ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর অবস্থান

কালবেলা ডেস্ক

  ২২ মে ২০২৫, ২২:৫৪

জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সেনানিবাসের অভ্যন্তরে প্রাণ রক্ষার্থে আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২২ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর কতিপয় কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়। ফলে সরকারি দপ্তর, থানাসমূহে হামলা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর আক্রমণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি, ডাকাতিসহ বিবিধ বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এ ধরনের সংবেদনশীল ও নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের মনে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম নেয়।

এ অবস্থায় ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব সেনানিবাসে প্রাণ রক্ষার্থে কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা আশ্রয় প্রার্থনা করেন। উদ্ভূত আকস্মিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের পরিচয় যাচাই বাছাই করার চাইতে তাদের জীবন রক্ষা করা প্রাধান্য পেয়েছিল।

এ প্রেক্ষিতে ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বিবিধ ১২ জন ও ৫১ জন পরিবার-পরিজন (স্ত্রী ও শিশু)-সহ সর্বমোট ৬২৬ জনকে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রদান করা হয়েছিল। সে সময়ে শুধু মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে আশ্রয় প্রার্থীদের জীবন রক্ষা করাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। পরিস্থিতি উন্নয়ন সাপেক্ষে, আশ্রয় গ্রহণকারীদের বেশির ভাগই ১/২ দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন এবং এর মধ্যে ৫ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ/মামলার ভিত্তিতে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়।’

সেনানিবাসে অবস্থানকারী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপারে গত ১৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং একই দিনে ১৯৩ জন ব্যক্তিবর্গের একটি তালিকা (৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য ও ১ জন এনএসআই সদস্য ব্যতীত) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়- যা ছিল একটি মীমাংসিত বিষয়। সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থী এসব ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার্থে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাময়িক আশ্রয় প্রদান করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, তৎকালীন বিরাজমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সেনানিবাসের অভ্যন্তরে প্রাণ রক্ষার্থে আশ্রয় গ্রহণকারী ৬২৬ জন ব্যক্তিবর্গের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা (৪৩২ জন সাধারণ পুলিশ সদস্য ও ১ জন এনএসআই সদস্যসহ) এই প্রেস বিজ্ঞপ্তির সাথে সংযুক্ত করা হলো।

এ অবস্থায়, সকলকে এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আস্থার সাথে জাতির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতার পদত্যাগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন লোহাগাড়ার আবদুল হাফিজ। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাত ১০টার সময় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে একটি পোস্ট দেন। আবদুল হাফিজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের রশিদার ঘোনা এলাকায়। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়কের উদ্দেশে আবদুল হাফিজ লেখেন, আমি আপনার সংগঠনের একজন একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে বিগত সময়গুলোতে কাজ করে গেছি এবং জুলাইয়ের স্পিরিটকে ধারণ করে শহীদ ভাই ও বোনদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তবে ব্যক্তিগত কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে আমি এই পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। জানতে চাইলে আবদুল হাফিজ বলেন, ‘৫ আগস্টের পরপর আমাদের প্রতি মানুষের যে সম্মান, আলাদা একটা ভালোবাসা ছিল, সেটি এখন নেই। জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর পারস্পরিক বিভাজন আমাকে হতাশ করেছে। আমার দলের কোনো অপকর্ম গায়ে মাখতে চাচ্ছি না। এখন থেকে পড়াশোনা, পারিবারিক ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই। তাই পদত্যাগ করেছি।’ দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক জুবাইর হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাফিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেখেছি। এরই মধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছি। ব্যক্তিগত কারণে সে পদত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছে। সে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র দেয়নি। এ বিষয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। কমিটির মধ্যে কেউ যদি অপকর্ম করে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতার পদত্যাগ
তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না : ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ
তারেক রহমান ও বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনুসের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের কেউ কেউ অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের দালালি করেছেন। আজ তারাই বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলছেন। এই ধৃষ্টতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’ শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে সাভারের কলমা এলাকার সেবাকুঞ্জ অডিটোরিয়ামে ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার বিষয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, ‘তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাজধানীকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনে সব নেতাকর্মীকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।’ গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে মুরাদ বলেন, ‘বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হলে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।’ এ সময় তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তরুণদের দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাভার থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শহীদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোকাররম হোসেন সাজ্জাদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. ফজলুল হক বেলায়েতি, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জুয়েল, যুবদল নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন এবং যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর মন্ডল ও মোজাম্মেল হক মন্ডলসহ সাভার থানা যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না : ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের শিডিউল / সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন আ.লীগের এমপি হতে চাওয়া আইনজীবী
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মী হোসাইন মোহাম্মদ আনোয়ারের পক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ মে) এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। নোটিশে এক সপ্তাহের মধ্য ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা দাবি জানানো হয়। আইনজীবী রিগ্যান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।  এরইমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আইনজীবীকে দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ায় এনসিপির ওই কর্মীকে নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, ‘আওয়ামী লীগ-এনসিপি একট্টা।’ নির্বাচনের দাবিতে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, ‘হোসাইন মো. আনোয়ার একজন সচেতন নাগরিক। জুলাই আন্দোলনের সাংগঠক ও এনসিপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রাজনৈতিক কর্মী। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোশনের নির্বাচন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত সিটি করপোরেশন তালা বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে করে জনহয়রানি ও ভোগান্তি বাড়ছে।  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মো. শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়াদ শুরু হয় ২০২০ সালের ১৬ মে। আর তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যায়। ঢাকা উত্তরের আতিকুল ইসলাম কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালের ১৬ মে। তিনিও গতবছরের ৫ আগস্ট পালিয়ে যায় এবং পরে গ্রেপ্তার হন। পরে ২০২৪ সালের ১৯ আগষ্ট দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কার্যকালের মেয়াদ উত্তীণ হয়েছে চলতি বছরের ১৫ মে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অন্তত ২ কোটি জনগণ বাস করে। যদি নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকে তাহলে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কষ্ট সাধ্য। এতে এ বিশাল জনগোষ্ঠির ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। নির্বাচন না দিয়ে জনগণের দৈনন্দিন নাগরিক সেবা ব্যহৃত হচ্ছে এবং মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতেছেন যা নগর গঠনের মানবাধিকার লঙ্গনের শামিল। অতএব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হইলো।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে ভাঙচুরের ঘটনায় ২০২৩ সালে ১৫ মার্চ রিগ্যানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান একটি মামলা দায়ের করেন। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর দোয়েল চত্বর থেকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। ওই বছরের ২১ মার্চ তিনি জামিন পান। জামিনের পর অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন রিগ্যানের স্ত্রী অ্যাডভোকেট তাহেরা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রিগ্যান দেশের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে লেখালেখি করেন। যে কারণে তাকে অনেকে সরকার বিরোধী মনে করে। কিন্তু সে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে এমপি পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।’  তিনি সেসময় আরও বলেন, ‘রিগ্যান সুপ্রিম কোর্ট বার ও ঢাকা বারের একজন নিয়মিত সদস্য। তিনি জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলএম প্রোগ্রামের ব্যাংকিং ল’ অ্যান্ড কর্পোরেট পলিসি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী।’ আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হতে চাইলে এ আইনজীবী এখন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রাজনৈতিক কর্মী হোসাইন মোহাম্মদ আনোয়ারের হয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। গত ২০ মে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত চেয়েও নোটিশ পাঠান তিনি। একই দিনে এনসিপির ওই কর্মী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন। এর আগে গত ১৪ মে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় বরাবর আবেদন করেন সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ আবেদন করা হয়। আরও জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সেনাসদস্য মঞ্জুরুল আলমের ওপর হামলা মামলায় গত বছরের ২৬ অক্টোবর সালাহ উদ্দিন রিগ্যান গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্তি পান।
সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন আ.লীগের এমপি হতে চাওয়া আইনজীবী
জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার আহ্বান ছাত্রশিবিরের
ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শুক্রবার (২৩ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল ১৯০ বছর পর ব্রিটিশ শোষণ-বঞ্চনা থেকে এই জনপদ মুক্তি পেলেও শুরু হয় পাকিস্তানি শাসনের নতুন অধ্যায়। ভৌগোলিক দূরত্ব, পাকিস্তানের শাসকদের অপরিণামদর্শিতা ও জুলুম-নির্যাতনের অনিবার্য পরিণতিতে ১৯৭১ সালে জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। কিন্তু গণতন্ত্রের লেবাসধারী ও ফ্যাসিবাদের প্রতীক শেখ মুজিব সীমাহীন ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়কে বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসনের মাধ্যমে সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার সকল পথ রুদ্ধ করে দেয়। এ ছাড়াও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর চক্রান্তের কারণে ১৯৪৭, ১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালের আন্দোলনসহ কোনো অভ্যুত্থানকেই প্রকৃত বিপ্লবে রূপদান করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’ ‘সব প্রকার দুঃশাসন ও আধিপত্যবাদের শৃঙ্খল ভেঙে সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ২০২৪ সালে আবারও একত্রিত হয়। সংঘটিত হয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক—ঐতিহাসিক ৩৬ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। সৃষ্টি হয় নতুন দেশ গঠনের এক সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও জাতির ভাগ্যে ব্যর্থতা ও গোলামির চিহ্ন এঁকে দিতে চায় দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা।’ নেতারা আরও বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, গুটিকয়েক ব্যক্তির শিশুসুলভ অপরিপক্ব চিন্তা ও অদূরদর্শিতার কারণে জাতি আজ বিভক্তির পথে। তারা ফ্যাসিবাদী বয়ানগুলোকে সামনে এনে দেশপ্রেমিক শক্তিসমূহকে একে অন্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভক্ত করার প্রয়াসে লিপ্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। অথচ এ বাহিনী জুলাই ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানসহ ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে জাতির পাশে ছিল এবং দেশের শান্তি ও স্থিতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তবে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের ওপর জুলুম চালিয়েছে, তারা অপরাধী হিসেবে শাস্তিযোগ্য।’ তারা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জাতির এ ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণে প্রয়োজন জুলাই স্পিরিটকে ধারণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় ও সুসংহত করা। জাতীয় ঐক্য কোনো স্লোগান নয়, এটি সময়ের দাবি, ইতিহাসের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের আবশ্যকীয় শর্ত। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়, বিশেষ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের চতুর, সর্বগ্রাসী ও নির্মম কৌশলের মুখে, আমাদের সামনে একটি মাত্র পথ খোলা রয়েছে; সেটি হলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে শক্তিশালী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। এর পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য বিনাশে যারা ভূমিকা রাখবে, ইতিহাস তাদের ‘জুলাই গাদ্দার’ হিসেবে চিহ্নিত করবে।’ তারা আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের স্পিরিট—ব্যক্তিগত এবং দলীয় স্বার্থ ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একতাবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার দৃঢ়তা আমাদের সামনে যেকোনো সংকট জয় করার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। তাই আমরা সকল ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ও নাগরিকদের ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষ এখনো জুলাইয়ের স্পিরিটকে গভীরভাবে লালন করেন। আমরা বিশ্বাস করি নতুন প্রজন্ম জীবন দিয়ে হলেও জুলাইকে সফল করার মাধ্যমে একটি উন্নত, অগ্রসর, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’
জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার আহ্বান ছাত্রশিবিরের
বিএনপিকে ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল শনিবার (২৪ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) তার কার্যালয়ে ডেকেছেন। শুক্রবার (২৩ মে) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  সালাহউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিএনপির সাথে দেখা করতে চান।’ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা এখনো তাদেরকে অফিসিয়ালি কিছু জানায়নি। আমরা বলেছি, দেখা করতে যাব কিনা, তা শনিবার জানাব।’ এর আগে তিনি কালবেলাকে আরও জানান, ‘বিএনপি গত ১৯ মে থেকে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাতের চেষ্টা করেও পায়নি। সরকারের ভেতরের আওয়ামী দোসর এবং উচ্চাভিলাষী কেউ কেউ বিএনপিকে প্রতিপক্ষ ভাবে।’ এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আগামীকাল শনিবার (২৪ মে) বৈঠক করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (২২ মে) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়ে লিখেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বৈঠক আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপিকে ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা
চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতার পদত্যাগ
চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতার পদত্যাগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন লোহাগাড়ার আবদুল হাফিজ। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাত ১০টার সময় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে একটি পোস্ট দেন। আবদুল হাফিজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের রশিদার ঘোনা এলাকায়। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়কের উদ্দেশে আবদুল হাফিজ লেখেন, আমি আপনার সংগঠনের একজন একনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে বিগত সময়গুলোতে কাজ করে গেছি এবং জুলাইয়ের স্পিরিটকে ধারণ করে শহীদ ভাই ও বোনদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তবে ব্যক্তিগত কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে আমি এই পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। জানতে চাইলে আবদুল হাফিজ বলেন, ‘৫ আগস্টের পরপর আমাদের প্রতি মানুষের যে সম্মান, আলাদা একটা ভালোবাসা ছিল, সেটি এখন নেই। জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর পারস্পরিক বিভাজন আমাকে হতাশ করেছে। আমার দলের কোনো অপকর্ম গায়ে মাখতে চাচ্ছি না। এখন থেকে পড়াশোনা, পারিবারিক ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই। তাই পদত্যাগ করেছি।’ দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক জুবাইর হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাফিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেখেছি। এরই মধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছি। ব্যক্তিগত কারণে সে পদত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছে। সে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র দেয়নি। এ বিষয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। কমিটির মধ্যে কেউ যদি অপকর্ম করে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না : ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ
তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না : ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ
তারেক রহমান ও বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনুসের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের কেউ কেউ অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের দালালি করেছেন। আজ তারাই বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলছেন। এই ধৃষ্টতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’ শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে সাভারের কলমা এলাকার সেবাকুঞ্জ অডিটোরিয়ামে ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার বিষয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, ‘তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাজধানীকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনে সব নেতাকর্মীকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।’ গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে মুরাদ বলেন, ‘বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হলে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।’ এ সময় তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তরুণদের দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাভার থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শহীদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বেপারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোকাররম হোসেন সাজ্জাদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. ফজলুল হক বেলায়েতি, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম জুয়েল, যুবদল নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওন এবং যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর মন্ডল ও মোজাম্মেল হক মন্ডলসহ সাভার থানা যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন আ.লীগের এমপি হতে চাওয়া আইনজীবী
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের শিডিউল / সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন আ.লীগের এমপি হতে চাওয়া আইনজীবী
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মী হোসাইন মোহাম্মদ আনোয়ারের পক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ মে) এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। নোটিশে এক সপ্তাহের মধ্য ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা দাবি জানানো হয়। আইনজীবী রিগ্যান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।  এরইমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আইনজীবীকে দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ায় এনসিপির ওই কর্মীকে নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, ‘আওয়ামী লীগ-এনসিপি একট্টা।’ নির্বাচনের দাবিতে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, ‘হোসাইন মো. আনোয়ার একজন সচেতন নাগরিক। জুলাই আন্দোলনের সাংগঠক ও এনসিপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রাজনৈতিক কর্মী। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোশনের নির্বাচন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত সিটি করপোরেশন তালা বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে করে জনহয়রানি ও ভোগান্তি বাড়ছে।  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মো. শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়াদ শুরু হয় ২০২০ সালের ১৬ মে। আর তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যায়। ঢাকা উত্তরের আতিকুল ইসলাম কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালের ১৬ মে। তিনিও গতবছরের ৫ আগস্ট পালিয়ে যায় এবং পরে গ্রেপ্তার হন। পরে ২০২৪ সালের ১৯ আগষ্ট দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কার্যকালের মেয়াদ উত্তীণ হয়েছে চলতি বছরের ১৫ মে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অন্তত ২ কোটি জনগণ বাস করে। যদি নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকে তাহলে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কষ্ট সাধ্য। এতে এ বিশাল জনগোষ্ঠির ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। নির্বাচন না দিয়ে জনগণের দৈনন্দিন নাগরিক সেবা ব্যহৃত হচ্ছে এবং মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতেছেন যা নগর গঠনের মানবাধিকার লঙ্গনের শামিল। অতএব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হইলো।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে ভাঙচুরের ঘটনায় ২০২৩ সালে ১৫ মার্চ রিগ্যানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান একটি মামলা দায়ের করেন। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর দোয়েল চত্বর থেকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। ওই বছরের ২১ মার্চ তিনি জামিন পান। জামিনের পর অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন রিগ্যানের স্ত্রী অ্যাডভোকেট তাহেরা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রিগ্যান দেশের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে লেখালেখি করেন। যে কারণে তাকে অনেকে সরকার বিরোধী মনে করে। কিন্তু সে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে এমপি পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।’  তিনি সেসময় আরও বলেন, ‘রিগ্যান সুপ্রিম কোর্ট বার ও ঢাকা বারের একজন নিয়মিত সদস্য। তিনি জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলএম প্রোগ্রামের ব্যাংকিং ল’ অ্যান্ড কর্পোরেট পলিসি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী।’ আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হতে চাইলে এ আইনজীবী এখন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রাজনৈতিক কর্মী হোসাইন মোহাম্মদ আনোয়ারের হয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে। গত ২০ মে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত চেয়েও নোটিশ পাঠান তিনি। একই দিনে এনসিপির ওই কর্মী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন। এর আগে গত ১৪ মে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় বরাবর আবেদন করেন সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ আবেদন করা হয়। আরও জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সেনাসদস্য মঞ্জুরুল আলমের ওপর হামলা মামলায় গত বছরের ২৬ অক্টোবর সালাহ উদ্দিন রিগ্যান গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্তি পান।
জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার আহ্বান ছাত্রশিবিরের
জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার আহ্বান ছাত্রশিবিরের
ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শুক্রবার (২৩ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল ১৯০ বছর পর ব্রিটিশ শোষণ-বঞ্চনা থেকে এই জনপদ মুক্তি পেলেও শুরু হয় পাকিস্তানি শাসনের নতুন অধ্যায়। ভৌগোলিক দূরত্ব, পাকিস্তানের শাসকদের অপরিণামদর্শিতা ও জুলুম-নির্যাতনের অনিবার্য পরিণতিতে ১৯৭১ সালে জন্ম হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। কিন্তু গণতন্ত্রের লেবাসধারী ও ফ্যাসিবাদের প্রতীক শেখ মুজিব সীমাহীন ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়কে বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসনের মাধ্যমে সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার সকল পথ রুদ্ধ করে দেয়। এ ছাড়াও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর চক্রান্তের কারণে ১৯৪৭, ১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালের আন্দোলনসহ কোনো অভ্যুত্থানকেই প্রকৃত বিপ্লবে রূপদান করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’ ‘সব প্রকার দুঃশাসন ও আধিপত্যবাদের শৃঙ্খল ভেঙে সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ২০২৪ সালে আবারও একত্রিত হয়। সংঘটিত হয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক—ঐতিহাসিক ৩৬ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। সৃষ্টি হয় নতুন দেশ গঠনের এক সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও জাতির ভাগ্যে ব্যর্থতা ও গোলামির চিহ্ন এঁকে দিতে চায় দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা।’ নেতারা আরও বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, গুটিকয়েক ব্যক্তির শিশুসুলভ অপরিপক্ব চিন্তা ও অদূরদর্শিতার কারণে জাতি আজ বিভক্তির পথে। তারা ফ্যাসিবাদী বয়ানগুলোকে সামনে এনে দেশপ্রেমিক শক্তিসমূহকে একে অন্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভক্ত করার প্রয়াসে লিপ্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। অথচ এ বাহিনী জুলাই ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানসহ ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে জাতির পাশে ছিল এবং দেশের শান্তি ও স্থিতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তবে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের ওপর জুলুম চালিয়েছে, তারা অপরাধী হিসেবে শাস্তিযোগ্য।’ তারা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, জাতির এ ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণে প্রয়োজন জুলাই স্পিরিটকে ধারণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় ও সুসংহত করা। জাতীয় ঐক্য কোনো স্লোগান নয়, এটি সময়ের দাবি, ইতিহাসের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের আবশ্যকীয় শর্ত। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়, বিশেষ করে ভারতীয় আধিপত্যবাদের চতুর, সর্বগ্রাসী ও নির্মম কৌশলের মুখে, আমাদের সামনে একটি মাত্র পথ খোলা রয়েছে; সেটি হলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে শক্তিশালী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। এর পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য বিনাশে যারা ভূমিকা রাখবে, ইতিহাস তাদের ‘জুলাই গাদ্দার’ হিসেবে চিহ্নিত করবে।’ তারা আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের স্পিরিট—ব্যক্তিগত এবং দলীয় স্বার্থ ও পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একতাবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার দৃঢ়তা আমাদের সামনে যেকোনো সংকট জয় করার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। তাই আমরা সকল ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ও নাগরিকদের ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষ এখনো জুলাইয়ের স্পিরিটকে গভীরভাবে লালন করেন। আমরা বিশ্বাস করি নতুন প্রজন্ম জীবন দিয়ে হলেও জুলাইকে সফল করার মাধ্যমে একটি উন্নত, অগ্রসর, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’