তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে আনিস আলমগীর বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ কভার করা এবং ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানদের হাতে বন্দি হওয়ার মতো পেশাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ২০০৭ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী ফুটেজ প্রচারের ঘটনায় তিনি আলোচিত হন।
সম্প্রতি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত ১৪ মার্চ তিনি জামিনে মুক্তি পান। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক কারান্তরীণ জীবনের নানা দিক নিয়ে তিনি সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের নিয়মিত আয়োজন আলাপনে অতিথি হিসেবে আসেন। বর্তমান রাজনৈতিক ও বিচারিক ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন জাকারিয়া নূরী—
এশিয়া পোস্ট: আপনাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া, মামলা প্রস্তুত করে জেলে পাঠানো এবং জামিন পাওয়া—এসব কিছু নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কী?
আনিস আলমগীর: অভিজ্ঞতা হচ্ছে—এটি কমপ্লিট একটি নির্যাতন। আমার বিরুদ্ধে শুধু একটি নয়, দুটি মামলা করা হয়েছে। আমাকে গ্রেপ্তারের পর দুদক দিয়ে আরেকটি হীনম্মন্যতামূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। শারীরিক কষ্ট বেশিদিন থাকে না, ওগুলো চলে যায় কিন্তু মনের কষ্ট বা মানসিক আঘাত যেটা দেওয়া হয় সেটি যায় না। একটি লোককে বিনা কারণে জেলে নিয়ে যাওয়া শুধু তাকে নয়, তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে আঘাত করা। আমি যখন জেলে গিয়েছি তখন আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আমার জন্য দোয়া করেছেন, বের হওয়ার পর তারা সেটি জানিয়েছেন। এই পাওনাটা আবেগাপ্লুত করে ঠিকই, কিন্তু কারাবন্দি অবস্থায় যে অমানবিক আচরণ করা হয়, তার ফলে যে মানসিক ট্রমার সৃষ্টি হয় তা কাটতে অনেক সময় লাগে।
এশিয়া পোস্ট: আপনার বিরুদ্ধে মামলা ও জেলে যাওয়ার পেছনে কে বা কারা জড়িত বলে মনে করছেন? আপনার সঙ্গে এমনটা হওয়ার কারণ কী?
আনিস আলমগীর: আমাকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন থেকে চলছিল। আমি বলেছিলাম, বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙার ফলে ডক্টর ইউনূস সমাজে যে বিভেদ ও সংস্কৃতি তৈরি করেছেন, সেটি একদিন তার ওপরও অ্যাপ্লাই হবে। তার অপশাসনের সমালোচনা করায় ইউনূসের আশীর্বাদপুষ্ট রাজনৈতিক দল এনসিপির নেতা এবং তার প্রেস মিনিস্টার গংরা সম্মিলিতভাবে আমাকে জেলে দেওয়ার আবদার করেছিল। তুলে নেওয়ার পর দেখা গেল আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, তাই একটি সাজানো মামলা দেওয়া হলো। টকশোতে কথা বলা কি সন্ত্রাস? ইউনূস সাহেব নিজেই ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন, যাতে আমরা প্রাণ খুলে সমালোচনা করতে পারি, অথচ এই ভণ্ডামির কোনো জবাব নেই।
এশিয়া পোস্ট: জেল থেকে বের হয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় আপনি বলেছেন, ‘অনেক নিরীহ লোককে ধরে ধরে জেলে রেখে দিয়েছে’ সেসব নিরীহ লোক কারা?
আনিস আলমগীর: এই নিরীহ লোক হচ্ছে যারা আওয়ামী লীগে বিশ্বাসী বা মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করে এমন লোক। ৫ আগস্টের পর যে কাউকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ বলে মব করা বা জেলে দেওয়ার কালচার ইউনূস তৈরি করে দিয়ে গেছেন। টাকা না দিলে পুলিশে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, পুলিশও মব বাহিনীর কাজ করছে। এমনকি পুলিশ কাজ না করলে তাদেরও সাজা দেওয়া হচ্ছে; যেমন—পটিয়াতে একজন ওসিকে কান ধরানো হয়েছিল। কারণ, সে বিনা মামলায় একজনকে জেলে দিতে চায়নি। এভাবে ভুয়া মামলা দিয়ে জেলখানা ভর্তি করা হয়েছে। শহীদদের নামে করা মামলাগুলোতে শহীদের পরিবারের কেউ মামলা করে না, রাজনৈতিক কর্মীরা করে। একেকটি মামলায় ৭০০-৮০০ বা হাজার লোক আসামি। আমার রুমমেটকে শাহবাগ থানার একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে, অথচ সে জানতই না কোন শহীদ হত্যা। বাদী তার কাছে এসে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য। এই মামলাবাণিজ্য এভাবেই চলছে। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ দল নয়, তাই রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য কাউকে জেলে দেওয়া যায় না।
এশিয়া পোস্ট: আটকের পর মামলা বা টাকা নিয়ে জামিন দেওয়ার সংস্কৃতি, এটা কবে থেকে চালু হলো?
আনিস আলমগীর: এটা ৫ আগস্টের পর থেকেই হয়েছে। আগে ভুয়া মামলা হতো কিন্তু এ ধরনের হতো না। ইউনূস এবং আসিফ নজরুল এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যে, এই হত্যাগুলোর কোনো বিচার হবে না, সব ঝুলে থাকবে। এক অপরাধের জন্য বিচার হবে আর অন্য অপরাধের জন্য হবে না—এই বিভেদ সমাজকে নষ্ট করছে।
এশিয়া পোস্ট: আপনি আরও বলেছেন, ‘জেলের প্রথম এক মাস আপনার ওপর অমানসিক নির্যাতন হয়েছে’—সে বিষয়ে যদি বলতেন।
আনিস আলমগীর: অনেকে মনে করে নির্যাতন মানেই পিটুনি, তেমন কিছু হয়নি। ডিবিতে তারা আমার সঙ্গে বসে চা খেয়েছে। তবে অমানসিক নির্যাতনটা ছিল অন্যভাবে। আমাকে ডিবিতে একা এমন জায়গায় রাখা হয়েছিল যেখানে কারও সঙ্গে কথা বলা যায় না, সারাক্ষণ লাইটের মধ্যে ঘুমাতে হয়। জেলে গিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় একটি ছোট রুমে ৩৫ জন লোকের সঙ্গে থাকা এবং একটি মাত্র টয়লেট ব্যবহার করা ছিল চরম কষ্টের। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সকাল পর্যন্ত বন্দি থাকতে হতো। সবচেয়ে বড় মানসিক নির্যাতন হচ্ছে—নিজের ভবিষ্যৎ না জানা। আইন-আদালত সবকিছু ডক্টর ইউনূসের কব্জায়। ইউনূস সাহেব নিজেই একজন মবের সম্রাট, তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে মব করতে উৎসাহ দেন আর আইনমন্ত্রী আদালতকে ভর্ৎসনা করেন জামিন দেওয়ার জন্য। বিনা বিচারে ১৯-২০ মাস একজনকে জেলে রাখা রাষ্ট্রীয় ও মানবিক অপচয়। জেলে যে খাবার দেওয়া হয় তা অযোগ্য, তাই বাধ্য হয়ে ফ্যামিলি থেকে মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা আনতে হয় খাওয়ার জন্য। উকিলদের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করে একেকটি ফ্যামিলি নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। জেলখানাগুলো এখন ‘মাদ্রাসা’ হয়ে গেছে, কারণ মানুষ আদালতের কাছে বিচার না পেয়ে আল্লাহর কাছে বিচার দিচ্ছে। জেল গেটে নতুন মামলা দিয়ে আবার ঢুকিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ডক্টর ইউনূস চালু করে গেছেন। বের হওয়ার পেছনে প্রশাসনকে টাকা দিতে হচ্ছে। আমি বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় জামিন পেয়েছি, ইউনূসের আমলে আমাকে জামিন দেওয়া হয়নি।
এশিয়া পোস্ট: জেলাখানার অব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনি কথা বলেছেন। জেলখানায় প্রশাসনের ভূমিকা বা করণীয় কী হওয়া উচিত?
আনিস আলমগীর: প্রথমত, যেখানে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে ৩০ জনের রুমে ১০০ জন রাখা হয়, যেটাকে তারা ‘ইলিশ ফাইল’ বলে। শীতের দিনে কম্বল নেই, গরমে পাখাও নেই। খাবার অযোগ্য। প্রিজনারদের অধিকার সেখানে নেই। আওয়ামী লীগের লোকদের জন্য জেলের ভেতর আলাদা জেল তৈরি করা হয়েছে, তারা নির্দিষ্ট বিল্ডিংয়ের বাইরে যেতে পারে না, অথচ অন্য আসামিরা ঘুরতে পারে। সরকারের উচিত জেলখানার উন্নয়ন করা এবং বন্দিদের অধিকার নিশ্চিত করা। যারা এখন ক্ষমতায় তারা নিজেরা যখন জেলে ছিল তখনকার কষ্ট ভুলে গেছেন। আমাকে আদালত সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী ডিভিশন দিতে বললেও তা পেতে এক মাস সময় লেগেছে।
এশিয়া পোস্ট: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনাকে ফোন করেছিলেন। কী বলেছিলেন তিনি? এরপর কি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার সাক্ষাৎ হয়েছে?
আনিস আলমগীর: এটা ছিল সাধারণ সৌজন্যতা এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানানো। তিনি ওয়ান-ইলেভেনের সময় তার কারাবাসের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। দেশ কীভাবে চলবে সে বিষয়ে তিনি সহযোগিতা চেয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে আমাদের কাজ শুধু সমালোচনা করা নয়, ভালো কাজের প্রশংসাও করা। আমি তাকে বলেছি, তার মধ্যে ট্রিমেন্ডাস চেঞ্জ এসেছে এবং সরকার প্রধান হিসেবে তার বর্তমান কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ হয়নি। আমি শেখ হাসিনার কাছেও কোনো দিন যাইনি। খালেদা জিয়া আমাকে একবার চায়ের দাওয়াত দিয়েছিলেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন। নিজে থেকে কোথাও যাওয়ার অভ্যাস আমার নেই।
এশিয়া পোস্ট: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়টাকে আপনি বলেছেন, ‘গত এক হাজার বছরে এর থেকে বড় বাটপারি শাসন কেউ দেখেনি’। কী কী বাটপারি হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
আনিস আলমগীর: প্রতিটি সেক্টরে বাটপারি করা হয়েছে। আপনি মুখে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলছেন অথচ বিচারকদের ভর্ৎসনা করছেন। দুদককে নিজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। ‘কালের কণ্ঠ’ একটি রিপোর্টে দেখিয়েছে কীভাবে তিনি রাষ্ট্রের টাকা নস্যাৎ করেছেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভবান করেছেন। তার প্রতিষ্ঠানের কর মওকুফ করা এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারি শেয়ার কমিয়ে দেওয়া বাটপারি ছাড়া কিছু নয়। তিনি কোনো দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি, কোনো জবাবদিহিতা তার মধ্যে নেই। তিনি আমাদের গণতন্ত্র শেখাবেন? এটা বিশ্ব বাটপার শাসন।
এশিয়া পোস্ট: আপনাকে কেন আওয়ামীপন্থি সাংবাদিক বলা হয়, যদি তা না হয় তবে আপনি কোনপন্থি?
আনিস আলমগীর: এর একটি কনসেপ্ট দাঁড়িয়ে গেছে। ৭১-এর প্রশ্নে আপনার অবস্থান স্বাধীনতার পক্ষে থাকলে আপনি আওয়ামী লীগের লোক। আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে আপনার খোঁজ না নিলেও আপনি তাদের লোক হিসেবে ট্যাগ খাবেন। যারা ইউনূসকে সালাম দেয় তারা ভালো। এখন তো আমাকে বিএনপির লোক হিসেবেও ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এই ট্যাগ দেয় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। আপনি যখন স্বাধীনতার পক্ষে বা বঙ্গবন্ধুর কথা বলবেন তখনই আপনি খারাপ। আমি কোনো দলীয় দালালি করি না এবং কারও থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা নিইনি। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখন বিএনপিই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান শক্তি। আমি একজন সাংবাদিক, এটিই আমার পরিচয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল করি না। সাংবাদিক হিসেবে আমি নিরপেক্ষ থেকে সরকারকে এবং বিরোধী দলকেও প্রশ্ন করতে চাই। যে বিরোধী দল জাতীয় সংগীতের সময় বসে থাকে বা রাজাকারদের বন্দনা করে, তাদের সমালোচনা করা সাংবাদিকের দায়িত্ব।
এশিয়া পোস্ট: ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
আনিস আলমগীর: একাত্তরকে আওয়ামী লীগ নিজের সম্পত্তি মনে করত। এখন জামায়াত বা এনসিপির মতো দলগুলো চব্বিশকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করছে। জুলাই বিপ্লব গণমানুষের আন্দোলন ছিল, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়। এখন চব্বিশ দিয়ে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে, যা বিভক্তি বাড়াবে।
এশিয়া পোস্ট: সাংবাদিকতাকে আপনার পেশা হিসেবে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ কী? আপনি কোন কোন মিডিয়ায় কাজ করেছেন?
আনিস আলমগীর: আমি ক্লাস এইট থেকেই সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করেছি। অনেক প্রফেশনের অফার ছিল, এমনকি সিনেমায় অভিনয়েরও, কিন্তু সাংবাদিকতাই বেছে নিয়েছি। আমি কোনোদিন রাজনীতির দালালি করিনি। আমার শুরু ‘দৈনিক দেশ’ দিয়ে, এরপর ‘আজকের কাগজ’, ‘মর্নিং সান’, ‘চ্যানেল আই’, ‘বৈশাখী টেলিভিশন’, ‘আরটিভি’, ‘এশিয়ান টেলিভিশন’ এবং সবশেষে ‘মানবকণ্ঠ’ পত্রিকায় ছিলাম।
এশিয়া পোস্ট: আপনার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোন অ্যাসাইনমেন্টটি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বা বিপজ্জনক ছিল?
আনিস আলমগীর: ইরাক যুদ্ধ সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ছিল। সেখানে ৫১ দিন যুদ্ধের ময়দানে থাকতে হয়েছে। আমাদের হোটেলে বোমা মারা হয়েছিল এবং একজন স্পট ডেড ছিল। তার চেয়েও বিপজ্জনক ছিল আফগান যুদ্ধ। ২০০১ সালে কান্দাহারে আমি তালেবানদের হাতে বন্দি হয়েছিলাম। তখন আমি বুঝেছিলাম মৃত্যুভয় কী জিনিস। তালেবানদের হাতে বন্দি থাকাকালীন সময়ের অনুভূতি আমার জীবনের বড় শিক্ষা।
এশিয়া পোস্ট: যারা বলে ইরাক যুদ্ধের সংবাদ কভারের পর থেকে আপনি সেটিই বিক্রি করে এখনও চলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আপনি কী বলবেন?
আনিস আলমগীর: বিক্রি করলে তো ১৫ বছর বেকার থাকতাম না। আমি ২০০৭ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার ৩২ বছর পর প্রথমবারের মতো উনার এবং কামাল-জামালের সেই সিঁড়িতে পড়ে থাকার ফুটেজ বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচার করেছিলাম। বিক্রি করার মানসিকতা থাকলে শেখ হাসিনার কাছে ওটা বিক্রি করে অনেক কিছু হতে পারতাম। যারা এসব বলে তারা নিজেরা বড় কোনো ইভেন্ট কাভার করতে পারেনি।
এশিয়া পোস্ট: একজন সফল সাংবাদিক হওয়ার জন্য কোন গুণটি সবচেয়ে অপরিহার্য বলে আপনি মনে করেন?
আনিস আলমগীর: প্রথমত, ভাষাগত দক্ষতা এবং শুদ্ধ লেখার ক্ষমতা থাকতে হবে। সততা, প্রশিক্ষণ এবং নীতি-নৈতিকতা থাকতে হবে। যাদের নিয়ত শুধু টাকা ইনকাম তাদের সাংবাদিকতায় আসা উচিত নয়। সাংবাদিকের আর্থিক নিরাপত্তা বা ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা জরুরি, যাতে বেকারত্বের দিনেও কারও গোলাম হতে না হয়। বর্তমান সাংবাদিকতার সংকট হলো মালিকের স্বার্থে সাংবাদিকদের ব্যবহার করা। ডক্টর ইউনূসের ১৮ মাসের অপশাসন নিয়ে সাংবাদিকরা চুপ ছিল, যেটা আবর্জনা সাংবাদিকতা।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমান সময়ে মূলধারার সাংবাদিকতার প্রধান সংকটগুলো থেকে উত্তোরণের উপায় কী?
আনিস আলমগীর: মিডিয়াগুলোর নিজস্ব ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। অন্যের লেখা কপি করা বা ভিউ ব্যবসার জন্য চটুল ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা বন্ধ করতে হবে। ক্রেডিবিলিটি বা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে। সরকার এবং সংবাদমাধ্যমের মধ্যে জবাবদিহিতার সম্পর্ক থাকা উচিত। বর্তমান তথ্যমন্ত্রী অনেক পজিটিভ এবং বিজ্ঞ লোক, তিনি সরকার ও মিডিয়ার মধ্যে ভালো ব্রিজ হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? ভবিষ্যতে এ দুই দেশের সম্পর্ক কেমন থাকা উচিত বলে মনে করেন?
আনিস আলমগীর: সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত, নতজানু নয়। পারস্পরিক মর্যাদা নিয়ে দুই দেশ থাকবে। ‘ঢাকা না দিল্লি’—এ ধরনের ফাউল স্লোগান বাদ দিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
এশিয়া পোস্ট: নতুন যারা সাংবাদিকতায় আসতে চায়, তাদের জন্য আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ আছে কি? তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব একজন নবীন সাংবাদিকের কাছে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
আনিস আলমগীর: ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিক রাখতে হবে যাতে টাকার অভাবে নীতি বিসর্জন দিতে না হয়। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আপনি যা লিখবেন তা যেন ১০ বছর পরও ডিফেন্ড করতে পারেন। সোর্স বিল্ডিং এবং তথ্যের ক্রস চেক করা জরুরি। ভালো এবং শিক্ষিত লোকরা যেখানে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে হবে। এশিয়া পোস্ট যদি সৎ এবং জনকল্যাণে সাংবাদিকতা করে তবে তারা এগিয়ে যাবে—এই শুভকামনা করি।



