রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি পালনের অভিযোগে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ সময় ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে শোনা যায়। পরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১টায় ক্যাম্পাসের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের সামনে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
মধ্যরাতের বিক্ষোভে এক পক্ষে ‘শহীদ জিয়ার গড়া দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’, ‘জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই করো’সহ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।
অন্য পক্ষে, ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই রুয়েটে হবে না’, ‘নো মোর পলিটিক্স’, ‘ছাত্ররাজনীতির কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘টোকাই, টোকাই’, ‘নো পলিটিক্স ইন রুয়েট’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে ছাত্রদল বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি আয়োজন করছে। শিবির গুপ্তভাবে রাজনীতি করছে। তবুও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ বিরুদ্ধে দেয়াল লিখন করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ বিরুদ্ধে ছাত্রদলের দেয়াল লিখনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ‘গুপ্ত রাজনীতি’র পাশাপাশি প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধেও দেয়াল লিখন করে। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু শিক্ষার্থী ওই ব্যানার খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং ‘রুয়েট জাতীয়তাবাদী স্পন্দন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে তা প্রচার করে। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সোমবার রুয়েটে সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে। এ ছাড়াও দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদল কর্মী যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী দিপ্র বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে, তবুও যদি রুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়, তাহলে গুপ্তদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। গুপ্তভাবে একটি দল রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের আলোকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রাখতে চান। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধানে ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় ছাত্রদল রাজনীতি চালু রাখতে চায়। আমরা বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করছি।




