বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ। সমসাময়িক-রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে টেলিভিশন টকশোর সুপরিচিত মুখ। জনপ্রিয় বাংলা নিউজ অ্যানালাইসিস প্ল্যাটফর্ম ‘ভয়েস বাংলা’র সম্পাদক তিনি। এর আগে, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা ভিশনের বার্তাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ সময়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউর এই প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক লেখাপড়া সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে। এশিয়া পোস্টের আলাপনে মোস্তফা ফিরোজ কথা বলেছেন দেশের সমসাময়িক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণের যাত্রায় গণমাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, সরকারি দলের ফ্যাংশন এবং বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবিদ আজম
এশিয়া পোস্ট: আপনার বেড়ে ওঠার গল্পটা জানতে চাই। খ্যাতিমান সাংবাদিক হয়ে ওঠার যাত্রায় চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা মেকাবিলা করতে হয়েছে কি না?
মোস্তফা ফিরোজ: আমি খুব খ্যাতিমান হিসেবে গড়ে উঠিনি। সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে, সাধারণ সাংবাদিক হিসেবে গড়ে উঠছি। তবে আমার এই গড়ে ওঠার পেছনে রাজনৈতিক উত্থান-পতন দেখেছি। কলেজ জীবন পার হয়ে যখন নাকি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আমরা পা দিলাম, তখন আমরা এরশাদের স্বৈরশাসনের মুখে পড়লাম। শিক্ষাজীবনের পুরো সময়টাই এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে লেখাপড়া চালিয়ে গেছি। লেখাপড়ার শেষ প্রান্তে এসে সাংবাদিকতায় ঢুকেছি।
আমি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র। সুতরাং সাংবাদিকতার প্রতি আমার একটা নেশা ছিল। আমরা নব্বইয়ে খুব কাছ থেকে এই সেলিম দেলোয়ার ও রাউফুন বসুনিয়ার মৃত্যু দেখেছি। এগুলো দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। পরে দেখলাম আমার পক্ষে কোনো সরকারি চাকরি করা সম্ভব না। খেয়াল করলাম, সাংবাদিকতাটা অনেক বেশি রাজনীতিনির্ভর।
মানুষের জন্য কিছু করা যায় এমন একটা পেশা সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা বিভাগে পড়তে পড়তেই দেখলাম, আমাদের ডিপার্টমেন্টের অধিকাংশ সহপাঠী সরকারি চাকরিতে গেলেন। আমি কিন্তু চলে গেলাম পত্রিকায়, আমার সর্বশেষ পত্রিকা ছিল ভোরের কাগজ। সেখান থেকে বাংলাদেশের প্রথম টেরিস্টেরিয়াল- স্যাটেলাইট চ্যানেল একুশে টিভিতে গেলাম।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এটা বন্ধ হয়ে গেল ২০০১ সালে। এরপর এনটিভিতে যাওয়ার পর একটা দুর্ঘটনায় আগুন লাগল। এরপরে মনটা ভেঙে গেল। তারপরে বাংলাভিশনে গিয়ে টানা ১২ বছর কাজ করলাম। সে সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে কথা বলতে বলতে আমি ফ্যাসিবাদের শিকার হলাম। এরপর করোনার সময়ে ডিজিএফআইয়ের চাপে বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষ আমাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাল।
তখন প্রতি মুহূর্তে একটা গ্রেপ্তার আতঙ্কে থাকতাম। মিডিয়াতে হয়ে গেলাম একপ্রকার নিষিদ্ধ। টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইনসহ কোনো চাকরিতে আমি প্রবেশ করতে পারতাম না। কোনো টেলিভিশন টকশোতে ডাকত না। মানে এমন একটা পরিস্থিতি যে, ‘তুমি দেশ থেকে চলে যাও।’
করোনা পরিস্থিতি যখন তখন আমি চিন্তা করলাম, না এভাবে চুপ থাকা যায় না আমি তখন ‘ভয়েস বাংলা’ শুরু করলাম। আল্লাহর রহমতে খুব দ্রুত বেগে, মানে ছয় মাসের মধ্যেই দেখলাম, লাখ লাখ মানুষ এটি দেখছে, আলোচনা করছে। কিন্তু আমি সতর্ক ছিলাম বরাবরই সাংবাদিকতার বাইরে যাব না। সাংবাদিকদের জীবনটা লড়াই সংগ্রামের, এটা কখনও গোলাপ বিছানো কোনো রাস্তা হবে না। শোয়ার পালঙ্ক হবে না।
অল্পদিনের মধ্যে দেখলাম ‘ভয়েস বাংলা’ অফিসে গোয়েন্দা সংস্থার এত বেশি যাতায়াত, তখন কেউ কেউ বলল প্যানেলসহ কিন্তু উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন করোনা পরিস্থিতি একটু শিথিল হয়ে গেল, আমি তখন চলে গেলাম দেশের বাইরে। কিছুদিন দুবাইতে থাকলাম। দেখলাম, দুবাই খুব এক্সপেনসিভ, সম্ভব না। আর বাংলাদেশের এম্বাসি যদি রিপোর্ট করে আমাকে অ্যারেস্ট করে ফেলবে। তারপর সেখান থেকে চলে গেলাম মালয়েশিয়ায়। সেখানে কিছুদিনের মধ্যেই এম্বাসির নজরদারির মধ্যে পড়ে গেলাম। আমাকে ধাওয়া করা শুরু করল একধরনের। তারপরে আমি চলে আসলাম ব্যাংককের। সেখান থেকে দেশে মাঝেমধ্যে আসতাম দুই বা তিনবার। কিন্তু অধিকাংশ সময় ব্যাংকক থেকে বেশ দূরে একটু রিমোট এরিয়ায়। তারপর যেদিন হাসিনা সরকারের পতন ঘটল, আমি ৬ আগস্ট দেশে ফিরলাম।
এশিয়া পোস্ট: মাল্টিমিডিয়াকেন্দ্রিক ডিজিটাল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে মূলধারার গণমাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো অপতথ্য বা গুজব দমনের এই প্ল্যাটফর্মগুলোর সক্ষমতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মোস্তফা কামাল: গত এক দেড় বছরে অনেক ভালো ভালো প্রতিষ্ঠান, এই যে এশিয়া পোস্ট, দি পোস্ট, চর্চা ও আলাপসহ অনেক সুন্দর সুন্দর আধুনিক অনলাইন গণমাধ্যম আমার নজরে এসেছে। আমি নিয়মিত এগুলো ফলো করি। আমি মনে করি যে আমার প্ল্যাটফর্মের থেকে অনেক শক্তিশালী, দায়িত্বশীল এবং প্রতিশ্রুতিশীল নিয়ে তাদের বিকাশ ঘটেছে। এই বিকাশের পেছনে ইনডিভিজুয়ালি যারা উদ্যোক্তা তাদের কিন্তু অবদান খুব বেশি। এখানে সরকারের কোনো সাপোর্ট নেই। এখানে সাংবাদিক সংগঠনের কোনো সাপোর্ট নেই।
সাংবাদিকতা করতে গেলে তার একটা সেল প্রটেকশন দরকার, সাংবাদিকদের মধ্যে একটা ইউনিটি দরকার। এখন হয়তো মনে হতে পারে গণমাধ্যমের খুবই সুসময় যাচ্ছে, অনেক উদার তারেক রহমানের সরকার। সামনে ছয় মাস বা এক-দেড় বছর পর এটা কোন রূপ নেবে আমরা জানি না। আর সবকিছু তারেক রহমান নিজে কন্ট্রোল করতে পারবেন না। সরকারের চরিত্র পরিবর্তন হতে থাকে। আর বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রশাসনিক এই শক্তিগুলো এরা খুব নিষ্ঠুর এবং তারা আধিপত্য, দখলদারত্ব সুবিধার পেছনে ছোটে। ফলে সামনে যারা থাকে তারা অনেক সময় পুতুল হয়ে যায়।
মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলো বুঝতে পারছে, যে অর্থনৈতিক ক্রাইসিসের কারণে তাদের বাজারটা সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে সবাই ফেসবুক-গুগলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে। তাদেরও কন্টেন্টগুলো এখানে স্থান পাচ্ছে। ফলে যত বেশি এই কন্টেন্টগুলো আসছে, ততবেশি কিন্তু গুজব আস্তে কমে সরে যাচ্ছে। কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়ার অপরিহার্যতা আমাদের অনেকেই কিন্তু একসময় অনুভব করেনি। অনেকেই এটা নাক শিটকাতো। আর এটা কী? বলত এটা কোনো মেইন স্ট্রিম না। এটা হলো সেকেন্ড ক্যাটাগরি। মানে এটা নমঃশূদ্রদের একটা জায়গা।
এইভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। কিন্তু দেশ-বিদেশে ডিজিটাল মিডিয়ার ব্যাপক প্রভাব থাকার কারণে এখন কেউ একে আর অস্বীকার কারতে পারছে না। টেলিভিশনের থেকে এই অডিয়েন্সটা বিশাল ব্যাপার। এটাকে তো আমাদের কাজে লাগাতে হবে। পাঁচ-ছয়টা টেলিভিশন ছাড়া অন্য টেলিভিশনগুলো বেতন-ভাতা নিয়মিত দিতে পারে না।
এশিয়া পোস্ট: দেশীয় গণমাধ্যমের ব্যাপারে বড় একটি অভিযোগ, মিডিয়াগুলো সবসময় ক্ষমতার তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদকে বৈধতা উৎপাদনে গণমাধ্যমের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাহলে মিডিয়াগুলো মালিকের ব্যবসায়িক-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের প্রচারযন্ত্র হয়ে থাকছে, নাকি সমাজের দর্পন হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারছে?
মোস্তফা ফিরোজ: গণমাধ্যম মালিকপক্ষের হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার হয়েছে, কারণ ওইভাবেই মিডিয়াগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতগুলো যে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আছে, কয়জন পেশাদার সাংবাদিকের হাতে আছে? ম্যাক্সিমাম কিন্তু ব্যবসায়িক গ্রুপ, প্রত্যেকেই টেলিভিশন পত্রিকার অনুমোদন নিয়েছে। তার গ্রুপকে সে প্রটেকশন দিয়েছে, তার অনেক অন্যায়, অনেক অনিয়ম, ভূমিদস্যু বা ব্যাংক খেলাপি ঋণের দস্যুতা, সব কিন্তু এই টেলিভিশন বা মিডিয়াকে দিয়ে প্রটেকশন দিয়েছে এবং সেই টেলিভিশনগুলোর প্রধান নির্বাহী বা প্রধান সম্পাদককে তাকে খোঁজা হতো যার সঙ্গে সরকারের ভালো সম্পর্ক আছে কি না, সে তার মালিকের পক্ষে তদবির করতে পারবে কি না। এইভাবে টোটাল সাংবাদিক সমাজকে ব্যবহার করা হয়েছে। পেশাদারত্ব মানে জায়গাটা এখানে আমি বলব, ১০-২০ শতাংশ। বাকি ৮০ ভাগেই হচ্ছে অপসাংবাদিকতা। ব্যবসায়িক কাজে মালিকরা তার রাজনৈতিক স্বার্থে এগুলোকে ব্যবহার করছে। সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়াকে ঘিরে যে প্ল্যাটফর্মগুলো এগুলো স্বাধীন, মুক্ত। এগুলোর সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এশিয়া পোস্ট: বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকেন্দ্রিক যে সংঘাত-সংকট অব্যাহত আছে, আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বলা হলেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট কি না?
মোস্তফা ফিরোজ: আমাদের তো প্রশাসনিক ব্যর্থতা আছে। কিন্তু এই সংকটে আপনি সরাসরি সরকারকে দোষ দিতে পারবেন না। কারণ যখন প্রতিনিয়ত যে জ্বালানির তেলটা সরবরাহ হয় মার্কেটে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্প থেকে শুরু করে, একজন তৃণমূলের একজন ছোট্ট গ্রাহক প্রত্যেকে স্টোর করার চেষ্টা করছে। বেপরোয়া ভাবে সবাই যে যার মতো মজুত করছে যার কারণে একটা সংকট তৈরি হয়ে গেছে। এই সংকটের চক্রটা ভাঙতে কিন্তু আপনার যথেষ্ট সময় লাগবে।
কালকে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাক আপনি পরশুদিন মনে করবেন তেলের সংকট নেই। কিন্তু আপনি দেখবেন যে সেম অবস্থা। হয়তো সংকটটা কমে আসবে। কিন্তু এই একটা লম্বা সময় সংকটের মধ্যে আমরা পড়ে গেলাম। কিন্তু পদক্ষেপটা কী নিচ্ছে যে এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপটা যতটুকু হওয়া দরকার ততটুকু হয়তো হতে পারছে না। ওই যে মজুতদারি এবং এই যে সমবণ্টন এই জায়গার এই ম্যানেজমেন্টটা তো আমরা এই ধরনের ক্রাইসিস মোকাবিলা করতে তো আমরা অভ্যস্ত না। আগে তো এই ধরনের সংকটটা হয়নি। ফলে এই কারণে সরকার হিমশিম খাচ্ছে, চেষ্টা করছে। কিন্তু ওই যে আমাদের প্রতিটা সমাজের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে এত বেশি করাপশন, তার সঙ্গে পেরে ওঠা যাচ্ছে না।
আমি বাংলাদেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে ঘুরেছি। কোথাও এমন ক্রাইসিস দেখিনি। আপনি বলতে পারেন, সিঙ্গাপুর তো উন্নত দেশ সেখানে তো ক্রাইসিস হবে কী করে? ব্যাংকক বা থাইল্যান্ডও অনেক উন্নত দেশ। কিন্তু নেপালে আমি তিন দিন ছিলাম। আমি সেখানে কোনো তাড়াহুড়ো দেখি নাই। এজ ইট ইজ নরমান। তাহলে কি নেপাল কি এই ক্রাইসিস মোকাবিলা করার জন্য ১০ গুণ জ্বালানি তেল সেখানে নিয়ে আসছে? তা তো না। সেই ক্ষমতাও তো নেপালের এখন নাই। সেখানে নতুন সরকার। মানে আমাদের দেশের পরিস্থিতিটা অদ্ভুত। এ রকম পরিস্থিতি আর কয়টা দেশে আছে এটা একটা গবেষণার বিষয়।
এশিয়া পোস্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দু’রকম মতামত চাউর আছে। কেউ কেউ মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। নিখুঁত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে অভিমত অনেকের। কিছু অনিয়মের খবরও গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি। নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?
মোস্তফা ফিরোজ: এটা মিক্সড। একদম বলা যাবে না যে, একদম খাঁটি নির্বাচন হয়েছে। আবার এটা বলা যাবে না একদম জালজালিয়াতি নির্বাচন হয়েছে। এটা একটু মিশেল একটা অবস্থা। তবে দেখেন, বাংলাদেশে তো বাস্তবতাটা আপনি যদি দেখেন, যে বাস্তবতাটা হলো এই বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলের মধ্যে একটি দল নেই। আওয়ামী লীগ নেই। বিএনপির বিশাল ভোট ব্যাংক ঐতিহ্যগতভাবে। হাসিনা পতনের পর ১৮ মাসে মানে যেটা হয়েছে বিএনপি ক্ষতি হইছে, সেই ক্ষতিটা তাদের যথেষ্ট পরিমাণ একটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলছিল।
কিন্তু ওই ঝুঁকিটা পূরণ করার জন্য জামায়াত যেভাবে এগিয়ে এসেছিল শেষের দিকে। কিন্তু তাদের কিছু উগ্রবাদী কথাবার্তা এবং এনসিপির হঠাৎ করে জামায়াতের দিকে চলে যাওয়াটা পুরো জিনিসটা আবার সেই পুরোনো সনাতন জায়গায় চলে গেল। যেখানে জামায়াত ছিল সবসময় সহযোগী বিএনপির, তার আম্ব্রেলার নিচে সে নির্বাচন করত, এখন সে হয়ে গেল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার পরে আজকে তার যে উত্থান ঘটল। এটাও কিন্তু কম না। এটা হইছে বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতার কারণে। কারণ এরশাদ ও হাসিনা পতনের পর যেই রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্নীতি, করাপশন, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দখলদারত্ব এই জায়গাগুলোতে দ্রুতবেগে পূরণ করার চেষ্টা করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ফলে এই বদনামটাকে ক্যাপিটাল করছে জামায়াত।
আমি মনে করি এই নির্বাচনে বিএনপির যতটা ভালো করার কথা, প্রকৃত নির্বাচন দিয়ে সেটা কিন্তু হয়নি। এবং সেই সঙ্গে ওই যে ম্যানিপুলেশনের কথা আসছে, আসছে কেন? প্রশাসন তো সবসময় মনে করে, ক্ষমতায় কে এলে তার জন্য সুবিধা হবে। হিসাব-নিকাশ করে দেখছে যে বিএনপি এলে ভালো হবে, বিএনপি বড় দল বিএনপি রিপ্রেজেন্ট করতে পারবে বিএনপি কট্টরপন্থি না সুতরাং তাদের একটা মৌন সমর্থন, মানসিক সমর্থন তা ছিল বিএনপির দিকে। হয়তো সেটাকে ক্যাপিটাল করতে পারছে বিএনপি।
এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ডিপস্টেটর ক্ষমতা’ বলে একটা কথা চাউর আছে। জনরায় যেমন থাকুক প্রভাবশালী সেই শক্তির মর্জি মতো ক্ষমতার পালাবদল ঘটে থাকে বলে ধারণা প্রচলিত আছে। এই কথার ভিত্তি কতটুকু?
মোস্তফা ফিরোজ: বাংলাদেশে ‘ডিপিস্টেট’ কাল্পনিক একটা বিষয়। কিন্তু এটার আবার এটার একটা বাস্তবতাও আছে। ওয়ান ইলেভেন যে সংঘটিত হলো এটা তো ওদের করা। ডিপিস্টেট কারা? এক-এগারের সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা এবং ইন্ডিয়ান সেনা সেনাবাহিনী। তাই না? এটাই তো ডিপস্টেট। সেই ডিপস্টেটটা কি শেষ হয়ে গেছে? এই ইউনূস সরকারের সময় কি তার ছিল না? এখানে কি সেনাবাহিনীর কোনো ক্ষমতা ছিল না? এখানে কি আমলাতন্ত্র, তার পরে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের কি ক্ষমতা ছিল না? ছিল। এখন অনেকে মনে করে যে তারা হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কে ক্ষমতায় আসবে কে ক্ষমতায় আসবে না। এ জন্য অনেকে বলে তারেক রহমান অনেকটা নির্ভার ছিলেন যে তিনি ক্ষমতায় আসবেনই।
মানে এমন একটা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে দেশে নিয়ে আসা হয়েছে, এটা প্রমাণ করার তো কোনো উপায় নেই। কারণ, বিএনপি যেহেতু বড় রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগ নাই। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। ১৫ বছর দলটির যে ত্যাগ-তিতিক্ষা আন্দোলন সবকিছু তো বিএনপির নেতৃত্বেই হয়েছে। মাঝখানে শুধু গণঅভ্যুত্থান তার নেতৃত্বে হয়নি। কিন্তু তাই বলে যখন নাকি আবার ওই গণঅভ্যুত্থানের শক্তিটা পেছনে চলে গেল তখন তো আবার সামনে চলে এলো প্রচলিত রাজনৈতিক দল। ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তো বিএনপি প্রধান। একটা সুশীল সমাজ, সামরিক শক্তি, পশ্চিমা শক্তি তাদের কিন্তু একটা পাওয়ার থাকে এই ডিপস্টেটের কারণে।
পাকিস্তানের ইমরান খান প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাইয়া ক্ষমতাশূন্য হয়েছে। যেসব দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক কাঠামোগুলো শক্তিশালী থাকে না সেখানে ডিপস্টেটের প্রভাবটা থাকে বেশি। কারণ এখানে বিচারব্যবস্থা নড়বড়ে। যে কোনো কমিশন প্রশাসন সবকিছু থাকে খুবই নড়বড়ে অবস্থায় তখন সেনাবাহিনী যেহেতু একটা প্রতিষ্ঠান তার একটা ক্ষমতা থাকে পুলিশ প্রশাসন এবং পশ্চিমা শক্তি তখন তারা এই ক্ষমতার পালা বদলে ক্ষমতা কে আসবে না আসবে এগুলোর ব্যাপারে তারা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্রভাবে ক্ষমতা যে উল্টে গেছে বা তারা যেভাবে চাইছে তাই হইছে এইটা বলাটা বললে তাহলে আমাদের এই নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ হবে চরমভাবে। আমি প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না, কিন্তু নির্বাচনটা যে একেবারে খুবই মানে ফেয়ার হইছে শতভাগ, এটাও বলব না। কিছু কিছু ফলাফল তো অস্বাভাবিক। যেমন নাহিদ ইসলাম, তার জয়টা এটা খুব বিস্ময়কর লাগে। আবার হাসনাত আব্দুল্লাহ জয়টা সঠিক মনে হয়। এ রকম অনেকগুলো হিসাব-নিকাশ আছে, সেই হিসাব-নিকাশে একটা সন্দেহের অবকাশ আছে। তো এটা হয় কেন? ওই যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থাটা কার্যকর না করতে পারবেন। নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে পালাবদলের এই যদি ধারাবাহিকতা না থাকে, তখন কিন্তু এই ডিপস্টেট মানে আপনার রাজনীতিতে ঘাঁটি গেড়ে বসবে।
এশিয়া পোস্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকার ছিল না। একটি জাতীয় দৈনিক অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছে। তাহলে সেই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বৈধ হবে কি না?
মোস্তফা ফিরোজ: গণঅভ্যুত্থান তো গণঅভ্যুত্থানই। এটা কোনো সংবিধান-আইন কোনো কিছু মেনে হয় না। গণঅভ্যুত্থানের শক্তি যখন ডিসিশন নেবে সেটা কিন্তু আইন, সেটাই কিন্তু সংবিধান। পৃথিবীর দেশে দেশে তাই হয়। প্রেসিডেন্ট যেহেতু সর্বময় রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি তিনি সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত রেফারেন্স চাইলেন সুপ্রিম কোর্ট ১০৬ এর আলোকে একটা রেফারেন্স দিয়ে বলল, যে হ্যাঁ এ রকম পরিস্থিতিতে এ রকম সরকার গঠন করা যায়। এতে আমার মনে হয় না যে সংবিধানের মৌলিক কোনো ঘাটতি হয় বা ব্যত্যয় ঘটছে। সুতরাং এটাকে অবৈধ বলা যাবে না। পৃথিবীর যে কোনো দেশে গণভোট বিপ্লব সংবিধান আইন মেনে হয় না, এটা মাথায় রাখা দরকার।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বাহাত্তরের সংবিধানের ভিত্তিতে আমরা চলছি তাই না? তার মানে তাহলে কি স্বাধীনতা যুদ্ধটা কি অসাংবিধানিক? স্বাধীনতাটাই কি অবৈধ, সেটা কি কেউ বলে। স্বাধীনতার পরে যে অস্থায়ী সরকার সেই সরকারের ভিত্তি কী? মুজিবনগর সরকারের ভিত্তি কী, প্রশ্ন তুললে তোলা যায়। যুদ্ধ এবং বিপ্লব অভ্যুত্থান এগুলো কোনো সংবিধান আইনের মানে দ্বারা পরিচালিত হয় না। এগুলোর একটা নিজস্ব শক্তি আছে। জনগণই এর আসল শক্তি। তারা যদি অধিকাংশ জনগণ একটা যুদ্ধ সংগঠিত করে অধিকাংশ জনগণ যদি একটি বিপ্লব একটা অভ্যুত্থান সংগঠিত করে, সেটাই হচ্ছে মূল চেতনা ও ম্যান্ডেট। সেই চেতনার আলোকে পরবর্তীতে আইনকানুন হয় এবং সরকার গঠিত হয়।
সুতরাং এখানে কোনোভাবেই বলার অবকাশ নেই যে এখন এই পর্যায়ে এসে, তাহলে কি আমাদের সরকার অবৈধ? সরকার অবৈধ মানে নির্বাচন অবৈধ। সারা বিশ্বে যেভাবে অভ্যুত্থান বিপ্লবের পর যা হয় বাংলাদেশে সেটি হইছে। ফলে ইউনূস সরকারকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই। সমলোচনা মানে এই না যে ইউনূস সরকার অবৈধ।
এশিয়া পোস্ট: আপনি একটি বক্তব্যে বলেছেন, ইউনূস সরকারের ১৮ মাস শেখ হাসিনার ১৫ বছরের বিভীষিকার চেয়েও বড় বিভীষিকা ছিল। কেন এমনটি মনে হয়েছে?
মোস্তফা ফিরোজ: ড. মোহাম্মদ ইউনূসের মতো লোক যখন এ রকম ক্রাইসিস পিরিয়ডে সবচেয়ে একটা উপযুক্ত লোককে সবাই তাকে মনোনীত করছে এবং ছাত্রদের এই সিলেকশনটা ভালো ছিল এবং কেউ কোনো আপত্তি করেনি।
তো কিন্তু উনি আশাভঙ্গ করেছেন। উনি যেভাবে লম্বা পিরিয়ড সামনে নিয়ে আসছে সংস্কারের নাম করে এবং এর মধ্যে দিয়ে বেশ কিছু ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিকরা অ্যারেস্ট হয়েছে, মানে জুলাই গণভোটের নামে প্রচুর মিথ্যা মামলায় শত শত মানুষকে মামলা আসামি করা হয়েছে এবং তারা বিনা বিচারে এখন পর্যন্ত আছে। এখানে পরিষ্কার যে মানে জুলাই হত্যাকাণ্ডে ১৪০০ মানুষ মানুষ মারা গেছে। ১৫ বছরের যে প্রতিহিংসার চর্চা হয়েছে, তার চেয়ে একটা ভয়াল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন ড. মোহাম্মদ ইউনূস। গোপন বাণিজ্য চুক্তি , চট্টগ্রাম বন্দর চুক্তির মাধ্যমেও উইনুস সরকার বিতর্কিত হয়েছে। গত ১৮ মাসে আবার যেভাবে মব হয়েছে, শতাধিক মাজার ভাঙচুর হয়েছে। তারপরে তৌহিদি জনতার নাম করে বিভিন্ন জায়গায় মব তৈরি করে প্রায় ৩০০ মানুষকে মারা হয়েছে। সব মিলিয়ে এটা একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি এবং যারা আমরা হাসিনার সমালোচনা করে ভিকটিম হয়েছি, তারাতো নিরাপদ থাকার কথা।
শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে একটা উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ঘটল যেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ৩২ নম্বর দফায় দফায় ভাঙতে চাওয়ার মানে কী? এই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ৩২ নম্বরের সম্পর্কটা কী? গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যদি সম্পর্ক হয় সেটা সুধাসদন বা গণভবন হইতে পারে। আপনি ৩২ নম্বরকে টার্গেট করলেন কেন? করলেন এই কারণে যে এই ব্যক্তিটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান পুরুষ, প্রধান নেতা, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি এই সুযোগ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাসভবনে বারবার হানা দিয়ে ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তারপর বলা হলো ৭২-এর সংবিধানকে ছুড়ে ফেলতে হবে, উড়িয়ে দিতে হবে। এটাকে রিসেট বাটন টিপ দিতে হবে। এই কথাগুলো আসা মানে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ ভুলে যাওয়া।
এই গণঅভ্যুত্থান থেকে ইতিহাস শুরু করার প্রয়াস ছিল। তার মানে বাংলাদেশে এমন রাজনৈতিক শক্তি আছে, যারা আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করতে চায় না, সেটা ইতিহাসে পুনর্জীবিত থাকুক সেটা চায় না। এই প্রবণতাগুলো ড. ইউনূস অনুধাবন করতে পারেননি অথবা করলেও তিনি নিশ্চুপ থেকেছেন।
এশিয়া পোস্ট: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন কোনো রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবার আশঙ্কা আছে কি না?
মোস্তফা ফিরোজ: এটা ভালো দৃষ্টান্ত না। এখানে বিএনপির একটি স্ববিরোধিতা আছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেকেই বলছেন, যে কোনো দল নিষিদ্ধ করার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। কিন্তু সেটাই তো হয়ে গেল। তাহলে আপনি সব অধ্যাদেশ মানলেন না কেন? ২০টি অধ্যাদেশ, গুম, বিচার বিভাগ পৃথক্করণ, কেন মেনে নিলেন না? মনে রাখা দরকার বিএনপি কিন্তু যে ভোট পেয়েছে, তা কেবল বিএনপির ভোট ছিল না। যখন দেখা গেল যে মুক্তিযুদ্ধের কোনো শক্তি নেই, গণতান্ত্রিক শক্তি নেই, তখন আওয়ামী লীগের ভোট, গণতান্ত্রিক অনেক রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু ভোট, সবাই কিন্তু বাঁচার আশায় নিজেদের স্বার্থে দেশের স্বার্থে তারা কিন্তু দলে দলে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। আর যে কখনোই ধানের শীষে ভোট দেয়নি সেও কিন্তু ধানের শীষে ভোট দিয়েছে।
আপনি এসে এখন এইটা আইন করে ফেললেন এটা ঠিক করেননি। কারণ এটা বুমেরাং হবে। আমি তো বললাম ১০-২০ বা ৫০ বছর পরে বিএনপির আজকে যে জনপ্রিয়তা, কালকে তো নাও থাকতে পারে। কোনো ক্ষমতা চিরস্থায়ী না। এটা তো আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা প্রমাণ করে গেছে তার পতনের মধ্যে দিয়ে। সুতরাং আপনি এমন একটা কাজ করলেন যেটার হাত ধরে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে তখন সেও আরও দুই-চারটা রাজনৈতিক দল তার সুবিধামতো করে নিষিদ্ধ করবে। তখন কী হবে?
এশিয়া পোস্ট: জুলাই গণহত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয় ভারত পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে। বিষয়টির ওপর দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কতটা নির্ভর করছে?
মোস্তফা ফিরোজ: ভারতের এই বক্তব্যটা এটা খুবই কূটনৈতিক চাতুর্যে ভরা বক্তব্য। মানে এই না যে তারা রাজি হইছে। খতিয়ে দেখবে মানে কী? শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী? যদি সে রাজনৈতিক রিফিউজি হয় তাহলে তো ভারত তো আইনগতভাবে তাকে সেখানে সেই দেশে আশ্রয় দিতে বাধ্য। এটা তো ভায়োলেট করতে পারে না। এটা তো আন্তর্জাতিক ভায়োলেশন হবে।
যে একজন রিফিউজিকে আমি জোরপূর্বক তার দেশে সে বিপদের মুখে আমি ঠেলে দিলাম। শেখ হাসিনা তখন রাজনৈতিক দলের প্রধান, সে সে সময়ে সরকার প্রধান। সে মনে করতে পারে যে আমি আমার দেশের সার্বভৌমত্ব, জানমালের নিরাপত্তার জন্য যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তিনি আর্মি পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করার জন্য বলেছে। সেই সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে গিয়ে ১৪০০ মানুষ মারা গেছে। সুতরাং এটাকে আমি একেবারে নিশ্চিত করে বলে দিতে পারি যে সে নির্দেশ দিয়েছে? সুতরাং সে হলো খুনি এটা এটা হলো রাজনৈতিক বয়ান। আর প্রকৃতভাবে বিচারের মধ্যে দিয়ে এটা প্রমাণ করাটা হচ্ছে প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। সুতরাং এইসব গ্রাউন্ডে জাতিসংঘ বলুক আর যেই বলুক না কেন রাজনৈতিক আশ্রয় পাবে না সেটা কিন্তু হয় না।
রাজনৈতিক আশ্রয় আমার যেটা ধারণা যদিও এখনো অফিশিয়ালি ভারত বলেনি রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে কিনা কিন্তু যেহেতু লম্বা সময় ধরে আছে সুতরাং এটা রাজনৈতিক আশ্রয় ছাড়া মানে আর অন্য কোনো স্ট্যাটাসে নেই। কিন্তু যেটা সম্পর্কটা উন্নয়নটা হবে কীভাবে যেটা ইউনূস সরকার বলেছিল, যে হাসিনা থাকুক। আপনার যদি রেখে দিতে চান রাখেন কিন্তু সে যেন উসকানি না দেয়।
সম্ভবত একটা ‘নেগোসিয়েশন’ হতে পারে যে শেখ হাসিনাকে হয়তো বলতে পারে যে আপনি এখানে থাকেন যত বছর থাকেন। কিন্তু আপনি কোনো পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট দিতে পারবেন না, এইটা যদি সে যদি নিশ্চুপ থাকে উসকানি না দেয় তাহলে এটা নিয়ে বিএনপি সরকার আমার ধারণা খুব একটা মাথা ঘামাবে না।



