
বাংলাদেশে ড্রাগন ফল চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর সম্প্রতি এ নিয়ে নতুন এক আলোচনা সামনে এসেছে, ড্রাগন ফল উৎপাদনে ব্যবহার হচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘টনিক’ বা গ্রোথ হরমোন। এ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু চাষি ফল দ্রুত বড় করতে এবং বাজারজাতের সময় এগিয়ে আনতে হরমোনজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করছেন। তবে এটি সরকারি অনুমোদিত বা সুপারিশকৃত পদ্ধতি নয়।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. উবায়দুল্লাহ কায়ছার জানান, ড্রাগন ফল চাষে যে ‘টনিক’ ব্যবহার হচ্ছে সেটি মূলত এক ধরনের গ্রোথ হরমোন। এর নাম জিএ৩ বা জিবারেলিক অ্যাসিড থ্রি (Gibberellic Acid-3)। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অনুমোদন করে না এবং এর নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার হোসেন জানান, এই হরমোন ব্যবহারে ফল দ্রুত বড় হয়, তবে স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ তৈরি হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না।
কীভাবে চিনবেন ‘টনিক’ ব্যবহার করা ড্রাগন ফল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে এ ধরনের ফল চেনা যেতে পারে -

স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা?
এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশ হয়নি। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন হরমোন বা রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়, তাহলে ফলের স্বাভাবিক পুষ্টিমান ও গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, অতিরিক্ত বড়, অস্বাভাবিক রঙের বা স্বাদহীন ড্রাগন ফল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে। পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ফলের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা ধরে রাখতে কৃষকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা




