
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের কওমি শিক্ষাব্যবস্থা দেখভালের সঙ্গে যুক্ত মাওলানা মুহাম্মাদ মাহফুজুল হক। বর্তমানে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হিসেবে পরিচিত বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়ার স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মোহাম্মদপুরের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মহাপরিচালক। দেশের কওমি শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক চিত্র, বেফাকের ভূমিকা ও পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান রাশেদ
এশিয়া পোস্ট: ২০০৫ সাল থেকে বেফাকের দায়িত্বশীল পদে আছেন। ২০২০ সাল থেকে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
মাহফুজুল হক: ২০০৫ সালে শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি (রহ.) বেফাকের সভাপতি হন, ওই বছরই আমি সহকারী মহাসচিব মনোনীত হই। ২০২০ পর্যন্ত সহকারী মহাসচিব ছিলাম। ওই বছরের অক্টোবরে মহাসচিবের দায়িত্ব পাই।
২০০১ সালে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। তখন আলেমরা কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতির আওতায় আনতে চেয়েছিলেন। এর আগেও চেষ্টা হয়েছে। ২০০৫-২০০৬ সালের দিকে স্বীকৃতি দিতে সরকার কমিটি গঠন করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত গেজেট হয়নি। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়ে প্রথম নীতিগত সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।
২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের আমলে দাওরায়ে হাদিসের সনদ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন করে স্বীকৃতি লাভ করে। ২০১৮ সালে সংসদে বিল পাসের মধ্য দিয়ে এটি আইনে পরিণত হয়।
বেফাকের নামে স্বীকৃতি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু আঞ্চলিক অন্যান্য বোর্ডের কারণে হয়নি। ২০১৭ সালে ছয় বোর্ডের সমন্বয়ে আল-হাইয়াতুল উলয়া গঠন হয়। এটি এই সময়ের বড় অর্জন। এখন বলতে পারি, কওমি মাদ্রাসাগুলো আল-হাইয়াতুল উলয়ার অধীনে এক্যবদ্ধ।
এশিয়া পোস্ট: সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় পাবলিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর দেশব্যাপী উচ্ছ্বাস দেখা যায়। গণমাধ্যমেও আলোচনা হয়। কিন্তু বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফল নিয়ে এমন উচ্ছ্বাস বা আলোচনা দেখা যায় না। এর কারণ কী?
মাহফুজুল হক: স্কুল-কলেজের শিক্ষার সঙ্গে বিপুলসংখ্যাক মানুষের সম্পৃক্ততা আছে। সেই তুলনায় কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কম। তবে এবার ফল ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যে ২০ লাখ মানুষ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছে। অনলাইনেও বেশ আলোচনা হয়েছে। তবে ঈদের আগমুহূর্তে ফল ঘোষণা এবং সময় নির্ধারণে জটিলতার কারণে মিডিয়াকে সেভাবে জানানো যায়নি। ভবিষ্যতে মিডিয়াকে ডাকার চিন্তাভাবনা রয়েছে আমাদের।
এশিয়া পোস্ট: অভিযোগ আছে, অকৃতকার্য হওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ক্লাসে ভর্তি হতে পারেন। এ বিষয়ে বেফাকের সিদ্ধান্ত কী?
মাহফুজুল হক: মিশকাতে পরীক্ষা দিতে হলে শরহে বেকায়ার পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্লাসেও এমন নিয়ম করা হবে। অকৃতকার্য ছাত্ররা পরবর্তী ক্লাসে ভর্তি হতে পারবে; এমন দৃষ্টিভঙ্গি বেফাক লালন করে না। এ জন্য পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ধাপের পরীক্ষার জন্য আগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বাধ্যবাধকতা চালু করছি। মাদ্রাসাগুলোকে প্রস্তুত করছি। তাদের উদ্বুদ্ধ করছি।
এশিয়া পোস্ট: কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীরা চাইলে যে কোনো ক্লাসে ভর্তি হতে পারে। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সনদ লাগে না। এর ফলে কি শিক্ষার মান কমছে?
মাহফুজুল হক: হাইয়াতুল উলয়ায় সম্মিলিত ছয়টি বোর্ড কাজ করছে। সেখানে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছি। যোগ্যতা ছাড়া যেন ভর্তি হতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখছি।
যে কোনো ক্লাসে ভর্তির বিষয়টি এখন কমে আসছে। একসময় মাদ্রাসাগুলো ইচ্ছামতো পরিচালিত হয়েছে। বোর্ড ছিল না। পরে বোর্ড হলো। বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এ দুর্বলতাগুলো ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হয়েছে। স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে আরেকটু এগিয়েছে। আশা করি, দ্রুত এ ধরনের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠব। তবে আগের ক্লাসে উত্তীর্ণ না হওয়া কাউকে পরের ক্লাসে ভর্তি নিলে শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হয়।
এশিয়া পোস্ট: বেফাক প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫০ বছর হলো। একটি শিক্ষাবোর্ডে শিক্ষাবান্ধব নিয়ম করতে এত বছর লাগছে কেন?
মাহফুজুল হক: স্বীকৃতির আগ পর্যন্ত বেফাক ওইসব মাদ্রাসার সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাদের ওপর আইন চাপানোর মতো শক্তি বেফাকের ছিল না। স্বীকৃতি তো কার্যকর হলো ২০১৭-১৮ সালে। সময় অনেক গেছে, সময়ের মধ্য দিয়ে পরিবেশ ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে আসছে।
এশিয়া পোস্ট: আল-হাইয়াতুল উলয়ার পরীক্ষায় ফেল করার পরও অনেক পরীক্ষার্থীকে পাগড়ি দেওয়ার খবর এসেছে। ফেল করা শিক্ষার্থীদেরও মাওলানা উপাধি দেওয়া হচ্ছে। তাহলে পড়াশোনা করে পাস করার প্রয়োজন কী?
মাহফুজুল হক: আল-হাইয়াতুল উলয়ার পক্ষ থেকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয় না। কোনো বিষয়ে ফেল করলে পরের বছর পরীক্ষা দিতে হয়। কিছু প্রতিষ্ঠানে দুর্বলতা আছে। দাওরায়ে হাদিসে ফেল শিক্ষার্থীও যেন সমাজে দায়িত্ব পালন করতে পারে, ওই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্ভবত তারা পাগড়ি দিচ্ছে। খুব দ্রুতই পরিবেশ ঠিক করার চেষ্টা করছি। এখন সার্টিফিকেট দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম বেফাক ও হাইয়াতুল উলয়া। একসময় প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকের গুরুত্ব থাকবে না। তখন ফেল করা শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট দেওয়া সম্ভব হবে না।
এশিয়া পোস্ট: দাওরায়ে হাদিসে ফেল শিক্ষার্থীকে মাওলানা উপাধি বা পাগড়ি দেওয়া ঠিক মনে করেন?
মাহফুজুল হক: না। বেফাক তাকে সার্টিফিকেট দেয় না। ভালো প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ফলাফল ঘোষণার পর পাগড়ি দেওয়া হয়। সাধারণ প্রতিষ্ঠান বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেকে বার্ষিক পরীক্ষার আগেই পাগড়ি দিয়ে দেন। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন নয়। ফেল ছাত্রকে মাওলানা উপাধি বা পাগড়ি দেওয়া বেফাক সমর্থন করে না।
এশিয়া পোস্ট: কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যত্রতত্র মাদ্রাসা খোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে বেফাকের চিন্তাভাবনা কী?
মাহফুজুল হক: একটা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও বেফাকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য কী কী মানদণ্ড থাকা দরকার, এ বিষয়ে কাজ করছি। কিন্ডারগার্টেনও যত্রতত্র হচ্ছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন কম হয়। কিন্তু কওমি মাদ্রাসা নিয়ে প্রশ্ন বেশি হয়। তবে যোগ্যতা ছাড়া যত্রতত্র মাদ্রাসা করা ঠিক নয়। এগুলোকে নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসতে সচেষ্ট আছি।
এশিয়াপ পোস্ট: সিলেবাস আধুনিকীকরণে বেফাক কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
মাহফুজুল হক: বেফাক প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিলেবাস প্রণয়নের কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। কোরআন-হাদিসের গভীর জ্ঞানার্জনের যে শিক্ষা কার্যক্রম, সেখানে খুব বেশি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। একসময় কওমিতে বাংলা, গণিত, ইংরেজি, ভূগোল ও ইতিহাস ছিল না। বেফাকই প্রথম পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এগুলো পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পরে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি যোগ হয়েছে। এখন নবম-দশমেও বাংলা-ইংরেজি যুক্ত হচ্ছে। মিশকাতে ইসলামি অর্থনীতি পড়ানো হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানও সিলেবাসভুক্ত করার চিন্তা আছে। মূল উদ্দেশ্য ঠিক রেখে আমরা সিলেবাস আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়েই যাচ্ছি।
এশিয়া পোস্ট: শাপলা চত্বর ও জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস মাদ্রাসার পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবি উঠছে। এ নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী?
মাহফুজুল হক: বেফাকে আমাদের স্থায়ী সম্পাদনা পরিষদ আছে। সেখানে শাপলা ও জুলাইয়ে আলেমদের অবদান ও ইতিহাস পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে জুলাইকে সরকার কীভাবে ধারণ করছে, সেদিকেও নজর রাখছি। সে আলোকে আমাদের শিক্ষা সিলেবাসে এ জাতীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা আছে।
এশিয়া পোস্ট: ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রয়োজনে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যবহার করছে। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
মাহফুজুল হক: ছাত্ররাও ইসলামি রাজনীতি শিখবে, তবে সেটা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। তার মূল কাজ পড়াশোনা। ধর্মীয় ব্যাপক প্রয়োজন ছাড়া তাদের মাঠে-ময়দানে কাজে লাগানো ঠিক নয়। এতে ছাত্রদের মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা ব্যাহত হবে।
এশিয়া পোস্ট: চাকরির বাজারে মাদ্রাসা শিক্ষা সনদের গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে। এ নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে ক্ষোভ-আক্ষেপ রয়েছে, কিন্তু বিষয়টি সুরাহার কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। এখানে বেফাকের কোনো ব্যর্থতা আছে বলে মনে করেন?
মাহফুজুল হক: এটার জন্য উদ্যোগ নেই; এ কথার সঙ্গে একমত নই। স্বীকৃতি তো এমনি অর্জন হয়নি। এর পেছনে মুরুব্বিদের যথেষ্ট সংগ্রাম আছে। স্বীকৃতি কার্যকরের চেষ্টা পুরোপুরি অব্যাহত আছে। স্বীকৃতি আদায়ের সময়ও আমাদের প্রথম টার্গেট ছিল নিজস্ব স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্য বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কা যেন তৈরি না হয়। আমাদের এসএসসি, এইচএসসি ও অনার্সের সমমান নিতে বলা হচ্ছে। এই স্তরগুলোতে সমমান নেওয়া হলে কওমি শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্বলতা দেখা দেবে। যেমন আলিয়া মাদ্রাসায় হচ্ছে। সেখানে দাখিলে ১০০ শিক্ষার্থী থাকলে আলিমে থাকে ৫০ জন। বাকিরা কলেজে চলে যায়। আলিমে ৫০ জন থাকলে পরের ধাপে থাকে ২০ জন। মেধাবীরা কেউ থাকে না। একটা শিক্ষাব্যবস্থায় মেধাবীরাই যদি না থাকে, তাহলে সেটা টিকে থাকে না। আমরা মনে করছি, অল্প দিনের মধ্যে আলিয়া মাদ্রাসা ভ্যানিশ বা নাই হয়ে যাবে।
এসএসসি বা এইচএসসির সমমান নিচ্ছি না আমরা। না নেওয়ার কারণে সনদের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা। এটা না নিয়ে কীভাবে সনদ কার্যকর করা যায়, সে চেষ্টা করছি।
এশিয়া পোস্ট: সমমান না নিলে চাকরির সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে?
মাহফুজুল হক: ২০০৬ সালে যখন দাওরায়ে হাদিসের সনদের নীতিগত গেজেট হয়, সেখানে বলা আছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষক পদে আবেদন করা যাবে। এখন কাজি পদে আবেদন করা যাচ্ছে।
এই সনদে আমাদের ছাত্রদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ ধর্মীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সুযোগ দেওয়া হলে চাকরির অনেক ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে চাকরির বাজার তৈরি করতে গিয়ে মূল জায়গা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।
এশিয়া পোস্ট: শিক্ষার্থীরা তো একাডেমিক সমমান নিয়ে চাকরির বিশাল বাজারে প্রবেশ করতে চান।
মাহফুজুল হক: আমি মনে করি, ছাত্ররা বুঝতে পারছে না। যদি চাকরিই একমাত্র লক্ষ্য হয়, তাহলে কওমি মাদ্রাসায় আসার প্রয়োজন কী? সে আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ুক। কওমি মাদ্রাসায় যেহেতু এসেছে, তাকে কোরআন-হাদিসের বিজ্ঞ আলেম হতে হবে। কওমি মাদ্রাসায় পড়ার পাশাপাশি স্কুলে সে পরীক্ষা দিক। তবে আগে ভালো আলেম হোক।
এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মাহফুজুল হক: এশিয়া পোস্টের জন্য শুভকামনা। আপনাকেও ধন্যবাদ।



