ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

হাম: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

এশিয়া পোস্ট নিউজ

  ০৭ মে ২০২৬, ১৬:১৮
ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। হাম ও উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ৫২৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে ২ জন এবং বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ২০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১ হাজার ৯১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

ড্রাগন চাষে ব্যবহার করা টনিক কীভাবে চিনবেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা
বাংলাদেশে ড্রাগন ফল চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর সম্প্রতি এ  নিয়ে নতুন এক আলোচনা সামনে এসেছে, ড্রাগন ফল উৎপাদনে ব্যবহার হচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘টনিক’ বা গ্রোথ হরমোন। এ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু চাষি ফল দ্রুত বড় করতে এবং বাজারজাতের সময় এগিয়ে আনতে হরমোনজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করছেন। তবে এটি সরকারি অনুমোদিত বা সুপারিশকৃত পদ্ধতি নয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. উবায়দুল্লাহ কায়ছার জানান, ড্রাগন ফল চাষে যে ‘টনিক’ ব্যবহার হচ্ছে সেটি মূলত এক ধরনের গ্রোথ হরমোন। এর নাম জিএ৩ বা জিবারেলিক অ্যাসিড থ্রি (Gibberellic Acid-3)। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অনুমোদন করে না এবং এর নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার হোসেন জানান, এই হরমোন ব্যবহারে ফল দ্রুত বড় হয়, তবে স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ তৈরি হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না। কীভাবে চিনবেন ‘টনিক’ ব্যবহার করা ড্রাগন ফল? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে এ ধরনের ফল চেনা যেতে পারে -  স্বাভাবিক ড্রাগন ফলের ওজন সাধারণত ২৫০–৩০০ গ্রাম হয়, কিন্তু টনিক ব্যবহার করা ফলে ওজন ৯০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ফলের আকৃতি অনেক সময় অস্বাভাবিক বা ফুলে থাকা ধরনের হয়। ফল পুরোপুরি লাল বা পার্পেল না হয়ে আংশিক সবুজ থাকে। স্বাদ তুলনামূলক পানসে হয় এবং মিষ্টি কম থাকে। বেশি দিন রাখলে দ্রুত হলুদ বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা? এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশ হয়নি। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন হরমোন বা রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়, তাহলে ফলের স্বাভাবিক পুষ্টিমান ও গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, অতিরিক্ত বড়, অস্বাভাবিক রঙের বা স্বাদহীন ড্রাগন ফল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে। পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ফলের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা ধরে রাখতে কৃষকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সূত্র: বিবিসি বাংলা
ড্রাগন চাষে ব্যবহার করা টনিক কীভাবে চিনবেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা
হামের ১৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাম ও রুবেলার ১৫ লাখ ডোজ এবং টিটেনাসের ৯০ হাজার ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফ থেকে কেনা টিকা গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ইউনিসেফকে প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ১০ ধরনের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইউনিসেফ গত ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। আজ অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও ৯০ হাজার ডোজ টিডি ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। একই সঙ্গে আগামী ১০ মের মধ্যে আরও প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা এসব টিকা সরবরাহ করবে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে। বর্তমানে আমাদের কাছে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও বাংলাদেশে কোনো ঘাটতি থাকবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৭৯ সাল থেকে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইপিআই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি সফল কর্মসূচি। গ্যাভি আমাদের ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে আশার কথা হলো প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ এটি শিশুদের জীবন রক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা আমি দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে বাতিল করি এবং ইউনিসেফকে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য অনুরোধ করি। সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় অর্থ ইউনিসেফকে ছাড় করে দিয়েছে।
হামের ১৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিয়মিত হলুদ খেলে শরীরে যে প্রভাব পড়ে
শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক কোনো প্রাকৃতিক উপাদান খুঁজছেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদ (টারমেরিক) হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প। এই উজ্জ্বল হলুদ মসলা তার শক্তিশালী প্রদাহনাশক গুণের জন্য পরিচিত এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিবিদ গ্যাব্রিয়েল কিশনার বলেন, ‘হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরল উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।’  এ ছাড়া এটি প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ, আর্থ্রাইটিস এবং সোরিয়াসিসের মতো প্রদাহজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে বলে জানান তিনি। আরেক পুষ্টিবিদ জুলিয়ানা ভোক্কা বলেন, ‘কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করে এবং একই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা বাড়ায়।’ হলুদ কীভাবে প্রদাহ কমায় প্রদাহের মূল প্রক্রিয়া বন্ধ করে: কারকিউমিন NF-κB নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন কমপ্লেক্সকে বাধা দেয়, যা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করার সংকেত দেয়। এটি সক্রিয় হলে বিভিন্ন প্রদাহজনিত উপাদান তৈরি হয়, যা শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। প্রদাহজনিত এনজাইম নিয়ন্ত্রণ করে: কারকিউমিন শরীরের কিছু এনজাইম যেমন COX-2, LOX এবং iNOS–এর কার্যক্রম কমিয়ে দেয়। এই এনজাইমগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হলে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতেও সহায়ক হতে পারে। সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন কমায়: কারকিউমিন সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP)–এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি এমন একটি প্রোটিন, যা শরীরে প্রদাহ থাকলে লিভার থেকে তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কারকিউমিন গ্রহণ করলে এই মাত্রা কমতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা বাড়ায়: কারকিউমিন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমিয়ে এবং শরীরের নিজস্ব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রম বাড়িয়ে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা বয়সজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম কারণ। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হলুদ বা এর সাপ্লিমেন্ট নিরাপদ। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হালকা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন-  বমি বমি ভাব এসিডিটি পেটের অস্বস্তি ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য দুর্লভ ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে লিভারের সমস্যা বা আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। এছাড়া কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা বাড়তে পারে। কতটুকু গ্রহণ করা নিরাপদ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রতিদিন ০–৩ মি.গ্রা. কারকিউমিন প্রতি কেজিতে গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ। তবে গবেষণায় অনেক সময় এর চেয়ে বেশি মাত্রাও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সঠিক ডোজ নির্ধারণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবার জন্য কি নিরাপদ? সবাইয়ের জন্য হলুদের সাপ্লিমেন্ট উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে— গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী কিডনি বা পিত্তথলির পাথর রয়েছে এমন ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী এছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভালো সাপ্লিমেন্ট কীভাবে বাছবেন বিশেষজ্ঞদের মতে— বিশ্বস্ত কোম্পানির পণ্য বেছে নিন স্বাধীনভাবে পরীক্ষিত (tested) সাপ্লিমেন্ট নির্বাচন করুন ব্ল্যাক পেপার (পাইপেরিন) যুক্ত সাপ্লিমেন্ট নিলে শোষণ ভালো হয় খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে কার্যকারিতা বাড়ে নিয়মিত হলুদ বা কারকিউমিন গ্রহণ শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনো একক সমাধান নয়। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ; এসবই সুস্থ থাকার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ইটিং ওয়েল
নিয়মিত হলুদ খেলে শরীরে যে প্রভাব পড়ে
খাবার উপভোগ করাই হতে পারে ওজন কমানোর চাবিকাঠি
আপনি কী খান, সেটাই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি খাবারটিকে কীভাবে দেখছেন, সেটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের মন ও শরীরের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। আমরা কী খেয়েছি—এ নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা মস্তিষ্কে ক্ষুধার অনুভূতিকে বদলে দিতে পারে। ধরুন, আপনার সামনে একটি চকলেটবার এবং একটি কম ক্যালরির স্বাস্থ্যকর বিকল্প রাখা হলো। আপনি কোনটি বেছে নেবেন? বাস্তবে অনেকেই জানেন স্বাস্থ্যকর খাবারই ভালো, কিন্তু সুস্বাদু খাবারের প্রতি আকর্ষণ এড়িয়ে চলা কঠিন। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য ডায়েট ধরে রাখা অনেক সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বেশি ক্যালরিযুক্ত ও মিষ্টি খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এর পেছনে বিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। আমাদের পূর্বপুরুষদের টিকে থাকার জন্য এ ধরনের খাবার প্রয়োজন ছিল। এর পাশাপাশি, বর্তমান সময়ে আমাদের চারপাশে অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত (ultra-processed) খাবারের প্রাচুর্য রয়েছে, যা খাওয়ার পর অনেক সময় অপরাধবোধও তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানী অ্যাশলে গিয়ারহার্ড বলেন, ‘এ ধরনের খাবার যেন উচ্চ শব্দের কনসার্টের মতো। এগুলো অন্য সবকিছুকে ঢেকে দেয়। ফলে ফল বা সবজির মতো স্বাভাবিক খাবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’ গবেষণা কী বলছে গবেষণা বলছে, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়; খাবার নিয়ে আপনার মানসিকতা (mindset)ও গুরুত্বপূর্ণ। বরং খাবার উপভোগ করার মধ্যেও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা থাকতে পারে। কারণ, এটি ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। প্রায় ১৫ বছর আগে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ কী খাচ্ছে বলে মনে করে, তা শরীরের প্রতিক্রিয়াকে বদলে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী আলিয়া ক্রামের নেতৃত্বে করা এক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের একই মিল্কশেক দেওয়া হয়। তবে একদলকে বলা হয় এটি ১৪০ ক্যালরির ‘স্বাস্থ্যকর’ শেক, আরেকদলকে বলা হয় এটি ৬২০ ক্যালরির ‘মজাদার’ শেক।  তবে বাস্তবে শেকটি ছিল ৩৮০ ক্যালরি। ফলাফল দেখায়, যারা ‘মজাদার’ শেক খাওয়ার কথা ভেবেছিল, তাদের শরীরে ক্ষুধা-সম্পর্কিত হরমোন ঘ্রেলিন দ্রুত কমে যায়। অর্থাৎ তারা বেশি তৃপ্তি অনুভব করে। কিন্তু যারা ‘স্বাস্থ্যকর’ শেক ভাবছিল, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন কম ছিল। কর্মের ব্যাখ্যায় ক্রাম বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন আপনি যথেষ্ট খেয়েছেন, তাহলে শরীরও সেইভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখায়।’ লেবেলিংয়ের প্রভাব খাবারের লেবেলও আমাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, একই পুষ্টিগুণের একটি প্রোটিন বারকে ‘স্বাস্থ্যকর’ বা ‘সুস্বাদু’ হিসেবে লেবেল দেওয়া হলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। যারা ‘স্বাস্থ্যকর’ লেবেলযুক্ত খাবার খেয়েছিল, তারা কম তৃপ্তি অনুভব করে এবং পরে বেশি খাবার খায়। এতে বোঝা যায়, ‘স্বাস্থ্যকর’ শব্দটি অনেক সময় খাবারের আনন্দ কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারকে শুধু পুষ্টি বা ক্যালরির দৃষ্টিতে না দেখে উপভোগ্য হিসেবে ভাবা উচিত। কারণ, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা বঞ্চনার মানসিকতা অনেক সময় উল্টো ফল দেয়। কী করা উচিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো খাবার উপভোগ করুন, অপরাধবোধ নিয়ে খাবেন না। অপ্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন প্রোটিন, ফল ও সবজি বেশি খান ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান। এ ছাড়া কম, লাইট বা ডায়েট ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। অ্যাশলে গিয়ারহার্ড বলেন, ‘খাবারকে যদি শুধুই নিয়ন্ত্রণের বিষয় বানানো হয়, তাহলে এটি একসময় বিরক্তিকর হয়ে যায়।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে পছন্দের খাবার খাওয়া এবং তা উপভোগ করা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনেরই অংশ। সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে খেলে এবং ইতিবাচক মানসিকতা রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা আরও সহজ হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
খাবার উপভোগ করাই হতে পারে ওজন কমানোর চাবিকাঠি
প্রতিদিন ভাত খাওয়ার স্বাস্থ্যকর কিছু উপায়
বাঙালিদের ভাত খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। হাজারও সমালোচনা হলেও ভাতপ্রেমীদের কাছেে এসব খুব একটা পাত্তা পায় না। দিনের শুরুতে কিংবা দিনের শেষে পেটভরে ভাত খেলে শরীরে এক ধরনের প্রশান্তি আসে। আমাদের দেশে এখনও তিন বেলাই ভাত খাওয়ার প্রবণতাই বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ভাত কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও রুটি খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। ভাত খাওয়া তবে কি আসলেই ক্ষতিকর? বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামসহ বহু দেশে ভাত প্রধান খাদ্য। এটি সহজপাচ্য এবং কার্বোহাইড্রেটে ভরপুর, যা শরীরকে শক্তি জোগায়। চালের ধরনভেদে এতে সামান্য ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রনও থাকে। তবে ভাতে ফাইবার প্রায় থাকে না, যদিও ব্রাউন রাইসে কিছুটা ফাইবার রয়েছে। এখন বিভিন্ন গবেষণা জানাচ্ছে, ভাত আমাদের দৈনন্দিন খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে কীভাবে ভাত খাচ্ছেন, সেটাই নির্ধারণ করে এটি শরীরের জন্য উপকারী হবে নাকি ক্ষতিকর। সঠিক কিছু নিয়ম মেনে চললে প্রতিদিন ভাত খেয়েও সুস্থ থাকা সম্ভব।  চলুন এমন কিছু উপায় জেনে নিই যেগুলো মানলে প্রতিদিন ভাত খেয়েও সুস্থ থাকা যাবে। সাদা ভাতের পাশাপাশি অন্য চাল বেছে নিন শুধু সাদা ভাতের ওপর নির্ভর না করে ব্রাউন, লাল বা কালো চাল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ব্রাউন রাইসে ফাইবার বেশি থাকে, যা হজমে সাহায্য করে লাল ও কালো চালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমায় এগুলো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। ভাত রান্নার পদ্ধতি বদলান একটি সহজ কৌশল হলো ভাত রান্নার সময় পানিতে সামান্য নারকেল তেল দেওয়া, তারপর রান্না শেষে কিছু সময় ফ্রিজে রেখে দেওয়া। এতে ভাতে ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ তৈরি হয়। এর ফলে: ভাতের গ্লাইসেমিক প্রভাব কমে পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ে ক্যালোরি শোষণ কিছুটা কমে ডাল, সবজি ও প্রোটিন যোগ করুন শুধু ভাত খেলে তা দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং ক্ষুধা বাড়ে। তাই ভাতের সঙ্গে ডাল বা মসুর (প্রোটিন ও ফাইবারের জন্য), বিভিন্ন সবজি (ভিটামিন ও মিনারেলের জন্য) ও মাছ, মুরগি বা ডিম (প্রোটিনের জন্য) যোগ করুন। এভাবে খেলে ভাত আরও পুষ্টিকর হয় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হয়। ঠান্ডা করে আবার গরম করে খান ভাত রান্না করে ঠান্ডা করে আবার গরম করে খেলে তাতেও রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বাড়ে। এটি ফাইবারের মতো কাজ করে, হজম ভালো করে এবং হঠাৎ করে রক্তে শর্করা বাড়া কমায়। ভাতকে ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের অংশ করুন ভাতকে একা না খেয়ে পুরো একটি ব্যালান্সড মিল বানান। যেমন: ভাত + সবজি + প্রোটিন কম তেল ও কম লবণের রান্না সঙ্গে টক দই বা ফারমেন্টেড খাবার এতে খাবারটি আরও স্বাস্থ্যকর ও পেট ভরানো হয়। প্রতিদিন ভাত খাওয়া ক্ষতিকর নয় যদি আপনি সঠিক চাল বেছে নেন, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং ভাতের সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার যোগ করেন। ছোট ছোট পরিবর্তনই ভাতকে একটি স্বাস্থ্যকর খাবারে পরিণত করতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
প্রতিদিন ভাত খাওয়ার স্বাস্থ্যকর কিছু উপায়
ড্রাগন চাষে ব্যবহার করা টনিক কীভাবে চিনবেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা
ড্রাগন চাষে ব্যবহার করা টনিক কীভাবে চিনবেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা
বাংলাদেশে ড্রাগন ফল চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর সম্প্রতি এ  নিয়ে নতুন এক আলোচনা সামনে এসেছে, ড্রাগন ফল উৎপাদনে ব্যবহার হচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘টনিক’ বা গ্রোথ হরমোন। এ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু চাষি ফল দ্রুত বড় করতে এবং বাজারজাতের সময় এগিয়ে আনতে হরমোনজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করছেন। তবে এটি সরকারি অনুমোদিত বা সুপারিশকৃত পদ্ধতি নয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. উবায়দুল্লাহ কায়ছার জানান, ড্রাগন ফল চাষে যে ‘টনিক’ ব্যবহার হচ্ছে সেটি মূলত এক ধরনের গ্রোথ হরমোন। এর নাম জিএ৩ বা জিবারেলিক অ্যাসিড থ্রি (Gibberellic Acid-3)। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অনুমোদন করে না এবং এর নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার হোসেন জানান, এই হরমোন ব্যবহারে ফল দ্রুত বড় হয়, তবে স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ তৈরি হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না। কীভাবে চিনবেন ‘টনিক’ ব্যবহার করা ড্রাগন ফল? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে এ ধরনের ফল চেনা যেতে পারে -  স্বাভাবিক ড্রাগন ফলের ওজন সাধারণত ২৫০–৩০০ গ্রাম হয়, কিন্তু টনিক ব্যবহার করা ফলে ওজন ৯০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। ফলের আকৃতি অনেক সময় অস্বাভাবিক বা ফুলে থাকা ধরনের হয়। ফল পুরোপুরি লাল বা পার্পেল না হয়ে আংশিক সবুজ থাকে। স্বাদ তুলনামূলক পানসে হয় এবং মিষ্টি কম থাকে। বেশি দিন রাখলে দ্রুত হলুদ বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা? এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশ হয়নি। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন হরমোন বা রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়, তাহলে ফলের স্বাভাবিক পুষ্টিমান ও গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, অতিরিক্ত বড়, অস্বাভাবিক রঙের বা স্বাদহীন ড্রাগন ফল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে। পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ফলের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা ধরে রাখতে কৃষকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সূত্র: বিবিসি বাংলা
হামের ১৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের ১৫ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাম ও রুবেলার ১৫ লাখ ডোজ এবং টিটেনাসের ৯০ হাজার ডোজ টিকা দেশে এসে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফ থেকে কেনা টিকা গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ইউনিসেফকে প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ১০ ধরনের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইউনিসেফ গত ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। আজ অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও ৯০ হাজার ডোজ টিডি ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। একই সঙ্গে আগামী ১০ মের মধ্যে আরও প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা এসব টিকা সরবরাহ করবে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে। বর্তমানে আমাদের কাছে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও বাংলাদেশে কোনো ঘাটতি থাকবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৭৯ সাল থেকে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইপিআই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি সফল কর্মসূচি। গ্যাভি আমাদের ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে আশার কথা হলো প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ এটি শিশুদের জীবন রক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা আমি দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে বাতিল করি এবং ইউনিসেফকে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য অনুরোধ করি। সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় অর্থ ইউনিসেফকে ছাড় করে দিয়েছে।
নিয়মিত হলুদ খেলে শরীরে যে প্রভাব পড়ে
নিয়মিত হলুদ খেলে শরীরে যে প্রভাব পড়ে
শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক কোনো প্রাকৃতিক উপাদান খুঁজছেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদ (টারমেরিক) হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প। এই উজ্জ্বল হলুদ মসলা তার শক্তিশালী প্রদাহনাশক গুণের জন্য পরিচিত এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিবিদ গ্যাব্রিয়েল কিশনার বলেন, ‘হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরল উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।’  এ ছাড়া এটি প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ, আর্থ্রাইটিস এবং সোরিয়াসিসের মতো প্রদাহজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে বলে জানান তিনি। আরেক পুষ্টিবিদ জুলিয়ানা ভোক্কা বলেন, ‘কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করে এবং একই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা বাড়ায়।’ হলুদ কীভাবে প্রদাহ কমায় প্রদাহের মূল প্রক্রিয়া বন্ধ করে: কারকিউমিন NF-κB নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন কমপ্লেক্সকে বাধা দেয়, যা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করার সংকেত দেয়। এটি সক্রিয় হলে বিভিন্ন প্রদাহজনিত উপাদান তৈরি হয়, যা শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। প্রদাহজনিত এনজাইম নিয়ন্ত্রণ করে: কারকিউমিন শরীরের কিছু এনজাইম যেমন COX-2, LOX এবং iNOS–এর কার্যক্রম কমিয়ে দেয়। এই এনজাইমগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হলে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতেও সহায়ক হতে পারে। সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন কমায়: কারকিউমিন সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP)–এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি এমন একটি প্রোটিন, যা শরীরে প্রদাহ থাকলে লিভার থেকে তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কারকিউমিন গ্রহণ করলে এই মাত্রা কমতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা বাড়ায়: কারকিউমিন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমিয়ে এবং শরীরের নিজস্ব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রম বাড়িয়ে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা বয়সজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম কারণ। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হলুদ বা এর সাপ্লিমেন্ট নিরাপদ। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হালকা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন-  বমি বমি ভাব এসিডিটি পেটের অস্বস্তি ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য দুর্লভ ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে লিভারের সমস্যা বা আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। এছাড়া কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা বাড়তে পারে। কতটুকু গ্রহণ করা নিরাপদ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রতিদিন ০–৩ মি.গ্রা. কারকিউমিন প্রতি কেজিতে গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ। তবে গবেষণায় অনেক সময় এর চেয়ে বেশি মাত্রাও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সঠিক ডোজ নির্ধারণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবার জন্য কি নিরাপদ? সবাইয়ের জন্য হলুদের সাপ্লিমেন্ট উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে— গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী কিডনি বা পিত্তথলির পাথর রয়েছে এমন ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী এছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভালো সাপ্লিমেন্ট কীভাবে বাছবেন বিশেষজ্ঞদের মতে— বিশ্বস্ত কোম্পানির পণ্য বেছে নিন স্বাধীনভাবে পরীক্ষিত (tested) সাপ্লিমেন্ট নির্বাচন করুন ব্ল্যাক পেপার (পাইপেরিন) যুক্ত সাপ্লিমেন্ট নিলে শোষণ ভালো হয় খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে কার্যকারিতা বাড়ে নিয়মিত হলুদ বা কারকিউমিন গ্রহণ শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনো একক সমাধান নয়। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ; এসবই সুস্থ থাকার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ইটিং ওয়েল
খাবার উপভোগ করাই হতে পারে ওজন কমানোর চাবিকাঠি
খাবার উপভোগ করাই হতে পারে ওজন কমানোর চাবিকাঠি
আপনি কী খান, সেটাই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি খাবারটিকে কীভাবে দেখছেন, সেটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের মন ও শরীরের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। আমরা কী খেয়েছি—এ নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা মস্তিষ্কে ক্ষুধার অনুভূতিকে বদলে দিতে পারে। ধরুন, আপনার সামনে একটি চকলেটবার এবং একটি কম ক্যালরির স্বাস্থ্যকর বিকল্প রাখা হলো। আপনি কোনটি বেছে নেবেন? বাস্তবে অনেকেই জানেন স্বাস্থ্যকর খাবারই ভালো, কিন্তু সুস্বাদু খাবারের প্রতি আকর্ষণ এড়িয়ে চলা কঠিন। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য ডায়েট ধরে রাখা অনেক সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বেশি ক্যালরিযুক্ত ও মিষ্টি খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এর পেছনে বিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। আমাদের পূর্বপুরুষদের টিকে থাকার জন্য এ ধরনের খাবার প্রয়োজন ছিল। এর পাশাপাশি, বর্তমান সময়ে আমাদের চারপাশে অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত (ultra-processed) খাবারের প্রাচুর্য রয়েছে, যা খাওয়ার পর অনেক সময় অপরাধবোধও তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানী অ্যাশলে গিয়ারহার্ড বলেন, ‘এ ধরনের খাবার যেন উচ্চ শব্দের কনসার্টের মতো। এগুলো অন্য সবকিছুকে ঢেকে দেয়। ফলে ফল বা সবজির মতো স্বাভাবিক খাবারের প্রতি মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’ গবেষণা কী বলছে গবেষণা বলছে, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়; খাবার নিয়ে আপনার মানসিকতা (mindset)ও গুরুত্বপূর্ণ। বরং খাবার উপভোগ করার মধ্যেও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা থাকতে পারে। কারণ, এটি ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। প্রায় ১৫ বছর আগে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ কী খাচ্ছে বলে মনে করে, তা শরীরের প্রতিক্রিয়াকে বদলে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী আলিয়া ক্রামের নেতৃত্বে করা এক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের একই মিল্কশেক দেওয়া হয়। তবে একদলকে বলা হয় এটি ১৪০ ক্যালরির ‘স্বাস্থ্যকর’ শেক, আরেকদলকে বলা হয় এটি ৬২০ ক্যালরির ‘মজাদার’ শেক।  তবে বাস্তবে শেকটি ছিল ৩৮০ ক্যালরি। ফলাফল দেখায়, যারা ‘মজাদার’ শেক খাওয়ার কথা ভেবেছিল, তাদের শরীরে ক্ষুধা-সম্পর্কিত হরমোন ঘ্রেলিন দ্রুত কমে যায়। অর্থাৎ তারা বেশি তৃপ্তি অনুভব করে। কিন্তু যারা ‘স্বাস্থ্যকর’ শেক ভাবছিল, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন কম ছিল। কর্মের ব্যাখ্যায় ক্রাম বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন আপনি যথেষ্ট খেয়েছেন, তাহলে শরীরও সেইভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখায়।’ লেবেলিংয়ের প্রভাব খাবারের লেবেলও আমাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, একই পুষ্টিগুণের একটি প্রোটিন বারকে ‘স্বাস্থ্যকর’ বা ‘সুস্বাদু’ হিসেবে লেবেল দেওয়া হলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। যারা ‘স্বাস্থ্যকর’ লেবেলযুক্ত খাবার খেয়েছিল, তারা কম তৃপ্তি অনুভব করে এবং পরে বেশি খাবার খায়। এতে বোঝা যায়, ‘স্বাস্থ্যকর’ শব্দটি অনেক সময় খাবারের আনন্দ কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারকে শুধু পুষ্টি বা ক্যালরির দৃষ্টিতে না দেখে উপভোগ্য হিসেবে ভাবা উচিত। কারণ, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা বঞ্চনার মানসিকতা অনেক সময় উল্টো ফল দেয়। কী করা উচিত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো খাবার উপভোগ করুন, অপরাধবোধ নিয়ে খাবেন না। অপ্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন প্রোটিন, ফল ও সবজি বেশি খান ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান। এ ছাড়া কম, লাইট বা ডায়েট ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। অ্যাশলে গিয়ারহার্ড বলেন, ‘খাবারকে যদি শুধুই নিয়ন্ত্রণের বিষয় বানানো হয়, তাহলে এটি একসময় বিরক্তিকর হয়ে যায়।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে পছন্দের খাবার খাওয়া এবং তা উপভোগ করা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনেরই অংশ। সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে খেলে এবং ইতিবাচক মানসিকতা রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা আরও সহজ হতে পারে। সূত্র: বিবিসি