতেই হোঁচট। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-১ সিরিজ হারে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল। নামমাত্র প্রতিপক্ষ ভেবে যাত্রা শুরু করলেও সিরিজের শেষে এসে আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স—সব কিছুতেই দেখা গেল বড় রকমের ভাটা। কেন ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ? ইএসপিএন ক্রিকইনফো বের করেছে এরকম পাঁচটি কারণ। দেখে নেওয়া যাক সেগুলো— ভুল দৈর্ঘ্যে বল, উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ বোলাররা তিন ম্যাচে বাংলাদেশ ছক্কা হাঁকিয়েছে বেশি, কিন্তু বাউন্ডারি খেয়েছে বেশি। আর সেই ‘বাউন্ডারি ক্লাস্টার’-ই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে ইউএই-র পক্ষে। মোহাম্মদ ওয়াসিম ও আসিফ খান স্পষ্টতই বলার আগেই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন কোন দিকে খেলতে চান। কিন্তু তারপরও মেহেদী হাসান, তানভীর ইসলাম কিংবা নাহিদ রানারা বারবার শর্ট বা ওয়াইড ডেলিভারিতে সুযোগ করে দিয়েছেন ব্যাটারদের জন্য। শরীফুল ইসলাম ভালো শুরু করলেও ইনিংসের মাঝপথে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। তানজিম হাসান আবার বল ধরতেই পারছিলেন না, অতিরিক্ত স্লিপ নিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শিশির সামলেছে ইউএই, অভিযোগেই ব্যস্ত বাংলাদেশ আরব আমিরাত স্পিনার হায়দার আলী জানিয়েছেন যে ইউএই বোলাররা শিশিরে বল করার অনুশীলন করেন নিয়মিত। বাংলাদেশ এই বাস্তব প্রস্তুতিটুকুও নেয়নি। বরং প্রতি ম্যাচের পর লিটন দাসের শিশির-অভিযোগই শিরোনামে এসেছে। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ হারানোর সময় শিশির ছিল না, কন্ডিশন ছিল বাংলাদেশের অনুকূলে। সেই সুবিধা শারজাহতে না থাকায় দলের দুর্বলতা প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। ব্যাটিং-এ চমক, তবে ধারাবাহিকতা ছিল না বাংলাদেশ দুই ম্যাচে ১৯১ ও ২০৫ রান তুললেও ব্যাটিংয়ে ছিল মারাত্মক অস্থিরতা। পারভেজ ইমন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করলেও ধারাবাহিক ছিলেন না। তানজিদ হাসান তিন ম্যাচেই শুরুটা ভালো করেছিলেন, কিন্তু ফিনিশিংয়ে ঘাটতি ছিল। লিটন দাস ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন, কিন্তু তৌহিদ হৃদয় তৃতীয় ম্যাচে দলের বিপর্যয় ঠেকাতে পারেননি। নাজমুল হোসেন শান্ত পেলেন শুধু এক ম্যাচে সুযোগ। অন্যদিকে মাহেদী ও শামীম হোসেন নামের পাশে শুধুই ‘হিট অ্যান্ড মিস’। মোস্তাফিজের অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা প্রথম ম্যাচে ২/১৭—এই মোস্তাফিজকেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে পাওয়া যায়নি, কারণ তিনি রওনা দেন আইপিএল-এ দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলতে। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার চলে যাওয়ার পর দেখা গেছে অভাবনীয় ধস। বাকি পেসাররা চাপে ভেঙে পড়েছেন। পাকিস্তান সফরের আগে আত্মবিশ্বাসে বড় দাগ বাংলাদেশের চিন্তা ছিল পাকিস্তান সফর নিয়ে। কিন্তু তার আগেই টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫ নম্বরে থাকা ইউএই-এর বিপক্ষে হার দলকে মানসিকভাবে চূর্ণ করে দিয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও সিরিজ হার—এমন খারাপ স্মৃতি নিয়ে এবার খেলতে হচ্ছে লাহোরে, আরও কঠিন কন্ডিশনে। পাকিস্তান, ইউএই নয়—তাদের বিপক্ষে এমন ভুলের কোনো জায়গা নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন প্রশ্ন একটাই: এই ধাক্কা সামলে উঠবে কীভাবে? শারজাহতে হারের দায় কার, পরিকল্পনার অভাব কোথায়, আর বাস্তবতা মেনে নিজেদের গুছিয়ে নিতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ—এই উত্তরগুলোর খোঁজ এবার লাহোরে দিতে হবে।
কোহলি-রোহিতকে নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন গম্ভীর
কোহলি-রোহিতকে নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন গম্ভীর
ভারতীয় ক্রিকেটের এক যুগের অবসান। টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। এই নিয়ে জল্পনা-আলোচনা তুঙ্গে থাকলেও এতদিন নীরব ছিলেন গৌতম গম্ভীর। এবার ভারতের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি জানিয়ে দিলেন—‘এই সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কারোরই অধিকার নেই তা নির্ধারণ করার।’ ভারতের ইংল্যান্ড সফরের আগে CNN-News18-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেন, ‘যখন আপনি খেলাটি শুরু করেন এবং কখন শেষ করবেন, সেটি একান্তই আপনার নিজের সিদ্ধান্ত। কোচ হোক বা নির্বাচক—এমনকি দেশের কেউই—এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাখে না। এটি একান্তই হৃদয় থেকে আসা একটি অনুভব।’ এই মাসের শুরুতেই দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারকে বিদায় জানান রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। একজন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং স্তম্ভ, অন্যজন ক্যাপ্টেন হিসেবে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন। গম্ভীর স্বীকার করেন, ‘ওদের অভিজ্ঞতা মিস করব আমরা। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তটাই অন্যদের জন্য সুযোগ হয়ে উঠতে পারে নিজেকে প্রমাণ করার।’ গম্ভীর আরও মনে করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল ভারত, যেখানে দলে ছিলেন না তারকা পেসার জাসপ্রীত বুমরাহ। অর্থাৎ, সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতেও দল সফল হতে পারে, এমনটা প্রমাণ করেছে ভারত। ‘কারও না থাকা মানেই শেষ নয়। হয়তো সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কেউ অসাধারণ কিছু করে ফেলবে দেশের জন্য,’—যোগ করেন গম্ভীর। ২০ জুন লিডসে শুরু হচ্ছে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এই সিরিজে টিম ইন্ডিয়ার নতুন টেস্ট অধিনায়ক কে হবেন, তা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। শনিবার বিসিসিআই নতুন অধিনায়ক ও পূর্ণ টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করবে বলে খবর। এ সময় গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন বলেও জানানো হয়েছে। রোহিত-কোহলি যুগের অবসান, তবে ভারতের ক্রিকেট এগিয়ে চলার গল্প থেমে নেই। গম্ভীরের কথায় যেমন স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস, তেমনই উঁকি দেয় ভবিষ্যতের সম্ভাবনার আলো।