ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

৪ মাসেও জকসুর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জবি

  ০৭ মে ২০২৬, ২২:৪০
ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার চার মাস পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের মাঝে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে জকসু প্রতিনিধিদের আন্তরিকতা ও ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির ওপর।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শিক্ষার্থীদের দাবি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না জকসু। বিশেষ করে ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসায় শিক্ষার্থীদের আস্থাও কমছে বলে মনে করছেন অনেকে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব উদ্যোগের তুলনায় আবাসন সংকট, সম্পূরক বৃত্তি, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও দাম, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি কিংবা ইশতেহারে উল্লেখিত স্টারলিংক সুবিধার মতো মৌলিক দাবিগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, চার মাস অনেক সময়। এর মধ্যেও জকসু প্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেননি। এ ছাড়া নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্যও তাদের পদক্ষেপ ধীরগতির।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিম হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত জকসু অনেকাংশে ব্যর্থ। বহু প্রত্যাশা নিয়ে জয়ী প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের আস্থা হারাচ্ছে। আবাসন সুবিধাসহ সেসব কাজ প্রাধান্য পাওয়ার কথা সেখান থেকে সরে গেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, জকসু প্রতিনিধিরা দলীয় মতাদর্শের বাইরে কাজ করতে পারছেন না। শিবির ও ছাত্রদল উভয়ই নিজেদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার আবাসন, সম্পূরক বৃত্তি এসব দাবি আদায়ে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সকলেই ক্রেডিট চায়।

ক্যাম্পাসের সার্বিক সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীরাই শক্তি উল্লেখ করে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, এতো এতো সমস্যা, সব এক বছরের মধ্যেই করে ফেলতে পারব এমনটা ভাবাও বোকামি। তবে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা পেলে সেটা কিছুটা সম্ভব, কিন্তু জকসু সেটা পায় না। সময় শেষে শিক্ষার্থীরাই সিদ্ধান্ত নেবে জকসু কতটা সফল, কতটা ব্যর্থ বা তাদের আশা কতটুকু আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জকসু শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সফল হয়েছে। জবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেশি। সকল সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। জকসু প্রতিনিয়ত নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া ইশতেহার এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাজগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি অনেক অছাত্র জকসুকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় চালায়। ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নষ্টের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। জকসুর কাজ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে সফল হচ্ছে।

ছাত্রদল-শিবিরের বিভাজন, পাল্টাপাল্টি কার্যক্রম

জাতীয় কিংবা ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক বিভিন্ন ইস্যুতে ছাত্র শিবির, ছাত্রদল এবং স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, একই প্যাডে বিজ্ঞপ্তি কিংবা মানববন্ধনও করেন আলাদা। ফলে জকসুর প্রতি আস্থা হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

গত ২৫ এপ্রিল ডাকসু নেতৃবৃন্দের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ করে জকসু। এদিকে পরের দিন জকসুকে শিবিরের কার্যক্রমে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদলের প্যানেলে নির্বাচিত পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সম্পাদক তাকরিম আহমেদ, পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হাসান এবং কার্যনির্বাহী সাদমান সাম্য।

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী লিমন ইসলাম বলেন, যারা শিক্ষার্থীদেরকে সংগঠিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করবেন, তাদের মধ্যে বিভক্তি হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবাইকে একত্রিত থাকা উচিত। এমন বিভাজন ও বিভক্তিতে আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জকসু সকল দলীয় ও মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করলে—তবেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র পদে বিজয়ী কার্যনির্বাহী সদস্য জাহিদ হাসান বলেন, সফল-বিফলের উত্তর আরও ৮ মাস পরে দিতে পারবো। ছুটি এবং জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে চার মাস বয়সি এই সংসদের বেশ কিছু কাজ করার ছিল, সেগুলো করতে পারিনি। পলিসি মেকিংয়ের জায়গায় জকসু অনেক বেশি দুর্বল। আমিসহ সকল সদস্যদের আরও বেশি শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কাজে তৎপর হওয়া উচিত। সবাই সবার সেক্টরে ঠিক মতো কাজ করলে আশা করি কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকার কথা না।

তিনি আরও বলেন, কয়েকজন বাদে এখন অবধি পুরো জকসু বডি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হতে পারেনি। এদিকে জকসুতে দুটা প্যানেল এবং আমি একমাত্র স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছি। এখানে সবার চিন্তাধারা এক না থাকাটাই স্বাভাবিক। ভিন্ন চিন্তাধারা, জাতীয় পর্যায়ের ক্ষমতার প্রভাব, নেতৃত্বের অভাব জকসুকে বিভক্ত করছে।

ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেল থেকে বিজয়ী সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সম্পাদক তাকরিম মিয়া বলেন, যে উদ্দেশ্যে জকসু চেয়েছিলাম, সে উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। জকসুতে বিভক্তির কারণ সংখ্যা। শিবির প্যানেলের প্রতিনিধি বেশি। শিবির প্যানেলের বাইরে পাঁচজনের সিদ্ধান্তে তেমন কিছু যায় আসে না। এজন্যে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার সুযোগ খুঁজি।

ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি জকসু। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে। কিন্তু জকসুতে এমন কিছু প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, যাদেরকে শিক্ষার্থীরা কখনও পাচ্ছেন না। জকসুতে বিভক্তি নেই, তবে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনেক সিদ্ধান্ত এককভাবে নিয়ে থাকে, জাতীয় ইস্যুকে পলিটিক্যাল রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। যার কারণেই মূলত সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়।

ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, এক জায়গায় অনেক মানুষ থাকলে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যও থাকে। আমাদের মতপার্থক্য রয়েছে। তবে জকসুতে বিভক্তির সুযোগ নেই। কারণ সবার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করা। সবাই সেটা করার চেষ্টা করছি। কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্ত জকসুর লক্ষ্য একটাই- শিক্ষার্থীদের কল্যাণ।

জকসুর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই এবং সকলে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় অনেক সময় দু-একজন প্রতিনিধি ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তবে আমরা সবাইকে একসাথে নিয়ে কাজ করার এবং মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এদিকে জকসুর কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করছে অভিযোগ তুলে গত ৬ মে বিবৃতি দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’। সাদাদলের অভিযোগ, জকসু তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্নরকম কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এমনকি উপাচার্যকে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করা হচ্ছে, যা উপাচার্যের ভাবমূর্তি এবং কর্ম উদ্দীপনা হ্রাস পাওয়ার বিষয়।

তবে এ বিবৃতির সমালোচনা করে ৭ মে জকসুকে নিয়ে অতি রাজনীতির অভিযোগ তুলে পাল্টা প্রতিবাদ বিবৃতি দেয় জকসু। এতে জকসু নেতারা দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন হিসেবে জকসু সবসময় শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, সমস্যা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সাদাদলের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের অধিকারকে পরোক্ষভাবে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ছাত্রনেতাদের সমালোচনা

কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ শিক্ষার্থীদের ম্যানডেট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন শাখা ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। নির্বাচিত শিক্ষার্থী সংসদ প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সংকট সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে সংগঠিত করতে পারেনি। জকসু প্রতিনিধিদের ক্যাম্পাসের তুলনায় জাতীয় নির্বাচনে দলীয় কাজে বেশি আগ্রহ এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগও করেছেন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও প্রধান সমস্যা নিয়ে নিরব জকসু নেতারা।

ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর ম্যানডেট নিয়ে প্রথমবার জকসু নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনার শাসনামলে উন্নয়ন হয়নি। সেখানে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর, প্রতিনিধি হয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে জকসু আশার বাণী হয়ে এসেছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যেভাবে চেয়েছে সেটা জকসু করতে ব্যর্থ হয়েছে। জকসু দল-মত নির্বিশেষে কাজ করবে। কিন্তু একটি বিশেষ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হওয়ায় তারা জকসুর মৌলিক কাজ করতে ব্যর্থ। হয়তো তারা কাজ করছে বা করার চেষ্টা করছে কিন্তু দৃশ্যমান কাজ করতে পারেনি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, ছাত্র সংসদের প্রধান কাজ নানান সংকটে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং দাবিগুলো আদায় করে নেওয়া। জকসু সেই অর্থে ব্যর্থ। তবে একারণে প্রতিবছর জকসু হওয়াকে আমরা নিরুৎসাহিত করব এমন নয়। কারণ, যতখানি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্যাম্পাসে বিরাজ করে তার অন্যতম কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদগুলোর প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হচ্ছে। নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদেরকে একটা মতামত রাখার জায়গা দিচ্ছে। ফলে জকসু প্রতিবছর হতে হবে। এর মধ্য দিয়ে আজ না হলেও কাল—একজন যোগ্য প্রতিনিধি আমাদের সামনে হাজির হবে বলে আমরা আশা রাখি।

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, জকসু নির্বাচনের পর দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান, আবাসন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ, সম্পূরক বৃত্তি এসব আগের মতোই আছে। তারা যে কাজগুলো করছেন, সেগুলো ভালো এবং প্রশংসার। কিন্তু মৌলিক ও প্রধান কাজগুলোর দিকে তাদের নজর দিতে হবে।

ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, জকসু এখন পর্যন্ত সার্বজনীন হয়ে উঠতে পারেনি। দলীয় প্যানেল থেকে নির্বাচিতরা দলের পারপাসে কাজ করছে। ফলে জকসু যতটা ফলপ্রসূ হওয়ার কথা ছিল ততটুকু হয়ে উঠতে পারছে না। জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং পরের সময়ে আমরা দেখেছি যে জকসুর নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক না হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে উৎসাহী। আমাদের প্রত্যাশা জকসু একটি প্রাণবন্ত, সার্বজনীন সংগঠন রূপে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করুক।

গত চার মাসে জকসুর পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাস ট্র্যাকিং অ্যাপ JnU Express, গ্লোবাল অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক, অনলাইনে ফলাফল দেখার ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স কর্নার, আইন অনুষদে ডিএলআর চালু, ফ্রি আইইএলটিএস ও গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স, আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা, ব্রিলিয়ান্ট ব্রেইনস ভ্যালির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বিভিন্ন জাতীয় ও ক্যাম্পাস ইস্যুতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি। পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক স্থাপন করা হয়। তবে তা ঠিকভাবে কাজ না করায় এবং ধীর গতির হওয়ায় নতুনভাবে রাউটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয় জকসু।

ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল প্রক্টর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল উল্লেখ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে লিখিতভাবে অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন ড. তানভীর কায়ছার। মেয়াদ শেষ হলেও ওই ক্যাটাগরিতে নতুন সদস্য মনোনয়ন না হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলমান শিক্ষক পদোন্নতি ইস্যুর মধ্যেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই দিনে প্রক্টরের পদত্যাগ এবং সিন্ডিকেট সদস্যের অব্যাহতির আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ওয়েবসাইটের অবস্থা বেশ নাজুক। নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না নিয়মিত হালনাগাদ। ডিজিটাল যুগে যেখানে ওয়েবসাইটকে বলা হয় তথ্যভান্ডার, সেখানে গোবিপ্রবির ওয়েবসাইট যেন অনেকটাই অকার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য জানতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত পরিচিতি নেই। শুধু নাম, ছবি, ইমেইল ও ফোন নম্বরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তথ্য। একজন শিক্ষক কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন বা করেছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে কোন শিক্ষকের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন, তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পাতার তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। পদোন্নতি পেলেও অনেকের পদবি আগের মতোই আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য তালিকায় নেই গবেষণাপত্রের তালিকা, বিস্তারিত যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা গবেষণার বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য সুপারভাইজার সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা নানা জটিলতায় পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও পিছিয়ে পড়ছে গোবিপ্রবি।  একাডেমিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, নিরাপত্তা শাখা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, মেডিকেল স্বাস্থ্য শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখা। তবে এসব বিভাগের ওয়েবপেজেও একই চিত্র দেখা যায়। গোবিপ্রবির ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের ওয়েবপেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। অথচ দপ্তরটি থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন ওয়েবসাইটে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের এমন করুণ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু কালাম  বলেন, ‘প্রায় তথ্যহীন গোবিপ্রবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। কোনো আপডেট তথ্য, ছবি কিংবা পেজ লিংক না থাকায় এটি অনেকটাই অকার্যকর। চলমান বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পাওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য সংকটের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বিশ্বে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি বহন করে তার ওয়েবসাইট। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। দ্রুত এর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ এপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টর অনেক পিছিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই অবগত নয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ হতে হয়, যেন ঘরে বসেই একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারে। কিন্তু এ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। তাই আমরা সকল তথ্যসম্বলিত একটি আধুনিক ও পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট চাই।’   এ বিষয়ে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তার ভেতর দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসন যে কোনো তথ্য দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আপলোড করার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের কাছেও আমরা তথ্য চেয়েছি। আমাদের ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে কাজ সম্পন্ন করেননি। আমরা আবার নতুন করে করার জন্য চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা দাবি করেন, ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে  
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস+ স্টুডেন্ট মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় এ সুযোগ দিচ্ছে তুরস্কের আলানিয়া আলাদিন কেকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহিঃসম্পর্ক দপ্তর (আইসিইএ) থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরাসমাস+ কেএ ১৭১ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের সেমিস্টারে একজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। কর্মসূচিটি শুরু হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নোবিপ্রবির এসিসিই, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, বিজিই, ইইই, ইকোনমিকস, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিএসটিই/আইসিই, এফটিএনএস ও টিএইচএম বিভাগের ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সেশনের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের বর্তমান সেমিস্টারে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে। তবে আইইএলটিএস-এ ৬ বা টিওইএফএল-এ নির্ধারিত স্কোর থাকলে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৩৫ পর্যন্ত শিথিল করা হতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের ইংরেজিতে দক্ষ ও ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ মে-এর মধ্যে নির্ধারিত আবেদনপত্র, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেইলে পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দপ্তরের ইমেইল ঠিকানায় সিসি দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একাডেমিক কাগজপত্র ও পাসপোর্ট কপি একত্রে একটি পিডিএফ ফাইলে এবং গবেষণাপত্র ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ আলাদা ফাইলে পাঠাতে হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে   
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে: রাবিপ্রবি উপাচার্য
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমান। রোববার (১০ মে) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান তিনি। ড. আতিয়ার রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছর ১০ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, উন্নত একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাস নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এসব অগ্রগতিতে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন দাবি তুলে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেয়। অথচ অভিযোগের বিষয়গুলো তারা প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে। এসবের জন্য কেউ রক্ত দেয়নি। কাউকে জামায়াত, বিএনপি বা অন্য কোনো পরিচয়ে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। এ সময় রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছসহ রাঙামাটিতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বাদ দিতে হবে: রাবিপ্রবি উপাচার্য
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
ববিতে এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) এক দিনে দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর জমা দেওয়া এক পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল প্রক্টর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পদত্যাগপত্রে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল উল্লেখ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে লিখিতভাবে অব্যাহতির আবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে দুই বছরের জন্য সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন ড. তানভীর কায়ছার। মেয়াদ শেষ হলেও ওই ক্যাটাগরিতে নতুন সদস্য মনোনয়ন না হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলমান শিক্ষক পদোন্নতি ইস্যুর মধ্যেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহতি ও পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই দিনে প্রক্টরের পদত্যাগ এবং সিন্ডিকেট সদস্যের অব্যাহতির আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোবিপ্রবির ওয়েবসাইটে নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না আপডেটও
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ওয়েবসাইটের অবস্থা বেশ নাজুক। নেই পর্যাপ্ত তথ্য, হয় না নিয়মিত হালনাগাদ। ডিজিটাল যুগে যেখানে ওয়েবসাইটকে বলা হয় তথ্যভান্ডার, সেখানে গোবিপ্রবির ওয়েবসাইট যেন অনেকটাই অকার্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য জানতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিস্তারিত পরিচিতি নেই। শুধু নাম, ছবি, ইমেইল ও ফোন নম্বরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তথ্য। একজন শিক্ষক কোন বিষয়ে গবেষণা করছেন বা করেছেন, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা গবেষণার কাজে কোন শিক্ষকের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন, তা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পাতার তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না। পদোন্নতি পেলেও অনেকের পদবি আগের মতোই আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য তালিকায় নেই গবেষণাপত্রের তালিকা, বিস্তারিত যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা গবেষণার বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য সুপারভাইজার সম্পর্কে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা নানা জটিলতায় পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও পিছিয়ে পড়ছে গোবিপ্রবি।  একাডেমিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, নিরাপত্তা শাখা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, মেডিকেল স্বাস্থ্য শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, প্রকৌশল দপ্তর, শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক শাখা। তবে এসব বিভাগের ওয়েবপেজেও একই চিত্র দেখা যায়। গোবিপ্রবির ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের ওয়েবপেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। অথচ দপ্তরটি থেকে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রমসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন ওয়েবসাইটে দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের এমন করুণ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু কালাম  বলেন, ‘প্রায় তথ্যহীন গোবিপ্রবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। কোনো আপডেট তথ্য, ছবি কিংবা পেজ লিংক না থাকায় এটি অনেকটাই অকার্যকর। চলমান বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পাওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য সংকটের কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বিশ্বে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিচ্ছবি বহন করে তার ওয়েবসাইট। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। দ্রুত এর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ এপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেক্টর অনেক পিছিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট সম্পর্কে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই অবগত নয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সমৃদ্ধ হতে হয়, যেন ঘরে বসেই একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারে। কিন্তু এ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পিছিয়ে। তাই আমরা সকল তথ্যসম্বলিত একটি আধুনিক ও পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট চাই।’   এ বিষয়ে আইসিটি সেলের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তার ভেতর দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসন যে কোনো তথ্য দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে আপলোড করার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের কাছেও আমরা তথ্য চেয়েছি। আমাদের ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে কাজ সম্পন্ন করেননি। আমরা আবার নতুন করে করার জন্য চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা দাবি করেন, ওই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন। এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে   
তুরস্কে পড়ালেখার সুযোগ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে  
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস+ স্টুডেন্ট মোবিলিটি কর্মসূচির আওতায় এ সুযোগ দিচ্ছে তুরস্কের আলানিয়া আলাদিন কেকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহিঃসম্পর্ক দপ্তর (আইসিইএ) থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরাসমাস+ কেএ ১৭১ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের সেমিস্টারে একজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হবে। কর্মসূচিটি শুরু হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নোবিপ্রবির এসিসিই, অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকস, বিজিই, ইইই, ইকোনমিকস, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিএসটিই/আইসিই, এফটিএনএস ও টিএইচএম বিভাগের ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ সেশনের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের বর্তমান সেমিস্টারে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে। তবে আইইএলটিএস-এ ৬ বা টিওইএফএল-এ নির্ধারিত স্কোর থাকলে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৩৫ পর্যন্ত শিথিল করা হতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকারীদের ইংরেজিতে দক্ষ ও ভালো নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৮ মে-এর মধ্যে নির্ধারিত আবেদনপত্র, বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সুপারিশপত্র, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেইলে পাঠাতে হবে। আবেদন পাঠানোর সময় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দপ্তরের ইমেইল ঠিকানায় সিসি দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একাডেমিক কাগজপত্র ও পাসপোর্ট কপি একত্রে একটি পিডিএফ ফাইলে এবং গবেষণাপত্র ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ আলাদা ফাইলে পাঠাতে হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।