চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় অভাবনীয় সাফল্য দেখা গেছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশটি তার বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে পেরেছে বলে জানাচ্ছে চীনা সংবাদমাধ্যম সিএমজি।
প্রথম ত্রৈমাসিকে চীনের বন্দরগুলোতে পণ্য ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের হার আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দৈনিক গড় হিসাবে কন্টেইনার প্রবাহ বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, দৈনিক পণ্যপ্রবাহ বেড়েছে গড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।
এ ছাড়া চীনের প্রধান বন্দরগুলোতে আগত ও বহির্গামী জাহাজের ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশ ছেড়ে যাওয়া জাহাজের এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী।
চীনের রপ্তানি বাণিজ্যের এই উন্নতির পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে উচ্চ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এখন আর সাধারণ পণ্য নয় বরং স্মার্ট প্রযুক্তি, ইলেকট্রিক যানবাহন, লিথিয়াম ব্যাটারি এবং সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম রপ্তানিতে চীন বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রথম প্রান্তিকে এই ধরনের ‘নতুন তিন’ পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রথাগত বাজারের বাইরেও নতুন নতুন অঞ্চলে চীনের বাণিজ্য বাড়ছে বলে জানাচ্ছে সংবাদমাধ্যম। বেল্ট অ্যান্ড রোডের দেশগুলোতে চীনের রপ্তানি বেড়েছে ২০ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে চীনের রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
চীনের অভ্যন্তরীণ বন্দরের আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব ও উচ্চ মূল্যের পণ্য তৈরির সক্ষমতা দেশটিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে এক অপরাজেয় অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতেও দেশটির অর্থনীতিতে এই ধারা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।




