ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

দেখুন ডিএনসিসির হামের টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩
শিশুকে টিকা দিচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশনে রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চার সিটি হলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

একনজের দেখে নিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা:

যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ডোজ নেওয়ার পর চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে হামের টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।

তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?
ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে, তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।

টিকা সংকট ও হামে শিশু মৃত্যুর তদন্ত চলছে: স্বাস্থ্য সচিব
দেশে হাম প্রতিরোধী টিকার সংকট ও রোগটিতে সংক্রমিত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, টিকার সংকট এবং হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে সরকার। হামে কেন এতগুলো শিশুর মৃত্যু হলো, এ ক্ষেত্রে কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল সাংবাদিকসহ দেশবাসীকে জানানো হবে। শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মিল্টন হলে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য সচিব বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার, জনগণেরও জানা উচিত। আমাদের সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জবাবদিহিমূলক সরকার। আমি বিশ্বাস করি, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত। গোল টেবিল বৈঠকে হামে আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ইনফেকশন ডিজিজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনা মহামারির পরে বিশ্বব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মহামারির সময়ে বিশ্বব্যাপী ২ কোটি ৩ লাখের বেশি শিশু হামের প্রথম ডোজের টিকা পায়নি। একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তেও নিয়মিত টিকাদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শহরাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা তথা বস্তি, প্রত্যন্ত এলাকায় মারাত্মকভাবে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হামের হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া এটি অন্যতম বড় কারণ। অধ্যাপক জিয়াউল ইসলাম বলেন, হাম প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে অন্ধত্ব এবং বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। এজন্য শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর, খেতে না পারা কিংবা তীব্র ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাম-রুবেলার মতো রোগ প্রতিরোধে টিকার ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন নিয়মিত করা জরুরি। অথচ দেশে ২০২০ সালের পর আর কোনো ন্যাশনাল ক্যাম্পেইনিং হয়নি। দেশের হাম আক্রান্ত শিশুদের রোগের ধরন ও অন্যান্য জটিলতা নিরূপনের জন্য ইতোমধ্যে রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের অনুরোধ করেছি। হাম ও হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের ডেথ রিভিউয়ের বিষয়টি আমরা জাতীয় টিকাদানসংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপ (নাইট্যাগ) এ উপস্থাপন করব। তারা পরামর্শ দিলে আমরা শিগগিরই মৃত্যু পর্যালোচনা (ডেথ রিভিউ) শুরু করব। আমার বিশ্বাস প্রত্যেকে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে হাম মোকাবিলা দ্রুত সম্ভব হবে। জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, কোনো মহামারি দেখা দিলে বিষয়টি আমরা স্বীকার করি না। মহামারি ঘোষণা করি না। কিন্তু মহামারি মোকাবিলায় কাজ করি। অথচ পরিস্থিতি স্বীকার করে কাজ করলে উত্তরণ সহজ হয়। হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ন্যাশনাল গাইডলাইন প্রণয়ন করে সমন্বিতভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, জাতিগতভাবেই আমাদের একটি সমস্যা রয়েছে। আমরা কোনো সমস্যাকে সাধারণ মানুষের কাছে স্বীকার করি না। অন্যের ওপর দায় চাপানোর রাজনীতিও বিদ্যমান রয়েছে। অথচ এসব দায় চাপানোর রাজনীতি বন্ধ করে দেশের সমস্যাকে স্বীকার করে কীভাবে উত্তরণের পথ খোঁজা যায় এ নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সারা বিশ্বে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত মৃত্যু হার বাড়েনি। দেশের চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দুই মাস থাকবে। এরপর কমতে শুরু করবে। কিন্তু মুশকিল হলো পরিত্রাণের পর আমরা আবার হাম মোকাবিলার কথা ভুলে যাব। এই কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, হাম আক্রান্তের একটি কারণ অপুষ্টি। মানুষ যেখানে বেঁচে থাকতে হিমশিম খায় সেখানে কীভাবে তারা পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করবে? বস্তিবাসী কেউ সন্তান হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বলা হচ্ছে বাসায় নিয়ে যান পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ে আসবেন। তার মানে কী আমরা অবনতির দিকে কাউকে ঠেলে দিচ্ছি? বস্তিতে কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষ যেখানে ঠিকমতো তিনবেলা খেতে পারে না তারা কীভাবে বাড়িতে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে কোয়ারেন্টাইন করবে? এই সমস্যার সমাধানে কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন জরুরি। একইসঙ্গে পরিস্থিতি থেবে উত্তরণের জন্য পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে একটি কর্মকৌশলের আলোকে কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় পোলিও ও হাম-রুবেলা ল্যাবরেটরির সাবেক প্রধান এবং জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি করা সবচেয়ে জরুরি। এতে ইমিইউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) বৃদ্ধি পায়। আমাদের মধ্যে আবার হামের পুরোনো ভাইরাস ফিরে এসেছে। এটা দেশীয় ভাইরাস। ভ্যাকসিনেশন গ্যাপ, ইমিউনিটি গ্যাপ আর ব্রেস্ট ফিডিংয়ের অভাবে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেন, সম্প্রতি বছরে সারা দেশে শিশুদের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। ছয় মাস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। নিয়মিত ভ্যাকসিন নিতে হবে। সেইসাথে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে হাম-রুবেলাসহ অন্যান্য রোগ থেকে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুস সবুর খান, টিকা বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সাবেক গবেষক ডা. তাজুল ইসলাম এ বারি, বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, পুষ্টিবিদ ও ব্র্যাকের ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের প্রধান সাইকা সিরাজ, ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (ইমিউনাইজেশন) ডা. চিরঞ্জিত দাস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) প্রতিনিধি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) ডা. হুমায়ুন কবির হিমু প্রমুখ। হাম পরিস্থিতি কাভারে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিষয়ে তুলে ধরেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক তবিবুর রহমান। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস।
টিকা সংকট ও হামে শিশু মৃত্যুর তদন্ত চলছে: স্বাস্থ্য সচিব
বহুমুখী সংকটে অহরহ আত্মহত্যা
ঋণ করে সৌদি আরব গিয়ে তিন মাসের মাথায় খালি হাতে বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা করেছেন যশোরের মনিরামপুরের ৩৫ বছরের যুবক ফিরোজ হোসেন। তার মতো মাত্র ১৬ বছর বয়সে আত্মহনন ঘটিয়েছেন তৈয়বা জাহান চৈতি। ভোলা পৌরসভার এই কিশোরীর এসএসসির ইংরেজি পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি। চৈতির চেয়ে বয়সে কয়েক বছরের বড় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো। তিনি একটি চিরকুটে ব্যক্তিগত বিষয় ও আর্থিক লেনদেনের ‘চাপ’ উল্লেখ কলে আত্মহত্যা করেছেন। গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই তিনটি ঘটনা ভিন্ন হলেও কারণ একটাই–কোনো না কোনো সংকট। এমন বহুমুখী সংকটে আত্মহননের মধ্যে মৃত্যুবরণ করতে চেয়ে ফিরে আসাদের অভিজ্ঞতা অবশ্য তিক্ত। তেমন একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৩৫ বছর বয়সি যুবক সামিউল ইসলাম আকাশ। গত বছর পারিবারিক কলহ ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। একপর্যায়ে আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন। বিষপান করার পর স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পাকস্থলি পরিষ্কারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে বিষ অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। সেই দুঃসহ স্মৃতি হাতড়ে আকাশ এশিয়া পোস্টকে জানান, নাক ও মুখ দিয়ে নল ঢুকিয়ে পাকস্থলী থেকে বিষ বের করার সেই প্রক্রিয়াটি ছিল অবর্ণনীয় যন্ত্রণার, যা তাকে নতুন করে জীবনের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আকাশ সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সাথে স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রতিদিন এক-দুইজনের আত্মহত্যার চেষ্টা আকাশ জীবন ফিরে পেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে–এই জনপদে প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুইজন মানুষ নিজের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছেন। শুধুমাত্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ৬৮৮ জন এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৪৯ জনসহ গত ১৬ মাসে জেলায় মোট ৮৩৭ জন মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গাণিতিক হিসাবে জেলায় গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫২ জন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১০৮ জন এবং চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।  সমাধানের পথে আছে ঘাটতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম্পত্য কলহ, অভাব-অনটন, বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক এবং প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের মতো বহুমুখী আর্থ-সামাজিক সংকট মানুষকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসবের মধ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার অভাব। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেও জেলার সরকারি স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট। এজন্য সাধারণ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহীন কাউসার এশিয়া পোস্টকে বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। যখন কেউ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তখন সে নিজেকে কোনো ঘটনার জন্য দায়ী মনে করে। সেখান থেকে নিষ্কৃতি পেতে এই ধরনের চরম পথ বেছে নেয়। তিনি আরও জানান, একজন মানুষ আত্মহত্যা করার তিন থেকে ছয় মাস আগে থেকে কিছু বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ পায়। পরিবার ও সমাজের মানুষের এই লক্ষণগুলো চেনার সক্ষমতা থাকলে অনেক অকাল মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। ঠিক একই অনুভূতি হয়েছে আত্মহত্যার চেষ্টা করা আকাশের। তিনি বলেন, বিষ খাওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ড পর আমার মনে হয়েছিল, কাজটা ঠিক হলো না। বাঁচার জন্য ছটফটানি যে কী ভয়াবহ, তা ওই সময় ছাড়া কেউ বুঝবে না। এখন বুঝি সমস্যা সমাধান করা যায়; কিন্তু জীবন গেলে তা আর ফেরে না। মনের দুঃখ কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারলে হয়তো ওইদিন আমি এই ভুলটা করতাম না। প্রতিরোধে কাউন্সিলিংয়ের বিকল্প নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আশরুফুজ্জান শাহিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, জেলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকলেও সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এখন জেলার সবগুলো সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সিলিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কেউ চাইলে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার শরণাপন্ন হতে পারেন, তিনি রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সন্ধান পেতে পথপ্রদর্শক হিসেবে সহায়তা করবেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, সাধারণ মানুষ যদি সচেতন হয়ে মনের যত্ন নেয় এবং নিজের জীবনকে মূল্যায়ন করতে শেখে, তবেই এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতায় পারে বিষণ্ণতার চিত্র বদলে দিতে।
বহুমুখী সংকটে অহরহ আত্মহত্যা
হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ২৬১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোববার (৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৬৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। মৃত্যু হওয়ার ১০ শিশুর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়ে একটি শিশু ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে ২, চট্টগ্রামে ১, ঢাকায় ৪, খুলনায় ১ ও সিলেটে ১ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর ৫০ শিশু মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৪ হাজার ৯০ শিশু বাড়ি ফিরেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৫ হাজার ৩১৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪ জনই ঢাকার। গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৪ জন শিশুর মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এই সময়ে মোট ৫ হাজার ২১৮ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৬ হাজার ৯১১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৩ হাজার ২২৫ জন শিশু।
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামে ২৭৬ শিশুর মৃত্যু, তবুও হচ্ছে না ডেথ রিভিউ
দেশে গত দেড় মাসে হামে মারা গেছে ২৭৬ শিশু। আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৪২ হাজার। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের তালিকা। কিন্তু এত প্রাণহানির পরও কোনো ডেথ রিভিউ (মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা) করছে না সরকার। অর্থ সংকটের কথা বলে দায় এড়াচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হামের চিকিৎসা নেওয়া ৪২ হাজার ১৫৫ জনের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭৬ জনের। বৃহস্পতিবারের (৩০ এপ্রিল) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এক হাজার ২৩৫ জনকে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুজনের।  সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখানে ২১ হাজারের বেশি মানুষকে হামের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১৩৬ জনের। রাজশাহীতে আক্রান্ত প্রায় আট হাজার, মৃত্যু ৭৫ জনের। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ।  রাজধানীর ডিএনসিসি হাসপাতাল, মুগদা হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রোগীর চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে।  ঠিক কী কারণে এত মৃত্যু হচ্ছে, কোন জটিলতায় প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো অবহেলা ছিল কি না। এসব জানতে প্রয়োজন ডেথরিভিউ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার অধীনে এ কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ প্যানেল রয়েছে। কিন্তু অর্থ সংকটে সেটি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  সিডিসির পরিচালক ডা. হালিমুর রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালগুলোই ডেথ রিভিউ করছে, অধিদপ্তর থেকে কোনো রিভিউ হচ্ছে না।’  মাঠপর্যায়ে নমুনা সংগ্রহেও গড়িমসির অভিযোগ উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সবসময় নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে যে, রোগী ছোট শিশু হওয়ায় অনেক অভিভাবকও নমুনা দিতে চান না। সবগুলো মৃত্যুর যে ডেথ অ্যানালাইসিস হয়েছে তা বলা যাবে না।’  রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদরা এই পরিস্থিতিকে দেখছেন চরম উদ্বেগজনক হিসেবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ভবিষ্যতে রোগীর চিকিৎসা ও পরবর্তী প্রকোপের বিষয়ে চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার জন্য মৃত্যু পর্যালোচনা জরুরি। সেভাবে তারা হাসপাতালকে প্রস্তুত করতে পারেন। একই সঙ্গে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কেমন হওয়া উচিত, সেটিও ডেথ রিভিউর মাধ্যমে জানা যায়।’  ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ শতাংশের মৃত্যু  সরেজমিনে রাজধানীর তিনটি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সেগুলোতে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৮ শিশু। এদের ৩০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। একটি হাসপাতালে মারা গেছে ৯ শিশু। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, বাকি চারজন মারা যায় তিন থেকে ছয় দিনের মাথায়। হাসপাতালের তথ্য বলছে, মৃত ৯ শিশু ছিল অপুষ্টির শিকার। তাদের কেউ হামের টিকা পায়নি।  মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মারা যাওয়া ৩৪ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি ১০টি মৃত্যুর মধ্যে তিনটি ঘটেছে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, আরও চারটি হয়েছে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হাসপাতালে সরাসরি হামে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই প্রতিষ্ঠানটির কাছে। শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে মারা যাওয়া ১৫ শিশুর চিত্র কিছুটা আলাদা। তাদের সবাই ভর্তির অন্তত তিন দিন পর মারা যায়।  মৃতদের প্রায় সবার নিউমোনিয়া  চিকিৎসকরা বলছেন, মারা যাওয়া প্রায় সব শিশুরই ছিল হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া। এর পাশাপাশি মস্তিষ্ক ও মস্তিষ্কের আবরণে সংক্রমণ চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে। প্রতি তিন শিশুর একজনের ক্ষেত্রে এই জটিলতা পাওয়া যাচ্ছে।  মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক ডা. এম এ আসমা খান বলেন, ‘জ্বর হলে অনেক সময় মায়েরা বুঝতে পারেন না, এটি হামজনিত জ্বর। যারা চিকিৎসা নিতে আসছে, প্রায় প্রত্যেকের নিউমোনিয়া রয়েছে। যারা মারা গেছে, তাদের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল।’  দুই ডোজ টিকা নিয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ  স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামে আক্রান্তদের ৭৪ শতাংশ কোনো টিকা পায়নি। মাত্র ১৩ শতাংশ প্রথম ডোজ এবং ১২ শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ জানান, উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০ উপজেলায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়ার পর নতুন করে হামে আক্রান্ত রোগী প্রায় নেই বললেই চলে।  একই ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় টিকাদান শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন যুক্ত হয়। ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি সব শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ। মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন চালান হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।  বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পেইন শুরুর পর ইতোমধ্যেই ৬১ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। অনেক এলাকায় শতভাগ কাভারেজ অর্জিত হয়েছে।’  চলমান হাম পরিস্থিতি আগামী মে মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘টিকা হাতে পাওয়ার পর দ্রুত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করা হয়নি। আগামী ৫ মে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি ছিল। কিন্তু আমরা তা ১৪ দিন এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকেই শুরু করেছি।’ 
হামে ২৭৬ শিশুর মৃত্যু, তবুও হচ্ছে না ডেথ রিভিউ
টিকা সংকট ও হামে শিশু মৃত্যুর তদন্ত চলছে: স্বাস্থ্য সচিব
টিকা সংকট ও হামে শিশু মৃত্যুর তদন্ত চলছে: স্বাস্থ্য সচিব
দেশে হাম প্রতিরোধী টিকার সংকট ও রোগটিতে সংক্রমিত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, টিকার সংকট এবং হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে সরকার। হামে কেন এতগুলো শিশুর মৃত্যু হলো, এ ক্ষেত্রে কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল সাংবাদিকসহ দেশবাসীকে জানানো হবে। শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মিল্টন হলে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য সচিব বলেন, প্রত্যেকটি ঘটনার তদন্ত হওয়া দরকার, জনগণেরও জানা উচিত। আমাদের সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জবাবদিহিমূলক সরকার। আমি বিশ্বাস করি, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত। গোল টেবিল বৈঠকে হামে আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ইনফেকশন ডিজিজের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনা মহামারির পরে বিশ্বব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মহামারির সময়ে বিশ্বব্যাপী ২ কোটি ৩ লাখের বেশি শিশু হামের প্রথম ডোজের টিকা পায়নি। একই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তেও নিয়মিত টিকাদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শহরাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা তথা বস্তি, প্রত্যন্ত এলাকায় মারাত্মকভাবে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হামের হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া এটি অন্যতম বড় কারণ। অধ্যাপক জিয়াউল ইসলাম বলেন, হাম প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে অন্ধত্ব এবং বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। এজন্য শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত জ্বর, খেতে না পারা কিংবা তীব্র ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাম-রুবেলার মতো রোগ প্রতিরোধে টিকার ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন নিয়মিত করা জরুরি। অথচ দেশে ২০২০ সালের পর আর কোনো ন্যাশনাল ক্যাম্পেইনিং হয়নি। দেশের হাম আক্রান্ত শিশুদের রোগের ধরন ও অন্যান্য জটিলতা নিরূপনের জন্য ইতোমধ্যে রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের অনুরোধ করেছি। হাম ও হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের ডেথ রিভিউয়ের বিষয়টি আমরা জাতীয় টিকাদানসংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপ (নাইট্যাগ) এ উপস্থাপন করব। তারা পরামর্শ দিলে আমরা শিগগিরই মৃত্যু পর্যালোচনা (ডেথ রিভিউ) শুরু করব। আমার বিশ্বাস প্রত্যেকে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে হাম মোকাবিলা দ্রুত সম্ভব হবে। জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, কোনো মহামারি দেখা দিলে বিষয়টি আমরা স্বীকার করি না। মহামারি ঘোষণা করি না। কিন্তু মহামারি মোকাবিলায় কাজ করি। অথচ পরিস্থিতি স্বীকার করে কাজ করলে উত্তরণ সহজ হয়। হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি ন্যাশনাল গাইডলাইন প্রণয়ন করে সমন্বিতভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, জাতিগতভাবেই আমাদের একটি সমস্যা রয়েছে। আমরা কোনো সমস্যাকে সাধারণ মানুষের কাছে স্বীকার করি না। অন্যের ওপর দায় চাপানোর রাজনীতিও বিদ্যমান রয়েছে। অথচ এসব দায় চাপানোর রাজনীতি বন্ধ করে দেশের সমস্যাকে স্বীকার করে কীভাবে উত্তরণের পথ খোঁজা যায় এ নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সারা বিশ্বে হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এত মৃত্যু হার বাড়েনি। দেশের চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দুই মাস থাকবে। এরপর কমতে শুরু করবে। কিন্তু মুশকিল হলো পরিত্রাণের পর আমরা আবার হাম মোকাবিলার কথা ভুলে যাব। এই কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, হাম আক্রান্তের একটি কারণ অপুষ্টি। মানুষ যেখানে বেঁচে থাকতে হিমশিম খায় সেখানে কীভাবে তারা পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করবে? বস্তিবাসী কেউ সন্তান হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বলা হচ্ছে বাসায় নিয়ে যান পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ে আসবেন। তার মানে কী আমরা অবনতির দিকে কাউকে ঠেলে দিচ্ছি? বস্তিতে কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষ যেখানে ঠিকমতো তিনবেলা খেতে পারে না তারা কীভাবে বাড়িতে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে কোয়ারেন্টাইন করবে? এই সমস্যার সমাধানে কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন জরুরি। একইসঙ্গে পরিস্থিতি থেবে উত্তরণের জন্য পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে একটি কর্মকৌশলের আলোকে কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় পোলিও ও হাম-রুবেলা ল্যাবরেটরির সাবেক প্রধান এবং জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি করা সবচেয়ে জরুরি। এতে ইমিইউনিটি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) বৃদ্ধি পায়। আমাদের মধ্যে আবার হামের পুরোনো ভাইরাস ফিরে এসেছে। এটা দেশীয় ভাইরাস। ভ্যাকসিনেশন গ্যাপ, ইমিউনিটি গ্যাপ আর ব্রেস্ট ফিডিংয়ের অভাবে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেন, সম্প্রতি বছরে সারা দেশে শিশুদের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। ছয় মাস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। নিয়মিত ভ্যাকসিন নিতে হবে। সেইসাথে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে হাম-রুবেলাসহ অন্যান্য রোগ থেকে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আব্দুস সবুর খান, টিকা বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সাবেক গবেষক ডা. তাজুল ইসলাম এ বারি, বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, পুষ্টিবিদ ও ব্র্যাকের ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের প্রধান সাইকা সিরাজ, ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (ইমিউনাইজেশন) ডা. চিরঞ্জিত দাস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) প্রতিনিধি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) ডা. হুমায়ুন কবির হিমু প্রমুখ। হাম পরিস্থিতি কাভারে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিষয়ে তুলে ধরেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক তবিবুর রহমান। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস।
বহুমুখী সংকটে অহরহ আত্মহত্যা
বহুমুখী সংকটে অহরহ আত্মহত্যা
ঋণ করে সৌদি আরব গিয়ে তিন মাসের মাথায় খালি হাতে বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা করেছেন যশোরের মনিরামপুরের ৩৫ বছরের যুবক ফিরোজ হোসেন। তার মতো মাত্র ১৬ বছর বয়সে আত্মহনন ঘটিয়েছেন তৈয়বা জাহান চৈতি। ভোলা পৌরসভার এই কিশোরীর এসএসসির ইংরেজি পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি। চৈতির চেয়ে বয়সে কয়েক বছরের বড় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো। তিনি একটি চিরকুটে ব্যক্তিগত বিষয় ও আর্থিক লেনদেনের ‘চাপ’ উল্লেখ কলে আত্মহত্যা করেছেন। গত এক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই তিনটি ঘটনা ভিন্ন হলেও কারণ একটাই–কোনো না কোনো সংকট। এমন বহুমুখী সংকটে আত্মহননের মধ্যে মৃত্যুবরণ করতে চেয়ে ফিরে আসাদের অভিজ্ঞতা অবশ্য তিক্ত। তেমন একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৩৫ বছর বয়সি যুবক সামিউল ইসলাম আকাশ। গত বছর পারিবারিক কলহ ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। একপর্যায়ে আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন। বিষপান করার পর স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পাকস্থলি পরিষ্কারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে বিষ অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। সেই দুঃসহ স্মৃতি হাতড়ে আকাশ এশিয়া পোস্টকে জানান, নাক ও মুখ দিয়ে নল ঢুকিয়ে পাকস্থলী থেকে বিষ বের করার সেই প্রক্রিয়াটি ছিল অবর্ণনীয় যন্ত্রণার, যা তাকে নতুন করে জীবনের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আকাশ সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সাথে স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রতিদিন এক-দুইজনের আত্মহত্যার চেষ্টা আকাশ জীবন ফিরে পেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে–এই জনপদে প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুইজন মানুষ নিজের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছেন। শুধুমাত্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ৬৮৮ জন এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৪৯ জনসহ গত ১৬ মাসে জেলায় মোট ৮৩৭ জন মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গাণিতিক হিসাবে জেলায় গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫২ জন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১০৮ জন এবং চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।  সমাধানের পথে আছে ঘাটতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম্পত্য কলহ, অভাব-অনটন, বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক এবং প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের মতো বহুমুখী আর্থ-সামাজিক সংকট মানুষকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসবের মধ্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার অভাব। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেও জেলার সরকারি স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্ট। এজন্য সাধারণ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহীন কাউসার এশিয়া পোস্টকে বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। যখন কেউ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তখন সে নিজেকে কোনো ঘটনার জন্য দায়ী মনে করে। সেখান থেকে নিষ্কৃতি পেতে এই ধরনের চরম পথ বেছে নেয়। তিনি আরও জানান, একজন মানুষ আত্মহত্যা করার তিন থেকে ছয় মাস আগে থেকে কিছু বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ পায়। পরিবার ও সমাজের মানুষের এই লক্ষণগুলো চেনার সক্ষমতা থাকলে অনেক অকাল মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। ঠিক একই অনুভূতি হয়েছে আত্মহত্যার চেষ্টা করা আকাশের। তিনি বলেন, বিষ খাওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ড পর আমার মনে হয়েছিল, কাজটা ঠিক হলো না। বাঁচার জন্য ছটফটানি যে কী ভয়াবহ, তা ওই সময় ছাড়া কেউ বুঝবে না। এখন বুঝি সমস্যা সমাধান করা যায়; কিন্তু জীবন গেলে তা আর ফেরে না। মনের দুঃখ কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারলে হয়তো ওইদিন আমি এই ভুলটা করতাম না। প্রতিরোধে কাউন্সিলিংয়ের বিকল্প নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মরত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আশরুফুজ্জান শাহিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, জেলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকলেও সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এখন জেলার সবগুলো সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সিলিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কেউ চাইলে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার শরণাপন্ন হতে পারেন, তিনি রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সন্ধান পেতে পথপ্রদর্শক হিসেবে সহায়তা করবেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, সাধারণ মানুষ যদি সচেতন হয়ে মনের যত্ন নেয় এবং নিজের জীবনকে মূল্যায়ন করতে শেখে, তবেই এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতায় পারে বিষণ্ণতার চিত্র বদলে দিতে।
হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু
হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ২৬১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোববার (৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৬৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। মৃত্যু হওয়ার ১০ শিশুর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়ে একটি শিশু ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে ২, চট্টগ্রামে ১, ঢাকায় ৪, খুলনায় ১ ও সিলেটে ১ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর ৫০ শিশু মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৪ হাজার ৯০ শিশু বাড়ি ফিরেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৫ হাজার ৩১৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪ জনই ঢাকার। গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৪ জন শিশুর মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এই সময়ে মোট ৫ হাজার ২১৮ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৬ হাজার ৯১১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৩ হাজার ২২৫ জন শিশু।