সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেটে কলেজের নামের বানানে অসামঞ্জস্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) কলেজের বিভিন্ন ডকুমেন্টে প্রতিষ্ঠানের নাম ভিন্ন ভিন্নভাবে লেখা থাকায় ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে বিদেশে ভর্তি ও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোথাও কলেজের নাম ‘Sohrawardi’, কোথাও ‘Suhrawardi’, আবার কোথাও ‘Suhrawardy’ লেখা হচ্ছে। একইভাবে ‘Shahid’ ও ‘Shaheed’ বানানেও দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। ফলে অফিসিয়াল কাগজপত্রে প্রতিষ্ঠানের নামের একীভূত বানান না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, উচ্চমাধ্যমিকের পর যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এসব বানান বিভ্রাট ডকুমেন্ট যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন প্রক্রিয়ায় নথিপত্রের তথ্যগত সামঞ্জস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি ভবিষ্যতে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান বলেন, অনলাইন ফর্ম পূরণ করার সময়ও শিক্ষার্থীরা দ্বিধায় পড়ে যায় কোন বানানটি ব্যবহার করবে। ভুল বানান দিলে পরে সংশোধন করতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হয়। অনেক ক্ষেত্রে আবার হলফনামা (affidavit) পর্যন্ত করতে হয়, যা আরও ঝামেলার সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেটে একই কলেজের নাম ভিন্ন ভিন্ন বানানে লেখা থাকা আমাদের জন্য সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করে। সেক্ষেত্রে ডকুমেন্টে এমন অসামঞ্জস্য ভেরিফিকেশনের সময় জটিলতা তৈরি করতে পারে। আমরা চাই, কলেজ প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ও স্ট্যান্ডার্ডাইজড বানান নিশ্চিত করুক, যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হয়।
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলি মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের কলেজের ওয়েবসাইটে যেই নামটি দেওয়া আছে এটি সঠিক। বাকি সবগুলো ভুল আর আমি ভুল এই কারণেই বলব এই নামটি ( GOVT. SHAHEED SUHRAWARDY COLLEGE) বিভিন্ন নথিপত্রেও আছে এবং রেজিস্ট্রার করা।
তিনি আরও বলেন, কেউ এখনও এসে রিপোর্ট করেনি বিষয়টি নিয়ে। আমি আজকে একটি চিঠি বোর্ডে পাঠাবো যেন আমাদের কলেজের নামটা সংশোধন করে দেয়।
সংশোধনের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, এটা বোর্ড জানে। আমাদের বোর্ডে প্রতিমাসে এক থেকে দুইবার মিটিং হয় তখন মিটিংয়ে নামের সংশোধনের বিষয়টি উঠলে ১-২ মাস লাগতে পারে।




