রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। মরহুম শফিউল আলম প্রধানের হাত ধরে রাজনীতি দেখা এই তরুণ নেতার বেড়ে ওঠা উত্তাল রাজপথ আর রাজনৈতিক আবহে। পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও পরিবারের লিগ্যাসি আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কারিগরি ক্যারিয়ার ছেড়ে নামেন রাজনীতিতে। বিগত সরকারের সময় নানা হুমকি আর চাপের মুখেও যিনি ছিলেন আপসহীন, এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছেন মৃত্যুর মুখ থেকে। বর্তমান ছাত্র-জনতার বিপ্লব, ভারত বিরোধিতার অনড় অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কসহ নানা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে এশিয়া পোস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাহাত রূপান্তর
এশিয়া পোস্ট: রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে আপনার শৈশবের অভিজ্ঞতা জানতে চাই?
রাশেদ প্রধান: আমার বেড়ে ওঠা মূলত ঢাকা শহরেই। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে রাজনৈতিক পরিবেশটা একদম জন্ম থেকেই সচক্ষে দেখেছি। আমি রাজনীতির তৃতীয় জেনারেশন। আমার মরহুম দাদা গমির উদ্দিন প্রধান মুসলিম লীগের সভাপতি এবং পাকিস্তান পিরিয়ডের সর্বশেষ স্পিকার ছিলেন। পরবর্তীতে আমার মরহুম বাবা শফিউল আলম প্রধান রাজনীতিতে আসেন এবং তার হাতে গড়া দল জাগপার দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে।
ছোটবেলায় দেখতাম বাসায় পুলিশ চলে এসেছে আব্বুকে গ্রেপ্তার করতে, আবার কখনও দেখতাম সাংবাদিকদের সঙ্গে আব্বু বাসায় দুপুরে ভাত খাচ্ছেন। তখনকার কালচারটা এখনকারমতো এতো প্রোটোকল নির্ভর ছিল না। আমি দেখতাম মন্ত্রীরাও সাধারণভাবে ঘুরতেন, বাসায় আসতেন। আমরা যেভাবে স্কুলে বাংলা-ইংরেজি শিখতাম, একইভাবে স্কুল থেকে ফিরে রাতে খাবার টেবিলে বাবা-মায়ের মুখে গল্প করতে করতে রাজনীতি শিখেছি। উচ্চশিক্ষা শেষে ২০১২-১৩ সালের দিকে আমি রাজনীতিতে সক্রিয় হই এবং বর্তমানে এই পারিবারিক লিগ্যাসি ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করছি।
এশিয়া পোস্ট: একজন বাবা বনাম একজন নেতা শফিউল আলম প্রধানকে কোন সত্তায় বেশি দেখেছেন?
রাশেদ প্রধান: একদম খোলামেলা বললে, নেতা হিসেবে তাকে ১০-এ ১০ দেব, কিন্তু বাবা হিসেবে দেব ১০-এ ১। তিনি রাজনীতি নিয়ে এতটাই সক্রিয় ছিলেন যে, সন্তানদের জন্য তার সময় ছিল না। আমাদের খাওয়া-দাওয়া বা পড়াশোনা নিয়ে তার তেমন চিন্তা ছিল না। ছোটবেলায় এটা নিয়ে আমাদের খুব অভিমান হতো। তিনি নিজের পরিবারের চেয়ে দলের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর দায়িত্ব পালনে বেশি মগ্ন ছিলেন। আমরা অসুস্থ থাকলেও দেখতাম তিনি ভুখা মিছিলে যাচ্ছেন। বাবা হিসেবে স্নেহ-মায়ার যে অংশটা আমাদের প্রাপ্য ছিল, সেখান থেকে আমরা বঞ্চিত ছিলাম। এখন জীবনের এই পর্যায়ে এসে দেখি আমার সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নেতা হিসেবে তাকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করি, তবে বাবা হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেননি।
এশিয়া পোস্ট: আপনার মা রেহানা প্রধানও রাজনীতি করেছেন। তার পদচারণা আপনার ব্যক্তিত্বকে কতটা সমৃদ্ধ করেছে?
রাশেদ প্রধান: আমার মা যখন গর্ভবতী ছিলেন, তখন তিনি রাজপথে ভুখা মিছিল করছিলেন। আমার দাদি বলতেন, আমি প্রথম স্লোগান শুনেছি মায়ের পেটেই। তিনি লালমাটিয়া মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং আদর্শের প্রভাব অবশ্যই আমার ওপর আছে। বিশেষ করে অনেক জটিল রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর বা গাইডেন্স আমরা তার কাছ থেকেই বেশি পেয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: আপনি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। কারিগরি ক্ষেত্র ছেড়ে রাজনীতিতে আসার পেছনের তাড়নাটা কী ছিল?
রাশেদ প্রধান: প্রথমত, এটা একটা পারিবারিক লিগ্যাসি। রক্তেই পলিটিক্স ছিল। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে বাবা আমাদের বলেছিলেন দেশে ফিরে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই রাজনীতিতে আসা। এছাড়া সচক্ষে দেখছিলাম দেশটা কীভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদের গ্রাসে চলে যাচ্ছে এবং শাসকরা জনগণকে শোষণ করছে। এই বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকেই ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া। এখন রাজনীতি ছাড়া অন্য কিছু চিন্তা করা সম্ভব হয় না।
এশিয়া পোস্ট: আপনার বাবার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরা কি নিছক দায়িত্ব নাকি আবেগও ছিল?
রাশেদ প্রধান: আবেগ তো অবশ্যই ছিল। তবে তার চেয়ে বড় ছিল দায়বদ্ধতা। আমার মা এবং বোন ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দল দেখাশোনা করছিলেন। কিন্তু রাজপথে সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা থেকে আমি দায়িত্ব নিতে বাধ্য হই। অসংখ্য মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। সেই লিগ্যাসি ধরে রাখা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমি বৃহত্তর পরিসরে দায়িত্ব নিয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: রাজনীতির বাইরে রাশেদ প্রধান মানুষটা কেমন? অবসরে কী করেন?
রাশেদ প্রধান: ছোটবেলা থেকেই আমাদের পরিবারে বই পড়ার একটা সংস্কৃতি ছিল। আব্বু-আম্মু আমাদের কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গল্পের বই পড়ার অভ্যাস করিয়েছিলেন। এখনও রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত ১৫-২০ মিনিট বই পড়ার চেষ্টা করি। আগে প্রচুর গান শুনতাম, এমনকি রেকর্ডও করতাম। ছাত্রজীবনে আমরা ব্যান্ড মিউজিকের পাগল ছিলাম; জেমস, আইয়ুব বাচ্চু বা ওয়ারফেজের কনসার্ট দেখতে যেতাম। এমনকি নিজেরাও ব্যান্ড দল করে ড্রাম বা গিটার বাজাতাম। এখন রাজনীতিতে সময় দিতে গিয়ে ওগুলো স্বপ্ন মনে হয়। রাজনৈতিক সফরে যখন গাড়িতে দীর্ঘ সময় থাকি, তখন গান শোনা হয়।
এশিয়া পোস্ট: আপনার ছোটবেলার কোনো বিশেষ স্মৃতি কি আপনাকে রাজনৈতিক লড়াইয়ে উৎসাহ দেয়?
রাশেদ প্রধান: আমি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে পড়তাম, যার পাশেই ঢাকা কলেজ ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি। স্কুল জীবনেই রাজপথের মিছিল-মিটিং এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করত। ঢাকা কলেজের মাঠে ক্রিকেট খেলার সময় মাঝে মাঝে বন্দুকের মহড়া দেখতাম। হাতে ক্রিকেট ব্যাটের বদলে রাইফেল বা পিস্তল কেন—এই দৃশ্যগুলো আমাকে ভাবাত। এই পরিবেশই আমার চিন্তাচেতনাকে উন্নত করতে এবং পরিবর্তনের লড়াইয়ে নামতে সাহায্য করেছে।
এশিয়া পোস্ট: বিগত সরকারের সময় আপনাদের পরিবারের ওপর কঠিন সময় গেছে। বিশেষ কোনো মুহূর্তের কথা বলবেন?
রাশেদ প্রধান: পুলিশি হয়রানি বা গ্রেপ্তার আমাদের জন্য খুব স্বাভাবিক বিষয়। বাবা তার জীবনে ২৭ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে শেষ নির্বাচনের সময় আমার ওপর প্রচণ্ড চাপ ছিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য। ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমি সরাসরি থ্রেট পেয়েছিলাম। এমনকি মানিক মিয়া এভিনিউতে আমার সিএনজি আটকে আমার দুই সন্তান রিহান ও রাদিনের নাম উল্লেখ করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তারা চেয়েছিল আমি যাতে ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাঁড়াই। আমাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে, ইন্টারনেট ব্যবহার করা বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আমি ভেবেছি, দুই সন্তানের চেয়ে আমার সংগঠনের হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ বড়। সে হুমকি আমার জেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এশিয়া পোস্ট: আপনি কি কখনও কারাবরণ করেছেন?
রাশেদ প্রধান: আমি এখনও কারাবরণ করিনি। তবে গত ১৯ জুলাই পল্টনে আমি সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। পুলিশ খুব কাছ থেকে গুলি করেছিল, যা আমার ডান পাশের মানুষের পেটে লাগে এবং তিনি মারা যান। আধা হাত পাশে এলে গুলিটা আমার গায়ে লাগত। আমি বিশ্বাস করি, আমি এখন আমার দ্বিতীয় জীবন যাপন করছি। এরপর থেকে মৃত্যুভয় বা কারও সামনে মাথা নত করার ভয় চলে গেছে। এক আল্লাহ ছাড়া আমি কাউকে ভয় পাই না।
এশিয়া পোস্ট: আগে আপনারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে ছিলেন, এখন নেই। বিএনপির সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক কেমন?
রাশেদ প্রধান: বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এখনও সুসম্পর্ক ও কুশল বিনিময় হয়। তবে তৃণমূলের যারা রাজপথে সক্রিয় ছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বেশি। দুঃখজনক হলো, যারা রাজপথে লড়াই করেছে তারা এখন বঞ্চিত, আর সুবিধাবাদীরা বড় জায়গায় পৌঁছে গেছে।
এশিয়া পোস্ট: আপনাদের ১১ দলীয় জোট কেন এই নির্বাচনে জিতে আসতে পারল না?
রাশেদ প্রধান: আমি মনে করি এটি একটি ‘ম্যানেজ ভোট’ ছিল। ২০০৮ সালের মতো প্রশাসন, কমিশন ও মিডিয়াকে ম্যানেজ করে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে ২৮টি জেলায় প্রচারণা চালিয়ে দেখেছি জনগণের ভালোবাসা আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের পরাজয় হয়নি, বরং কারচুপির মাধ্যমে আমাদের হারানো হয়েছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, জনগণ ডাক্তার শফিকুর রহমানকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিল।
এশিয়া পোস্ট: আপনি বলছেন ম্যানেজ ভোট। তাহলে আপনারা মেনে নিলেন কেন?
রাশেদ প্রধান: দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা তাৎক্ষণিক বড় আন্দোলনে যাইনি, যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অগণতান্ত্রিক শক্তি বা জরুরি অবস্থা জারি না হয়। আমরা চেয়েছিলাম বিরোধী দল হিসেবে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে এবং তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে।
এশিয়া পোস্ট: ১১ দলীয় জোটে অন্য দলগুলোর তুলনায় আপনি দ্বিধাহীন কেন?
রাশেদ প্রধান: আমি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা মানুষ। বিএনপি আমাদের ওপর তাদের সিদ্ধান্ত তোতা পাখির মতো চাপিয়ে দিতে চাইত, যা আমার পছন্দ হয়নি। তারা সংস্কারবিরোধী অনেক কথা আমাদের দিয়ে বলাতে চাইত। আমি মনে করি, জোট মানে আমরা সবাই এক। ১১ দলের যে কোনো কাজে সক্রিয় হওয়া মানে আমার নিজের দলেরই কাজ করা। আমি রাজনীতি করি বুক ফুলিয়ে, লুকিয়ে থাকার জন্য নয়।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমান সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রমকে কীভাবে দেখছেন?
রাশেদ প্রধান: বিপ্লব-পরবর্তী এই গণতান্ত্রিক সরকারকে অন্তত ১০০ দিন বা হানিমুন পিরিয়ড দেওয়া উচিত। তবে যা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে সরকার কার্যক্রমের চেয়ে বলিউডি কায়দায় লোকদেখানো প্রচারণায় বেশি ব্যস্ত। তারেক রহমানের ফোনকলে স্কুলছাত্র উদ্ধার বা তাদের পারিবারিক কিছু বিষয়কে বেশি হাইপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে চাঁদাবাজি, অপরাধ বা ধর্ষণ দমনে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব কম। তারা ‘উই আর ডুইং এভরিথিং, একচুয়ালি নাথিং’—এই নীতিতে চলছে।
এশিয়া পোস্ট: নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের ফেরার গুঞ্জন আছে। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
রাশেদ প্রধান: বিএনপি একটি চুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং তারাই আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিচ্ছে। আমার বাড়ি পঞ্চগড়ে ভোটের পরের দিন বিএনপি নেতা নিজে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ অফিস উদ্বোধন করেছেন। এটা বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হবে। জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু পা রাখার ১৩ দিনের মাথায় তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ইতিহাস বলে, আওয়ামী লীগ যখনই শক্তি সঞ্চয় করবে, সবার আগে বিএনপিকেই ধ্বংস করবে।
এশিয়া পোস্ট: নির্বাচনের আগে তারেক রহমানকে নিয়ে আপনার কিছু মন্তব্য আলোচনায় আসে। এখন আপনার অবস্থান কী?
রাশেদ প্রধান: আমি তাকে ‘লন্ডনের মুফতি’ বলেছিলাম। কারণ তিনি ইসলামের ইতিহাস পরিবর্তন করে নতুন নতুন তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি স্ক্রিপ্ট ছাড়া কথা বলতে পারেন না এবং তার স্ক্রিপ্ট রাইটাররা তাকে প্রচুর ভুল তথ্য দেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার উচিত সঠিক তথ্য জেনে কথা বলা, যাতে বিশ্বের সামনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না হয়।
এশিয়া পোস্ট: ভারতবিরোধী অবস্থানে আপনি কেন এত অনড়?
রাশেদ প্রধান: আমার বাড়ি পঞ্চগড় সীমান্তে। আমি ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, সীমান্তে বিনা কারণে কীভাবে আমাদের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারা হয়। ৫৪টি নদীর পানির হিস্যা আমাদের দেওয়া হয় না। ভারত সবসময় আমাদের করদ রাজ্য হিসেবে দেখতে চায়। দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতের সামনে পুরোপুরি মাথা নত করে আছে। তারেক রহমান মুচলেকা দিয়ে দেশে ফিরেছেন। এমনকি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকে আমি ভারতের এজেন্ট মনে করি।
এশিয়া পোস্ট: আপনি কি মনে করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান বেহাত হতে যাচ্ছে?
রাশেদ প্রধান: জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছে। বিএনপি জুলাই সনদকে অস্বীকার করে নতুন ফ্যাসিজমের দিকে যাচ্ছে। যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সেই জেন-জি জেনারেশন এখন খুব ক্ষুব্ধ। তারা বিএনপি বা অন্য কোনো নেতার অপেক্ষায় থাকবে না; যদি তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হয়, তারা আবারও রাজপথে নেমে আসবে। এই জেনারেশন রক্ত দিতে শিখে গেছে, তাদের আটকানো সম্ভব নয়।
এশিয়া পোস্ট: রাজনীতি ছাড়া আপনার আয়ের উৎস কী?
রাশেদ প্রধান: ২০১৪ সাল থেকে আমার একটি অ্যাডভার্টাইজিং ফার্ম এবং ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি আছে। তবে রাজনীতিতে সময় দিতে গিয়ে ব্যবসায় সময় কমে গেছে। বর্তমানে পার্টনাররা ব্যবসা দেখছেন, কিন্তু এভাবে বেশিদিন চললে সামনে হয়তো আয়ের সমস্যা হতে পারে।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমানের কোন রাজনীতিবিদের বক্তব্য আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে?
রাশেদ প্রধান: লজিক্যাল বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমান এবং জনগণের পালস বুঝে গর্জনশীল বক্তব্যের জন্য আল্লামা মামুনুল হকের ভাষণ আমার ভালো লাগে।
এশিয়া পোস্ট: সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে প্রথম কোন কাজগুলো করবেন?
রাশেদ প্রধান: প্রথমত, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব। দ্বিতীয়ত, ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করব যাতে সাধারণ মানুষ দেশেই সুচিকিৎসা পায়। এছাড়া পর্যটন খাতের উন্নয়ন নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা আছে।
এশিয়া পোস্ট: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আপনার কোনো মাস্টারপ্ল্যান আছে কিনা?
রাশেদ প্রধান: কোনো একজন ব্যক্তির মাস্টারপ্ল্যানে দেশ চলতে পারে না। আমি চাই সব মেধাবী মানুষ এবং প্রবাসীদের নিয়ে একটি ‘সুপার মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করতে, যেখানে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
এশিয়া পোস্ট: এশিয়া পোস্টকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
রাশেদ প্রধান: আপনাকে এবং এশিয়া পোস্টের দর্শকদেরও অনেক ধন্যবাদ।



